নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || শুক্রবার , ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

বাড়ি ফেরা হলো না শারমিনের, পুলিশের ধারণা ধর্ষণের পর হত্যা

বাড়ি ফেরা হলো না শারমিনের, পুলিশের ধারণা ধর্ষণের পর হত্যা

একমাসের জন্য বিশ্রাম নিতে বাড়িতে আসছিলেন পোশাককর্মী শারমিক আকতার (২২)। কিন্তু ফেরার পথেই লাশ হলেন তিনি। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাত ৯টায় হিলির পালপাড়া-বৈগ্রাম কাঁচা রাস্তার ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় উদ্ধারের পর তার বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। শারমিন আকতার হিলির খাট্টাউছনা গ্রামের সাফি আকন্দের মেয়ে। সে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো।

 

শারমিনের বাবা বলেন, ‘একবছর ধরে আমার মেয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করছে। গাবতলীতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতো। জুলাইয়ে তার লিভারে পানি জমে। পরে অপারেশন করা হয়। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার জন্য ডাক্তার তাকে একমাস বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। বিষয়টি জানার পর আমি তাকে গ্রামের বাড়িতে আসতে বলি। ১৫ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাতে গাবতলী থেকে হিলিগামী এসআই পরিবহনে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। ভোররাতে মেয়ে আমার ছেলের মোবাইলে ফোন করে। কিন্তু ঘুমিয়ে থাকায় ফোন রিসিভ করতে পারেনি। ভোরে ঘুম ভেঙে গেলে মেয়ের  মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাই। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শারমিনের মোবাইল খোলা পাওয়া যায়। এসময় হাকিমপুর থানা কল রিসিভ করে আমার মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের খবর দেয়।’

 

হাকিমপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তারা লাশ পড়ে থাকার খবর পায়। পরে  ঘটনাস্থল থেকে রাত ৯টার দিকে কাদার মধ্যে পুঁতে রাখা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এসময় ওই পোশাককর্মীর পকেটে থাকা মোবাইল ফোন চালুর মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। লাশের সুরতহাল রিপোর্টে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। লাশটি পানিতে থাকায় ধর্ষণের আলামত বোঝা যায়নি। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ধারণা করছি তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়াও দুই হাতের মুঠো ভর্তি মাটি ছিল। এ থেকে বোঝা যায় সে বাঁচার চেষ্টা করেছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া গেলে এবিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা দু’টি দিক সামনে রেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। অচিরেই জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে। শিগগিরই আমরা এ হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে পারবো।’

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend