নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || শনিবার , ১৭ই আগস্ট, ২০১৯ ইং , ২রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

পায়রা সমুদ্র বন্দর ঘিরে মহা-কর্মযজ্ঞ

পাল্টে যাচ্ছে পটুয়াখালীর অর্থনৈতিক চিত্র

পাল্টে যাচ্ছে পটুয়াখালীর অর্থনৈতিক চিত্র

পায়রা সমুদ্র বন্দর ঘিরে পটুয়াখালীসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত এগিয়ে চলছে উচ্চতর এক মেঘা প্রকল্প’র কাজ। সরকার ঘোষিত বিশেষ অর্থনৈতিক জোন গড়া আলোরমুখ দেখছে। এতে বেকারত্ত্ব কর্মসংস্থান হচ্ছে। আর বিপুল রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। একের পর এক আয় বর্ধক গুরুত্ত্বপূর্ণ স্থাপন দৃশ্যমানে আনন্দের জোয়ার বইছে সবার মাঝে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে এশিয়ার প্রধান বানিজ্যক ঘাটি হবে পায়রা সমুদ্র বন্দর। এমটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেত্রীর সময় জেলার বিভিন্ন জন সমুদ্রের বক্তব্যে রূপ কথার গল্প শুনিয়েছিলেন। বলেছিলেন অবহেলিত এই ভাটি জেলাসহ গোটা দক্ষিাণাঞ্চবাসির টেকসই জীবন-মান উন্নয়নে যা করার দরকার ক্ষমতায় গেলে তাই করবে তার সরকার। কথা রেখেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই স্বপ্নের বানীর ফুলঝুড়ি আজ বাস্তব দৃশ্যমান। চলছে মেগা প্রকল্প উন্নয়নের মহা কর্মযজ্ঞ। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে বেকারদের। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।

২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলার কলাপাড়ার টিয়াখালীতে রামনাবাদ তীর্রে নাম ফলক উদ্বোধন করেন। আর ২০১৬ সালের ১৩ আগষ্ট এক ভিডিও কনফারেন্সে আনুষ্ঠানিক পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে এর শুভ উদ্বোধন করেন তিনি। পদ্মা সেতু নির্মানে ২টি চীনা বানিজ্যিক জাহাজে আসা ৫৩ হাজার মে.টন পাথর নিয়ে শুরু হয় বন্দরটি। এটি চালুর পর এ পর্যন্ত প্রায় বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ। যা সরকার ঘোষিত অর্থনৈতিক জোন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আরো এক ধাপ এগুলো। ১৬ একর জমিতে ৩ হাজার ৫শ’৫৩ কোটি টাকা ব্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

বন্দর ঘেষে কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামে পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র কাজ স্থাপন প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। কয়লা ভিত্তিক ১৩শ’২০ মেগাওয়াট উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এই কেন্দ্রটি সালে উৎপাদনে যেতে সক্ষম হবে ২০১৯ সালে। এমনটাই জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন অধিগ্রহণকৃত ১ হাজার একর জমিতে আরো ৭শ’মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন আরো বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মান হবে। দেশের সবচেয়ে বড় কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্রটি নির্মানে ব্যায় হবে ২২ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ-চীন যৌথ পাওয়ার কোম্পানি এটি বাস্তবায়ন করছেন। এটি চালু হলে তৈরী হবে লাভজনক নানা শিল্প প্রতিষ্ঠান। ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি কর্মসংস্থানের। আর ক্ষতিগ্রস্থদের পুর্নবাসনে ১৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এদের জীবন-মান উন্নয়নে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানাগেছে, ইতোমধ্যে কুয়াকাটার মাইঠভাঙ্গা গ্রামে স্থাপন করা হয়েছে দেশের একমাত্র উচ্চ গতি সম্পন্ন দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ষ্টেশন। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধান মন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে ষ্টেশনটির শুভ উদ্বোধন করেন। ১০ একর জমিতে ৬শ’ ৬০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় এটি। ২০১৩ সালে শুরু হয়ে তা শেষ হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। গ্রাহকরা পাবেন নিরবিচ্ছন্ন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা। যার ক্ষমতা থাকবে ১ হজার ৫শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। এতে তথ্যপ্রযুক্তিতে আরো একধাপ এগুলো বাংলাদেশ।

তারা জানান, ১৯টি দেশের টেলিযোগাযোগ সংস্থার সম্মেলনে গঠিত সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের অধীনে নির্মিত হয় ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এ কেবলটি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলংকা ও ভারত হয়ে ইউরোপের ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত লাইনটির পরীক্ষামূলক সংযোগ চালু করা হয় ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিযোগ্য থাকবে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ।

এ ছাড়া পর্যটন কুয়াকাটার সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্থা আমুল উন্নয়ন হয়েছে। কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটার ২২ কি.মিটার সড়কের ৩টি নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু’র শহীদ ৩ ছেলে শেখ কামাল, শেখ জমাল এবং শেখ শেখ রাসেল সেতু। ফলে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর লক্কর-ঝক্কর মার্কা ফেরীর সেই অসহনীয় জনদুর্ভোক লাঘব হয়েছে। এতে কুয়াকাটার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন দেশী-বিদেশী ভ্রমন পিপাসু। সরকারও পাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে দেশের সর্বাত্যাধুনিক চার লেন সড়ক নির্মান কাজ। অধিগ্রহণকৃত ৫৮ একর জমির কলাপড়া-কুয়কাটা মহা-সড়কের রজোপাড়া পায়রা সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ১২ মিটার প্রস্থ নির্মিত হচ্ছে সড়কটি। ১৫৪ কোটি টাকা ব্যায়ে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী এবং এমএম কোস্পানি যৌথভাবে নির্মান হচ্ছে এটি।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সচিব অশোক মাধব রায় জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নামে সড়কটি চালু হলে বন্দরে ওঠা-নামা পন্য পরিবহন অত্যন্ত সহজ হবে।

এদিকে গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা তীরে উদ্বোধন করা হয় দেশের প্রধান সেনা ঘাটি শেখ হাসিনা সেনানিবাস । দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিতব্য ওই দিন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রধান মন্ত্রী এ সেনানীবাসহ জেলার আরো ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্পর’র শুভ উদ্ভোধন করেন। জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ন স্থাপনার নিরাপত্তাসহ দক্ষিনের ৬ জেলার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যাপক ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে এটি।

ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর হয়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পর্যন্ত ১শ’৪০ কিলো.মিটার রেল লাইনও হচ্ছে। এ যেন আরেক স্বপ্ন পুরনের আনন্দঘন প্রতীক্ষা। বৃটিশ ডিপি রেল কোম্পানি এটি বাস্তবায়ন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। যার ব্যায় হবে ৬০ হাজার কোটি টাকা। এ যেন আরেক স্বপ্ন পুরনের আনন্দঘন প্রতীক্ষা দক্ষিণাঞ্চলবাসি।

তাছাড়া জেলার দশমিনায় ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ বীজ ভান্ডার খামার, তৈরী হবে নেভাল বেইজ, জাহাজ প্রস্তুত কোম্পানি, পোশাক ও ওষুধ শিল্প আর নানা কলকারখানা। স্থাপন হবে তেল শোধনাগার, মৎস্য প্রকৃয়াজাত করন ষ্টেশন। তড়িৎ নির্মান হচ্ছে পটুয়াখালীর প্রবেশদ্বার লেবুখালী নদীর ওপর পায়রা সেতুর কাজ।

মোটকথা সরকার ঘোষিত অর্থনৈতিক জোনকে ঘিরে এক মহা উন্নয়নের জোয়ার বইছে গোটা জেলা জুড়ে। এতে বেশ আনন্দিত এলাকাবাসি। এ জন্য সরকার তথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সু-যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ তারা।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend