নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || রবিবার , ২৫শে আগস্ট, ২০১৯ ইং , ১০ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৩শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

ভিসির কারনে আটকে গেছে ছাত্রলীগের কমিটি!

ভিসির কারনে আটকে গেছে ছাত্রলীগের কমিটি!

বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সবকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি উন্মুক্ত মন্তব্য করলেও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ব্যতিক্রম বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।সূত্র মতে,কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি চূড়ান্ত করলেও ছাত্ররাজনীতি বিমুখ অবস্থানের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের আপত্তির মুখে কমিটি প্রকাশ স্থগিত রেখেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক দায়িত্বশীল নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের মোবাইলে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ফোন করলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

একাধিক সূত্রমতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯ তম সম্মেলনের পূর্বমূহুত্বে ছাত্রলীগের এই ইউনিটের কমিটি প্রস্তুত সম্পূর্ন করা হয়েছে।কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের আপত্তির কারনে তা ঘোষনা থেকে বিরত রয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।জানা গেছে দেশের একমাত্র সরকারি ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে নিয়মিত ভাবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কমিটি তাদের কেন্দ্র থেকে ঘোষনা করে আসছে।প্রতিবছরই নিয়মিত ভাবে উক্ত ইউনিটে ছাত্রশিবিরের কমিটি গঠন করলেও এ যাবত কালে ছাত্রলীগের কোন কমিটি ঘোষনা করা হয়নি।জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি উন্মুক্ত করার ব্যাপারে অনাগ্রহ থেকেই প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন গুলো এই ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চর্চার সুযোগ পায়নি।

২০১৬ সালে সারা দেশে জঙ্গী হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জঙ্গীবাদ বিরোধী মিছিল করে ছাত্রলীগের ব্যানারে।পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মিছিলে অংশ নেওয়ার অপরাধে ২১ জন ছাত্রকে কেন বহিস্কার করা হবেনা এই মর্মে শোকজ পত্র প্রদান করে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় উঠে।যার পরিপ্রেক্ষিতে সাধারন ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যেও বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছিলো।

জানা গেছে,এ ঘটনার পরই ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরু করে এবং ছাত্রলীগের দাবীর মুখে ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও ছাত্র ক্যান্টিন স্থাপনের দাবী মেনে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।পরবর্তীতে ছাত্রলীগের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ হান্নান হলের ৩১৩ ও ৩১৪ নম্বর রুম থেকে ১১ বস্তা জিহাদি বই রামদা কিরিস উদ্ধার করেছিলো ভার্সিটি প্রশাসন।

ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে ভিসির আপত্তির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও গনমাধ্যমে এ নিয়ে মন্তব্য প্রদানে আপত্তি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক প্রগতিশীল মননের শিক্ষক।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র শিক্ষক এ বিষয়ে বলেন,মুক্তবুদ্ধি চর্চার স্থান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষা সংস্কৃতি এবং প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির অধিকার সংকোচন করা উচিত নয়।এতে করে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি গোপনে সংগঠিত হওয়ার আশংকা থেকে যায়।প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্টির হাত থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির বিকল্প নেই।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে,ক্যাম্পাসে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend