নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || বৃহস্পতিবার , ২৪শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৯ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৩শে সফর, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

নুসরাত হত্যা মামলা

তদন্তে সোনাগাজীর ওসিসহ চার পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে!

তদন্তে সোনাগাজীর ওসিসহ চার পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিলেছে!

নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ফেনীর দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটির কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) তদন্ত  কমিটি এ প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনসহ অন্তত চার পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, তদন্ত কমিটি ফেনীর পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমসহ সংশ্লিষ্ট ১০ পুলিশ কর্মকর্তা, মাদ্রাসার কমিটি, স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতিনিধি মিলিয়ে অন্তত ৩৭ জনের বক্তব্য নিয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান এবং পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি এস এম রুহুল আমীন বলেন, ‘তদন্তকাজ শেষ। প্রতিবেদনও এখন প্রায় চূড়ান্ত। আজকের মধ্যে আইজিপি মহোদয়ের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।’

নুসরাত হত্যার ঘটনায় পুলিশসহ স্থানীয় প্রসাশনের গাফিলতি তদন্তে গত ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল তদন্ত কমিটির প্রধান এবং পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি এস এম রুহুল আমীন তদন্তে আসেন। এর আগে গত ১২ এপ্রিল মানবাধিকার কমিশনের একটি তদন্ত দল স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তারা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, নুসরাতকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার যৌন হয়রানির চেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিলে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা এড়ানো যেতো। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না।

ঘটনায় নুসরাতের বড়ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল আট জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ১০ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই ২৩ আসামিকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এখনও ছয় জন রিমান্ডে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, নিহত নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় অধ্যক্ষের ভাগ্নি পপি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend