নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || সোমবার , ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৩শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

সন্ধ্যার পর এখনও রোহিঙ্গা শিবিরে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক

সন্ধ্যার পর এখনও রোহিঙ্গা শিবিরে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক

কক্সবাজারের টেকনাফের আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোহাম্মদ আলম শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মালয়েশিয়ায় থাকা বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন।আলমের দাবি, দিনের বেলায় ভাইয়ের সঙ্গে পুরোদমে ভিডিও কলের কথা বলতে পারলেও সন্ধ্যার পর থেকে একটু সমস্যা হয়েছিল।তবে তিনি কথা বলতে পেরেছেন।

 

তবে অনেক ক্যাম্পের সমস্যার কারণে বিদেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন রোহিঙ্গারা। আবার অনেকে আগের মতোই মোবাইলে কথা বলতে পারছেন বলে জানা গেছে।  

 

সম্প্রতি উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় বিকাল ৫টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত টু-জি নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বেশ কয়েকটি শিবিরে এ নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানা গেছে। 

 

শনিবার সন্ধ্যা  সাড়ে ৭টার দিকে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরের। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে তিনি ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে ভিডিও কলে বিদেশে থাকা এক চাচার সঙ্গে কথা বলেছেন। তার কোনও সমস্যা হয়নি।

 

টেকনাফের জাদিমুরা, শালবাগান, নয়াপাড়া লেদা, আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন,  আগের মতোই মোবাইলে কথা বলতে পারছেন  না। টাওয়ারের কাছাকাছি কিছু জায়গায় ভালো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। তবে উখিয়া ক্যাম্পের চিত্র ভিন্ন। সেখানে টেকনাফের তুলানায় মোবাইল নেটওয়ার্ক একটু দুর্বল। এছাড়া বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় শূন্যরেখার খালের ছড়ার তীরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে মিয়ানমারের এমপিটি সিমের মাধ্যমে মোবাইলে যোগোযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।

 

শূন্যরেখায় বসবাসকারি মোহাম্মদ ফারুক বলেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিকঠাক পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে নেটওয়ার্ক টু জি ছিল কিনা- জানতে চাইলে উল্টো তিনি প্রশ্ন করেন, ‘টু জি থাকলে কি ভিডিও কলে কথা বলা যায়? নেটওয়ার্ক ভালো আছে। আগের মতোই ভিডি কলে কথা বলা যাচ্ছে।’ 

 

লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, রাতে অনেকে ভিডিও কলে কথা বললেও আগের মতো নেটওয়ার্ক ভালো ছিলা না বলে জানিয়েছেন অনেকে।

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে। কোথাও কোথাও নেটওয়ার্ক কিছুটা দুর্বল হলেও কয়েকটি ক্যাম্পে আগের মতোই মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং পরবর্তী নির্দেশনা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

 

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, আগের মতো মোবাইল সংযোগ স্বাভাবিক থাকার কথা স্থানীয় লোকজনের কাছে শুনেছি। বিষয়টি জেলা পর্যায়ে অবহিত করা হবে। 

 

প্রসঙ্গত, শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের মোবাইল সুবিধা বন্ধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে নির্দেশ দেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এরপর এ অবস্থান থেকে সরে এসে বিকাল ৫টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নেটওয়ার্ক টু জি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend