নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || শুক্রবার , ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

মহম্মদপুর শহীদ আবীর সাধারণ পাঠাগার

পৃষ্টপোষকতা ও পরিবেশের অভাবে, পাঠক সংকটে প্রাণহীন অবস্থায় 

পৃষ্টপোষকতা ও পরিবেশের অভাবে, পাঠক সংকটে প্রাণহীন অবস্থায় 

বই থাকলেও পাঠক সংকটে প্রাণহীন অবস্থা মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার অন্যতম শহীদ আবীর সাধারণ পাঠাগার। বইয়ের মাঝে লুকিয়ে থাকা আনন্দ কুড়াতে পাঠকরা এখন আর ভিড় করেন না এ পাবলিক লাইব্রেরিতে। আবার পাঠাগারের একপাশের জানালা বন্ধ করে গড়ে উঠেছে মার্কেট, ভেঙে ফেলা হয়েছে ছাদে ওঠার সিঁড়িটিও। তাই পরিবেশ সম্মত না হওয়া এবং পৃষ্টপোষকতার অভাবে পাঠক সংকটে প্রায় সময় বন্ধ থাকে শহীদ আবীর সাধারণ পাঠাগারটি। ফলে হাটের দিন পাঠাগারের সামনে ও ভিতরে চলে পেঁয়াজের বেঁচাকেনা। পেঁয়াজের হাড়ুতখানায় পরিনত হয়েছে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিতে গড়ে ওঠা শহীদ আবীর সাধারণ পাঠাগারটি।   

  

    

জানা যায়, ১৯৮৩ সালে তৎকালিন মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম আব্দুল হাফিজ এর প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে শহীদ আবীর সাধারণ পাঠাগারটি। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এ পাঠাগার হয়ে ওঠে শিক্ষিত সচেতন গণমানুষের প্রিয় পাঠস্থান। উপজেলা পরিষদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও এলিট শ্রেণির অনুকুলে গড়ে ওঠে সংগ্রহশালা।

 

 

১৯৮৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী খুলনা বিভাগীয় কমিশনার নুরউদ্দীন আল মাসুদ বিদ্যমান নতুন ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পাঠাগারের নতুন যাত্রা শুরু হয়। সাত শতাংশ জমির উপর দাড়িয়ে থাকা একতলা ভবনের এক রুম ভাড়া দেওয়া হত অন্য রুমে চলে পাঠাগারের কার্যক্রম।

 

 

বর্তমানে পাঠাগারে এনসাইক্লোপিডিয়া, বাংলাদেশ পিডিয়া, ইসলামিক, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সহ রয়েছে প্রায় ৫ হাজার বই। নেই শুধু পাঠক। তবে এক সময় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন কলমের সৈনিক সংসদের প্রতিষ্ঠাতা এবং মহম্মদপুর বার্তার সম্পাদক সালাহউদদীন আহমেদের নেতৃত্বে নিয়মিত সাপ্তাহিক সাহিত্য আসরের আয়োজন হতো। কিন্তু এখনও হয় অনিয়মিত আয়োজন। 

 

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতি ও আমিনুর রহমান কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ ওসমান আলী সাধারণ সম্পাদক সহ ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্য নির্বাহী কমিটি বর্তমানে। এছাড়াও মোছাঃ হাজেরা খাতুন, বিপ্লব রেজা বিকো, মোঃ ওসমান আলী, কাজী মসলেউদ্দীন মুরাদ, আঃ হাই মিয়া, ওছিউজ্জামান বুলবুল, নিজামুল ইসলাম, এটিএম রইফ, রকিবুল ইসলাম হিরো ও শ্রী কানু তেওয়ারী শহীদ আবীর সাধারণ পাঠাগারের আজীবন সদস্য।  

 

 

প্রতিষ্ঠকাল থেকে এ পর্যন্ত পাঠাগারের দায়িত্বে থাকা লাইব্রেরিয়ান মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫/৭ জন পাঠক এখন প্রতিনিয়ত পাওয়া যায়। তাও একই ব্যক্তির আগমন। তবে এর বেশীর ভাগ পত্রিকার পাঠক। জাতীয় ইত্তেফাক ও স্থানীয় মহম্মদপুর বার্তা পত্রিকা রাখা হয়। শিক্ষার্থীরা এখন পাঠ্য বইয়ের চাপে অস্থির। রয়েছে কোচিং এর চাপ। তাদের লাইব্রেরিতে আসার সময় নেই।

 

 

আজীবন সদস্য অধ্যক্ষ বিপ্লব রেজা বিকো ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ হাই মিয়া পাঠকবৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, বিজয় দিবস উদযাপন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বই পড়া প্রতিযোগিতা সহ নানামূখী পদক্ষেপ গ্রহন করে যুগোপযোগী করতে পারলে অবশ্যই পাঠাগার আবার জমজমাট হবে।

 

 

পাঠাগারের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসিফুর রহমান বলেন, পড়ার নেশা থেকেই পাঠক লাইব্রেরিতে আসবে। কিন্তু পড়ার নেশা পাঠকের সংখ্যা এখন খুবই কম। তাছাড়া ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিং-এর কারণে লাইব্রেরি পাঠক শুন্য হয়ে পড়ছে। তবে পাঠক বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করা হবে।

 

 

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, পাঠাগারের অবস্থা আমি দেখেছি। পাঠাগারটি আধুনিকায়নের জন্য দ্বিতলায় নেওয়ার পরিকল্পনাও হয়েছে। কিন্তু এখন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে বর্তমান প্রজন্ম ধাবিত হচ্ছে। বই পড়ার নেশা তাদের মধ্যে নেই। তথ্য প্রযুক্তির যুগে সেই স্থান দখল করে নিয়েছে মোবাইল, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার। তাদেরকে বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট করতে হলে লাইব্রেরীতে বিভিন্ন দিবস সহ প্রতিযোগিতা মূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend