নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || রবিবার , ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২২শে মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

এ মাসেই হতে পারে নুসরাত হত্যা মামলার রায়

এ মাসেই হতে পারে নুসরাত হত্যা মামলার রায়

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার বিচার এখন শেষ পর্যায়ে। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ হলেই চলতি মাসে  রায়ের তারিখ ঘোষণা করবেন আদালত।

 

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহমেদ বলেন,  শুরু থেকে প্রতিদিনই নতুন নতুন দরখাস্ত দিয়ে বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টা করে আসছিলেন আসামি পক্ষের কয়েকজন আইনজীবি। তারপরেও এ মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মাত্র ৪০ (চল্লিশ) কার্যদিবসে আদালত ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রবিবার ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৪২ ধারায় সব আসামিকে পরীক্ষা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ।

 

তবে বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াসউদ্দিন নান্নু বলেন,  এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারণ এতো অল্প সময়ে ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে কোনো মামলা এ পর্যায়ে আসার বিষয়টি নজিরবিহীন।

 

বাদীর আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন,  সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করে ১৬ আসামির প্রত্যেকেরই নুসরাত হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে আমরা (রাষ্ট্রপক্ষ) সক্ষম হয়েছি। এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। আমরা আশা করছি চলতি মাসে রায় হতে পারে।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু বলেন,  মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই মামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ মামলার ১২ আসামি পিবিআইয়ে’র নির্যাতনের মুখে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়েছে। এমন জবানবন্দিতে কারও সাজা হতে পারে না।

 

ফেনীর প্রবীন আইনজীবী আবুল কাশেম বলেন, বিচারক, আইনজীবী, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা চাইলে যে কোনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব, সেটা আমরা এই মামলার ক্ষেত্রে দেখতে পাচ্ছি।  

 

প্রসঙ্গত, নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২৯ মে ৮০৮ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে পিবিআই। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারিক আদালত।

 

গত ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। এই মামলার মোট ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার প্রক্রিয়া শেষ করেন আদালত।

 

প্রসঙ্গত, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিল নুসরাত। মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। মামলায় অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদ্রাসাকেন্দ্রে গেলে পাশের বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যায় নুসরাত। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend