আজঃ শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪
শিরোনাম

সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ডুবেছে সড়ক-মহাসড়ক, প্রস্তুত সেনাবাহিনী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | পত্রিকায় প্রকাশিত
এস এ শফি, সিলেট

Image

সিলেটে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চারটি উপজেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। বুধবার (২৯ মে) থেকেই সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি ছিল বিপদসীমার ওপরে।

এদিন রাতে ভারতের মেঘালয় থেকেও নামে ব্যাপক ঢল, যাতে বন্যা দেখা দেয়। সিলেটে গত ২ বছরের মধ্যে এ বছরের মে মাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) পর্যন্ত সিলেটে ৭০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। পানিবন্দি হয়েছেন অন্তত তিন লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের উদ্ধার অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে সেনাবাহিনী।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন বলেন, বন্যা পরিস্থিতির জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ইতোমধ্যে বৈঠক করেছে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান চলছে। সেনাবাহিনীও ইতোমধ্যে কাজ করেছে। প্রয়োজনে তারাও উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণে যোগ দেবে।

জানা যায়, বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কসহ ওই চার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক। এতে ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন সড়কে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট উপজেলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপরে ও কুশিয়ারা নদী জকিগঞ্জের অমলসীদ পয়েন্টে ২০২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়াও সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় সারি নদী বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং গোয়াইনঘাট উপজেলায় সারিগোয়াইন নদী ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, বন্যায় উপজেলার ৭৫ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে, পানিবন্দি হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। পর্যটন এলাকার পর্যটকবাহী নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। উপজেলার ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অন্তত ২৫০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, ২০২২ সালের মে মাসে সিলেট আবহাওয়া অফিসের রেকর্ডকৃত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৮৩৯ মিলিমিটার। ২০২৩ সালের মে মাসে ছিল ৩৩০ মিলিমিটার এবং ২০২৪ সালের মে মাসে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭০৫ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে।


আরও খবর
গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪




বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ধীরগ‌তি, দীর্ঘ যানজট

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

Image

ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সড়কটিতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পশু ও পণ্যবাহী পরিবহন বেশি চলাচল করতে দেখা গেছে। এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও কোথাও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বুধবার (১২ জুন) ভোর থে‌কে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব মহাসড়‌কে এমন প‌রি‌স্থি‌তির সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজার ৪০১ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ২০ হাজার ২৫০ টাকা।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মীর মো. সাজেদুর রহমান জানান, গাড়ির চাপ বৃদ্ধি ও এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলমান থাকায় সারি রয়েছে। মহাসড়কে পুলি কাজ করে যাচ্ছে।


আরও খবর
গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪




অল্প বৃষ্টিতেই ডুবল ঠাকুরগাঁওয়ের সড়ক ও মার্কেট

প্রকাশিত:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও

Image

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার বেশ কয়েকটি এলাকার ড্রেনেজের বেহাল দশা। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ও বাজারে পানি জমে থাকায় ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি যেন চরম আকার ধারণ করেছে। বর্ষাকাল আসতে না আসতেই শহরের এ অবস্থায় নাজেহাল পৌরবাসী।

তবে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনার কারণে পানি নিস্কাশনে না হওয়ায় অনেক মার্কেটের দোকানপাটের ভেতর ঢুকছে পানি। এতে আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নষ্টসহ ভিজে গেছে বেশ কিছু পণ্য। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজের এমন বেহাল দশা থাকলেও ব্যবস্থায় উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

বুধবার (১২ জুন) মধ্যরাতে ও সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের বিভিন্ন অলিগলি সড়কগুলোতে পানি থৈ থৈ করছে। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান। পানি বের হওয়ার রাস্তা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন। ময়লা পানির ভ্যাপসা গন্ধে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

জলাবদ্ধতা সৃষ্ট শহরের বেশকটি এলাকা ঘুরে জলজটে আটকে পড়া ভুক্তভোগীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমরা পানিতে ডুবলেও খোঁজ নিতে আসেন না কোনো কাউন্সিলর, এমনকি মেয়রও। শহরবাসী দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এমন ভোগান্তি পোহালেও পৌর কর্তৃপক্ষ জলাবদ্ধতা নিরসনে নিচ্ছেন না কোনো ব্যবস্থা।

জানা গেছে, বৃষ্টির পানি জমে শহরের নরেশ চৌহান সড়ক, নর্থ সার্কুলার রোড, গোয়ালপাড়া, কলেজপাড়া, কালিবাড়ি, শাহপাড়া, মুসলিমনগরসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এমনকি বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকেছে। ড্রেনেজগুলোর বেহাল দশার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা রনি বলেন, এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। রাস্তাটিও নিচু। ড্রেন অপরিষ্কার থাকে। বৃষ্টি হলে শহরে কোথাও পানি জমুক আর না জমুক, এই এলাকায় পানি জমবেই।

নরেশ চৌহান সড়কের ব্যবসায়ী উজ্জল, মুকুলসহ অনেকে জানান প্রথম শ্রেণির পৌরসভার অবস্থা যদি এমন হয় তাহলে আর কি বলার থাকবে। পানি ঢুকে ব্যবসায়ীক সামগ্রীসহ জিনিসপত্র ক্ষতি হচ্ছে এ দায় কে নিবে। পৌর মেয়র আছেন বলে মনে হয় না। আমরা দাবি করি ব্যবস্থায় উদ্যোগ নিন, না হলে সড়কে আন্দোলন করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

কালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মকসেদ বলেন, কালিবাড়ি রোডের ড্রেনটি পরিস্কার করতে মেয়র ও কাউন্সিলরকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সংস্কার না করায় ড্রেনগুলো উপচে পড়ছে। তাই আগের মতো পানি নিস্কাশন হচ্ছে না। ফলে বৃষ্টি হলেই শহরের রাস্তাঘাটে পানি জমে যাচ্ছে।

হাজি পাড়া এলাকার বাসিন্দা ময়নুল জানান, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বেহাল দশার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পয়ঃনিষ্কাশনের অভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই বাড়িতে হাঁটু পানি জমে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। র্দীঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় শহরবাসী ভোগান্তি পোহালেও পৌর কর্তৃপক্ষ সমস্যাটির সমাধানে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছেন না।

সমাজ উন্নয়নকর্মী মনিরুজ্জামান বলেন, বৃষ্টি হলেই পৌরসভার বিভিন্ন অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চলাচলে ভোগান্তিসহ সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। অনেক এলাকায় বাড়িঘরেও পানি উঠে যায়। চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলতে হচ্ছে শহরবাসীকে। তাই শহরবাসীর জন্য প্রয়োজন আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

প্যানেল মেয়র সুদাম সরকার জানান, এই মেয়রের সময়কালে কাউন্সিলররাও রীতিমত বিরক্ত। প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি কোন ভূমিকা রাখছেন না। সে কারনে রাস্তাঘাট ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা বলেন, প্রকল্প আসলে প্রতিটি কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।


আরও খবর
গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪




ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

Image

পারিবারিক কলহে ১৪০টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন নেত্রকোনা মডেল থানায় কর্মরত এক পুলিশ সদস্য। নিহত ওই কনস্টেবলের নাম রুবেল মিয়া (২৮)।

রবিবার রাতে তিনি ওই থানার ব্যারাকে ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ময়মনসিংহে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি মারা যান।

রুবেল মিয়া ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের ছেলে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন শেষে তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানার ম্যাসে খাবার খান। এরপর তিনি তার ফেসবুক আইডিতে দ্যা এন্ড লিখে স্ট্যাটাস দেন। এটি রাত ১২টার দিকে তার ছোট ভাই দেখতে পেয়ে ৯৯৯-এ কল করে জানান। এরপর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করে।

ঘটনা জানার পর নেত্রকোণা মডেল থানা পুলিশ তাকে প্রথমে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর তাকে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার বিকেল ৫টার দিকে রুবেল মিয়া মারা যান।

তিনি নেত্রকোণা শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত সপ্তাহে স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়িতে চলে যাওয়ার পর থানা ব্যারাকে থাকতেন।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, কনস্টেবল রুবেল মিয়া ৮ বছর ৬ মাস ২৯ দিন আগে পুলিশে যোগদান করে। নেত্রকোণা মডেল থানায় ১ বছর ৬ মাস আগে যোগদান করে। পারিবারিক কলহের কারণে সে অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।


আরও খবর
গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪




মোদির সঙ্গে আজ শপথ নেবেন ৩০ মন্ত্রী

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

টানা তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। আজ রোববার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনিসহ প্রায় ৩০ জন মন্ত্রী শপথ নেবেন। তবে এ সময় পুরো মন্ত্রী পরিষদ শপথ নেবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেছে যে, মোদির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রী পরিষদে ৭৮ থেকে ৮১ জন থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদির পরে শপথ নেবেন স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, অর্থ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী। গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়গুলোর সবই বিজেপির হাতে থাকবে। এ ছাড়া ইস্পাত, পরিবহন, বেসামরিক বিমান চলাচল, কয়লার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরাও আজ শপথ নিতে পারেন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ থেকে রাত ৮টা। অনুষ্ঠানটি ৪৫ মিনিট স্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে মন্ত্রীরা শপথ নেবেন তারা আজ সকাল থেকে সরকারের কাছ থেকে ফোন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথমবারের মতো বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি এবং সরকার গঠনের জন্য তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে জোটসঙ্গীদের ওপর। মন্ত্রিসভার গঠনেও এর প্রতিফলন থাকবে। চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি এবং নিতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড একাধিক মন্ত্রী পদের জন্য চাপ দিচ্ছে। এ ছাড়া, মন্ত্রিত্বে অন্যান্য দলগুলোকেও স্থান দিতে হবে।

এবার মন্ত্রীদের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি। কিন্তু সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার খুব কম সদস্যই একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন। নতুন মন্ত্রিসভায় নিতীশ কুমারের জেডিইউ দুটি পূর্ণ মন্ত্রীর পদ এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারে।

নরেন্দ্র মোদি ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এর আগে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ছিলেন।

এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিবেশী এবং ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলোর নেতাদের বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ডা. মোহাম্মদ মুইজ্জু, সেইশেলসের ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ আফিফ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবিন্দ কুমার জগন্নাথ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহল প্রচন্দ এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভবনের কাছাকাছি বিশাল এলাকাকে নো ফ্লাই জোনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।


আরও খবর



জিহাদকে নিয়ে আনারের দেহাংশের খোঁজ চলছে ভাঙ্গরে

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

Image

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের মরদেহের অংশ খুঁজতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদারকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড়ের কৃষ্ণমাটি গ্রামের বাগজোলা খালে অভিযান চালায় সিআইডি টিম। 

এ হত্যার ঘটনায় আটককৃতদের দেওয়া তথ্য মতে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, দেহাংশ পোলেরহাট থানার ভাঙড়ের কৃষ্ণমাটি গ্রামে ফেলা হয়েছে। সিআইডি কর্মকর্তারা এ কারণে ঘটনাস্থলে গেছেন। সেখানে চলছে তল্লাশি। জিহাদ হওলাদারকেও নিয়ে আসা হয়েছে ভাঙ্গরে। দেহাংশ কোথায় ফেলা হয়েছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, পেশায় কসাই জিহাদ বাংলাদেশের খুলনা জেলার বাসিন্দা। অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল। আজিমকে খুনের প্রায় দুমাস আগে অভিযুক্তরা তাকে মুম্বাই থেকে কলকাতায় নিয়ে আসে‌।

সিআইডি বলছে, জেরায় আনওয়ারুলকে খুনের কথা স্বীকার করেছে জিহাদ। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অভিযুক্ত আখতারুজ্জামানের নির্দেশেই জিহাদ সব কাজ করেছে। জিহাদ ছাড়াও আরও চারজন বাংলাদেশি নাগরিক এই কাজে তাকে সাহায্য করেছিল। আনোয়ারুল আজীমকে তারা প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নিহতের পরিচয় যাতে বোঝা না যায় তাই শরীরের হাড় এবং মাংস আলাদা করে ফেলে। এরপর হাড় ও মাংস টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলে সব কিছু পলিথিন ব্যাগে ভরে ফ্ল্যাটের বাইরে গিয়ে ফেলে দেয়। বিভিন্ন গাড়িতে চড়ে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ায় তারা।

কলকাতার একাধিক এলাকায় ফেলা হয় দেহাংশ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ভাঙড়ে ফেলা হয়েছে দেহাংশ। আটক অ্যাপ ক্যাব চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তার দাবি অনুযায়ী, খুনের পর দেহ টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। দেহাংশ পোলেরহাট থানার ভাঙড়ের কৃষ্ণমাটি গ্রামে ফেলা হয়েছে। সিআইডি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেছেন। সেখানে চলছে তল্লাশি। 

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, আজিম কলকাতায় আসার অনেক আগেই সেখানে চলে যায় অভিযুক্তরা। শহরে বসেই তারা খুনের ছক কষেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। দুই অভিযুক্ত কলকাতার সদর স্ট্রিটের একটি হোটেলে ছিল ২ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত। ১২ মে কলকাতায় যান আজিম। অর্থাৎ, তার আসার অন্তত ১০ দিন আগে কলকাতায় আসে ওই দুই অভিযুক্ত।

আরও খবর