নিবন্ধন : ডিএ নং- ৬৩২৯ || শুক্রবার , ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ, নিহত ৭

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ, নিহত ৭

নগরের পাথরঘাটা এলাকায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১৫ জন। রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর দু’টি ভবনের দেয়ালের একাংশ ধসে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

 

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন বলেন, পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই ভবনের দু’টি দেয়াল ধসে পড়ে। এ সময় আহতাবস্থায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসীম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। ১৬ জনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছি। সেখানে ৭ জন মারা গেছেন। নন্দনকানন, চন্দনপুরা ও আগ্রাবাদ তিন স্টেশনের ১০ গাড়ি উদ্ধার কাজ শুরু করে। গ্যাস লাইন পুরনো ছিল। লিকেজ, নাশকতা, কেমিক্যাল আছে কিনা তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্ফোরণে ২টি আবাসিক ভবনের প্রাচীর ও সড়কের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দোতলা পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছি।

 

সিডিএর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান জানান, প্রথম দর্শনেই বলা যায় ভবনটি বিধি অনুযায়ী নির্মিত হয়নি। অবৈধভাবে সড়কের জায়গা দখল করে ভবনের সামনের অংশ বাড়ানো হয়েছে। বিপজ্জনক ব্যাপার- সেপটিক ট্যাংক করা হয়েছে সড়কের পাশে। যথার্থ ডিজাইন না হলে সেপটিক ট্যাংকে গ্যাস জমে। সেপটিক ট্যাংকের পাশে কিচেন, গ্যাসের রাইজার। চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রাথমিক তদন্ত করে এ চিত্র দেখা গেছে।

 

তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের সময় সিডিএ নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। কিন্তু ভবন মালিকরা নকশা মানে না। আজ অ্যাসেসমেন্ট করে জরুরি সভা ডাকা হবে। সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে সিদ্ধান্ত হবে ভবনটির ব্যাপারে।

 

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সঙ্গে ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, জহরলাল হাজারী, শৈবাল দাশ সুমন, চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ প্রমুখ। মেয়র বলেন, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। তাদের যাবতীয় খরচ সিটি করপোরেশন বহন করবে। ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস, আমাদের দুজন কাউন্সিলর যথেষ্ট কষ্ট করেছে। জনগণকে সচেতন হতে হবে। একটি দুর্ঘটনা অপূরণীয় ক্ষতি। সব কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ভবন মালিক ও ভাড়াটিয়াদের গ্যাস, বিদ্যুতের লাইনে লিকেজ আছে কিনা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। ব্যবহারকারীরা সচেতন হলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

 

তিনি বলেন, শহরটা পরিকল্পিত না। সিডিএ নকশা অনুমোদন করে। নকশা অনুযায়ী ভবন হচ্ছে না। নজরদারির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল সেবা সংস্থার নেই। চসিক, ফায়ার সার্ভিস, সিডিএ, জেলা প্রশাসন, কর্ণফুলী গ্যাসের প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। এসময় শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান মেয়র।

 

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, পাথরঘাটায় বিস্ফোরণের পর আহতাবস্থায় প্রথমে ১২ জনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে ৭ জনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ, দুইজন নারী ও একজন শিশু।

 

এদিকে নিহতদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের একজন কক্সবাজারের উখিয়ার নুরুল ইসলাম (৩১) ও অন্যজন হলেন অ্যানি বড়ুয়া (৪০)। অ্যানি পটিয়ার মেহেরআটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

Comments

comments

এমন আরো খবর:

Web developed by: AsadZone.Com

Send this to a friend