নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || বৃহস্পতিবার , ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

পিরোজপুর-১ আসনে নৌকা বিজয়ী করতে শ ম রেজাউল করিমের বিকল্প নেই

পিরোজপুর-১ আসনে নৌকা বিজয়ী করতে শ ম রেজাউল করিমের বিকল্প নেই

একাদশ জতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো বাকী ১ মাস । মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ার পথে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ভোটের হিসাব নিকাশ। পিরোজপুর জেলার ৩ টি আসনের মধ্যে পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-স্বরুপকাঠী নিয়ে গঠিত পিরোজপুর -১ আসনটি রাজনৈতিক ও ভৌগলিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনটিতেও  আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে  আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের হিসেব নিকেশ।

পিরোজপুর -১ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাটি বলে পরিচিত। তবে দলীয় বিরোধের কারণে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকে সংসদ নির্বাচিত হন যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার সাঈদী।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এর নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারকে পিরোজপু-১ আসনে থেকে মহাজোটের মনোনয়ন দেয়া হয়। সে সময়ে ঋণখোলপী জটিলতা দেখা দিলে তখন সকল ভেদাভেদ ভুলে মহাজোটের বিদ্রোহী প্রার্থী একেএমএ আউয়ালকে নিয়ে মাঠে নামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

নির্বাচনে তৎকালনি জিয়ানগর ও পিরোজপুর সদর উপজেলা মিলে ১২ হাজার ভোটে দেলোয়ার সাঈদীর কাছে পরাজিত হন আউয়াল। তবে নাজিরপুর উপজেলা থেকে নৌকা প্রতীকে ১৭ হাজার ভোট বেশী দেয়ায় দেলোয়ার হোসেন সাঈদী কে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ কে এম এ আউয়াল। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিরুপ পরিস্থিতে  বিনা ভোটেই সংসদ নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্য নির্বাচতি হবার পর পরই অনেকটা চেহারা বদলে যায় বর্তমান এমপি একেএমএ আউয়ালের। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ মিডিয়ায় ফলাও করে প্রকাশ হওয়ায় সাধারণ মানুষ তার প্রতি আস্থা হারিয়েছেন অনেক আগেই। নিয়োগ বানিজ্য – ঘুষ দুর্নীতি, টেন্ডারবাজী সহ দলীয় নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে হাইব্রীডদের নিয়ে দল পরিচালনাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত এ কে এম এ আউয়াল।

এদিকে সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়ালের সঙ্গে বিগত ইউপি ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে দলের সম্পাদক এমএ হাকিম হাওলাদারসহ নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্য এবং সংসদ সদস্যের ভাইদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ চরম বিরোধরে ফলে সম্পর্কে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরাও এমপি’র দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতার কারণে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

আগামী  নির্বাচনেও বর্তমান সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও তার আপন ভাই পিরোজপুর পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক এমপি আউয়ালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়ায় দুঃখজনকভাবে সুনাম ও জনপ্রিয়তা হারিয়ে তিনি এখন নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে এমপি আউয়াল এখন পিরোজপুরে অনেকটা কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। পরিবার সহ দলীয় নেতা কর্মীদের সাথেও নেই তেমন যোগাযোগ।

এসব কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পিরোজপুরের তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা ক্লিন ইমেজের প্রার্থী খুঁজতে শুরু করেছেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী হিসেবে জোর আলোচনায় রয়েছেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কৃতি সন্তান সুপ্রিম কোর্টের সিনিয় আইনজীবী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্শপাদক শ ম রেজাউল করিম। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, অতীত কার্যক্রম পর্যালোচনায় আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দৌড়ে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। আর পিরোজপুরের বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় মনোনয়ন পেলে শ ম রেজাউল করিম নৌকাকে বিজয়ী করার কান্ডারী হতে পারেন ।

শ ম রেজাউল করিম টেলিভিশন টক শোতে পরিচিত মুখ। সমসাময়িক যে কোনো ঘটনায় টিভির পর্দায় নিয়মিত দেখা যায় তাকে। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি সব সময় সোচ্চার। যেকোনো ইস্যুতে আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে যাচ্ছেন। তিনি আইনজীবীদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য এবং ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

পেশাজীবনে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইনজীবী ছিলেন। ১/১১ এর দুর্যোগকালীন সময়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ সেলিমের মতো রাজনীতিবিদদের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ করে আসা শ ম রেজাউল করিম জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে চান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পিরোজপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বিগত ১/১১ এর সেনা সমর্থিত তত্তাবধায়ক সরকারের সময়ে কারাবন্দী আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সর্ব প্রথম স্বাক্ষাতকার করে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনী লড়াই শুরু করেন শ ম রেজাউর করিম। সে সময়ে আওয়ামী ঘরনার অনেক আইনজীবী শেখ হাসিনার মামলা পরিচালনা না করে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। আবার যারা সে সময়ে শেখ হাসিনার মামলা পরিচালনার সাথে যুক্ত ছিলেন, তাদের ভিতরে এক মাত্র শ ম রেজাউল করিম ছাড়া সবাইকেই দলীয় ভাবে মুল্যায়ন করা হয়েছে। সে হিসেবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে মুল্যায়ন করা হবে বলে আশা করছেন পিরোজপুর -১ আসনের আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা কর্মীরা।

স্বরুপকাঠী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এস এম মুহিদুল ইসলাম বলেন, পিরোজপুর-১ আসনের বর্তমান এমপি একেএমএ আউয়ালের অনিয়ম ও দুর্নীতি, দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে জামাত বিএনপি থেকে হাইব্রীডরে দলে ভিড়ানো সহ নান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তৃণমূল নেতা কর্মীরা ক্ষুব্ধ, তাই বর্তমান এমপি ভবিষ্যতের ভোটের রাজনীতিতে পিছিয়ে রয়েছেন। সে হিসেবে, দলের দুর্দিনে নেতা কর্মীদের পাশে থাকা, দলের হয়ে মিডিয়ায় কথা বলা এবং এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় শ ম রেজাউল করিমকে আগামীতে পিরোজপুর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন দিলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘ছাত্র জীবন থেকেই আমি রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ করেছি। ১৯৮০ সালে খুলনা দৌলতপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি), ১৯৮১ সালে খুলনা কৃষি কলেজের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলাম। ১৯৮৯ সালে নাজিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ১৯৯০ সাল থেকে অদ্যবধি জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেবেন বলে বিশ্বাস করি।’

জেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য সহসভাপতি শাজাহান তালুকদার বলেন, ‘শ ম রেজাউল করিম একজন শিক্ষিত লোক। তিনি সুপ্রিম কোর্টের নামকরা আইনজীবী। তার মতো লোকদের সংসদে যাওয়া দরকার। তাকে মনোনয়ন দিলে ভাল করবে।’

পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নজিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার বলেন, ‘বর্তমান এমপি নানা বির্তকে জড়িয়ে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। শ ম রেজাউল করিম দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের আইনী সহায়তা দিয়েছেন। তার মতো ক্লিন ইমেজের মানুষ এ আসনে মনোনয়ন পেলে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত আসনটি ধরে রাখা সহজ হবে , এ আসনে নৌকার বিজয়ে শ ম রেজাউর করিমের বিকল্প নেই ।’

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend