পুটখালী বিট খাঁটালকে পুঁজি করে কর্মচারী থেকে কোটিপতি কাদের!

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালী সীমান্ত ঘাট ও বিট খাঁটালকে পুঁজি করে তদারকির কাজে নিয়োজিত আব্দুল কাদের রাতারাতি অর্থ-সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। বিট খাঁটালের লাইসেন্স প্রাপ্ত স্টার এজেন্সীর পক্ষে পরিচালনা কাজে নিয়েজিত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যে অঢেল অর্থ-সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকার অনেকেই।

অভিযোগ আছে পুটখালী গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন মোড়লের ছেলে বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের বিট খাঁটালকে পুঁজি করে স্বল্প সময়ের ব্যাবধানে অঢেল অর্থ-সম্পত্তির মালিক হওয়ায় এলাকায় অধিপত্য বিস্তারে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বাহিনী। তার অবৈধ্য কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে বা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এই বাহিনীকে ব্যবহার করে। ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

সীমান্ত এলাকার অসাধু ব্যাবসায়ীদের প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা থাকার কথা শুনিয়ে বিপুল টাকা নিয়ে মাদক ব্যাবসায়ীদের অবৈধ্য সুবিধা প্রদান, ভারতীয় গরু খাঁটালে না তুলে বাইপাস করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের(স্টার এজেন্সী)কাছ হতে বিট খাঁটালে লিজ দেওয়া জমির মালিক বাবদ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ, গরু রাখালদের বেতনের টাকা আত্মসাৎ, রাষ্ট্র বিরোধী বিভিন্ন নিষিদ্ধ ব্যাবসায় জড়ানোসহ বিট খাঁটাল পরিচালনাকারী কাদেরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও অপতৎপরতার অভিযোগ জানিয়েছেন খোদ বিট খাঁটাল নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান স্টার এজেন্সীর সত্ত্বাধিকারী নাসিম রেজা পিন্টু।

নাসিম রেজা পিন্টু জানান, দুর্নীতির দায়ে প্রতিষ্ঠান হতে গত ১০/৬/২০১৯ইং তারিখে(স্মারক নং-স্টার ০০১৩২/২০১৯) বরখাস্ত হওয়া পরিচালনাকারী কাদের বর্তমানে স্টার এজেন্সীর সুনাম ক্ষুন্ন করতে নানা মুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্য-বানোয়াট তথ্য সরবারহ করছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচায়ে সরেজমিনে পুটখালী গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৩ সালে স্টার এজেন্সীর নিকট বিট খাঁটাল পরিচালনা কাজে যোগদেন কাদের। এর পূর্বে গরু ব্যাবসায়ী ছোট নাসিরের খামারে কর্মচারী হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। স্টার এজেন্সীতে যোগদানকালীন সময়ে তার টিনের চালের ঘর থাকলেও মাত্র কয়েক বছরের ব্যাবধানে যশোর শহরতলীর বেজপাড়া এলাকায় মেইন রোড সংলগ্ন বহুতল ভবনের মালিক(হোল্ডিং নং-৭০৩/১)। এছাড়াও সড়কে চলছে ৭টি কাভার্ড ভ্যান, পুটখালী গ্রাম ও যশোর জেলা শহরে একাধিক এলাকায় রয়েছে নামে-বেনামে মূল্যবান সম্পত্তি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুটখালী গ্রামের বাসীন্দা জানান, শুনেছি বিট খাঁটাল দেখভাল করতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যাক্তি সহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা থাকায় বিভিন্ন অবৈধ্য ব্যাবসার পরিচালনা করলেও  কোথাও জবাবদিহিতা করতে হয়না।

বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত কাদের শার্শার সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তির সহোযোগী(এপিএস)ছিলো বলে জানা গেছে। বর্তমানে গাঁ বাচাতে সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মিশে চললেও মূলত সে এলাকায় বিএনপির বড় ডোনার হিসাবে পরিচিত।

অভিযোগ বিষয়ে কাদের মুঠোফোনে আজকের দর্পণ কে বলেন, স্টার এজেন্সীর সাথে তাহা কোন সম্পর্ক নেই শুধুমাত্র তার জমি বিট খাঁটালের মধ্যে রয়েছে সে সুবাধে যোগাযোগ। স্টার এজেন্সীর আনিত অভিযোগ মিথ্যা দাবী করেন।

ভারত সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু পাচার হওয়ার কড়াকড়িতে পর্যাপ্ত গরু আসা বন্ধ হওয়াসহ পরিচালনাকারী কাদের ও তার সহযোগীদের নানা অনিয়মের কবলে পড়ে পুটখালীর বিট খাঁটালটি মুখ থুবড়ে পড়ে চিরচেনা জৌলুস হারায়। এ কাজে জড়িতরা কর্মহীন হয়ে মাদক ব্যাবসার দিকে ঝুঁকতে থাকে। আর এ সুযোগকে কাদের ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে সরকারি রাজস্ব আহরণ বন্ধ রেখে নিজেরা মত্ত হয় কালো টাকার পাহাড় গড়তে।

দ্রুত অভিযুক্ত কাদের ও তার সহোযোগীদের প্রশাসনিক জবাবদিহিতার আওতায় এনে অবৈধ্য ব্যাবসায় অর্জিত সম্পদের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

উল্লেখ্য পুটখালীর বিট খাঁটাল হতে বিগত ২/৩ বছর পূর্বে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে প্রতিদিন ২০০ হতে ২৫০ ট্রাক গরু সরবারহ হতো যার মাধ্যমে সরকার প্রতিদিন ১০ হতে ১৫লাখ টাকা রাজস্ব আহরণ করতো।

প্রসঙ্গত, বিট খাঁটাল নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর হতে অধ্যবদী স্টার এজেন্সী বাংলাদেশ সরকারকে ৪০ কোটি টাকার বেশী রাজস্ব প্রদান করেন ও অত্যান্ত সুনামের সাথে অদ্যাবদি বিট খাঁটাল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ভার পালন করে আসছেন।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments