মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কবি মজিদ মাহমুদ ও তাঁর ওসাকা

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

দানের সুন্দর একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো এ উদ্যোগ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ছিল না কোন রকমের প্রচার প্রচারনা, হয় নি কোন ফটোসেশন। সমাজ মঙ্গলের কবি মজিদ মাহমুদ এভাবেই দেশ ও জাতির সংকটকালে অসহায় ও গরীব দুঃখি মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

Organization for Social Advancement & Cultural Activities এর সংক্ষিপ্ত রূপ OSACA. ১৯৯৪ সাল থেকে পাবনা, নাটোর সিরাজগঞ্জ  অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, জলবায়ু নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। সংস্থাটি মজিদ মাহমুদের মেধাবী নেতৃত্বে প্রায় ৪০০জন নিরলস কর্মীর সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছে এ অঞ্চলের অবস্থার উন্নয়নে। জাতির  এ দুর্দিনে ২৫০০ অসহায় পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে খাদ্য  উপহার।

সারা বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের অাতংকে দিন কাটাচ্ছে। লকডাউনের যাতাকলে বন্দি বিশ্বের শত শত কোটি মানুষ। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের ১৮ কোটি মানুষও ঘরে বন্দি। নিম্ন আয়ের ৭/৮ কোটি মানুষ আজ কর্মহীন। সরকারের একার পক্ষে সীমিত সম্পদ দিয়ে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা সহজ নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া এই দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব নয়। ঠিক এমন সময় দেশের বর্তমান সময়ের শক্তিমান কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক আজীবন প্রচারবিমুখ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওসাকা’র নির্বাহী পরিচালক কবি মজিদ মাহমুদ পাবনা ও ঈশ্বরদীতে কর্মহীন নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে  খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন।

গত শনিবার ও রবিবার এই সংস্থা মোট ২,৫০০ প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব সংগঠনের কর্মী ছাড়াও অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে অসহায় মানুষের হাতে তুলে দেয়। সংস্থাটি পাবনার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১,২০০ প্যাকেট এবং ওসাকার কার্যালয় এলাকার চরগড়গড়ি, আওতাপাড়া ও কামালপুরের ৭০০ পরিবারকে এই সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবসহ আরো কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ৬০০ প্যাকেট বিতরণ করা হয়। মোট ২০ লাখ টাকা মূল্যের এসব খাদ্যসামগ্রীর প্রতি প্যাকেটে রয়েছে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি লবণ ও ২টি সাবান। সংস্থাটি প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে থাকে। এবছর করোনা মহামারীতে পহেলা বৈখাখের অনুষ্ঠান বাতিল করে পহেলা বৈশাখের জন্য সংরক্ষিত অর্থ এবং তহবিল হতে এই সাহায্যের সংস্থান করা হয়েছে।    

এছাড়াও গত রবিবার ২৬ এপ্রিল একবির নিজ গ্রাম চর গড়গড়ি ও চর কুড়ুলিয়ার নিম্ন আয়ের এক হাজার পরিবারের মাঝে নগদ ৮০০/- টাকা করে ওসাকার কর্মীদের মাধ্যমে প্রতি বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। কবি মজিদ মাহমুদ এভাবেই দেশ ও জাতির সংকটকালে অসহায় ও গরীব দুঃখী মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

কবি মজিদ মাহমুদ বাংলা সাহিত্যে যেমন অবদান রেখেছেন, তেমনি অসামান্য অবদান রেখেছেন সামাজিক নানা কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। সমাজের অসহায় হতদরিদ্র মানুষের কথা ভেবে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করতে প্রতিষ্ঠা করেছেন মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার ও পাঠাগার। বৃদ্ধদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বৃদ্ধাশ্রম ‘গোধূলি বিলাস’। গরিব ও অসহায় পরিবারের ছেলেমেয়েদের বাৎসরিক বৃত্তি প্রদান করার মাধ্যমে তাদের পড়াশোনার পথকে সুগম করে তুলেছেন কবি মজিদ মাহমুদ।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments