নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || শনিবার , ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২২শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বাড়ছে দুর্ভোগ

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বাড়ছে দুর্ভোগ

গত একসপ্তাহের টানা অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও ধর্মপাশা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

সুরমা নদীর পানি প্রবেশ করেছে জেলা শহরের কয়েকটি এলাকায়। পাঠদান বন্ধ রয়েছে তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সরকারি হিসেবে বন্যায় জেলার ৫২টি ইউনিয়নে ১ লাখ ৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে পানি কমবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

অপরদিকে রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে অনেক এলাকা। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ-ছাতক সড়কের কয়েকটি স্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা শহরের সাথে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্যার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

বন্যার্তরা জানান, যে পরিমাণ চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে খাবারের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল জানান, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওরের ভানবাসী মানুষের জন্য প্রচুর পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিবে। এজন্য সকল আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক(অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, বন্যায় এ জেলার ২ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর আবাদী জমি প্লাবিত হয়েছে। যার ফলে ১ লাখ ২০ হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে। বন্যায় ১২৬৩ হেক্টর আউশ, ১২৫ হেক্টর আমন বীজতলা এবং ৪ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ২ শত টাকার মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ৬৮৫ মেট্রিকটন জিআর চাল, নগদ ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ৮ হাজার ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সেইসাথে আরো ৫০০ মেট্রিকটন চাল, নগদ ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৫ হাজার ২৩৫ প্যাকেট শুকনা খাবার মজুদ রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আশুতোষ দাশ জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন উপজেলায়। তাই বন্যার্তদের ঢলের পানি পান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জেলায় ১২ হাজার নলকূপ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কাশেম।

অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদীর পানি বাড়েত থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট। গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ফুলছড়ি ও সদর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্রের বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গাইবান্ধা-লক্ষ্মীপুর-রংপুর সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার ২৬০টি চরে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের। কুড়িগ্রামেও বাড়ছে বন্যার পানি। জেলায় ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬০টি ইউনিয়নের প্রায় তিনশ গ্রাম ডুবে গেছে। এতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। জেলায় প্রায় ৪২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তলিয়ে গেছে ধানের বীজতলাসহ সবজি ক্ষেত।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend