নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || মঙ্গলবার , ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৯ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৩শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

আগুনমুখা নদীর তীব্র ভাঙ্গনের কবলে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন

আগুনমুখা নদীর তীব্র ভাঙ্গনের কবলে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন

উত্তাল প্রমত্তা আগুনমুখা নদীর তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পটুয়াখালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে জেলার মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর এই চর ইউনিয়নটির মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত দক্ষিণের উপকূলীয় এ এলাকাবাসি চরম আতঙ্কের দিন কাটাচ্ছেন। সহায়সম্বল হারিয়ে অনেকই নিঃস্ব হয়ে চলে গেছেন অন্যত্র।

 

স্থাণীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, ইতোমধ্যে আগুনমুখার প্রবল ও অবিরাম ঢেউয়ের আঘাতে ইউনিয়নের উত্তরে গরুভাঙ্গা গ্রাম থেকে দক্ষিণে ৬ নম্বর গ্রাম পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে অনেক আগেই। বিলীন হয়ে গেছে ৩ শতাধিক বসতঘর, একরের পর একর ফসলি জমি,গাছ-পালাসহ নানা জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। আতঙ্কে আছেন নদী তীরবর্তী বসবাসরত প্রায় ৩ হাজার পরিবার। নতুন করে হুমকিতে আছে চালিতাবুনিয়া বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মাধ্যমিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্বাস্থ্য ও আশ্রায়ণ কেন্দ্রসহ নানা স্থাপনা।

 

বর্ষা মৌসুমে আগ্রাসী আগুনমুখার বিশাল ঢেউয়ের আঁচড়ে পড়ার তীব্রতা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। এর সাথে পাল্লা দিয়ে ভাঙনের তীব্রতাও। এ সময় তেজস্বী আগুনমুখা যেন বিধ্বংসী সুনামীরূপ ধারণ করে। ভয়ঙ্কর এ নদীটি ভেঙ্গে তছনছ করে দেয় নদী তীরের আশপাশ এলাকায় ফলে নির্ঘুম রাত কাটছে জেলে পরিবারগুলোতে।

 

এখনই ভাঙ্গনরোধে বেঁড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ এবং নদী শাসন না করা হলে ভয়াল আগুনমুখার রাক্ষুস গ্রাসে বিলীন হয়ে পাল্টে যাবে চালিতাবুনিয়ার মানচিত্র। হুমকিতে পড়বে উপকূলের মৎস্য ও কৃষি সম্পদ। নিঃশ্চিহ্ন হয়ে যাবে হাজার হাজার পরিবারের বসতঘরসহ ফসলী জমি।

 

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মু. রানা হাওলাদার জানান, খরস্রোতা আগুনমুখার করাল গ্রাস আর দানবীয় থাবায় রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন কার্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারটি অকেজো হয়ে নদী তীরে দাঁড়িয়ে আছে। এটি নদীগর্ভে এখন বিলীনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। অতিদ্রুত সরকারি কোন পদক্ষেপ না নেয়া হলে হয়ত চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নটিই একদিন নদীর অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে।

 

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মু. মাশফাকুর রহমান জানান, এ সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend