নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || শুক্রবার , ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

সারিয়াকান্দিতে ভূট্টা চাষীদের মুখে হাসির ঝিলিক

সারিয়াকান্দিতে ভূট্টা চাষীদের মুখে হাসির ঝিলিক

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলে ভূট্টা চাষে ব্যাপক সফলতা এসেছে। সে সাথে ভূট্টার দাম ভাল পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত ভূট্টা ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনায় সরগরম।

স্থানীয় ভূট্টা চাষীদের সূত্রে জানা যায়, যমুনা ও বাঙালি নদীর চরে বছরের পর বছর অনেক জমি পতিত পড়ে থাকে। এসব পতিত জমিতে বিভিন্ন অসুবিধা থাকায় ভাল কোন ফসলের চাষ করা যায় না। কিন্তু ওইসব পতিত জমিতে ভূট্টা চাষের উজ্জল সম্ভাবনা থাকায় চলতি মৌসুমে ভূট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েন চাষীরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দিতে ২হাজার ৫শ’১৫ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে বীজ বপন করার পর এপ্রিল মাসের শেষের দিক হতে ভূট্টা ঘরে তোলা পর্যন্ত অনুকুল আবহাওয়া ছিল। চরাঞ্চরের বালি পরে থাকা জমিতে বীজ বপনের পর থেকেই গাছ তরতর করে বেড়ে উঠতে থাকে। প্রতিটি গাছে কমপক্ষে ১৫/২০টি করে ভূট্টার কলা ধরা পড়ে। ভূট্টা চাষিরা গড়ে ৬শ’টাকা মন দরে বিক্রি করে। চরের কোন কোন কৃষক একক ভাবে ১৫/২০বিঘা পর্যন্ত জমিতে ভূট্টা চাষ করেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আরো জানান, এছাড়াও এবার গড়ে ৯ মেট্রিক টন ভূট্টা ফলন হয়েছে। বিপনন করতে পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি হাজার হাজার নারী শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। নারীরা দক্ষ হয়ে উঠায় এ কাজে তাদের কদর বাড়ছে।

উপজেলার শিমুরতাইড় চরের কৃষক মকবুল হোসেন জানান, তিনি এবার প্রায় ৩বিঘা জমিতে ভূট্টা চাষ করেছিলেন। ওই জমি হতে প্রায় ২লক্ষ টাকার ভূট্টা বিক্রি করেছি।

চরদলিকা চরের মাহফুজার রহমান ডাবলু জানান, তিনি ৯বিঘা জমিতে এবছর ভূট্টা করেছিলেন। প্রতি বিঘায় ভূট্রা চাষ ও কাটা মাড়াইয় করতে মোট খরচ হয়েছে ৫ থেকে ৬হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমি থেকে ভূট্ট পাওয়া যাচ্ছে ৩৫/৪০ মন পর্যন্ত। বাজার গুলোতে প্রতি মন ভূট্ট ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রয় হয়ে থাকে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ভূট্টা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। সে সাথে বাজারে দাম ও চাহিদা বেশী থাকায় এবার আমাদের কপাল খুলেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হালিম(ভারপ্রাপ্ত) বলেন, আমাদের পরামর্শে, ভূট্টা চাষীদের যাবতীয় কারীগরি সহযোগিতা এবং অনুকুল আবহাওয়ায় চরের চাষীদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend