নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || বৃহস্পতিবার , ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৯শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

কুয়াকাটায় ভ্রমণ পিপাসুরা গন্তব্যে ফিরতে চরম ভোগান্তি

কুয়াকাটায় ভ্রমণ পিপাসুরা গন্তব্যে ফিরতে চরম ভোগান্তি

ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের গন্তব্যে ফিরতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অধিক লোভের কারণে যানবাহন সংকট দেখিয়ে বাসের ছাদ বোঝাই করে পর্যটক ও যাত্রীদের ঝুকি নিয়ে গন্তব্যে নেওয়া হচ্ছে। সড়ক ও নৌ-পথে যানবাহনে গুনতে হয়েছে দ্বিগুন ও তার চেয়েও বেশী ভাড়া।

একই অবস্থা ঘর থেকে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের। ঈদের ৫ দিন আগে থেকে শুরু হওয়া এ নৈরাজ্য চলছে ঈদ পরবর্তী এ সময়ও। ঈদের পঞ্চমদিন রবিবার ও তার আগেরদিন শনিবার কুয়াকাটা সৈকতে অন্ততঃ ২০জন পর্যটক পরিবহনে টিটিক বুকিং’র সময় কাউন্টার ইনচার্জদের সাথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে বাকবিতিণ্ডা হয়। এমন চিত্র প্রতিবেদকের নজরে আসলে সরেজমিন তদন্তে বেড়িয়ে আসে আরও অসংখ্য ঘটনা। পর্যটকরা ন্যায্যমূল্যে টিকিট পেতে হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকে এ কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে। কোথাও মেলেনা ন্যায্যতা। ওই অসাধু ব্যবসায়ীরা টিকেটের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে। বাড়তি মূল্যের চেয়েও পরে আরোও একধাপ বাড়তি মূল্য দিলে মিলে টিকিট।

এক শ্রেণির দূর্ণীতিবাজ বাস মালিক-পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন ও কাউন্টার ইনচার্জরা সিন্ডিকেট করে কুয়াকাটা আগত পর্যটকদের জিম্মি করে ৪শ’ টাকার বাস ভাড়া আদায় করছে ৮শ’ টাকা। বিলাস বহুল (এসি বাস) গাড়িগুলোও ৮শ’ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ১হাজার ২’শ টাকা থেকে ১হাজার ৫’শ টাকা করে। জোড়াতালি দিয়ে নতুন করে একই ব্যানারে নামিয়েছে অসংখ্য নিম্মমানের বাস। একজন ড্রাইভার দিয়েই দিনরাত চব্বিশ ঘন্টাই বাস চালাচ্ছে। কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুরে অন্তত ২০টি রুটে চলাচলে প্রায় ৫০টি বাস কাউন্টারে একই চিত্র। তাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, চলতি সপ্তাহ জুড়ে এমন দ্বিগুন ভাড়া আদায় করবে তারা।

বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কুয়াকাটা এক্রপ্রেস কুয়াকাটা কাউন্টার ইনচার্জ ইব্রাহীম যৌক্তিকতা তুলে ধরেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরিবহনগুলো খাঁলি এসে কুয়াকাটা থেকে যাত্রী নিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ক্ষতি পোষাতে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে হচ্ছে। কুয়াকাটায় আসা প্রতিটি পর্যটকের আসতে ও যেতে এবং ঘরে ফেরা যাত্রীদের কর্মস্থলে ফিরতে বাড়তি ভাড়া গুনতে হলেও স্থানীয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকসহ ঘর থেকে কর্মস্থলে ফেরা কর্মজীবি মানুষ।

এসব বিষয়ে নিয়ে কথা হয় ট্যুরিষ্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ জেষ্ঠ্য এএসপি জহিরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান এসব বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে ঈদের আগে মিটিং হয়েছে। বাস-নৌযান মালিক সমিতি নেতাদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ট্যুরিষ্ট পুলিশের ওই কর্মকর্তা স্বীকার করে বলেন পর্যটকদের কাছ থেকে কুয়াকাটায় মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন। সৈকত এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তাই দিবে ট্যুরিষ্ট পুলিশ তবে এসব বিষয়ে মনিটারিং করবে জেলা পুলিশ।

যাত্রীবাহী পরিবহনে মাত্তাতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোন সুযোগ নেই এমনটা দাবী করে মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইদুর রহান বলেন, এমন কোন অভিযোগ তিনি ইতিমধ্যে পায়নি। তবে মহিপুর থানা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারি ভূমিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ দাস (চলতি দায়িত্ব) জানিয়েছেন, খোঁজখবর নিয়ে এ ব্যাপারে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend