নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || রবিবার , ২০শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৫ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২০শে সফর, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

মাদারীপুরে সরকারি বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে চলছে কোচিং বাণিজ্য

মাদারীপুরে সরকারি বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে চলছে কোচিং বাণিজ্য

মাদারীপুর জেলার সর্বত্রই চলছে কোচিং নামের বিনা চালানের জমজমাট ব্যবসা। বিশেষ ক্লাশ নেয়ার নাম করে কখনও ক্লাশ শুরু হওয়ার পূর্বে আবার কখনও দিনের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যার পরে রাতের আধাঁরেই চলে কোচিং বাণিজ্য। এমন-ই দৃশ্য চোখে পরে মাদারীপুর সদরের উত্তর ঝিকরহাটি এলাকার পশ্চিম ঘটমাঝি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে বিদ্যালয়ের দরজা-জানালা বন্ধ করে সরকারি আদেশকে অমান্য করে বিশেষ ক্লাশের নাম করে প্রতিদিন সকালে ১ ঘন্টার একটি বিশেষ ক্লাশ আর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ৪ঘন্টার বাধ্যতামূলক কোচিং ক্লাশ নেয়া হচ্ছে।কেবলমাত্র বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন-ই চলে এই ক্লাশ।

 

রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির মোট ১৩৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত  চলছে ৪ ঘন্টাব্যাপী চলছে কোচিং ক্লাশ। রাতের এই কোচিং এর ফি বাবদ প্রতিজন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে অন্তত ৫০০-৮০০ টাকা করে। আর সকালের ১ ঘন্টার বিশেষ ক্লাশের জন্য দিতে হয় ২০০ থেকে ৪০০টাকা। প্রতিবছরের প্রথম মাস জানুয়ারী থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলমান থাকে এই বাণিজ্য। ৩য়, ৪র্থ আর ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেধা তালিকায় ১ম ও ২য় হওয়া শিক্ষার্থীদেরও দেখা মেলে উক্ত ক্লাশে।

 

বিশেষ ক্লাশে কেন এসেছে তা জানতে চাইলে তারা তাদের ক্লাশে উপস্থিত শিক্ষকের দিকে তাকিয়ে বলে আমরা কয়েকটি বিষয়ে দুর্বল তাই এসেছি। ওই শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, পিএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেতে চায় তারা। টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে প্রায় সকল ছাত্র-ছাত্রীরাই জানায় পড়ার জন্য স্যারদের টাকা দিতে হয় না। পরে অবশ্য তারা টাকা দেয়ার বিষয়টিকে স্বীকার করে।

 

বিদ্যালয়ের বাইরে কয়েকজন অভিভাবককে সন্ধ্যার পরে ঘোরা-ফেরা করতে দেখে জানতে চাওয়া হয় তাদের কাছে। এসময় তারা বলেন, আমাদের করার কি আছে? স্কুল থেকেই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তাই করাতে হয়। সেই কাক ডাকা ভোরে ছেলে-মেয়েগুলো স্কুলে আসে। ১ঘন্টা কোচিং এর পরে শুরু হয় ক্লাশ। এরপর ছুটি শেষে বিকেলে বাড়িতে ফিরে একটু খাওয়া-দাওয়া করেই আবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত থাকে বিশেষ ক্লাশে। বাড়িতে পড়া-শোনার করার কোনো সুযোগ-ই পায় না ওরা। আর আমরা সবসময় টেনশনে থাকি রাতে কখনো কোনো বিপদ-আপদ হয়ে যায় কিনা তাই নিয়ে।

 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুজিবর রহমান জানান, আমি রাতে ক্লাশ করাই তবে তাদের কাছ থেকে টাকা নেই না। ওদের পড়া-শোনা যাতে আরও ভালো হয় এজন্য আমি কয়েকজনকে পড়াচ্ছি। এক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষিকার অনুমতি আছে বলেও জানান তিনি। রাতে ক্লাশ নেয়ার ফলে কোমলমতি এই শিক্ষার্থীরা কোনো বিপদ-আপদে পতিত হলে এর দায়ভার কে নিবে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এর দায়ভার আমিই বহন করবো।

 

পশ্চিম ঘটমাঝি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফিয়া আক্তার বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের আন-অফিসিয়াল অনুমতিক্রমেই এই ব্যবস্থা নিয়েছি। রাতে বাড়ি ফেড়ার পথে ছাত্র-ছাত্রীদের কোন সমস্যা হলে এর দায়ভার কে নিবে তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এর দায়ভার আমরা নেব না। তাদের পরিবারের অনুরোধে যেহেতু রাতে এক শিক্ষক দিয়ে পড়াচ্ছি তাই এর দায়ভার তারাই বহন করবে।

 

সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুপা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য রাতে পড়ানোটা ভালো হতে পারে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলেছি যদি অভিভাবকেরা চায় তাহলে কোচিং করাতে পারে, স্কুল ক্যাম্পাসের মধ্যে না। তবে আমার কাছে এই বিষয়ে কোনো অভিভাবক অভিযোগ করেননি।

 

এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাসিরউদ্দিন জানান,আমি বিষয়টি জানতাম না, এখন জানলাম। যদি এরকম হয় তাহলে আমি উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেব। তিনি আরও জানান, রাতে ক্লাশ নেয়ার কোনো নিয়ম নেই। বিশেষ ক্লাশ নিতে হলে স্কুলের ক্লাশ শুরু হওয়ার পূর্বে অথবা ছুটির শেষে নেয়া যেতে পারে। যদি নিয়ম বহির্ভূত এরকম কাজ কোথাও হয়ে থাকে বা কেউ করে থাকে তাহলে তাকে সাবধান করে দেয়া হবে।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend