নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || সোমবার , ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৩শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

‘বীরের রক্ত কখনো খুনির রক্তের সাথে মিলতে পারে না’

‘বীরের রক্ত কখনো খুনির রক্তের সাথে মিলতে পারে না’

পরিবারে যুদ্ধাপরাধী থাকলেও আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়া যাবে বলে গত ২৮ জুন জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সেতুমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ঝেড়েছেন একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরী ও শিক্ষাবিদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী। তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ।

আজকের দর্পণের পাঠকদের জন্য ডা. নুজহাত চৌধুরীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো :

“ যদি তাই হয়, তবে যারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা শহীদ সন্তান – তারা দূরে সরে যাবে। বীরের রক্ত কখনও খুনীর রক্তের সাথে মিলতে পারে না। হয় ওদের নেবেন, না হয় মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারদের নেবেন। সিদ্ধান্ত আপনাদের। প্রমাণিত পরীক্ষিত রক্তের সৈনিক চান না, না কি – পিঠে ছোরা মারা, আপসকামী বিশ্বাসঘাতকদের রক্তের সুসময়ের কোকিলদের দলে চান। ফলাফল ভেবে সিদ্ধান্ত নেবেন আশা করি।

ফলাফল এখন এই সুদিনে বোঝা যাবে না। ভয় হয়, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে, এমন একদিন আসতে পারে যেদিন আবার প্রয়োজন হবে এই পরীক্ষিত সৈনিকদের সমর্থন। চোখের জলে, বুকের অভিমানে সরে যাওয়া লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সেই প্রাপ্তিহীন মানুষগুলো আবার আসবে আপনাদের সমর্থনে – সেটাও নিশ্চিত। কারণ ‘বিশ্বস্ততা’ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের তৃণমূলের কিছু না পাওয়া মানুষ গুলোর প্রধানতম বৈশিষ্ট্য। তাঁরা সেটা বাবার থেকে, দাদার থেকে অনেক ত্যাগের মাধ্যমে পারিবারিক পরম্পরায় শিখেছে। কিন্তু, প্রশ্ন হল, বিরুদ্ধ সময়ে আঘাত পেয়ে, সুসময়ে উপেক্ষিত হয়ে, আপনাদের নতুন সুবিধাভোগী শ্রেণীর দৌরাত্ম্যে – এই পরীক্ষিত মানুষগুলো ততদিন টিকে থাকবে তো?

যদি থাকে, আবার আসবে তাঁরা অন্য কোন এক ’৭১-এ, আবার বুকের রক্ত ঢেলে দেশপ্রেমের মূল্য দিতে আসবে তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কিন্তু যদি সেদিন তারা টিকে না থাকে, সেই দুর্দিনে কে দাঁড়াবে আপনাদের পাশে?

কেন দূরে ঠেলে দিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের এই কোটি কোটি নীরব সমর্থকদের?

যাদের দলে নিতে চাইছেন তারা শুধু ৩০ লক্ষ শহীদের হত্যাকারীই নয়, তারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী, জাতীয় চার নেতার হত্যাকারী, রাসেলের হত্যাকারী। এরা এখনও প্রতিনিয়ত বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কেন এদের দলে নিতে চাচ্ছেন? ভাবছেন তারা আপন হবে?

সাপ কখনও পোষ মানে?

আমি বিশ্বাস করি না এটা আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত। এ মাসে সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে, আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত জানতে চাই।”

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend