পঞ্চগড়ের ভাউলাগঞ্জ কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

লিখিত অভিযোগ, কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ও ছাত্রদের কাছ থেকে জানা যায়, ব্যাক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপনের কাগজ গোপন করেন। প্রজ্ঞাপন না মেনে কলেজের সভাপতি পদে নিজের লোককে বসিয়েছেন। উপজেলা পর্যায়ে ডিগ্রী কলেজের সভাপতি পদাধীকার বলে উপজেলা নির্বাহি অফিসার হবেন। ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেন। কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর ৪ বছর মেয়াদে গভর্নিং বডি গঠন করেন। কিন্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবার পর ঐ সভাপতি আর তার পদে থাকতে পারবেন না এটাই নিয়ম।

 

গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্যরা জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কলেজের সভাপতি হলে অধ্যক্ষ ব্যাক্তি স্বার্থ হাসিল ও অনিয়ম করতে পারবেন না তাই তিনি প্রজ্ঞাপনের কথা গোপন করেছেন। প্রজ্ঞাপন গোপন রেখে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান আসাদুজ্জামানকে সভাপতি করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। ১১ সদস্য বিশিষ্ট গভর্নিং বডির ৩ জন অভিভাবক সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

শিক্ষক প্রতিনিধি দিলবাহার আলী জানান, আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে আমি শিক্ষক কর্মচারীদের টিউশন ফি দিয়েছি। অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের টিউশনফি না দিয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা আত্বসাত করেছেন। কলেজের শিক্ষদেরকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে গোপন বৈঠক করে শিক্ষকদেরকে তার পক্ষে থাকার জন্য শাসিয়েছেন। তা না হলে তাদের ক্ষতি সাধন করবেন বলে হুমকি দেন।

 

তিনি আরো জানান, অধ্যক্ষ রেজুলেশন করার পূর্বেই সদস্যদের কাছে স্বাক্ষর করে নেন। তারপর তারা ইচ্ছা মতো রেজুলেশন লেখে নেন।

 

অভিভাবক সদস্য খলিলুর রহমান জানান, বছরের ২ টি পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও ৪ থেকে ৫ টি পরীক্ষা নিয়ে ছাত্র প্রতি ৩০০ টাকা ফি নিয়ে প্রায় ৬ শতাধিক  ছাত্রের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আদায় করে গভর্নিং বডির সদস্যদের না জানিয়ে ইচ্ছা মতো খরচ করেন। যার কোনো ভাউচার ব্যবহার করা হয়নি। প্রায়ই কলেজের অনুপস্থিতি থাকেন। একদিন এসে পূর্বের তারিখের স্বাক্ষর করে চলে যান।

 

অভিভাবক সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কলেজে একক আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন। তার ভয়ে সরাসরি কোন শিক্ষকই তার অপকর্মের প্রতিবাদ করেন না। কলেজের ফরম পুরণের ফি বাবদ যে টাকা আয় হয়েছে তারও কোনো হিসেব নেই।

 

তিনি আরও জানান, প্রথম বর্ষ ভর্তির সময় তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর নিকট থেকে এক হাজার টাকা করে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন ।আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষা বাবদ সাড়ে পাঁচ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে তিন শত টাকা করে প্রায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ছাত্র জানান, আমাদেন প্রায় ১০ জন ছাত্রের কাছ থেকে ভর্তির সময় ৪ হাজার টাকা করে নেন। অধ্যক্ষ প্রায়ই কলেজে আসেন না এবং আমাদের ক্লাসও নেন না।

 

অভিভাবক সদস্য হাসমত আলী জানান, অধ্যক্ষ আমাদের মূল্যায়ন করেন না। অধ্যক্ষের সকল দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করে কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়নের সার্বিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

 

কলেজের উপাধ্যক্ষ রহিদুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে সরকারি পরিপত্র অনুযায়ি উপাধ্যক্ষ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্ত তিনি ৭দিন কলেজে অনুপস্থিত থাকলেও কারো নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন না। নিজে নিজেই সব কিছু করে থাকেন। তবে কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান উপরের সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

 

তিনি বলেন যা আয় হয়েছে তা বিধি সম্মত ভাবেই ব্যয় করা হয়েছে। কলেজের ফান্ডে একটি টাকাও নাই। এক কাপ চা খেতে হলে অন্য শিক্ষকদের নিকট থেকে টাকা ধার করে খেতে হবে। টিউশন ফি শিক্ষকদের জন্য নয়। যা আয় হয় তা দিয়েই কলেজের ব্যয় করতে হয় তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা আমি জানি না এবং অভিযোগের কোন কাগজ আমি এখনও পাইনি।

 

ভাউলাগঞ্জ কলেজের সভাপতি মো: আসাদুজ্জামান আসাদ এর সাথে মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দেয়া হলেও তিনি বার বার মোবাইল কেটে দেন ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments