নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || সোমবার , ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র দ্বিতীয় স্বাধীন টেলিভিশন কেন্দ্র হবে: তথ্যমন্ত্রী

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র দ্বিতীয় স্বাধীন টেলিভিশন কেন্দ্র হবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্প্রচার আগামী ডিসেম্বর নাগাদ ১২ ঘন্টায় উন্নীত করা হবে।

আজ শনিবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচার ৬ ঘন্টা থেকে ৩ ঘন্টা বাড়িয়ে ৯ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্র দেশের দ্বিতীয় জাতীয় স্বাধীন টেলিভিশন কেন্দ্র হিসেবে ক্রমান্বয়ে উন্নীত করা হবে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ভিত্তিক টেলিভিশন কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ রাখা হবেনা। এটা দেশের দ্বিতীয় জাতীয় স্বাধীন টেলিভিশন কেন্দ্র হিসেবে ক্রমান্বয়ে উন্নীত করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এটির সম্প্রচার ১২ ঘন্টায় উন্নীত করা হবে। বর্তমানে এটি শুধু ক্যাবল টেলিভিশন হিসেবে সারা দেশে দেখা যায়। পরবর্তীতে এটিকে টেরিস্টেরিয়াল চ্যানেল হিসেবেও উন্নীত করা হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবার পর ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রথমে শুধু ১ ঘন্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার হতো। এরপর এই কেন্দ্রের অনুষ্ঠান ৩ ঘন্টায় উন্নীত করা হয়।

তিনি বলেন, সে সময় চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার করা অনুষ্ঠান ঢাকা কেন্দ্রে দেখা যেতো না। তারপর চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রে রূপান্তর করার জন্য ৪৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে সম্প্রচার ৬ ঘন্টায় উন্নীত করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ক্যাবল টেলিভিশন চ্যানেল হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে। এখন সারাদেশে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান দেখা যায়। আমি নিজেও ঢাকায় বসে এই কেন্দ্রের অনুষ্ঠান দেখি।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, বিটিভি’র মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশীদ, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিটিভির অনুষ্ঠান সম্প্রচারে মানের সঙ্গে কোন আপোষ করা হবে না জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সম্প্রচার সময় বাড়ালে হবে না, অনুষ্ঠানের মানও বাড়াতে হবে। মান সম্মত নয় এমন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য কেউ পীড়াপীড়ি করবেন না। এ রকম হলে সম্প্রচারের সময় বাড়িয়েও কোনো লাভ হবে না।

হাছান মাহমুদ বলেন, দেশের বাকি ৬টি বিভাগীয় শহরে বিটিভির কেন্দ্র স্থাপন করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। একনেক ইতোমধ্যে এ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। সব মিলিয়ে বিটিভির নেটওয়ার্ককে আমরা এমন জায়গায় উন্নীত করতে চাই- আগে যেভাবে মানুষ ঘরে ঘরে বিটিভি দেখতো, আবার যেনো সেভাবে দেখে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যম বান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর একুশে টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রথম প্রাইভেট টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়। সেই অভিযাত্রায় বাংলাদেশে এখন ৪৪টি টেলিভিশনের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। তৎমধ্যে ৩২টি সম্প্রচারে আছে। আরো কয়েকটি সম্প্রচারে আসবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোলকাতায়ও এত টেলিভিশন চ্যানেল নাই। এক্ষেত্রে আমরা কোলকাতা-পশ্চিমবঙ্গ থেকে এগিয়ে। গত ১০ বছরে পত্রিকা প্রকাশের সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অনলাইন গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ লাখ। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৯ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় ৫ কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন।

তিনি বলে, প্রধানমন্ত্রী আমাকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন তিন মাস ১ সপ্তাহ আগে। তিন মাসের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে বিটিভি’র চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে ৯ ঘন্টায় উন্নীত করার কাজটি করা কঠিন হলেও সকলের সমন্বিত উদ্যোগে আমরা করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন বিটিভি’র চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্প্রচার ১২ ঘন্টায় উন্নীত করা হবে এবং পরবর্তীতে এটিকে ২৪ ঘন্টায় উন্নীত করা হবে। সেই ধারাবাহিকতায় ১লা বৈশাখ থেকে ৯ ঘন্টায় উন্নীত করা হয়েছে।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend