নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || শুক্রবার , ১৫ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং , ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

মাদারীপুরে ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা: আটক শিক্ষক

মাদারীপুরে ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা: আটক শিক্ষক

মাদারীপুর সদর উপজেলার গাছাবাড়ীয়া জামিয়া কারিমিয়া মাদ্রাসায় টাকা চুরির অভিযোগে শিক্ষকের বেত্রাঘাতের পর হাসিব মাতুব্বর (১০) নামে এক ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ঘটনায় গতকাল ৬-ই নভেম্বর,বুধবার সন্ধ্যায় শিক্ষক মো. আবুল হাসান খানকে (৩০) আটক করে সদর থানা পুলিশ। নিহত হাসিব একই উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের শ্রীনাদী এলাকার আনোয়ার মাতুব্বরের ছেলে।

 

স্থানীয় ও পরিবারিক সূত্র জানায়, সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের গাছাবাড়ীয়া জামিয়া কারিমিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র হাসিবকে পাঁচ শ টাকা চুরি অভিযোগে রোববার ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ইউসুফ মোল্লা বেত্রাঘাত করেন। এরপর হাসিব মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে তার বাড়ি চলে যায়। বুধবার সকালে তার বাবা-মা তাকে মাদ্রাসায় দিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর পরিবার আরো জানায়, বুধবার বিকেলের দিকে হাসিবকে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে মাদ্রাসার শিক্ষকরা। বিকেলে হাসিবের শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে কয়েকজন শিক্ষক নির্যাতনে কথা ধামাচাপা দিতে হাসিবের মুখে বিষ (কীটনাশক) ঢেলে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে নিয়ে আসার কিছু সময় পর সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

তারা জানান, এ সময় হাসপাতালে নিয়ে আসা সব মাদ্রাসার শিক্ষক পালিয়ে গেলেও মো. আবুল হাসান খান নামে একজনের কথায় সন্দেহ হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃত ওই শিক্ষকের বাড়ি রাজৈর উপজেলার মোল্লাকান্দি গ্রামে।

 

ওই মাদ্রাসার পাশে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করা কালাম ফকির জানান, আমি মাদ্রাসার পাশে একটি বাড়িতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখি একটি ছেলে মাদ্রাসার বাইরে ছটফট করছে। আমি দৌড় দিয়ে কাছে গিয়ে সবাইকে ডাক দিলে মাদ্রাসার শিক্ষকসহ ছাত্ররা বের হয়ে আসে এবং ওই সময় তাকে একটি ভ্যানে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

হাসিবের মামা বাদল বেপারী বলেন, আমার ভাগনের সমস্ত শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পাষন্ড মাদ্রাসার শিক্ষকরা আমার ভাগনেকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা মাদ্রাসার শিক্ষকের ফাঁসির দাবি জানাই।

 

হাসিবের বাবা আনোয়ার মাতুব্বর কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, আমার ছেলেকে মাত্র পাঁচশত টাকা চুরির অভিযোগে নির্যাতন করে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। আমার ছেলেকে মেরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে জন্য মুখে বিষ দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমরা কঠিন শাস্তির দাবি জানাই।

 

মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী মোল্লা বলেন, ‘আমার টেবিলের ওপর টাকা রাখা ছিল। এ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আমি রবিবার সামান্য মারধর করি। পরে ওই ছাত্র বাড়ি চলে যায়। বুধবার সকালে ছাত্রের বাবা-মা মাদ্রাসায় দিয়ে যায়। আমি দুপুর থেকে মাদ্রাসায় ছিলাম না। বিকেলে মারধরের ঘটনা আমি জানি না। আজ কোনো ঘটনাই ঘটে নাই তার সঙ্গে। আমি চাই সঠিক ঘটনা বের হোক’।

 

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অখিল সরকার বলেন, আমাদের হাসপাতালে একটি শিশুকে বিষপানের অভিযোগে কিছু লোক ভর্তি করে। হাসপাতালে ভর্তির পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

 

শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ওই চিকিৎসক বলেন, লাশের ময়নাতদন্তের পর বলতে পারব এটা হত্যা না আত্মহত্যা।

 

গাছাবাড়ীয়া জামিয়া কারিমিয়া মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাওলাদারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

 

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, এক মাদ্রাসাছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগে আমরা এক শিক্ষককে আটক করেছি। মাদ্রাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend