নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || সোমবার , ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৩শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন: মাঠে নেই বিএনপি

বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন: মাঠে নেই বিএনপি

বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরপরই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সরব হলেও একেবারেই মাঠে নেই বিএনপি। তবে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে চলছে নানা কল্পনা জল্পনা। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আসন থেকে নির্বাচিত হন।

২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি শপথ না নেওয়ায় আসনটি শূণ্য ঘোষণা করা হয়। শূণ্য ঘোষণার পর দিন থেকেই আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিজেকে প্রার্থী হিসেবে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির নেতারা মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন প্রার্থী হতে। কিন্তু বিএনপি থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নেতাই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি। আর এ জন্য সাধারণ কর্মী-সমর্থক এবং ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। তবে বিএনপির অধিকাংশ নেতারা তাদের প্রাণের দাবী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া। আবার অনেকেই বলছেন বগুড়া-৬ আসন থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচন করে থাকেন। উপ-নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে না পারলে জিয়া পরিবারের যে কোন সদস্য কে প্রাথী দেওয়ার দাবী তাদের।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ২৯ এপ্রিল বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ শপথ নিলেও মির্জা ফখরুল শেষ পর্যন্ত শপথ নেননি। এ কারণে গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার আসনটি শূণ্য ঘোষণা করা হয়।

গত ৮ মে বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম শাহ্ এই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ মে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ, ২৭ মে মনোনয়নপত্র বাছাই, ৩ জুন প্রার্থীতা প্রত্যাহার এবং ২৪ জুন সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়ার ৭টি আসনই দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির দখলেই ছিল। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভোটে অংশগ্রহণ না করায় মহাজোটের প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ওমর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী নূরুল ইসলাম ওমরকে পরাজিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তথা মহাজোট থেকে নির্বাচিত অন্য প্রার্থীরা শপথ নিলেও বিএনপি মহাসচিব শপথ নেননি। এ জন্যই আসন টি শূণ্য হয় আর এ আসনে বিএনপি থেকে যে কেউ, নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেন না, তা জেলা বা তৃণমূল নেতারা কেউ তা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ি বগুড়ায়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা ধারণা করছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শেষ পর্যন্ত শপথ নিলেও দলের মহাসচিব শপথ না নেয়াটা দলের কৌশল হতে পারে। দলের নেতা-কর্মীদের মতে উপনির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে। এরমধ্যে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিও পেতে পারেন। অথবা জিয়া পরিবার থেকেই কেউ নির্বাচনে অংশ নেবেন জন্যই মহাসচিব শপথ না নিয়ে আসন শূণ্য করেছেন।

তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা, বিএনপি উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ নাও করতে পারে। আর বিএনপি অংশ গ্রহণ না করলে এই আসনটি উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের দখলে চলে যাবে। একারণে আওয়ামী লীগ থেকে বেশ কয়েকজন নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী মর্মে প্রচার শুরু করেছেন।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর একাদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরেও আবারো উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হবেন মর্মে প্রচার শুরু করছেন।

এদিকে বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতাই উপ-নির্বাচন নিয়ে মুখ খুলছেন না। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ভিপি সাইফুল ইসলাম এ প্রতিবেদক-কে বলেন, উপনির্বাচন নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। দল যে নির্দেশনা দেবে নেতা-কর্মীরা তা বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও ও বগুড়া থেকে নির্বাচন করেন। বগুড়া-৬ আসনে তিনি নির্বাচিত হন। বিএনপি এই নির্বাচনে ৬টি আসনে জয়ী হয়। ইতোমধ্যে ৫ জন সাংসদ দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend