নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || শনিবার , ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২২শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

কুড়িগ্রামে নতুন করে ডুবছে ঘর-বাড়ি-রাস্তাঘাট

কুড়িগ্রামে নতুন করে ডুবছে ঘর-বাড়ি-রাস্তাঘাট

উজানের ঢল আর ভারী বর্ষণে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়া অব্যাহত রয়েছে। বন্যার পানি ঘর-বাড়ি থেকে নামতে না নামতেই আবারও পানি বাড়া আতঙ্কিত করে তুলেছে সাড়ে ৯ লাখ বানভাসী মানুষকে। নতুন করে ডুবে গেছে ঘর-বাড়ি ও রাস্তাঘাট।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৬টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত ১২ ঘণ্টায় ধরলায় ২৩ ও ব্রহ্মপুত্রে ১০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।

চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা শহরে আবারও পানি ঢুকতে শুরু করায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাঁধ, রেললাইন ও উঁচু সড়কসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবাদিপশুসহ আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তদের ঘরে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার ৯টি উপজেলার ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮ জন পানিবন্দি মানুষ।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ। চরাঞ্চলের চারণভূমি তলিয়ে থাকায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার কারণে কর্মক্ষেত্র না থাকা ও ঘরে খাবার না থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন চরাঞ্চলের বন্যাদুর্গত মানুষ। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে সামান্য ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

কুড়িগ্রাম সদরের বাংটুর ঘাট থেকে ফুলবাড়ী বাঁধের ওপর পাকা রাস্তাটি বাংলাবাজার এলাকায় ভাঙনের মুখে পড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে ২০/২৫টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হবার। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে নাগেশ্বরী পৌর এলাকার সাঞ্জুয়ার ভিটা সড়ক। তিস্তার ভাঙনে উলিপুর উপজেলার নাগরাকুড়া টি-বাঁধের ৫০ ফুট এলাকা পানির প্রবল চাপে ধসে গেছে।

সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ধরলা অববাহিকার চর বড়াইবাড়ী গ্রামের মেহের আলী (৫০), মতিয়ার রহমান (৪০) বলেন, বাহে আর কতো, ১৪ দিন ধরি বানের পানিতে ভাইসতেছি। বানের পানি নামতে না নামতেই ফির বাড়ি-ঘরোত পানি ওঠতেছে। গরু, ছাগল, ছেলে-মেয়ে নিয়ে রাস্তায় খুবই কষ্টে দিন কাটাইতেছি। হামার আর বাড়ি ফেরা হইলনা বাহে।

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান, দুই সপ্তাহ ধরে বন্যার পানি চরাঞ্চলের ঘর-বাড়ি থেকে নামতে না নামতেই আবারও ধরলার পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়া শুরু করেছে। এ অবস্থায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পানিবন্দি বন্যাকবলিত মানুষগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা যায়, টানা দু’সপ্তাহের বন্যায় জেলার ৯টি উপজেলার ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮ জন পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় চলতি বন্যায় ২ লাখ ৪০ হাজার ৫২৫টি ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৮৫৩টি এবং আংশিক ক্ষতি হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭২টি ঘর-বাড়ি। নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪টি। প্রায় ২ লক্ষাধিক গবাদিপশু পানিবন্দি হয়ে খাদ্য সংকটে পড়েছে। বন্যার কারণে ১ হাজার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৩৩ কিলোমিটার সড়ক।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, জেলার বন্যাকবলিত ৯টি উপজেলার ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮ জন মানুষের জন্য সরকারিভাবে ১ হাজার মেট্রিক টন চাল, ৭ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ফুলবাড়ীর বাংলাবাজার এলাকায় বাঁধের ওপর পাকা রাস্তা এবং উলিপুর উপজেলার নাগরাকুড়া টি-বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৃষ্টির কারণে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কিছুটা বাড়বে। শুক্রবার (২৬ জুলাই) থেকে তা আবারও কমতে শুরু করবে। তবে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা নেই।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend