নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || বুধবার , ২১শে আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

কুড়িগ্রামে হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কুড়িগ্রামে হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পশ্চিম পায়রাডাঙ্গা নলবাড়ী এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম (৪৬) কে হত্যার অপরাধে ৫জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুন্সি রফিউল আলম এই আদেশ প্রদান করেন। রায়ে অপর ৩ আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত।

এডিশনাল পিপি নাজমুল ইসলাম জানান, ২০০৮ সালের মার্চ মাসের ১৯ তারিখ রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার পূর্ব পায়রাডাঙ্গার হাশেমবাজার এলাকার মৃত: তমিজ উদ্দিনের পূত্র নজরুল ইসলাম নাগেশ্বরী উপজেলা শহরে ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পশ্চিম পায়রাডাঙ্গা নলবাড়ী এলাকায় শ্রী রণজিৎ সরকারের বাড়ির কাচারী ঘরের সামনে পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা তারই প্রতিবেশী আব্দুর রহিম (৩০) ও আসাদুজ্জামান ওরফে রাজা (২৪), পশ্চিম পায়রাডাঙ্গা এলাকার সাইফুর রহমান ওরফে হেজী (৩৫), পূর্ব পায়রাডাঙ্গার মঞ্জুরুল হক (৪৬), একই এলাকার সৈফুর রহমান ওরফে কাচু (৪০), মকবুল হোসেন (৪৫), আমিনুল (৩৭) ও আব্দুর রশিদ (২৬)সহ অনেকে ধারাল মারাত্মক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবদ্ধভাবে নজরুল ইসলামকে ঘিরে ফেলে। এসময় আসামী আব্দুর রহিম রাম’দা দিয়ে প্রথমে তার মাথার উপরে আঘাত করে। এরপর অন্যান্য আসামীরাও তার উপর হামলা চালায়। উপর্যুপরী আঘাতে নজরুল ইসলাম মাটিতে লুটিয়ে পরেন। তার সঙ্গী শাফি প্রাণভয়ে সেখান থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে পাশ্ববর্তী পিকলু মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা সেখান থেকে সটকে পরে। গুরুতর আহত নজরুল ইসলাম রংপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পরে নিহতের ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম ২০ মার্চ ২০০৮ সালে সকাল ১০টায় নাগেশ্বরী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ময়না তদন্ত, চার্জশীট এবং সাক্ষি-প্রমাণের ভিত্তিতে দীর্ঘ শুনানীর পর রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা দায়রা ও জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুন্সি রফিউল আলম দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামী আব্দুর রহিম, আসাদুজ্জামান রাজা, সাইফুর রহমান হেজী, মঞ্জুরুল হক ও সৈফুর রহমান কাচুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মকবুল হোসেন, আমিনুল হক ও আব্দুর রশিদকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত।

বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস.এম আব্রাহাম লিংকন এবং আসামী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এটিএম এনামুল হক চৌধুরী চাঁদ।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend