নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || রবিবার , ২৬শে মে, ২০১৯ ইং , ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

সাত মাস আগেই খুলছে দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু

সাত মাস আগেই খুলছে দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু

নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাত মাস আগেই খুলে দেয়া হচ্ছে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু। ২৫ মে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সেতু দুটি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা আবু নাছের এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক ২০১৬ সালে চালু হলেও এ পথে বিষফোঁড়ার মতো রয়ে যায় তিনটি সরু সেতু, যে কারণে দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট। এ তিনটি সেতুর সমান্তরালেই চার লেনের নতুন সেতু নির্মাণ করছে সরকার। সেতুগুলো হচ্ছে—দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু। এর মধ্যে গত মার্চেই খুলে দেয়া হয় নারায়ণগঞ্জের দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুটি। বাকি দুটি সেতুও ঈদের আগেই উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে, যাতে ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কের পূর্ণ সুফল পান যাত্রীরা।

দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক শওকত আহমেদ মজুমদার জানান, চার লেনবিশিষ্ট দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর দৈর্ঘ্য ৯৩০ মিটার। ১১টি পিয়ার ও দুটি অ্যাপার্টমেন্টে জয়েন্টের ওপর নির্মিত সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। সেতুর ঢাকা প্রান্তে প্রায় এক কিলোমিটার ও চট্টগ্রাম প্রান্তে এক কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং পশ্চিম পাশে সেতুর নিচ দিয়ে ৫০৭ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪১০ মিটার। পিয়ার সংখ্যা ১৬টি। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকা।

সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) অনুযায়ী দ্বিতীয় কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। তবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলে আসছিলেন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতুর কাজ শেষ হবে। বাস্তবে কাজ শেষ হলো তারও প্রায় সাত মাস আগে।

সাত মাস আগে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় প্রকল্পে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো বড় প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হলো।

দ্বিতীয় মেঘনা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আবাসিক প্রকৌশলী শেখ জহির উদ্দিন জানান, জাপানের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি এসপি ফাউন্ডেশন ও স্টিল কংক্রিট কম্পোজিটের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ হয়েছে।

ঈদের আগেই দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু খুলে দেয়ার খবরে খুশি পরিবহন চালক ও যাত্রীরাও। ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে চলাচলকারী স্টার লাইনের চালক সাব্বির আহমেদ জানান, মেঘনা ও গোমতী সেতুতে গাড়ি চলত একটি লেনে। পুরনো সেতু দুটি বেশি খাড়া হওয়ায় লোড যানবাহন সেতুতে উঠত ধীরগতিতে। এ কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও ঈদের সময় যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে এ সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হতো। নতুন সেতু চালু হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কের পূর্ণ সুফল এখন থেকে পাওয়া যাবে।

কুমিল্লার বাসিন্দা ইউনুস মিয়া বলেন, চার লেন হওয়ার আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে ৫-৬ ঘণ্টা লাগত। এখন লাগছে ৭-৮ ঘণ্টা। কখনো কখনো আরো বেশি। যাত্রার সময় বেড়ে যেত তিনটি সেতু পারাপার হতে গিয়ে। নতুন সেতুগুলোর কারণে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com
x

Send this to a friend