নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || মঙ্গলবার , ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

ক্রিকেট বিশ্বকাপে শীর্ষ উইকেট শিকারী পাঁচ বোলার

ক্রিকেট বিশ্বকাপে শীর্ষ উইকেট শিকারী পাঁচ বোলার

বিশ্বকাপে সাধারণত ব্যাটসম্যানদেরই জয় জয়কার থাকে। তারাই টুর্নামেন্টে একক প্রাধান্য বিস্তার করে এবং স্পট লাইটটা থাকে তাদের ওপড়ই। তবে সেরা ও সবচেয়ে বেশি থিতু এবং ভিন্নতা সম্পন্ন বোলিং আক্রমণ বিভাগ থাকা দলই বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা ১৯৮৩ ও ২০১১ আসরে ভারত কিংবা ১৯৯৯, ২০০৩ এবং ২০০৭ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া প্রতিবারই শিরোপা জিতেছে তাদের শক্তিশালী বোলিং ইউনিটের কারণে।

সুতরাং একটা দলের শিরোপা বরাবারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বোলাররা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী এমন পাঁচ বোলার।

#৫ জহির খান ও জাভাগাল শ্রীনাথ
ভারতীয় দুই কিংবদন্তী ফাস্ট বোলার বিশ্বকাপে যথাক্রমে ২৩ ও ৩৪ ম্যাচে ৪৪টি করে উইকেট শিকার করেছেন। ২০১১ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে ভারতীয় দলের আক্রমণ বিভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন জহির খান। ২০০৩ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হওয়া ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমনের নেতৃত্ব দেন শ্রীনাথ। বিশ্বকাপে দলের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারে যৌথভাবে শীর্ষে থাকা এ দু’জন সর্বকালের সেরাদের তালিকায় আছেন পঞ্চম স্থানে। শ্রীনাথের বোলিং গড় ২৭ দশমিক ৮২। যার মধ্যে দুই ইনিংসে তিন শিকার করেন চারটি করে উইকেট। ২০ দশমিক ২৩ গড়ে জহির নিয়েছেন এক ইনিংসে চার উইকেট।

#৪ চামিন্ডা ভাস
শ্রীলংকার জার্সি গায়ে সম্ভবত এ যাবতকালের সেরা সিমার বিধ্বংসী ভাস ২০০৩ বিশ্বকাপে ছিলেন নিজের সেরা ফর্মে। ৩১ ম্যাচে ৪৯ উইকেট শিকার করে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করা ভাস ১৯৯৬ আসর জয়ী লংকান দলেরও সদস্য ছিলেন। শ্রীলংকান বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সেরা বাঁ-হাতি ভাসের বিশ্বকাপে বোলিং গড় ২১ দশমিক ২২। বিশ্ব আসরে তার সেরা বোলিং ফিগার৬/২৫ এবং চার উইকেট শিকার করেন দুই ম্যাচে। বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় চতুর্থ স্থানে আছেন তিনি।

#৩ ওয়াসিম আকরাম
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থেকে অবসর নেয়ার সময় ওয়ানডে ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন তিনি। ওয়াকার ইউনিসসহ পাকিস্তান দলের ধ্বংসাত্মক বোলিং লাইন আপের অংশ ছিলেন আকরাম। ২৩ দশমিক ৮৪ গড়ে ৩৮ ম্যাচে ৫৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় সর্বোচ্চ শিকারী তিনি। রিভার্স সুয়্যিং-এর মাস্টার বাঁ-হাতি এ পেসার ছিলেন নিজ প্রজন্মের গ্রেটেস্টে বোলার। ১৯৯২ শিরোপা জয়ী এবং ১৯৯৯ রানার্স আপ হওয়া পাকিস্তান দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। তিন বার চার উইকেট শিকারসহ বিশ্বকাপে তার সেরা বোলিং ফিগার ৫/২৮।

#২ মুত্তিয়া মুরলিধরন
শ্রীলংকার কিংবদন্তী এ স্পিনার ওয়ানডে এবং টেস্ট উভয় ফর্মেটেই সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। ৪০ ম্যাচে ৬৮ উইকেট শিকার করে বিশ্বকাপ ইতিহাসেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক তিনি। আইসিসি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেরা ১৯ দশমিক ৬৩ বোলিং গড়ের মালিক তিনি। ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ী শ্রীলংকা দলের সদস্য ছিলেন মুরলি। তবে দুর্ভাগ্য ২০০৭ এবং ২০১১ আসরের রানার্স হয়ে সন্তস্ট থাকতে হয় তাকে। বিশ্বকাপে চার ম্যাচে চারটি করে উইকেট নেয়া মুললির সেরা বোলিং ফিগার ৪/১৯।

#১ গ্লেন ম্যাকগ্রা
একটা সময় বিশ্ব ক্রিকেটকে এককভাবে শসন করেছে অস্ট্রেলিয়া। যার মূল কারণ ছিল প্রজন্মের সেরা এ পেসার। ১৯৯৯-২০০৭ এক নাগারে তিনবার বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ম্যাকগ্রা এবং কেন তিনি এ তালিকার শীর্ষে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

বিশ্বকাপে ১৮ দশমিক ২০ গড়ে ৩৯ ম্যাচে ম্যাকগ্রার শিকার ৭১ উইকেট। বিশ্বকাপে অধিকাংশ ম্যাচেই দলের মূল অস্ত্র ছিলেন তিনি এবং ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে শচিন টেন্ডুলকারের উইকেট শিকারের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন ম্যাকগ্রা। বিশ্বকাপে সেরা বোলিং ফিগার ৭/১৫। এ ছাড়া দুই ম্যাচে চারটি করে শিকার রয়েছে তার।

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের পরবর্তী পাঁচ জন হলেন লাসিথ মালিঙ্গা, এ্যালান ডোনাল্ড, জ্যাকব ওরাম, ড্যানিয়েল ভেট্টরি এবং ব্রেট লী। এদের মধ্যে জহির খান ও শ্রীনাথের চেয়ে মাত্র ১ উইকেট পিছিয়ে থাকা মালিঙ্গা আসন্ন আসরে খেলতে যাচ্ছেন এবং শীর্ষ পাঁচ-এ উঠে আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। এ ছাড়া বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহির যথাক্রমে ৩৩ ও ২৯ উইকেট নিয়ে আছেন শীর্ষ ২৫ জনের তালিকায়।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend