নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || শুক্রবার , ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং , ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত করছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত করছে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমি রাখাইনে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে দুইবছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার নানা টালবাহানা সৃষ্টি করে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করছে।

এমনকি মিয়ানমার সরকার মানবাধিকার কমিশনকেও কাজ করতে দিচ্ছে না বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।

প্রশ্নোত্তর উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী বলপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারে তৈরি ঘরবাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতবছর আগস্টে মিয়ানমার সফর করেন।

‘প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার জন্য ইতোমধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে দু’দেশের সম্মতিক্রমে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে গতবছরের ২৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকরা স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে রাজি হয়নি। ফলে ২৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা তিনটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন করেছি।’

তিনি বলেন, চুক্তির একটিতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে, দুইবছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তথাপি মিয়ানমার সরকার নানা টালবাহানা সৃষ্টি করে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, এ সকল বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার অধিবাসীদের নিরাপত্তা, সম্মান এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। চুক্তির এ আদর্শ ও মূল বাণী বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমার সরকারকেই উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে এবং আশ্বাস দিতে হবে। কেননা মিয়ানমার সরকার নিজেরাই এ সমস্যা তৈরি করেছে।

বিশ্ব জনমত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অব্যাহতভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘ এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনে একটি রিপোর্ট প্রেরণ করেছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদের এ বিষয়ে কাজ করতে দিচ্ছে না। মিয়ানমারের অসহযোগিতা সত্ত্বেও আমরা দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক দুইটি পথই খোলা রেখেছি।

‘বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী, সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিস্পত্তির বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে,’ যোগ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com
x

Send this to a friend