সাভারে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির অভিযোগ

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

ঢাকার সাভারে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকেরা। রবিবার (২৮ জুন) সাভার পৌরসভার ডগরমোড়া এলাকার একজন গ্রাহক বার্তা বাজারকে এসংক্রান্ত অভিযোগ জানান।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩ এর আওতাধীন শিমুলতলা জোনাল অফিসের জুন’২০২০ এর একটি বিদ্যুৎ বিলে এধরণের অনিয়ম দেখতে পাওয়া গেছে। রুকসানা জাকরিন নামের ওই আবাসিক গ্রাহক তার জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল (হিসাব নং ৭২৮-১৬০০, বিল নং ১০৭১০৫৭২৮১৬০০০৬২০) দেখিয়ে অভিযোগ করেন, ‘আমার জুন মাসের বিল প্রস্তুতের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ১১ জুন ২০২০, অথচ রিডিং নেবার তারিখ বিলে উল্লেখ করা আছে ১৩ জুন ২০২০! তাহলে কি রিডিং নেবার আগেই অফিসে বসেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এই ভুতুড়ে বিল প্রস্তুত করছেন?’

এসময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘গত মে মাসের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেখ তারিখ ছিলো ১৭ জুন ২০২০, এই মাস শেষ না হতেই পল্লী বিদ্যুত সমিতি জুন মাসের বিল তাও রিডিং না নিয়েই আন্দাজে বিল করে পাঠিয়ে দিয়েছে, সেখানেও বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ৩০ জুন ২০২০। নিয়মানুযায়ী এক মাসের বিল পরের মাসে পাঠানোর কথা থাকলেও জুন মাসে আমাদেরকে দুই মাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই করোনা পরিস্থিতিতে এভাবে এক মাসে দুই মাসের বিল দেয়াটা আমাদের জন্য চাপের সৃষ্টি করছে।’

এই অভিযোগের ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩ এর শিমুলতলা জোনাল অফিসের ডিজিএম (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) টিএম মেসবাহ উদ্দিন এর নিকট। তিনি জানান, এটা বিল তৈরী করার সময় টাইপিং মিসটেক হতে পারে। আপনি ওই গ্রাহককে আমাদের অফিসে পাঠিয়ে দিন, আমরা বিল ঠিক করে দেবো।

আর জুন মাসে মে এবং জুন এই দুই মাসের বিল একই মাসে পরিশোধ করায় গ্রাহকদের মাঝে চাপের সৃষ্টি হচ্ছে কিনা এব্যাপারে তিনি বলেন, ‘অ্যারাউন্ড দ্য ইয়ার’ গ্রাহকরা বারটা বিল পায়। এখন জুন ক্লোজিং এর জন্য প্রত্যেকটা বিলের একটা ‘সাইকেল’ (চক্র) থাকে। এতে বছরে মোট বারটা বিল ইস্যু হয়। এজন্য এক্ষেত্রে এক সপ্তাহ আগে-পরে হতে পারে। কোনো ‘বিলিং সাইকেলে’ একটা বই এর কিছু পড়লো জুনের শেষের দিকে, আবার কিছু পড়লো জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে। কিন্তু প্রতি গ্রাহকের একটা মিটারের বিপরীতে মোট বারটা বিল ইস্যু হয়।

তবে সাভারের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের অভিযোগ, অর্থবছরের শেষে এবং করোনাকালেও রাজস্ব আদায়ের সফলতা দেখাতেই এমন পথ অবলম্বন করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এজন্য মিটার রিডারগণ করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিটার রিডিং না নিয়েই আন্দাজে বিল তৈরী করছে। ফলে এই ভুতুড়ে বিলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই গ্রাহকেরাই।

এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গ্রাহকদের এ অভিযোগ আংশিক অস্বীকার করে জানিয়েছেন, করোনার কারণে অনেক মিটার রিডার কয়েক মাস সরেজমিনে বিল করতে পারেননি। এখন মিটারের রিডিং দেখে বর্ধিত বিল সমন্বয় করা হচ্ছে বিধায়  বিল বেশি আসছে। তবে কেউ অভিযোগ দিলে কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তারা।

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments