মাদারীপুরে ধর্ষক ইমামকে ধরে পুলিশে দিলো স্থানীয় জনতা

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নে ৫ম শ্রেণির এক প্রাইমারী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে উত্তরকান্দী জবানখান জামে মসজিদের ইমাম মো. মেহেদী হাসান মোল্লা (৪৫)কে আটক করে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশের নিকট সোর্পদ করেছে স্থানীয় জনগন।

 

আটককৃত মেহেদী  বাগেরহাট জেলার রায়েন্দা থানার রাজাপুর গ্রামের আঃ জব্বার মোল্লার ছেলে।সে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের কুমড়াখালি এলাকার জবান খাঁন জামে মসজিদে ইমামাতি করেছেন সে।

 

ভুক্তভোগী ও তার নানির বক্তব্য থেকে জানা যায়, মেয়েটি এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুলে যাওয়ার আগে প্রতিদিন সকালে এলাকার অন্য শিশুদের সঙ্গে সে গ্রামের মসজিদে ইমামের কাছে আরবি পড়তে যায়। গত অক্টোবর মাসের ১২  তারিখ সকালে অন্য শিশুদের সঙ্গে মেয়েটিও আরবি পড়তে যায়। পড়াশেষে সবাইকে ছুটি দিলেও মেয়েটিকে তার (ইমামের) থাকার কক্ষ ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ইমাম মেহেদী হাসান তার কক্ষে নিয়ে যায়। পরে কক্ষের দরজা বন্ধ করে লম্পট ইমাম তাকে ধর্ষণ করে। মেয়েটি চিৎকার করতে থাকলে তার মুখে কাপড় চাপা দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর গত ১৫ অক্টোবর একই ভাবে তাকে আবার ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে ধর্ষণের কথা কারো কাছে বললে তাকে মেরে ফেলা হবে বলে ওই ইমাম মেয়েটিকে শাসিয়ে দেয়। পরে মেয়েটি কাউকে কিছু না জানিয়ে ঘটনাটি চেপে রাখেন।মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে মেয়েটি তার স্কুলে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে।পরে শিক্ষকেরা তার পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে তারা স্কুলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্বার করে বাড়ি নিয়ে আসে।

 

নির্যাতিতা মেয়ের পরিবার আরো জানায়,ভয় ভীতি দেখানোর কারণে ঘটনাটি কারো কাছে প্রকাশ করেনি আমার মেয়ে। কিন্তু হঠাৎ তার শারীরিক পরিবর্তন ও বারবার বমি করায় আমাদের সন্দেহ হলে বুধবার পরিবারের কাছে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেন ধর্ষিতা। একপর্যায়ে ব্যাপারটি স্থানীয় গন্য-মান্যদেরকে জানানো হলে বিষয়টি প্রথমে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন তারা। পরবর্তীতে এলাকার সাধারণ জনগণ ব্যাপারটি টের পেয়ে ইমামকে চাপ প্রয়োগ করলে বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।এতে এলাকার জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে মসজিদের ইমাম মোঃ মেহেদী হাসান(৪৫)কে আটক করে মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুর সদর থানায় সোপর্দ করে।

 

চরমুগরিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ পরিদর্শক আবুল কালাম বলেন, রাত ৯ টার দিকে এলাকাবাসী আমাদের ঘটনাটি জানালে আমরা সেখান থেকে মেহেদী হাসান নামে একজনকে আটক করে থানায়  নিয়ে আসি।

 

তবে অভিযুক্ত ওই হুজুর বলেন, ঘটনা সব সত্যি না আমি অল্প কিছু করছি। যা করেছি সব শয়তানের ধোকায় করেছি। ষড়যন্ত্র করে আমার নামে একটু বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।

 

এব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ভুক্তভোগীর মা থানার ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।স্কুলে পড়ুয়া ছাত্রীটিকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন তার পরিবার।মেডিকেল রিপোর্ট অনুসারে আমরা সঠিক ব্যবস্থা নেবো।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments