আজঃ বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১
শিরোনাম

আজ থেকে নোয়াখালীতে ৭ দিনের লকডাউন

প্রকাশিত:শনিবার ০৫ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৫ জুন ২০২১ | ৬৯জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

নোয়াখালীতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নোয়াখালী পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ছয় ইউনিয়নে এক সপ্তাহের বিশেষ লকডাউন শুরু হয়েছে।

শনিবার ভোর ৬টা থেকে এ লকডাউন শুরু হয়।গত এক সপ্তাহে জেলায় নতুন সংক্রমণ হয়েছে ৫৮৯ জন আর মারা গেছেন চারজন।

এর আগে শুক্রবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার।

তিনি জানান, গত কয়েকদিন নোয়াখালী পৌরসভাসহ সদর উপজেলার কয়েকটি উপজেলায় করোনা সংক্রমণ আশংকাজনক হারে বাড়তে থাকে।

সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নোয়াখালী পৌরসভা, নোয়ান্নই, বিনোদপুর, কাদির হানিফ, নেয়াজপুর, অশ্বদিয়া ও নোয়াখালী ইউনিয়নে শনিবার থেকে ১১জুন শুক্রবার পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার ভোর ৬টা থেকে এ লকডাউন শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জানান, লকডাউনকৃত এলাকাগুলোতে ফার্মেসি ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

কাঁচা বাজার খোলা থাকবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। শর্তসাপেক্ষে খোলা থাকবে খাবার হোটেল। তবে হোটেলে বসে খাবার খাওয়া যাবে না।

জরুরি সেবা বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন, ইন্টারনেট, চিকিৎসা সেবাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর কাজে নিয়োজিত পরিবহন এবং যানবাহনের পরিসেবা চালু থাকবে।


আরও খবর



ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস আজ

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৭ জুন ২০২১ | ৯৪জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আজ ৭ জুন (সোমবার), ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬-দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়।

এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআরর গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন বাঙালি শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপোষহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি।

প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসলেও এ বছর বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট সংকটের কারণে ঐতিহাসিক এই দিনটিতে ব্যাপক জনসমাগম এড়িয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে দিবসটির কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামীকাল সূর্যোদয়ের ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। এছাড়াও সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬-দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্য সূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজক পক্ষ গুরুত্ব প্রদান করেনি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই ৬-দফা দাবি উত্থাপন করেন।

এ নিয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বলে চিহ্নিত করা হয়। পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬-দফা এবং এ ব্যাপারে দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে অনুমোদন করিয়ে নেন।

৬-দফার মূল বক্তব্য ছিল- প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর, শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকাসহ দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর স্থাপন।

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬-দফা দাবির মুখে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ৬-দফা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্রের ভাষায় জবাব দেয়া হবে।

এদিকে ৬-দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ববাংলা সফর করেন এবং ৬-দফাকে বাঙালির বাঁচার দাবি হিসেবে অভিহিত করেন। ফলে শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। যশোর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ অন্যান্য কয়েকটি স্থানে ৬ দফার পক্ষে প্রচারকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন।

ছয় দফা দাবী আদায় প্রসঙ্গে কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, আওয়ামী লীগ কর্মীরা যথেষ্ট নির্যাতন ভোগ করেছে। ছয় দফা দাবি যখন তারা দেশের কাছে পেশ করেছে, তখনই বোঝা হয়ে গিয়াছে যে তাদের দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হবে। এটা ক্ষমতা দখলের সংগ্রাম নয়, জনগণকে শোষণের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য সংগ্রাম।

তিনি আরও লিখেছেন, আমার বিশ্বাস আছে আওয়ামী লীগের ও ছাত্রলীগের নিঃস্বার্থ কর্মীরা, তাদের সাথে আছে। কিছু সংখ্যক শ্রমিক নেতা- যারা সত্যই শ্রমিকদের জন্য আন্দোলন করে- তারাও নিশ্চয়ই সক্রিয় সমর্থন দেবে। এতো গ্রেপ্তার করেও এদের দমাইয়া দিতে পারে নাই।

পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ৬-দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়। এ দাবির সপক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বাঙালিরা বিজয়ী করে।

অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচারী পাকিস্তানের শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারও বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা এবং সেই সময়ের ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ একটি নিবন্ধে লিখেছেন, ছয় দফাকে প্রতিহত করার জন্য পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বহু ষড়যন্ত্র করেছে। বঙ্গবন্ধুকে কারাগারে নিক্ষেপ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়েছে। তারপরও যখনছয় দফা আন্দোলন রোধ করা যাচ্ছিল না, তখন বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে চিরতরে তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে স্বৈরশাসক আইয়ুব খান রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য তথা আগরতলা মামলা দেন। সেদিনছয় দফা দাবি আদায় এবং বঙ্গবন্ধুকে কারামুক্ত করতে আমরা ছাত্ররা ৬৯-এর জানুয়ারির ৪ তারিখে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে ৪টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ছয়-দফাকে এগারো দফায় অন্তর্ভূক্ত করে গ্রামে-গঞ্জে-শহরে-বন্দরে-কলে-কারখানায় ছড়িয়ে দিয়েছিলাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ. আ. ম. স আরেফীন সিদ্দিক বলেন, ৬ দফাই এনে দিয়েছে আমাদের তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর দূর দৃষ্টি, অন্তঃদৃষ্টি ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এতই প্রখর ছিল যে, তিনি ৬ দফাকে এক দফার দাবিতে পরিণত করে বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলনের ডাক দেন।

অওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ছয় দফার সময়ে এটা কেবল স্বায়ত্তশাসনের দাবি, অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি না- এমন বিতর্ক ছিল। তিনি বলেন, ৭০-এর নির্বাচন ছিল ৬-দফার প্রশ্নে ম্যান্ডেট।

রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ও লেখক নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই স্বাধীন বাংলাদেশের বিষয়টি বঙ্গবন্ধুর মাথায় ছিল। তাই ছয় দফা হঠাৎ কোন ব্যাপার ছিল না। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনীতির লক্ষ্যই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। ছয় দফার ভেতর দিয়েই প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা এসেছে।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ছয় দফা মুক্তির সনদ না হলেও এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের একটা মাইল ফলক, যা অতিক্রম করার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সফল হয়েছিল।


নিউজ ট্যাগ: ছয় দফা দিবস

আরও খবর



করোনায় রাজশাহীতে মৃত্যু আরও বেড়েছে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৩ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৩ জুন ২০২১ | ৯৪জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৯৮ জন। বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) রামেকের উপ-পরিচালক ডা. মো: সাইফুল ফেরদৌস এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, হাসপাতালে মৃত ৯ জনের প্রত্যেকেই করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। এদের মধ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচজন, রাজশাহীর দুইজন, নওগাঁর একজন ও পাবনার একজন রোগী ছিলেন।

বুধবার (০২ জুন) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার (০৩ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় এ জেলায় নতুন করে আরও ৯৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতালটির পাঁচটি করোনা ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভর্তি আছেন ২২৪ জন রোগী। তাদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯৬ জন, রাজশাহীর ১০১ জন,  নওগাঁর ৯ জন, নাটোরের ৭ ও পাবনার ৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ জন।

হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনা ডেডিকেটেড ওয়ার্ড বাড়ানোর সিধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

এর আগে বুধবার (০২ জুন) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় ৭ জন্য রোগী মারা যায়। এদের মধ্যে পাঁচজন করোনা পজেটিভ ছিলেন। বাকি দুজনের উপসর্গ ছিল। তার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন, রাজশাহীর তিনজন ও নাটোরের একজন ছিলেন।

এদিকে বুধবার রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, রাজশাহীতে চলমান বিধিনিষেধের (লকডাউন) চারটি শর্ত বাড়িয়েছে।

জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব দোকানপাট বন্ধ, ৭টার পর জনসাধারণের ঘরের বাইরে বের হওয়া, সব ধরনের গণজমায়েত ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব বিনোদনকেন্দ্রও বন্ধ রাখার নির্দেশ আরোপ করা হয়েছে।

আব্দুল জলিল জানান, জেলায় সপ্তাহ ধরে ক্রমাগত করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনের করোনা টেস্টের বিপরীতে রাজশাহীতে সংক্রমণের হার ৪০ শতাংশের ওপরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চলমান লকডাউনের মধ্যে চারটি শর্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি এসব শর্ত বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন কঠোরতা আনবে। তবে আম ও কৃষিপণ্য এসব নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।



আরও খবর



বাজেট ঘাটতির অর্থ আসা নিয়ে সিপিডির শঙ্কা

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৪ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০৪ জুন ২০২১ | ১১৬জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির অর্থ সংস্থান নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, প্রস্তাবিত বাজেটে অনুদান বাদ দিলে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। আজ শুক্রবার ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সিপিডির পর্যালোচনায় এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতির অর্থ কোথা থেকে আসবে সেটা বড় প্রশ্ন। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৬.২ শতাংশ ধরা হয়েছে। বৈদেশিক উৎস থেকে বাজেট ঘাটতি পূরণের বিষয়টি ইতিবাচক দিক। এটা আকাঙ্ক্ষিত। তবে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ১০ মাসের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করে পুরো অর্থবছর কেমন হতে যাচ্ছে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে গতিপ্রকৃতি ঠিক করা হয়নি। আমরা এখানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছি।

ফাহমিদা বলেন, রাজস্ব আহরণের বিষয়ে বাজেটে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে চলতি সংশোধিত বাজেটের তুলনায় রাজস্ব আহরণ ১০.০৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ঘাটতি বাজেটের অর্থায়ন রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে কতটুকু সম্ভব হবে, সে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে সিপিডি পর্যালোচনায় দেখতে পায় রাজস্ব আহরণ ৩০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব। বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৯.৬ শতাংশ। বলা হচ্ছে, রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হবে। ব্যয় ঠিক করে আয়ের চিন্তাধারা থেকে এনবিআরের ওপর রাজস্ব আদায়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। যা আসলে অর্জন করা সম্ভব হয় না।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানায়, প্রস্তাবিত বাজেট দুর্বল এবং এটি বাস্তবায়নে সামনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২০ শতাংশের কথা বলা হয়েছে। এখানে বলা হচ্ছে- ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির দেখানো হয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এটা আমরা বলছি- অর্থনীতির অন্যান্য যেসব সূচক দেখা যাচ্ছে, সেই সূচকের প্রেক্ষিতে এটা একটু বেশি। এটা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুব কম। সেটা যেহেতু আরও কম হবে, সেই লো বেঞ্চমার্ক থেকে এই যে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি হবে, এটা আসলে বাস্তবোচিত না এবং পূরণ হবে না।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, এর প্রেক্ষিতে সামষ্টিক যে কাঠামো অর্থাৎ এখানে রাজস্ব আয়, ব্যয় এবং বিনিয়োগ ইত্যাদির যে কাঠামো দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবসম্মত হয়নি বলে আমরা মনে করছি। রাজস্ব কাঠামোতে বড় ধরনের তেমন পরিবর্তন নেই। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্র ৩০ শতাংশ বাড়াতে হবে। এটাও অনেকটা বেশি। করোনা মোকাবিলা এবং করোনা থেকে ফিরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করার জন্য যে বাজেট প্রয়োজন ছিল সেটা আমরা লক্ষ্য করিনি। সামগ্রিকভাবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে- করোনাকালীন এই বাজেট দুর্বল অনুমিত এবং বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা আমাদেরকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, আয়করের সীমা ওপরের দিকে বাড়ানো হয়নি। একইভাবে নিচের দিকের সীমা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর ফলে কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নিচের দিকে আয়করের সীমা আর একটু বাড়ালে ভোগ ব্যয় বাড়তো। তা বিনিয়োগে সহায়তা করতে পারতো। অর্থাৎ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারতো। সরকারি ব্যয়ের বর্ধিত যে বরাদ্দ, এখানে দেখা যাচ্ছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনপ্রশাসনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাবলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটা বর্ধিত বরাদ্দ দেখা যাচ্ছে। খাতওয়ারি বিষয়ের মধ্যে সবার আগে আসে স্বাস্থ্যখাত। স্বাস্থ্যখাতের মূল বিষয় এখন টিকাদান। করোনা কতদিন থাকবে কেউ জানে না। করোনা থেকে মুক্তি না পেলে অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য ফিরে আসবে না। সেজন্য টিকাদান কর্মসূচি সবার জন্য, যারা যোগ্য সবাইকে টিকা দিতে হবে।

ফাহমিদা আরও বলেন, টিকাদানের জন্য বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। এটা পর্যাপ্ত নয়। বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ গত বছরের মতোই রাখা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ জিডিপির দশমকি ৮৩ শতাংশ ছিল। এ বছরেও দশমিক ৮৩ শতাংশ রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আমরা দেখছি সেখানে সামান্য কিছু ভাতা ও বরাদ্দ বেড়েছে। কিন্তু সেখানে আগের মতোই সরকারি কর্মচারীদের পেনশন রয়েছে। এখানে পেনশন যতটা বেড়েছে, সামাজিক নিরাপত্তার আসল যে অংশ সেখানে নিট ততোটা বাড়েনি। সুতরাং এখানে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, বাজেট অর্থায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটা কাঠামোগত পরিবর্তন দেখানো হয়েছে। বিদেশি ঋণের কথা বলা হয়েছে। এটা ভালো হয়েছে। রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে যেসব নীতিমালা করা হয়েছে, সেখানে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। এটা ইতিবাচক। একইসঙ্গে এসএমইকে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হবে, এটাকে আমরা সমর্থন করছি।


আরও খবর



বাবার জন্য ভালোবাসা

প্রকাশিত:রবিবার ২০ জুন ২০21 | হালনাগাদ:রবিবার ২০ জুন ২০21 | ৫০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বাবা অভিভাবক, বন্ধু, সুরক্ষাদাতা, শিক্ষক এবং কখনও কখনও প্রিয় ব্যক্তিত্ব। সন্তানের মঙ্গলের জন্য তাঁরা কঠোর পরিশ্রম করেন, জলাঞ্জলি দেন নিজের আকাঙ্ক্ষা। বাবার এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা উদযাপন করতেই প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রোববার বিশ্বব্যাপী পালন করা হয় বাবা দিবস। এ বছর ২০ জুন, অর্থাৎ আজ বিশ্ব বাবা দিবস।

বিশেষ এই দিনে আপনি চাইলেই বাবার জন্য বিশেষ কিছু করতে পারেন, যা তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করবে। ভারতের জীবনধারা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের এক প্রতিবেদনে এমন কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আসুন, আমরা একবার চোখ বুলিয়ে নিই

সারা দিন বাবার সঙ্গে কাটান-

বাবা দিবস উদযাপনের অন্যতম সেরা উপায় হলো, এ দিনে তাঁর সঙ্গে সময় কাটানো। বাবাকে নিয়ে বাইরে ভ্রমণেও যেতে পারেন। বাবার সঙ্গে নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করতে পারেন। শুনতে পারেন তাঁর অনুভূতি।

বাবার জন্য বিশেষ রান্না-

এমন দিনে বাবার জন্য বিশেষ রান্না করুন। আপনি তো জানেন, বাবার কোন খাবার পছন্দ। সেই খাবারই তৈরি করুন এবং দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করুন।

বাবাকে উপহার দিন-

সারা জীবনই সন্তানের সব আবদার যথাসাধ্য পূরণের চেষ্টা করেছেন বাবা। বাবা দিবসে আপনি কি তাঁর জন্য সুন্দর জামা বা টি-শার্ট উপহার দিতে পারবেন না? এক জোড়া জুতা, ঘড়ি বা চশমাও উপহার দিতে পারেন। বাবা সন্তানের কাছ থেকে তেমন প্রত্যাশা না করলেও আপনার উপহার বাবাকে উজ্জীবিত করবে।

বাবার সঙ্গে প্রিয় সিনেমা দেখুন-

আপনি নিশ্চয়ই জানেন, বাবার প্রিয় সিনেমা কোনটি। বিশেষ এই দিনে আপনি তাঁর সঙ্গে সেই সিনেমাটি দেখতে পারেন। অথবা তাঁর প্রিয় কোনো টিভি শো দেখতে পারেন। এমনও হতে পারে, আপনিই একটি প্রিয় সিনেমা নির্বাচন করলেন এবং বাবার সঙ্গে বসে দেখলেন।

স্মৃতিচারণ করুন-

বাবার পাশে বসে বাবার হাত ধরে ফিরে যান সেই ছেলেবেলায়। এর পর ধীরে ধীরে জীবনের প্রিয় মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিন। আমরা নিশ্চিত, বাবার মন ভালো হয়ে যাবে।

ভবিষ্যতের ভাবনা ব্যক্ত করুন-

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাবার সঙ্গে ব্যক্ত করা কিছু কঠিন। কিন্তু আপনি যদি তা ভাগ করেন, বাবার ভেতরে বিশেষ অনুভূতি এনে দেবে। এর কারণ হচ্ছে, যখন আপনি নিজের ভবিষ্যৎ-ভাবনা ভাগ করবেন, তার মানে দাঁড়াবে বাবার কাছে আপনি খোলা মনের। বাবার পরামর্শ আপনার পাথেয়।

পৃথিবীর সব ঝড়-ঝঞ্ছা থেকে আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন যে মানুষটি, তিনি বাবা। বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা এমন একটি বিষয়, যেটি বলার জন্য কোনো বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না। তবুও পালন করতে পারেন একটি দিন একেবারে বাবাকে উৎসর্গ করে।


নিউজ ট্যাগ: বাবা দিবস

আরও খবর



৯০ কিলোমিটার গতিবেগে ভারতীয় ভূখণ্ড অতিক্রম করছে ইয়াস

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ মে ২০২১ | ১৩৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভারতের উড়িষ্যার বালেশ্বর শহরের উপর দিয়ে এগুচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়েছে ইয়াস-এর স্থলভাগে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া। দুপুরের পর স্থলভাগে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শেষ হবে।

বালেশ্বর অতিক্রম করে তা চলে যাবে ঝাড়খণ্ডের দিকে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড় বইছে।

এই মুহূর্তে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ ১৫৫ কিলোমিটার। ইয়াস-এর প্রভাবে উড়িষ্যা উপকূলে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে, সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইছে। গত ৬ ঘণ্টা ধরে ১৪ কিলোমিটার গতিবেগে এগোচ্ছে ইয়াস।

বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উড়িষ্যার বালেশ্বর, ভদ্রক, কেন্দ্রাপাড়া, জগৎসিংহপুরের মতো উপকূলবর্তী বিভিন্ন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অতি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ভারতের পশ্চিবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও। দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।

নিউজ ট্যাগ: ঘূর্ণিঝড় ইয়াস

আরও খবর