0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

আম্রপলির নগর বধু হয়ে ওঠার গল্পটা ছিল অন্য রকম। নিজের দারিদ্রতা থেকে নয় বরং সমাজপতিরাই বিধান দিয়েছিল তাকে এই পদ বেছে নিতে। আম্রপলির নগর বধু হয়ে ওঠার সেই গল্পটা জানতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ বছর আগে।

ইতিহাস বলছে, খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ বছর আগে বিহার রাজ্য-এর অন্তর্গত বৈশালী শহরে জন্মগ্রহণ করে আম্রপালি। কালক্রমে আম্রপালি যতই বড় হয়ে উঠতে থাকে তার রুপ সৌন্দয্য ততই বাড়তে থাকে। আর এই রুপের কারণে তার উপর নজর পরে সমাজপতিদের। কালের পুরান আর ইতিহাসের মিথ থেকে জানা যায় নিচু গোত্রে বেড়ে ওঠা আম্রপালির ভালোবাসার সম্পর্ক হয় তারই সমাজে বসবাস করা এক যুবকের সাথে। ওই যুবকের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলে উচু স্তরে বসবাসকারীরা। এর ফলে বিচার ব্যবস্থা বসে আম্রপালির বিরুদ্ধে। সেখানে অত্যাচার করে মেরে ফেলা হয় ওই যুবককে এবং বিধান দেওয়ায় হয় আম্রপালিকে এখন থেকে সমাজের উচু স্তরের বা সমাজপতিদের সাথে থাকতে হবে।

সমাজপতিদের বিধান মেনে নিয়ে আম্রপালি ঘোষণা দেয় যে সে কারো একার সম্পত্তি হয়ে থাকবে না। যাদের প্রয়োজন তারা যেন উচ্চ মূল্যের বিনিময়ে রাতে তার ঘরে আসে। এরপর থেকেই আম্রপালি ধীরে ধীরে নগর বধু হয়ে ওঠে। 

আম্রপালির নগর বধু হয়ে ওঠার এই গল্প নিয়ে দর্পণ মিডিয়ার প্রযোজনায়, এস এম মনিরের পরিচালনা ও সাইদুল ইসলামের চিত্রগ্রহনে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নগর বধু আম্রপালি’। এতে অভিনয় করেছেন সঞ্চিতা দত্ত, একে আজাদ সেতু, পিন্টু আকনঞ্জি, কিরণ ঘোষ, সবুজ।   

ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, মগধের রাজা অজাতশত্রুর রাজকীয় দরবারে আম্রপালি নাচতেন। তার নাচে মুগ্ধ হতেন মগধ রাজা। বৌদ্ধ ধর্মের পালি লিপিতেও আম্রপালির কথা উল্লেখ রয়েছে তবে আম্রপালির মূল বর্ণনা হিন্দু পুরাণেই পাওয়া যায়, আর বৌদ্ধ ধর্মে আম্রপালিকে ‘আম্বপালি’ নামেও ডাকা হত।

এরপর কেটে যায় অনেক অনেক বছর ১৯৭১ সালে ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ড. পিযুষ কান্তি মজুমদার ‘দশেরী’ এবং ‘নিলম’ জাতের দুটি আমের সংকরায়নের মাধ্যমে নতুন এ জাতটি উদ্ভাবন করেন। যার নাম দেয়া হয় আম্রপালি।

ভারতীয় আমের এ জাতটি বাংলাদেশে আসে ১৯৮৪ সালে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ এনামুল হক এবং চুয়াডাঙ্গার আজাদ হাইব্রিড নার্সারির কর্ণধার আবুল কালাম আজাদের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে আমদানি করা হয় আম্রপালি জাত। 

0
0
সর্বমোট
0
শেয়ার

Comments

comments