নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || সোমবার , ১৮ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ভোলায় সয়াবিনের ব্যাপক আবাদ

ভোলায় সয়াবিনের ব্যাপক আবাদ

ভোলা জেলায় চলতি মৌসুমে সয়াবিনের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে এখানে আবাদ কার্যক্রম লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৭ হাজার ৫৭২ হেক্টর জমিতে সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত জমি থেকে ১৩ হাজার ৪৬২ মে:টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে জেলায় সয়াবিনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ। আর সয়াবিন তেল ছাড়াও নানান কাজে ব্যবহার হওয়াতে কৃষকদের এর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বীনয় কৃষ্ণ দেবনাথ জানান, জেলায় এবছর সয়াবিনের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫৬৩ হেক্টর জমিতে। বিপরীতে ৯ হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। পল্ট্রি খামার, চাইনিজ ও রেস্তেরায় সয়াবিনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরাও ঝুঁকছেন সয়াবিনের প্রতি।

তিনি বলেন, সয়াবিনের পাতা পড়ে জমিতে সার হয়। ফলে জমির উর্বরা শক্তি বাড়ে। সয়াবিন চাষে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ সেবা দেয়া হচ্ছে। যদি বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হয় তবে এখানে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৃত্যুজ্ঞয় তালুকদার বলেন, মাঘের শুরুর দিকে জেলায় সয়াবিনের আবাদ আরম্ভ হয়। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে ফসল ঘরে তুলবে কৃষকরা। এখানকার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে সয়াবিন অধিক পরিমাণ হয়। এখানে মূলত সোহাগ ও বাড়ি সয়াবিন-৪ এর আবাদ বেশি হয়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, সয়া আটা, সয়া লুচি, সয়া শষ-দুধসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর-মজাদার খাবার তৈরি হয় সয়াবিন দিয়ে। সয়াবিন চাষে রোগ-বালাই’র আক্রমণ তেমন না থাকাতে ফলন ভালো হয়। তাই সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় সয়াবিন চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলার সবচেয়ে বেশি সয়াবিন চাষ হয়েছে দৌলতখান উপজেলায়। এ উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হয়েছে। এখানকার মেঘনা নদীর মাঝে জেগে উঠা চরে শোভা পাচ্ছে সয়াবিনের ক্ষেত। কথা হয় এ চরের সয়াবিন চাষি রহিম মিয়া, আনোয়ার হোসেন, কবির হোসেন ও ফিরোজ আলীর সাথে।

তারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে তারা সয়াবিন চাষ করছেন। এবার প্রত্যেকে ২ একর করে জমিতে সয়াবিন আবাদ করেছেন। মাঠে ফসলের অবস্থাও বেশ ভালো রয়েছে। বর্ষা শুরুর আগেই সয়াবিন ঘরে তোলা হয়। অল্প কিছুদিন পরেই ফসল কাটা হবে। অপর চাষি মোজাম্মেল ও ফরাহাদ মাঝি বলেন, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত আমাদের ফসলের মাঠ পরিদর্শন করে যান। এখন পর্যন্ত কোন উল্লেখযোগ্য সমস্যা নেই।

মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বেনজীর আহাম্মদ বলেন, কৃষকদের বীজ রোপণ থেকে শুরু করে ফসল কর্তন পর্যন্ত আমাদের সেবা অব্যাহত আছে। অনেক সময় কৃষকরা ফোন করলে আমরা তাদের সমস্যা সমাধানে ছুটে যাই।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend