আজঃ রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

ভারতে চামড়া পাচার ঠেকাতে সীমান্তে সতর্ক বিজিবি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

চোরাই পথে ভারতে কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধে বিজিবি সীমান্তে সতর্কতা জারি করেছে। এরই মধ্যে যশোরের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও পুলিশ টহল ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এ ছাড়াও সীমান্ত এলাকার সড়কগুলোতে যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহমেদ হাসান জামিল এ তথ্য জানিয়েছেন। ঈদের দিন বিকাল থেকে আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত এ সতর্কতা জারি থাকবে বলে তিনি জানান।

এদিকে সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য প্রশাসনেরও নজরদারি রয়েছে। তবে চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এবার পাচারের শঙ্কা রয়েছে বলে বিক্রেতারা জানান।

জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে দেশের বাজারে চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়ায় পাচারের শঙ্কা বেড়েই চলেছে। তবে দেশের সম্পদের পাচার ঠেকাতে প্রতি বছর বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তজুড়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। এ বছরও পাচার রোধে বিজিবির সদর দফতর থেকে নির্দেশ এসেছে। এরপরই ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবি কোরবানির দিন থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত সীমান্তের বিশেষ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরই মধ্যে সব পয়েন্টে বিশেষ টহল ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এ ছাড়া পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছে বিজিবি।

চামড়া ক্রেতা মশিয়ার রহমান জানান, ৭০০ টাকায় কেনা চামড়া বিক্রির সময় ৫০০ টাকা বলছে। আর ছাগলের চামড়ার দাম ৫০ টাকা। এরকম দাম থাকলে চামড়া পাচার হতে পারে মন্তব্য করেন তিনি।

চামড়া বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে নানা অজুহাত দেখিয়ে সেই দাম দেওয়া হচ্ছে না। এবার লোকসান গুনতে হবে।

ঢাকা থেকে বেনাপোলে চামড়া কিনতে আসা ব্যবসায়ী বলেন, এবার কোরবানির পশুর চামড়ার সরবরাহ কম। আবার মানও ভালো না। তাই বেশি দাম দিয়ে কিনতে পারছেন না।

যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আহমেদ হাসান জামিল বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া যাতে পাচার না হয়, সেজন্য সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এই সতর্কতা কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি সুমন ভক্ত জানান, কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার পাশাপাশি পুলিশও কাজ করছে। সীমান্ত অভিমুখে প্রবেশের সময় চালকদের জিজ্ঞাসাবাদসহ ও যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে।


আরও খবর



বিপৎসীমার ওপরে ধরলা-ব্রহ্মপুত্র, আবারও বন্যার আশঙ্কা

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি দ্রুত বৃদ্ধির কারণে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা অববাহিকার নিচু এলাকার প্রায় ৮০টি চর-দ্বীপচরে পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে কিছু ঘরবাড়ি ও সবজির ক্ষেত।

এ অবস্থায় দ্বিতীয় ধাপে একটি স্বল্প মেয়াদী বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও দুধকুমার ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বুধবার (৩ জুলাই) সকাল ৯টায় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ৪৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য নদ-নদীর পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

এদিকে নদ নদনদীর তীরবর্তী রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার ১৫টি পয়েন্টে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুর রহমান বলেন, ধরলার পানি বাড়ার কারণে আমার পটল ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখন সব পটলের গাছ মরে যাবে। পানি না আসলে আরও অনেক টাকার পটল বিক্রি করে লাভবান হতে পারতাম।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা আর দু-একদিন থেমে থেমে অব্যাহত থাকতে পারে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। যার ফলে জেলায় দ্বিতীয় ধাপে স্বল্প মেয়াদী বন্যা দেখা দেবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ৪০০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। যেদিকে প্লাবিত হচ্ছে আমরা সেদিকেই নজর রাখছি। বন্যা মোকাবিলায় আমাদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ চলমান।


আরও খবর



বান্দরবানে বেনজীরের ২৫ একর জমি জিম্মায় নিল জেলা প্রশাসন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বান্দরবান প্রতিনিধি

Image

বান্দরবানে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের জমি জিম্মায় নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকালে জেলার সুয়ালক ইউনিয়নে স্ত্রী, কন্যা ও নিজের নামে কেনা ২৫ একর জমি জিম্মায় নেয়া হয়।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, বান্দরবানে বেনজীরের অবৈধ জায়গা জমি নিয়ে তদন্ত করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জিম্মায় নেয়া জমি দেখভালের জন্য একটি রিসিভার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রভাব খাটিয়ে জমি ক্রয় করার পাশাপাশি দখল করে নিয়েছেন অনেক দরিদ্র পরিবারের জমিও। এসব জমিতে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের বাগান, মাছের ঘের, গরুর খামারসহ আলিশান বাগান বাড়ি। দুদকের অভিযানের পর বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

সরেজমিনেও দেখা গেছে, সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝের পাড়া এলাকায় স্ত্রী জীশান মির্জা, মেয়ে ফারহিন রিশতা ও নিজ নামে বেনজীর কিনেছেন ২৫ একর জমি। সে জমির ওপর গড়ে তুলেছেন মৎস্য ঘের, গরুর খামারসহ আলিশান বাগান বাড়ি। যাতায়াতের জন্য করা হয়েছে রাস্তা। আশপাশে কোনো জনবসতি না থাকলেও বেনজীরের জায়গায় দেখা যায় বিদ্যুতের সংযোগ। আর অবকাশ যাপনের জন্য করা হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোতলা বাড়ি। শুধু তাই নয়, জেলার লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি মৌজায় বেনজীর কিনেছেন ২৫ একরের ৪টি লিজ করা পাহাড়ি প্লট।

স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া পার্বত্য এলাকায় অন্য কারও জমি কেনার বিধান না থাকায় শুধুমাত্র নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করেছেন এসব জায়গা। রেজিস্ট্রি না করায় প্রশাসনের কাছে নেই সেসব জায়গার কোনো দলিল। আর নিজে দেখাশোনা করতে না পারায় জমি ক্রয় করার পর মংওয়াইচিং নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে লিখিতভাবে দায়িত্ব দেয়া হয় এসব জায়গা দেখাশোনা করার জন্য। তার মাধ্যমে সেখানে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রজাতির বাগান। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র মূল্যে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বেনজীর দখলে নিয়েছেন এসব জায়গা।

এ বিষয়ে সুয়ালক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উক্যনু মার্মা বলেন, বান্দরবানে বিভিন্ন এলাকায় বেনজীরের নামে অনেক সম্পত্তি আছে। আমার ইউনিয়নেও বেনজীরের সম্পত্তি আছে। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নামে-বেনামে বান্দরবানে জায়গা কিনেছেন বেনজীর আহমেদ।


আরও খবর



‘ভারতীয় গল্প পড়ে ব্যারিস্টার সুমনের সঙ্গে প্রতারণার ছক কষা হয়েছিল’

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হবিগঞ্জ পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সমন্বয়ে একটি দল গতকাল মঙ্গলাবার (৯ জুলাই) দুপুর সোয়া দুইটায় সিলেটের একটি হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সোহাগ মিয়া (২৭)। পুলিশের দাবি, এমপিকে হত্যা পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য প্রদানকারী করেছিল সোহাগ মিয়া। সে একজন প্রতারক। প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ নাটক সাজিয়েছিল। গ্রেপ্তার সোহাগ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মন্তাজ মিয়ার ছেলে।

আজ বুধবার হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ডার্ক ওয়েব সাইটে থাকা ভারতীয় একজন প্রভাবশালীর জীবনের হুমকি আছে বলে তথ্য দিয়ে একজন প্রতারক অর্থ হাতিয়ে নেয়। ওই গল্প পড়ে সোহাগ একই কায়দায় প্রতারণার জন্য ব্যারিস্টার সুমনকে টার্গেট করেন তিনি। এর ধারাবাহিতকায় প্রথমে সে ব্যারিস্টার সুমনের জীবনের হুমকি আছে বলে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করে।

সূত্র জানায়, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায়ের কাছে গত ২৮ জুন রাতে অজ্ঞাত পরিচয়ে সোহাগ প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ব্যারিস্টার সুমনের মোবাইল নম্বর চান। তখন ওসি মোবাইল নম্বর চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে উত্তরে তিনি জানান, ব্যারিস্টার সুমনের সঙ্গে জরুরি কথা বলতে চাই। মোবাইল নম্বর না দিলে আত্মহত্যা করবেন। ওসি সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই ব্যক্তিকে মোবাইল নম্বরটি দেননি। এর কিছুক্ষণ পরই সোহাগ হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ পাঠান এবং পরে তা ডিলিট করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও একটি মেসেজ পাঠান। এতে বলা হয়, ব্যারিস্টার সুমনের কিছু শত্রু আছে, যারা তার ক্ষতি করতে পারে। এই মেসেজও পরে ডিলিট করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ওসির মাধ্যমে সোহাগ ব্যারিস্টার সুমনের সাথে মোবাইলে কথা বলেন। তিনি জানান, ৪/৫ জনের একটি টিম তাকে হত্যার জন্য মাঠে নেমেছে। সোহাগের উদ্দেশ্য ছিল হত্যার মিশনের তথ্য জানানোর নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। কিন্তু ব্যারিস্টার সুমন লাইভে গিয়ে ঘটনাটি প্রচার করেন। এছাড়া চুনারুঘাট ও ঢাকার শেরেবাংলা থানায় দুটি জিডি করা হয়। জিডি ও লাইভে প্রচারের খবর পেয়ে সোহাগ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলে যায়। যখন তিনি বুঝতে পারেন তাকে ট্র্যাক করা হচ্ছে পরবর্তীতে তিনি সিলেটে আত্মগোপন করেন। পরে হবিগঞ্জ পুলিশ ও সিটিটিসি ইউনিট সমন্বয়ে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে তাকে একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের মামলা রয়েছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলায় রাজনগর থানায় প্রতারণার মামলা রয়েছে। যা আদালতে রিচারাধীন।

পুলিশ সুপার জানান, সোহাগ কিছুদিন বিদেশে ছিল। সে দুটি বিয়ে করেছে। তার একটি কন্যা রয়েছে। সোহাগ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। তাকে রিমান্ডে নিয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। 


আরও খবর



সেই নবজাতকের ঠাঁই হলো বাপ্পী দম্পতি ঘরে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রেদওয়ানুল হক মিলন, ঠাকুরগাঁও

Image

ঠাকুরগাও জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ফেলে যাওয়া শিশু কন্যা ফাতিমা জান্নাতের ঠাঁই হলো বাপ্পী ইসলাম ও মোরশেদা ইয়াসমিন সাথী দম্পতির সংসারে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) শিশুটির বিকল্প পরিচর্যাকারী হিসেবে অভিভাবকত্ব অর্জনে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাপ্পী ইসলাম দম্পতির হাতে তুলে দেয়া হয়। বাপ্পী ইসলাম ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের সরকার পাড়া এলাকার মৃত মহিরউদ্দীনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন প্রাইভেট কোম্পানির কর্মচারী।

গেল সোমবার (০১ জুলাই) ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের নিবন্ধন বহিতে অজ্ঞাতে পরিচয়ে  নবজাতক শিশুটিকে ভর্তির পর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় এক দম্পতি।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বতরা জানান, গত সোমবার সকালে চিকিৎসার জন্য এক থেকে দু দিন বয়সী নবজাতকে নিয়ে এক দম্পতি আসেন শিশু ওয়ার্ডে। ভর্তি করার পর শিশুটিকে শ্বাসকষ্ট রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ শিশুটির শয্যার আশপাশে অবস্থান করতেও দেখা গেছে ওই দম্পতির। তবে কয়েক ঘন্টা পর শিশুটি চিৎকার চেঁচামেচি করলে পাশের শয্যার অভিভাবকরা স্বাস্থ্যকর্মীদের খবর দেয়। পরে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে গিয়ে হাজির হলে অভিভাবক হিসাবে কাউকেই না পেয়ে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তির নিবন্ধন বহি দেখেন শিশুটির ভর্তি করা হয় ১ জুলাই সকাল ৭টায়। খাতায় নবজাতকের নাম দেয়া হয় বেবি। আর ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে পঞ্চগড় জেলার বোদা ময়দানদিঘির।

দত্তক নেওয়া বাপ্পী জানান, আমি ৮ বছর আগে বিয়ে করেছি। কিন্তু আমাদের কোন সন্তান নেই। খবর পেলাম যে এক শিশুকে কে বা কারা হাসপাতালে ফেলে গেছে। আমরা সিন্ধান্ত নিলাম যে বাচ্চাটিকে আমরা দত্তক নেবো। এখন থেকে আমি এ শিশুটির বাবা। আমার সহধর্মিনী তার মা। আদর, স্নেহ, মমতা আর অধিকার নিয়ে আমাদের পরিবারে বেড়ে উঠবে ফাতিমা। এসময় রুহীকে উদ্ধারের পর চিকিৎসা, সেবাদান, বিকল্প পরিচর্যাকারী ও অভিভাবকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব জানায়, অভিভাবকহীন শিশুটিকে শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী শিশু বঞ্চিত বিবেচনায় পরিচর্যার জন্য মো: বাপ্পী ইসলাম ও তার স্ত্রী মোরশেদা ইয়াসমিন সাথীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এবং সঠিকভাবে পরিচর্যা হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত খোঁজ খবর রাখে হবে।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে ফেলে রাখে চলে গিয়েছে কে বা কারা এটি জানার পর উদ্যোগ নেয়া হয়ে দত্তক দেয়ার। এরই মধ্যে ১০জন আবেদন করেছিলো। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জেলা শহরের সরকারপাড়ার বাসিন্দা মো: বাপ্পী ও সাথী দম্পতির কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নিউজ ট্যাগ: ঠাকুরগাঁও

আরও খবর



নিত্যপণ্যের বাজারে বৃষ্টি-ব্লকেডের অজুহাত, সবকিছুর দাম আকাশচুম্বি

প্রকাশিত:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

নিত্যপণ্যের বাজারে বৃষ্টি ও কোটাবিরোধী বাংলা ব্লকেড অজুহাত দেখানো হচ্ছে। সরবরাহ ঠিক থাকলেও বাড়ানো হয়েছে ডাল, আলু ও ডিমের দাম। পরিস্থিতি এমন- এক কেজি আলু কিনতে ক্রেতার ৬৫-৭০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ডালের কেজি ১৪০ টাকা এবং প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকা। ফলে গরিবের খাবারের তালিকায় এখন ডাল-আলুভর্তা ও ডিমের জোগান দেওয়া যেন কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে শুক্রবার (১২ জুলাই) রাজধানীর অন্যতম পাইকারি বাজার কাওরান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দাম কমছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় কোন দ্রব্যেরই। বরং লাগামহীনভাবে বেড়েই চলছে দ্রব্যের দাম।

এদিন, কচুরমুখী ৮০-৯০, টমেটো কেজি প্রতি ১৮০-২০০, কাচা মরিচ কেজি প্রতি ২৫০, গাজরের কেজি ৯০-১০০, শসা ৯০-১০০, বেগুন ৭০-৮০ ও পটল কেজি প্রতি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

গত সপ্তাহের তুলনায় পটল ও বেগুন ছাড়া প্রায় সব সবজিরই দাম বাড়তি দেখা যায়। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দুষছেন বন্যা ও কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে।

ব্যবসায়ীরা বলছে, এমনিতে কয়েকদিন ধরে হওয়া অতি বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সবজির ক্ষেত। তার মধ্যে আবার ছাত্র আন্দোলনের ফলে ব্যাহত হচ্ছে পরিবহন ব্যবস্থা। ফলে সরবরাহ কম হওয়ায় বাড়ছে দাম।

সপ্তাহের ব্যবধানে ঝাঁঝ বেড়েছে পেয়াজের। গত সপ্তাহেও যে পেয়াজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছিলো ৮০-৯০ টাকায় তা এ সপ্তাহে বেড়ে দাড়িয়েছে ১১০-১২০ টাকায়। এছাড়াও আলু ৬০-৭০, পেয়াজ ১১০-১২০, আদা ৩২০, রসুন ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়।

ক্রেতারা বলছেন, নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সবজিসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম। এখনই লাগাম না টানলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বাজার।

এই পাগলা ঘোড়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ চান ক্রেতারা। তারা বলছেন, আমাদের আয় তো বাড়ছে না কিন্তু প্রতিনিয়ত সব কিছুর দামই বেড়ে চলছে। এমনি চলতে থাকলে বাজার করায় কঠিন হয়ে যাবে। সরকারের উচিৎ এখনই লাগাম টেনে ধরা।

দ্রব্যমূল্য আর তার আয়ের ব্যবধানে অনেকটা অসহায় মশিউর। কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে যায় আয় হয় তা দিয়ে ৩-৪ বছর আগে ভাল চললেও এখন টানাপোড়েন লেগেই থাকছে। এক ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। বাচ্চার স্কুলের খরচ ও দ্রব্যমূল্যের বাড়তি চাপে অনেকটায় দিশেহারা অবস্থা তার।

বাজার মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে জানিয়ে মশিউর বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ খাবো কি? যেভাবে সব কিছুরই দাম বাড়ছে তাতে করে পরিবার নিয়ে টিকে থাকায় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত, বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া। না হলে বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিঃস্ব হবে সাধারণ ভোক্তারা।

শুধু সবজি নয়, আগুন লেগেছে মাংসের বাজারেও। গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগীর দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত। এদিন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৭০০-৭৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৬০-২৮০ টাকা ও লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়।

এছাড়াও প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১২০০-১২৫০ টাকা।

নাগালের বাহিরে চলে গেছে গরীবের আমিষের চাহিদা পূরণের মাছ পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়ায়ও। এদিন প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২০০-২৩০ টাকা ও চাষের পাঙাশ ২০০-২৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

এছাড়াও আকারভেদে প্রতি কেজি রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কোরাল ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ও আইড় ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৬৫০ টাকা ও চাষের কৈ ৩০০-৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।


আরও খবর