আজঃ রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

ওয়াদুদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা, সালথা উপজেলা নির্বাচনে বাধা নেই

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ওয়াদুদ মাতুব্বরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে আগামী ২১ জুন সালথা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রবিবার (১৯ মে) প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৮ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ওয়াদুদ মাতুব্বরের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম, নুরুল ইসলাম সুজন ও অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক।

অপরপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমেদ রাজা।

এর আগে গত ১৪ মে ওয়াদুদ মাতুব্বরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন চেম্বার আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

জানা যায়, ওয়াদুদ মাতুব্বর বর্তমানে সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। নিজ স্ত্রীর নামে লাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকায় গত ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করলে সেখানেও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এরপর মনোনয়নপত্র ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট রিট খারিজ করে ওয়াদুদ মাতুব্বরের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ওয়াদুদ মাতুব্বর।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রার্থীর মধ্যে ওয়াদুদ মাতুব্বরের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় প্রতীক বরাদ্দ না দিয়ে মো. ওয়াহিদুজ্জামানকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল। ওয়াদুদ মাতুব্বর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় আগামী ২১ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর
কোটা নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি রোববার

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, ৭ শতাধিক অ্যাকাউন্টে লেনদেন

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (কর) কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাত শতাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে এসব টাকা।

দুদকের এমন অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার ফয়সাল, তাঁর স্ত্রী ও স্বজনদের ৮৭টি ব্যাংক হিসাব ও ১৫টি সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। ৮৭টি ব্যাংক হিসাবে ছয় কোটি ৯৬ লাখ টাকা অবরুদ্ধ এবং ১৫টি সঞ্চয়পত্রে থাকা দুই কোটি ৫৫ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

আদালতে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানিতে বলেন, কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বিরুদ্ধে ইনকাম ট্যাক্স কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময়ে বাণিজ্য, আয়করদাতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ গ্রহণ, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎসহ অবৈধ অর্থ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি অবৈধ অর্থের প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করেছেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁর সম্পদ জব্দের এ আদেশ দেন।

আদালতে করা আবেদনে বলা হয়, আবু মাহমুদ ফয়সাল সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ ঘুষ লেনদেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয়ের উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে শাহজালাল ব্যাংক কারওয়ান বাজার শাখায় তাঁর নিজ নামে বিভিন্ন এফডিআর হিসাব খোলেন।

মেয়াদ পূর্তির পর এফডিআর ভাঙানো টাকা ও নতুন করে নগদ এনে ফারহানা আক্তার, মমতাজ বেগম, মাহমুদা হাসান, খন্দকার হাফিজুর রহমান, কারিমা খাতুনের নামে বিভিন্ন এফডিআর স্কিম খোলেন। পরে ওই অর্থ এবি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স, হজ ফাইন্যান্স এবং সব শেষে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের শাখায় ওই লোকজন ছাড়াও আহম্মেদ আলী, আফতাব আলী, শেখ নাসির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের নামে সাত শর বেশি হিসাব খুলে অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে স্থানান্তর বা রূপান্তর বা হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত করেছেন বলে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ফয়সালের যত সম্পদ

কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালসহ ১৪ জনের ৮৭টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ছয় কোটি ৯৬ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করেছেন আদালত। পাশাপাশি ফয়সালসহ সাতজনের নামে থাকা ১৫টি সঞ্চয়পত্রে থাকা দুই কোটি ৫৫ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ফয়সালের স্ত্রী আফসানাসহ চারজনের নামে থাকা স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নামে ডাচ বাংলা ব্যাংকে ৫০ লাখ টাকার দুটি সঞ্চয়পত্র, তাঁর স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে চারটি সঞ্চয়পত্রে ৫০ লাখ টাকা, আফতাব আলীর নামে দুটি সঞ্চয়পত্রে ৩০ লাখ টাকা, কাজী খালিদ হাসানের নামে একটি সঞ্চয়পত্রে ৩০ লাখ টাকা, খন্দকার হাফিজুর রহমানের নামে দুটি সঞ্চয়পত্রে ৪০ লাখ টাকা, আহম্মেদ আলীর নামে তিনটি সঞ্চয়পত্রে ৫০ লাখ টাকা ও মাহমুদা হাসানের একটি সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা রয়েছে।

ফয়সাল ছাড়া অন্য যাঁদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ হয়েছে তাঁরা হলেনশেখ নাসির উদ্দিন, মমতাজ বেগম, রওশন আরা খাতুন, আহম্মেদ আলী, খন্দকার হাফিজুর রহমান, ফারহানা আফরোজ, আশরাফ আলী মুনির, আফতাব আলী তানির, মাহফুজা আক্তার, মাইনুল হাসান, আফসানা জেসমিন, মাহমুদা হাসান ও কাজী খালিদ হাসান। এ ছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে আফসানা জেসমিনের নামে ১০ কাঠা জমি, ২০০ বর্গমিটারের প্লট, আবু মাহমুদ ফয়সালের নামে ভাটারা, খিলগাঁও ও রূপগঞ্জে থাকা স্থাবর সম্পদ, আহমেদ আলীর নামে থাকা ফ্ল্যাট ও কার পার্কিংয়ের তিন হাজার ২২৮ বর্গফুট স্থাবর সম্পদ ও মমতাজ বেগমের নামে থাকা ১০ কাঠা জমি জব্দ করা হয়েছে।


আরও খবর
কে এই আবেদ আলী

সোমবার ০৮ জুলাই ২০২৪




শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ডুয়েট প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বদল, হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) শিক্ষার্থীরা।

আজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ডুয়েট প্রশাসন সিদ্ধান্ত বদল করে সকল শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারবে এবং তাদের সকল প্রকার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানানো হয়।

বুধবার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ডুয়েট প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়। আন্দোলনের মুখে ডুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এ অনুমতি দেন। 

সেই সাথে সকলকে নির্দেশনা দিয়েছে এখন থেকে আইডি কার্ড ব্যতীত কোন শিক্ষার্থী গেট দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেনা এবং বহিরাগত কোন ব্যক্তি ডুয়েটে প্রবেশ করতে পারবেনা।

নিউজ ট্যাগ: ডুয়েট ইউজিসি

আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




জনসচেতনতা বাড়িয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে চান চসিক মেয়র

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

মৌসুমের আগে ভাগেই চট্টগ্রামে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ছাড়িয়েছে আড়াইশোরও বেশি। এরপরও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিধনে কোন উদ্যোগ নেয়নি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। জনসচেতনাকে মোক্ষম অস্ত্র বলে মনে করছেন চসিক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী। করোনার মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুরে চসিকের উদ্যোগে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মেয়র বলেন, নগরের প্রত্যেক সংস্থা, সামাজিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ, মসজিদে জুমার নামাজে মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতন করতে পারলে করোনার মতো ডেঙ্গুও প্রতিরোধ সম্ভব।

তিনি বলেন, আমাদের চারপাশে যে সমস্ত জায়গায় এডিস মশা জন্মায় সেই সমস্ত জায়গায় যাতে এডিস মশা জন্মাতে না পারে সেই ব্যাপারে সকলকে সচেতন হতে হবে। নালা-নর্দমায় এডিস মশা জন্মায় না। পরিস্কার ও বদ্ধ পানি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র। তাই বসা-বাড়ির আশে-পাশে ডাব ও নারকেলের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ছাদ বাগান ও ফ্রিজে জমানো পানি তিন দিনের বেশি যাতে জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাসা বাড়ি, ছাদ-আঙ্গিনা নিজ নিজ উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এটি আমাদের সকলের নাগরিক দায়িত্ব।

তিনি চট্টগ্রাম নগরকে একটি নিরাপদ বাসযোগ্য ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন নগর গড়ারও আহ্বান জানান। সভায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ ডেঙ্গু প্রতিরোধে তাদের মতামত প্রদান করেন।

চসিকের কনফারেন্স রুমে প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার লতিফুল হক কাজমীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল তসলিম, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি পরিচালক ডা. মো. সাখওয়াত উল্লাহ্, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েল ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ডা. হোসাইন সরোয়ার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. মো. নরুল হায়দার, ভারপ্রাপ্ত জেলা কীটতত্ববিদ সৈয়দ মো. মঈন উদ্দীন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি।


আরও খবর



সেতু ভেঙে ৯ জন নিহতের ঘটনায় ঠিকাদারের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অলিউল্লাহ্ ইমরান, বরগুনা

Image

আমতলী উপজেলা চাওড়া নদীর উপর নির্মিত হলদিয়া হাট ব্রীজ ভেঙ্গে বিয়ের ৯ জন কনে পক্ষের আত্মীয়স্বজন নিহত হয়েছে। নিহতের মধ্যে এক পরিবারের তিনজন। অপর নিহতরা সকলেই পরস্পর আত্মীয়স্বজন।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারীতে আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধা দায়সারা ব্রীজ নির্মাণ করেছে। ফলে নির্মাণের ৫ বছরের মাথায় ব্রীজের মাঝখানের ভীম ভেঙ্গে যায়।

গত ১০ বছর ধরে এ ভাঙ্গা নরবরে ব্রীজের উপর দিয়ে হলদিয়া ইউনিয়ন ও চাওড়াসহ উপজেলার অন্তত অর্ধ লক্ষ মানুষ চলাচল করতো। ব্রীজ নির্মাণকারী ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধার শাস্তি দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ঘটনা ঘটেছে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে। 

জানা গেছে, আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর ২০০৮-০৯ অর্ধ বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার চাওড়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত চাওড়া  নদীর উপর হলদিয়া হাট এলাকায় আয়রণ ব্রীজ নির্মাণের দরপত্র আহবান করে। ওই ব্রীজের নির্মাণের পাঁচ বছরের মাথায় ব্রীজের মাঝের ভীম ভেঙ্গে যায়। গত ১০ বছর ধরে ওই ভাঙ্গা ব্রীজ দিয়ে  হলদিয়া ইউনিয়ন ও চাওড়াসহ উপজেলার অন্তত অর্ধ লক্ষ মানুষ চলাচল করে আসছে।  শনিবার দুপুর দেরটার দিকে কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমির সহকারী শিক্ষক উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মাসুম বিল্লাহ মনিরের মেয়ে হুমায়রা আক্তারের সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমতলী পৌর শহরের খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা সেলিম মাহমুদের ছেলে ডাঃ সোহাগের বিয়ে হয়।

গত শুক্রবার ওই কনেকে বরের বাড়ি তুলে আনেন। শনিবার মেয়ের পক্ষের লোকজন বরের বাড়িতে মাইক্রো এবং অটোগাড়িতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে হলদিয়া ব্রীজ পাড় হওয়ার সময় ব্রীজের মাঝের অংশ ভেঙ্গে যায়।

এতে মাইক্রোবাস ও অটোগাড়ি নদীতে পড়ে যায়। অটোতে থাকা যাত্রীরা সকলে সাতরে কিনারে উঠতে পারলেও মাইক্রোবাসের যাত্রীরা নদীতে তলিয়ে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা ওই মাইক্রোতে থাকা লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী নাশির উদ্দিন। খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। ততক্ষণে মাইক্রোবাসে থাকা কনে পক্ষের ৯ যাত্রী নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন রুবিয়া (৪৫), রাইতি (২২), ফাতেমা (৫৫), জাকিয়া (৩৫), রুকাইয়াত ইসলাম (৪), তাহিয়া মেহজাবিন আজাদ (৭), তাসফিয়া (১৪), ঋধি (৪) ও রুবি বেগম (৩৫)। এদের মধ্যে রুকাইয়াত ইসলাম ও জাকিয়ার বাড়ী উপজেলার দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামে। অপর নিহত ৭ জনের বাড়ী মাদারিপুর জেলার শিবচর উপজেলার কোকরার চর গ্রামের বাসিন্দা। এরা কনে হুমায়রার মামা বাড়ীর আত্মীয়স্বজন। নিহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনার পরপর ব্রীজ নির্মাণকারী ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধার বিচার দাবীতে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। খবর পেয়ে বরগুনা-১ আসনের সাংসদ গোলাম সরোয়ার টুকু, জেলা প্রশাসক মোহাঃ রফিকুল ইসলাম,  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার ফোরকান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।

মাইক্রোবাসে থাকা সোহেল মিয়া বলেন, মাইক্রোবাসে কনে পক্ষের ১৬ জন যাত্রী বরের বাড়িতে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে হলদিয়া হাট ব্রীজের উঠামাত্রই ব্রীজ মাঝখান দিয়ে ভেঙ্গে মাইক্রোবাসটি নদীতে পড়ে যায়। আমিসহ ৩ জন সাতরে কিনারে উঠতে পেরেছি। পরে স্থানীয়, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম স্বপন ও নাশির উদ্দিন বলেন, মাইক্রোবাস ও অটোগাড়ীটি ব্রীজের মাঝখানের আসা মাত্রই ধপাস করে ব্রীজ ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। তাৎক্ষনিক আমরা স্থানীয়দের নিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালাই। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক বলেন, ব্রীজ নির্মাণ কালে ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধা দায়সারা ব্রীজ নির্মাণ করেছে। ফলে নির্মাণের অল্প দিনের মধ্যেই ব্রীজের মাখঝানের ভীম ভেঙ্গে গেছে। ওই ভাঙ্গা ব্রীজ দিয়ে অন্তত অর্ধলক্ষ মানুষ চলাচল করতো। তিনি আরো বলেন, এই ভাঙ্গা ব্রীজ মেরামতের জন্য আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বহুবার জানিয়েছি কিন্তু তিনি আমলে নেয়নি। যার ফলে আজ ৯ জনের প্রাণ গেল। ঠিকাদার দায়সারা ব্রীজ নির্মাণ করায় এবং উপজেলা প্রকৌশলী ব্রীজ সংস্কার না করায় তাদের শাস্তি দাবি করছি।

আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ব্রীজ ভেঙ্গে মাইক্রোবাস নদীতে ডুবে নিয়ে বিয়ের কনে পক্ষের ৯ জন মানুষ মারা গেছে। নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

ঠিকাদার শহীদুল ইসলাম মৃধা বলেন, আমি যথাযথ ভাবেই ব্রীজ নির্মাণ করেছি। ব্রীজ নির্মাণ কাজে কোন অনিয়ম করিনি।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার ইনচার্জ মোঃ হানিফ বলেন, চার ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে মাইক্রোবাস উদ্ধার করতে পারিনি। উদ্ধার চেষ্টা অব্যহত আছে।

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী  আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমতলীতে আমার যোগদানের পূর্বে এ ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্রীজ নির্মাণ যে ঠিকাদার অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনা-১ আসনের সাংসদ গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, নিহতের স্বজনদের হাসপাতালে সমবেদনা জানিয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থলে বিক্ষুদ্ধ মানুষকে শান্ত করেছি। তিনি আরো বলেন,  ব্রীজ নির্মাণে অনিয়মের কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহতের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হবে।


আরও খবর



চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সাড়ে ৬৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় করেছে ৬৮ হাজার ৫৬২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৬২ হাজার ৬৫৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম রাজস্ব আদায় হলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দাবি, অর্জিত রাজস্ব আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এতে হাইস্পিড ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, আপেল, সিমেন্ট ক্লিংকার, পাম অয়েল, ভাঙা পাথর ও পেট্রোলিয়াম তেলসহ আমদানি করা ১২ পণ্য থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯ হাজার কোটি টাকা।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, জরিমানা আদায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণসহ অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর জন্য রাজস্ব বেড়েছে। অন্যদিকে বিশ্ব বাণিজ্য মন্দা, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ধস হলেও ইতিবাচক রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। মিথ্যা ঘোষণার জরিমানা বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে রাজস্ব ফাঁকি কমেছে। রাজস্ব আদায় পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা যায়, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে মাস ভিত্তিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল। এতে জুলাই মাসে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা, এর বিপরীতে আয় হয় ৫ হাজার ৪৭২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগস্ট মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৭ কোটি টাকা, কিন্তু ওই মাসে আদায় হয় ৫ হাজার ৭১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৫০ কোটি টাকা, আদায় হয় ৫ হাজার ২৯০ কোটি ২১ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ৫ হাজার ৬৬১ কোটি ১১ লাখ টাকা। নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা, আদায় হয় ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ডিসেম্বরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৯১০ কোটি টাকা, আদায় হয় ৫ হাজার ১০৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। জানুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা, আদায় হয় ৫ হাজার ৯১৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসে ৫ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আদায় হয়। মার্চ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭ হাজার ৯১ কোটি টাকা, আদায় হয় ৫ হাজার ৬৩২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এপ্রিল মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৭১ কোটি টাকা, আদায় হয় ৫ হাজার ৯৬৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। মে মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয় ৬ হাজার ৫০২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। জুন মাসে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৪৩ কোটি টাকা, এর বিপরীতে আদায় হয় ৬ হাজার ৭৩৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

কাস্টমস হাউস কমিশনার মোহাম্মদ ফায়জুর রহমান বলেন, 'আমদানিতে অনিয়ম রোধ, পণ্যের প্রকৃত দাম অনুসারে শুল্ক নির্ধারণের নজর বাড়িয়েছি। মিথ্যা ঘোষণা প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে। ডলার সংকটের কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারা, বিলাসী পণ্য আমদানিতে উচ্চ শুল্কসহ বিধি আরোপ করার কারণেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় সম্ভব হয়নি।


আরও খবর