নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || মঙ্গলবার , ২১শে মে, ২০১৯ ইং , ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৪ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

নওগাঁয় শ্রমিক সংকটে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে ধান

নওগাঁয় শ্রমিক সংকটে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে ধান

নওগাঁয় বর্তমানে ধান কাটার শ্রমিকের চরম সংকট। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষকের ফলানো ইরি-বোরো পাকা ধান জমিতেই খড়ায় পুড়ছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে জেলার কৃষকরা।

জেলার ১১টি উপজেলার মাঠের পর মাঠ ধান কাটার শ্রমিকের চরম সংকটের কারণে জমিতেই তীব্র খড়ায় পুড়ছে কৃষক-কৃষানীর স্বপ্ন পাকা ইরি-বোরো ধান। পাকা ধান ঘরে তুলতে অনেক কৃষকরা প্রতিমন ধানের বিপরিতে প্রতি ৪০ কেজিতে ২০ কেজি ধান দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। ধান কাটার শ্রমিকদের দিয়ে মাঠ থেকে ধান কেটে এনে ঘড়ে তুলতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। তারপর মিলছে না ধান কাটার শ্রমিক।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মিনহাজুল (৫২), মোকলেছার রহমান (৪৭) ও পত্নীতলা উপজেলার জাহিদুল রহমান (৫১) সহ অনেক কৃষক ধান কাটার শ্রমিক নেওয়ার জন্য নওগাঁর চৌমাশিয়া নওহাটামোড় বাজারে এসে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বসে থেকেও কোন শ্রমিক মেলাতে পারেননি।

তারা জানান, শ্রমিক সংকটের কারণে জমিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গত বছর ইরি-বোরো মৌসুমেও আমাদের এ বিপদে পড়তে হয়নি। গত বছর যেখানে মাত্র জমি থেকে ধান কেটে বাড়িতে তুলতে প্রতিমন ধানের বিপরিতে প্রতি ৪০ কেজিতে ৫কেজি ধান শ্রমিকরা নিয়ে আমাদের ধান কেটেছেন। আর মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই একই জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে প্রতিমন ধানের বিপরিতে প্রতি ৪০ কেজিতে ২০ কেজি ধান শ্রমিকদেরই দিতে বাধ্য হচ্ছি আমরা কৃষকরা।

একদিকে ধান কাটিয়া শ্রমিকের চরম সংকট অপরদিকে বাজারে ধানের মূল্য নেই জানিয়ে তারা বলেন, শ্রমিক সংকট সমাধান না হলে এবং প্রতিমন ধানের বিপরিতে প্রতি ৪০ কেজিতে ২০ কেজি ধান শ্রমিকদের দিয়ে ধান কেটে নিলে সর্বনিন্ম প্রতিমন ধানের বিপরিতে শুধুমাত্র আমাদের খরচই পড়বে সাড়ে ৮ শত টাকা থেকে সাড়ে ৯ শত টাকা। বর্তমান ধানের হাট-বাজারে আপনারা দেখুন লম্বা জিরা শাইল প্রতিমন কেনাবেচা হচ্ছে সাড়ে ৫শত টাকা থেকে সাড়ে ৬ শত টাকা, আর খাটো জিরাসাইল ধান প্রতিমন কেনাবেচা হচ্ছে সাড়ে ৬শত টাকা থকে ৭ শত টাকা পর্যন্ত।

সরস্বতীপুর ধানের হাটে ধান বিক্রি করতে আসা আজিপুর অজুনি গ্রামের কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েকদিন আগে ফণী নামের ঝড় ও বাতাসের কারণে আমার মাঠের সব ধান জমিতে শুয়ে পড়ে এবং কিছুধান পানিতে তলিয়ে থাকায় অনেক কষ্টে ১৩ জন শ্রমিক লাগিয়ে ধান কেটে তুলেছি। আমরা কৃষকরাই সারাজীবন লোকসান দিয়ে বেঁচে থাকি এসব লিখেও কোন লাভ নেই, আর কিছু দিন বা বছর পর আমাদের মত মাঝারি আকারে কৃষকদের জমি বিক্রি করে খেতে হবে না হয় অন্যের বাড়িতে দিনমজুরী কাজ করতে হবে। ধান রোপনের খরচ থেকে শুরু করে সার, কিটনাশক ও সর্বশেষ ধান কাটার সময় শ্রমিককেই দিতে হচ্ছে প্রায় অর্ধেক ধান এতে করে আমরা প্রতি মনে যে খরচ করছি কিন্তু বাজারে গিয়ে সেই খরচের টাকা ও উঠছে না।

জেলার মহাদেবপুর উপজেলার চৌমাশিয়া, বাগধানা, খোর্দ্দনারায়নপুর ও নলবলোসহ বেশ কয়েকটি মাঠ ঘুড়ে দেখা গেছে মাঠের পর মাঠে জমিতে ধান পেকে তীব্র খড়ায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এসব গ্রামের কৃষকদের ও একই অভিযোগ ধান কাটিয়া শ্রমিকের চরম সংকট।

এই ধান কাটিয়া শ্রমিক সংকটের সমাধান যদি চলতি সপ্তাহেও না হয়। সেক্ষেত্রে অনেক মাঠে কষ্টে ফলানো কৃষকদের ইরিবোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে এমন ধারণা পোষণ করে সচেতন মহল একই সাথে সাধারণ কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে তুলতে হাট-বাজারে ধানের মূল্য সর্বনিন্ম প্রতিমন সাড়ে ৮ শত থেকে ৯ শত টাকা দরে বিক্রি যেন হয় বা কৃষকরা বিক্রি করতে পারে এজন্য বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের জরুরী আশু পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com
x

Send this to a friend