আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

একযুগে চামড়ার দাম কমেছে ৩৩ শতাংশ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

গত একযুগে গরুর চামড়ার সরকার নির্ধারিত দাম কমেছে ৩৩ শতাংশের বেশি। এবারও নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়নি কাঁচা চামড়া। প্রতিটি গরুর চামড়া আকারভেদে বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। আড়তদাররা বলছেন, ট্যানারিতে চাহিদা না থাকায় দাম কম। ট্যানারি মালিকদের দাবি, চামড়ার রপ্তানিমূল্যও কমেছে।

২০১৩ সালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৮৫ থেকে ৯০ টাকা নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর ঢাকার বাইরে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। এরপর কমতে কমতে ২০২০ সালে চামড়ার দাম ঠেকে ৩৫ টাকা বর্গফুটে। এ বছর কোরবানির গরুর চামড়ার দাম নির্ধারিত হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।

ঢাকায় একেকটি গরুর লবণজাত চামড়ার সর্বনিম্ন দাম ধরা হয় এক হাজার ২০০ টাকা। প্রতি পিস চামড়ায় লবণ দিতে খরচ হয় ৩০০ টাকার মতো। সে হিসেবে লবণ ছাড়া চামড়ার দামে সন্তুষ্ট নন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। 

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপট যদি বিবেচনায় নিই, বহির্বিশ্বে কিন্তু চামড়ার দাম বাড়েনি। সবকিছুই তো ডিমান্ড-সাপ্লাই চেইনের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও মূল্যস্ফীতি আছে। ফলে পাশ্চাত্যের দেশগুলো, যারা আমাদের চামড়া খাতের মূল ক্রেতা, তাদের ওখানে চাহিদা কমে গেছে। আবার চীনে আর্টিফিশিয়াল লেদার, সিনথেটিক লেদারের ব্যবহার বেড়েছে। কেডসে ফেব্রিকসের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে চামড়ার চাহিদাটাই কমে গেছে।

ধারণা করা হয়, এক লাখ টাকার নিচের গরুর চামড়া ২০-২৪ বর্গফুট। দেড় লাখ টাকার গরুর চামড়া ২৬ থেকে ৩০ বর্গফুট, আর ২ লাখ টাকা দামের ওপরে কেনা গরুর চামড়া হতে পারে ৩২ থেকে ৩৮ বর্গফুট। প্রক্রিয়াজাতের কয়েক ধাপে রাসায়নিকসহ বিভিন্ন খরচ বাড়ায় কাঁচা চামড়ার দাম বাড়ানো সম্ভব নয় বলে দাবি ট্যানারি মালিকদের।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, হেমায়েতপুরের চামড়াশিল্প নগরের দূষণ বন্ধ না হওয়ায় ইউরোপ-আমেরিকার বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি বাংলাদেশি চামড়া কিনছে না। ফলে বাংলাদেশি চামড়া বড় ক্রেতা বর্তমানে চীনারা। তারা কম দাম দেয়। সেটির প্রভাব কাঁচা চামড়ার দামেও পড়ছে।

লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দূষণ রোধ ও চামড়ার বাজার বৃদ্ধি নিয়ে সরকারি-বেসরকারি পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। এ জন্য সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিমা দেশগুলোতে চামড়ার চাহিদা কমেছে। সেই সাথে চীনের সিনথেটিক লেদার, বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।


আরও খবর



আলমগীর-বাদশাহর নেতৃত্বে পিরোজপুর জেলা শ্রমিক লীগের নতুন কমিটি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মশিউর রহমান রাহাত, পিরোজপুর

Image

জাতীয় শ্রমিক লীগের পিরোজপুর জেলা শাখার নতুন কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। শ্রমিক নেতা  মো. আলমগীর হোসেনকে সভাপতি এবং মো. বাদশাহ মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করে আগামী ৩ বছরের জন্য ৭১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি অনুমোদন পেয়েছে। জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক কেএম আযম খসরু গতকাল সোমবার কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

কমিটির অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আবুল কালাম মৃধা, শেখ রাজু আহম্মেদ মনা, শাহ জালার সিকদার, মো. জাকির খান, মাহমুদ হাসান আবুল, মো. সুলতান আহম্মেদ, শহিদুল ইসলাম সিকদার, মতিউর রহমান হাওলাদার, মতিউর রহমান, মো. ফরিদ আহমেদ, ফায়েজ আহমেদ, ফারুক হোসেন, আব্দুল মান্নান বাবুল ও আজিবর ফকির।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বশির সিকদার, মো. লাভলু হাওলাদার, আলমগীর মহাজন, মো. মিঠু সরদার, রিয়াজুল ইসলাম ও জাকির খান।

সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. কাইয়ুম শেখ, মতিউর রহমান, সেলিম শেখ, মোস্তফা মোল্লা ও রুবেল শেখ। সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম তালুকদার, শেখ নাজমুল হুদা তানিম, শামীম সিকদার, মো. কামাল হোসেন ও মো. রেজাউল করিম। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম কাজী, জলিল জোমাদ্দার, মোস্তফা, এনাম কাজী ও নাছির খান। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলমগীর খান এবং সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সোহেল। দপ্তর সম্পাদক হাছান আল-আমিন (সুমন) এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীম সিকদার। অর্থ বিষয়ক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন এবং সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জসীম।

আইন ও দর কষাকষি সম্পাদক মামুন মাঝি এবং সহ- আইন ও দর কষাকষি সম্পাদক সেলিম। শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. হান্নান হাওলাদার এবং সহ-শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক মিয়াধ শেখ। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মাসুম মোল্লা এবং সহ-ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অরুন কুমার শীল।

শ্রমিক কল্যান ও উন্নয়ন সম্পাদক মো. মাসুম হাওলাদার এবং সহ-শ্রমিক কল্যান ও উন্নয়ন সম্পাদক বিশ্বজিৎ শীল।  ত্রাণ ও পূর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক মান্নান শেখ এবং সহ-ত্রাণ ও পূর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক রানা শেখ। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ইরানী শেখ এবং সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিল্পী।

কার্যকরী সদস্য আব্দুর রশীদ, আবদুল্লাহ আল মামুন, মানিক মল্লিক, রেজাউল, সেলিম সিকদার, হায়দার খান, হুমায়ুন হাওলাদার, তৌহিদুল শেখ, জাহাঙ্হীর মাতুব্বর, সোহাগ হাওলাদার, আব্দুর রহিম হাওলাদার, হায়দার বেপারী, শহিদ শেখ, মো. বেল্লাল এবং মো. ফরিদ।

নিউজ ট্যাগ: শ্রমিক লীগ

আরও খবর



দুদকের মামলায় বাগেরহাট পৌরসভার ১৫ সাবেক কর্মচারী কারাগারে

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

বাগেরহাট পৌরসভার ১৫ সাবেক কর্মচারী দুদকের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ১৭ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।

রোববার (৭ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে পৌরসভার সাবেক ১৫ কর্মচারী জামিন আবেদন করলে আদালতের বিচারক মো. আশরাফুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. মিলন কুমার ব্যানার্জি জানান, এ সময় মামলায় অপর দুই আসামি আদালতে নুপস্থিত ছিলেন এবং পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান জামিনে রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর দুদকের খুলনা কার্যালয় বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমানের দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে। ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ১৭ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়।


আরও খবর



মেসি জাদুতে কানাডাকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

আরেকটি ফাইনাল, আরেকটি মহামঞ্চ, আরেকবার আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকার এবারের আসরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলতে নেমে আবারও ফাইনালের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। প্রথম সেমি-ফাইনালে তারা ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে কানাডাকে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় ও ৩০তম বারের মতো ফাইনালের মঞ্চে পৌছালো আলবিসেলেস্তেরা।

আজ বুধবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা ও কানাডা। ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলের লড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য জানান দেয় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা রক্ষণে জোর দেওয়ায় কানাডাও বল দখলের লড়াইয়ে প্রায় সমতায় চলে আসে।

পুরো ম্যাচে ৫১ শতাংশ বল দখলে রাখে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। বিপরীতে ৪৯ শতাংশ বল পায়ে রাখে কানাডা, যেটা প্রথমার্ধে ছিল ৪১ শতাংশ। আর্জেন্টিনা ১১টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রেখে দুই গোল আদায় করে নেয়। কানাডাও ৩টি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রেখেছিল, তবে কোনো গোল পায়নি তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা বল দখলে রাখলেও প্রথম আক্রমণ করে কানাডা। তবে জ্যাকিব শাফেলবার্গের বল লক্ষ্যে থাকেনি। সপ্তম মিনিটে আবারও মিস করেন শাফেলবার্গ। বিপরীতে দ্বাদশ মিনিটে আক্রমণ শাণিয়ে মিস করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিও।

সপ্তাদশ মিনিটে দারুণ একটি পাস দিয়েছিলেন ডি পল। আলভারেজ বল পেয়েছিলেন ৩৫ গজ দূরে। সেখান থেকে তার ডানপায়ের শট মিস করে লক্ষ্যের সীমানা। ঠিক এর পাঁচ মিনিট পরেই শাপমোচন করেন বড় মঞ্চের তারকা আলভারেজ।

ম্যাচের ২২তম মিনিট মাঝমাঠে বল দখলে নিয়ে ডি পলের চোখ খুঁজে নিল আলভারেজকে। ফাকায় দাঁড়ানো আলভারেজও বুঝে নিলেন ডি পলের ইঙ্গিত। থ্রু বলটা উড়িয়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের সেনানি ডি পল। এক পায়ে সেটা নামিয়ে দুজনকে কাটিয়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জাল খুঁজে নেন আলভারেজ।

ম্যাচের প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আরও কয়েকটি আক্রমণ করে আর্জেন্টিনা ও কানাডা। তবে গোলের দেখা পায়নি। তাতে এক গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আসরের হট ফেভারিটরা।

দ্বিতীয় হাফে অবশ্য দাপট দেখিয়েছে কানাডা। তবে ম্যাচের ৫১তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেয় আলবিসেলেস্তারা। ডি বক্সের ভেতর থেকে এনজো ফার্নান্দেজের নেয়া শট মেসি হালকা পা ছুঁয়ে দেন। এটি চলতি কোপায় মেসির প্রথম গোল। তার পাশাপাশি ছয়টি কোপায় গোল পেলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। কোপার ইতিহাসে এটি মেসির ১৪তম গোল।

দুই গোল হজম করার পর বেশকিছু পরিবর্তন আনে কানাডা। আক্রমণেও যায় বেশ কয়েকবার। তবে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি ডেভিস-ডেভিডরা। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে গোলে সুযোগ পেয়েছিল কানাডা। তবে তানি ওলুওয়াসেই নেয়া শট দারুণভাবে সেভ করেন মার্টিনেজ।

বাকি সময়ে আর্জেন্টিনা ডিফেন্সে মনোযোগ দেয়। ফলে গোল দিতে পারেনি কানাডা। ২-০ তে জিতে আবারও কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠলো আর্জেন্টিনা। গেল আট কোপার মধ্যে ষষ্ঠবার ফাইনালে উঠলো তারা।


আরও খবর



মেধাবী শিক্ষার্থী হাবিবার স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়েছে আনসার বাহিনী

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
শাওন মিয়া (জাজিরা) শরীয়তপুর

Image

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় মানবেতর জীবন সংগ্রাম করছিলেন মা তাসলিমা বেগম। অভাবের সংসারে কোনোমতে মেয়ে হাবিবাকে এসএসসি পরীক্ষা দিতে দিলেও মায়ের ভাবনা ছিল পরীক্ষার পরে মেয়ের কলেজের ভর্তি নিয়ে। মায়ের মানবেতর জীবন-সংগ্রামের কথা জানতে পেরে হাবিবার কলেজে স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব নিয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শরীয়তপুরের জেলা কমাড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম। কথা অনুযায়ী হাবিবার কলেজে ভর্তি নিশ্চিত করে বইখাতাসহ চেয়ার-টেবিল ক্রয় করে দিয়েছেন তিনি। তাই বিয়ের পিঁড়িতে না বসে কলেজে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হলো হাবিবার।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নসাশন ইউনিয়নের সরদার কান্দি গ্রামে হাবিবাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় তার বইপত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী এবং আনসার বাহিনী থেকে একটি ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হয় মা দিবস। গত মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবসের দিন হাবিবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বের হয়। ওইদিন মা দিবস উপলক্ষ্যে হাবিবার মা তাসলিমা বেগম বলেছিলেন, মেয়ে আজ যে সুসংবাদ দিয়েছে, তাতে আমি কষ্ট ভুলে গেছি। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওই দিনই হাবিবার বাড়িতে গিয়ে তার পড়াশোনার খরচের দায়িত্ব নেন মো. মইনুল ইসলাম।

জানা যায়, চার সন্তান রেখে হাবিবার বাবা দুলাল সরদার মারা যান। এরপর হাবিবার মা তাসলিমা বেগম চার সন্তান নিয়ে শুরু করেন শুরু করেন জীবন সংগ্রাম। বাড়ির আঙিনায় শাক-সবজি চাষ, সেলাই মেশিনে জামা তৈরীসহ বিভিন্ন কাজ করে ছেলে-মেয়ের মুখের আহার সংগ্রহ করতে হতো তাসলিমাকে। অভাবের সংসারে হাবিবার কলেজে পড়াশোনার স্বপ্ন থাকলেও তার মা ও অন্যান্য ভাইবোনদের ইচ্ছে ছিল এসএসসি পরীক্ষার পরে হাবিবাকে বিয়ে দিবেন। গত ১২ মে মা দিবসের দিনই হাবিবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে হাবিবা কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু মেয়ের কৃতিত্বে মেয়েকে মিষ্টিমুখ করাবেন তো দূরের কথা, ঘরে ভালো-মন্দ কিছু রান্না করার মতো সম্বলও ছিল না তাসলিমা বেগমের। তবুও মা দিবস উপলক্ষ্যে নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তাসমিলা বেগম জানান, মেয়ে আজ যে সুসংবাদ দিয়েছে, তাতে আমি কষ্ট ভুলে গেছি। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমাড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম পরবর্তীতে ওইদিনই তিনি মিষ্টি, নতুন জামা ও নগদ কিছু টাকা নিয়ে তাসলিমা বেগমের সঙ্গে দেখা করে হাবিবার পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে চাইলে হাবিবার পরিবার তাতে সম্মতি প্রদান করেন। এতে বিয়ের পিঁড়িতে না বসে কলেজে পড়ার স্বপ্ন আরো রঙিন হয় হাবিবার।

এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে হাবিবা খাতুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে নড়িয়ার ডগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল এন্ড কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয় সে। হাবিবার ভর্তি ফিসহ অন্যান্য খরচ প্রদানের জন্য ওই কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আনসার বাহিনী। হাবিবার পরিবারের বিস্তারিত জানতে পেরে তার ভর্তি ফি, বেতন ও পরীক্ষার ফি মওকুফ করে দেয় কলেজ প্রশাসন।

হাবিবার বাড়িতে গিয়ে চেয়ার, টেবিলসহ একাদশ শ্রেণীর এক সেট বই, খাতা-কলম, শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক এ কে এম আমিনুল হকের লেখা আনসার বাহিনীর উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার অবদান সম্পর্কিত বিভিন্ন বইপত্র তুলে দেন জেলা কমান্ড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম।

মেয়ে কলেজে ভর্তির পরে এমন উপহার পেয়ে তাসলিমা বেগম বলেন, ভেবেছিলাম আর পড়াব না মেয়েকে। বিয়ের চিন্তা করছিলাম আমিসহ পরিবারের সবাই। অভাবের কারণে আমার মেয়েকে কোনোদিন চেয়ার-টেবিলে পড়তে বসাতে পারিনি। বাবা হারা আমার মেয়ে কলেজে পড়বে ভাবতেও পারিনি। আমি মইনুল স্যারের জন্য দোয়া করি।

কলেজে ভর্তি নিশ্চিতের পরে চেয়ার টেবিল উপকরণ পেয়ে হাবিবা আক্তার খুশিতে বলেন, আনসার বাহিনী আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে। চেয়ার টেবিল কলেজের ভর্তি ও বইসহ উপহার দিয়েছেন। এখন আমি চেয়ার-টেবিলে বসে পড়াশোনা করতে পারব, এটা আমার কাছে বর্ণনাতীত আনন্দ সংবাদ। আপনাদের সকলের জন্য দোয়া করি আমি। আমার জন্যও দোয়া করবেন, যেন আমি শিক্ষক হয়ে অন্য এতিম ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে পড়াতে পারি।

ডিগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ কমলেশ চক্রবর্তী বলেন, হাবিবা ও তার মায়ের জীবন সংগ্রামের বিস্তারিত জানতে পেরে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাবিবার ভর্তি ফিসহ কলেজের সকল ফি মওকুফ করা হয়েছে। হাবিবা কোনো প্রকার ফি প্রদান ব্যতিত কলেজে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারবে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী শরীয়তপুরের জেলা কমাড্যান্ট মো. মইনুল ইসলাম বলেন, এবছরের মে মাসে মা দিবসের দিন জানতে পারি তাসলিমা ও হাবিবার পরিবারের জীবন সংগ্রামের কথা। পরবর্তীতে হাবিবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলাম।

আনসার বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় গ্রাম পর্যায়ে আনসার বাহিনীর সেবা পৌঁছে দিতে মানবিক এমন কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করেন। হাবিবার পড়াশোনার সকল খরচ আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে। হাবিবার মায়ের বিধবা ভাতার কার্ড সহ তার প্রয়োজনীয় বইপত্র চেয়ার টেবিলসহ অন্যান্য উপকরণ তাকে উপহার দিয়েছি। সমাজে এমন অনেক হাবিবা রয়েছে, যারা অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়। সচেতনরা একটু উদ্যোগ নিলেই এরা সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরী করতে পারে। হাবিবার পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনসার  বাহিনী তার পাশে থাকব।


আরও খবর



প্রেমর টানে বাংলাদেশে আসা যুবতীকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর)

Image

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রেম করে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে চুয়াডাঙ্গায় আসা যুবতী পিংকি সরকার (২১)কে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বেনাপোল বর্ডার দিয়ে ভারতে হস্তান্তর করেছে বিজিবি।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট আইসিপি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা হরিদাসপুর পেট্রাপোল বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন।

বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মো.মিজানুর রহমান জানান, ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রায়গঞ্জ থানার কুলুউসারা গ্রামের মানিক সরকারের মেয়ে পিংকি সরকার (২১) এর সাথে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত এলাকার সমর সরকার নামে এক যুবকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর দুজনের মধ্যে দুই বছর ধরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সূত্রে গত ২৯ জুন ভারত থেকে চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে পিংকি।

৩ দিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় সমরের সাথে অবস্থান করছিলেন পিংকি। এক পর্যায়ে সমর তার বন্ধুকে দিয়ে গতকাল ২ জুলাই মঙ্গলবার বিকালে পিংকিকে পাঠিয়ে দেয় বেনাপোল বর্ডারে এবং বলে তুমি আমার বন্ধুর সাথে যাও আমি আসছি। প্রেমিক বন্ধু সমর না আসলেও ঠিকই পিংকিকে বেনাপোল বর্ডারে ফেলে পালিয়ে যায় সমরের বন্ধু। মেয়েটির কান্না কাটি দেখে স্থানীয় ও বিজিবি সদস্যরা একটি বাড়িতে রাখে।বিজিবি সব ঘটনা বিএসএফকে জানালে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ওই মেয়েটিকে ফেরত নিতে রাজি হয়। বিএসএফ পরে তার পরিবারের হাতে হস্তান্তর করবেন বলে জানা গেছে।

নিউজ ট্যাগ: যশোর বিজিবি

আরও খবর