নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || রবিবার , ২৬শে মে, ২০১৯ ইং , ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৯শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের আগে অনুমতি লাগবে

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের আগে অনুমতি লাগবে

আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে সরকার তথা ওই কর্মচারীর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। এমন বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি বিল-২০১৮’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

আজ  বুধবার  জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের জোরাল আপত্তি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নাকচ হয়ে যায়।

সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা। আপত্তির বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা হলেও তা গৃহীত হয়নি। আলোচনা শেষে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

পাস হওয়া বিলের একাদশ অধ্যায়ের সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি অপরাধ শীর্ষক ৪১ ধারার উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সহিত সম্পর্কিত অভিযোগে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হবার পূর্বে, তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।

তবে ১৯৬৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী দুদক অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়েও যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে। ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ৫ ধারায়ও এ বিধান বলবৎ রাখা হয়েছে। কিন্তু নতুন আইনটি কার্যকর হলে ওই সকল বিধান কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। বিলের ওপর আনা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা ওই বিধানের সমালোচনা করেন।

তারা বলেছেন, ফৌজদারি অপরাধের জন্য মন্ত্রী-এমপিদের গ্রেপ্তারের অনুমতি লাগে না। কিন্তু তাদের অধীনে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। এটা বৈষম্যমূলক। তারা আরও  বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে গেলে রাষ্ট্রের বড় ধরনের ক্ষতির জন্য জড়িত কর্মকর্তা পালিয়ে যেতে পারেন। আবার কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হলেই তিনি বরখাস্ত হবে। এটা কালো বিধান। এ ধরনের বিধানগুলো পরিবর্তন করার দাবি জানান তারা।

জবাবে শ্রম প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক বলেন, ‘সিভিল সার্ভিসের ওপর একটি সমন্বিত আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সকল পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের একটি আইন কাঠামোর আওতায় আনতে এই আইন প্রণয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই আইনটি পাস হলে তা হবে একটি মাইলফলক। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিলটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন নেই।’

বিলের একই ধারার ৩ উপধারায় বিচারাধীন কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী বলে দৃষ্টিগোচর হলে, তা সরকার ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিধান রাখা হয়েছে। একই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারি ফৌজদারি অপরাধের কারণে এক বছরের অধিক মেয়াদে কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলে রাষ্ট্রপতি যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণকৃত ব্যক্তিকে অনুরূপ বরখাস্ত বা অপসারণ থেকে অব্যাহতি প্রদানের বিশেষ কারণ বা পরিস্থিতি রয়েছে- তা হলে তিনি ওই ব্যক্তিকে ওই শাস্তি থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে পারবেন। সেই ক্ষেত্রে ওই কর্মচারী পুনরায় চাকরিতে বহাল হবেন।

বিলে কোনো সরকারি কর্মচারী আচরণ, শৃঙ্খলা জনিতকারণে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে লঘু ও গুরুদণ্ড আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। বিলের দশম অধ্যায়ে ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, লঘুদণ্ড হিসেবে তিরস্কার, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা, বেতন স্কেল নিম্নধাপে অবনমিতকরণ করা হবে।

গুরুদণ্ড হিসেবে নিম্নপদ বা নিম্নতর বেতন স্কেলে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান, চাকরি থেকে অপসারণ এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। কোনো কর্মচারীর ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হলে দায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। প্রয়োজনে তার বেতন ভাতা থেকে আদায় করা হবে। তাতেও সম্ভব না হলে কর্মচারীর বিরুদ্ধে পাবলিক ডিমান্ড রিকোভারি অ্যাক্ট ১৯১৩’র অধীন আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযুক্ত কর্মচারী, শাস্তির বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন এবং কর্তৃপক্ষ যে রায় দেবেন তা বহাল থাকবে। সেক্ষেত্রে শাস্তি বহাল থাকা বা বাতিল করার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের। বিলে কোনো কর্মচারী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার্থে শারীরিক বা অন্য কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তিনি সরকার নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণ পাবেন।

এছাড়া সরকারি কর্মচারীরা অনুদান, সহায়তা, সুদমুক্ত ঋণ এবং অগ্রিম প্রদান সুবিধা পাবেন। সরকারি কর্মচারীর পরিবার বলতে- কর্মচারী পুরুষ হলে স্ত্রী বা স্ত্রীগণ, মহিলা হলে তার স্বামী, কর্মচারীর সঙ্গে বসবাসরত এবং তার ওপর নির্ভরশীল সন্তান সন্ততিগণ, পিতা-মাতা, দত্তক সন্তান, নাবালেগ ভাই, অবিবাহিতা, তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা বোন পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com
x

Send this to a friend