আজঃ মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

আসছে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নামতে পারে ১০ ডিগ্রিতে

প্রকাশিত:শনিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমের প্রভাবে গত কয়েকদিন সারা দেশে আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন; সঙ্গে ছিল কমবেশি বৃষ্টি। আর এর জের ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীত অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শীত আরও বাড়তে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের কোথাও কোথাও ১০ ডিগ্রির নিচে নামতে পারে তাপমাত্রা, বয়ে যেতে পারে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গতবছরের নভেম্বর মাসের চেয়ে এ বছরের নভেম্বর মাস অনেকটা উষ্ণ ছিল। যার কারণে শীত অনুভব হয়নি। ডিসেম্বর মাসেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা উষ্ণ থাকায় আগে যেমন শীত অনুভূত হয়েছে এবার সেটা হচ্ছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শুরুতেই শীত নামার কথা থাকলেও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তা দেরি হয়েছে। মেঘ কেটে গেলে দু-একদিনের মধ্যেই তাপমাত্রা কমে যাবে ১ থেকে ৩ ডিগ্রি। এ ছাড়া ভোরের দিকে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ারও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।


আরও খবর
সারা দেশে কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




লোকসান এড়াতে ভারত থেকে আলু আমদানি বন্ধ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ৯ দিন ধরে আলু আমদানি বন্ধ রয়েছে। দেশের বাজারে দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা ভারতীয় আলু আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বাজারে ভারতীয় আলুর চাহিদা কমে গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছেন। তাই গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে আলু আমদানি বন্ধ রেখেছি।

আতাউর নামের এক আলু আমদানিকারক বলেন, দেশি আলু এখন বাজারে বেশি। তাই ভারতীয় আলু বিক্রি কম। আমদানিতে কেজিপ্রতি ভারতীয় আলু খরচ হয় ২৫-২৮ টাকা। আর বাজারে এখন ২৫-৩০ টাকা কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে। এজন্য আমরা আলু আমদানি বন্ধ করে দিয়েছি।

সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সমির ঘোষ বলেন, অনুমতি পাওয়া আমদানিকারকরা মাত্র এক হাজার ১০৬ মেট্রিক টন ভারত থেকে আলু আমদানি করেছেন। সর্বশেষ আলু তারা ১০ ফেব্রুয়ারি আলু আমদানি করেন।

এর আগে ৩০ অক্টোবর আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। মেয়াদ ছিল ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। পরে আমদানিকারকদের আবেদনের ভিত্তিতে সময়সীমা আরও পনেরো দিন বাড়িয়ে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। পরে আবারও ১৫ ডিসেম্বর থেকে বন্দর দিয়ে আলু আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে নতুন করে আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।


আরও খবর
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আবারও বাড়লো এলপিজির দাম

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

আবারও বাড়ল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম। ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করেছে সরকার। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪৩৩ টাকা থেকে ৪১ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় নতুন দর ঘোষণা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), যা সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।

এর আগে জানুয়ারি মাসে এলপিজি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৪০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।

বিইআরসির ঘোষণায় বলা হয়, বেসরকারি এলপিজির রিটেইলার পয়েন্টে মূসকসহ প্রতি কেজির মূল্য ১২২ টাকা ৮৬ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির মূসকসহ প্রতি কেজির মূল্য ১১৯ টাকা ৪ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে। এদিকে মূসকসহ অটোগ্যাসের প্রতি লিটারের মূল্য টাকা ৬৭ টাকা ৬৮ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে।


আরও খবর
২৪ দিনে প্রবাসী আয় ১৮ হাজার কোটি টাকা

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




বিএসএমএমইউয়ে বোনম্যারো প্রতিস্থাপন শুরু

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বোনম্যারো প্রতিস্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথমবারের মতো এনামুল হক নামে এক ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে সফলভাবে বোনম্যারো প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্যান্য দেশের হাসপাতালগুলোতে যেখানে এই বোনম্যারো প্রতিস্থাপনে খরচ হয় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা, সেখানে বিএসএমএমইউয়ে খরচ হবে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ ব্লকে সেন্টার ফর ব্লাড, বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন অ্যান্ড স্টেম সেল থেরাপি সেন্টারে এ উপলক্ষ্যে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ এই বোনম্যারো প্রতিস্থাপনের পুরো প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারের বাসিন্দা ৬৩ বছরের এনামুল হক গত চার মাস আগে নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলোজি বিভাগ নিশ্চিত করে, এনামুল হক মাল্টিপোল মায়েলোমা বা জটিল রক্তের ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত।

এরপর হেমাটোলোজি বিভাগে তার চিকিৎসা শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে চিকিৎসকরা তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের সিদ্ধান্ত নেন। এরই ধারাবাহিকতায় নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ৭ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার এক পর্যায়ে তাকে অটোলোগ্যাস বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এরপর গত ১৭ জানুয়ারি রোগীর শরীর থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়। ওইদিনই রোগীর কন্ডিশনিং থেরাপি দেওয়া হয়। গত ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দিন শাহ রোগীর শরীরে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন করেন। ৩০ জানুয়ারি রোগীর নিউটোফিল রিকভারি হয়। ট্রান্সপ্লান্টেশনের ১৮ দিন পরে রোগীর শরীরে কোনো ধরনের জটিলতা দেখা যায়নি। যা চিকিৎসকরা স্বাভাবিক ও ইতিবাচক এবং বোনম্যারো সফলভাবে প্রয়োগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ ব্লকে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্থায়ীভাবে গত ১ জানুয়ারি সেন্টার ফর ব্লাড, বোনম্যারা ট্রান্সপ্লান্টেশন অ্যান্ড স্টেম সেল থেরাপি সেন্টার স্থাপন করা হয়। এই সেন্টারে প্রথমবারের মতো সফল বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন করা হয়।

এসময় অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ব্লাড, বোনম্যারা ট্রান্সপ্লান্টেশন অ্যান্ড স্টেম সেল থেরাপি সেন্টারে প্রথম রোগী হিসেবে মাত্র ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ভেদে এ ট্রান্সপ্লান্টেশনের খরচ ৬ লাখ টাকা থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। অন্যান্য দেশে এই ধরনের বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের খরচ হাসপাতাল ভেদে ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের রোগীদের যাতে বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে না হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। সরকারের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই সেন্টারে মাসে ৩ থেকে ৫টা বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন করা সম্ভব। আপাতত যে অবকাঠামো রয়েছে তাতে প্রতি মাসে একটি করে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে হেমাটোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাউদ্দিন শাহ এই ট্রান্সপ্লান্টেশনের কারিগড়ি বিষয় উপস্থাপন করেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, হেমাটোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজসহ বিভিন্ন স্তরের চিকিৎসক, মেডিক্যাল অফিসার, রেসিডেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ ট্যাগ: বিএসএমএমইউ

আরও খবর



বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ম্যানেজারস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:রবিবার ২৮ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৮ জানুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Image

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি. এর ম্যানেজারস কনফারেন্স শনিবার ব্যাংকের হেড অফিসের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোঃ হাবিবুর রহমান গাজী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি. এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শামীমা নার্গিস।

এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মোঃ এখলাছুর রহমান, মোঃ আবু হানিফ খান ও সুভাষ চন্দ্র সরকারসহ ব্যাংকের সকল ম্যানেজার ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



দেশে মোট ঋণের ৩১ শতাংশ বিশ্বব্যাংকের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে যে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে তার মধ্যে বিশ্বব্যাংক রয়েছে শীর্ষ স্থানে। বিশ্বব্যাংক ৫২ বছরে বাংলাদেশকে ঋণ দিয়েছে ২৪.৫৮৩ বিলিয়ন ডলার। যা শতাংশের হারে বাংলাদেশের মোট ঋণের ৩০.৮০ শতাংশ।

ঋণ ছাড়ের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তারা ঋণের অর্থছাড় করেছে ২১.৩৬৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ২৬.৭৭ শতাংশ।

তৃতীয় স্থানে থাকা জাপান বাংলাদেশকে এ পর্যন্ত ঋণ দিয়েছে ১৫.৩০৩ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ১৯.১৭ শতাংশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডির) দেওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই হিসাব পাওয়া গেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯৭১-৭২ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ৫২ বছরে বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশ ঋণ পেয়েছে ৭৯.৮২৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে গত অর্থবছর পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে ১৭.৪১৯ বিলিয়ন ডলার। আর গত জুন শেষে সরকারের বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬২.৪০৬ বিলিয়ন ডলার। ঋণের মাত্র সাড়ে ২০ শতাংশ ভারত, চীন ও রাশিয়া থেকে এসেছে। এ ক্ষেত্রে শীর্ষ তিনটি স্থানে রয়েছে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাপান।

চীন ঋণ ছাড়ের দিক থেকে রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। দেশটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৭.৯৮৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে, যা মোট ঋণের ১০.১ শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা রাশিয়া গত জুন পর্যন্ত ঋণ ছাড় করেছে ৬.৭৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের ঋণের ৮.৪৯ শতাংশ।

শীর্ষ পাঁচের পরের অবস্থানে থাকা দেশ ও সংস্থাগুলোর ঋণের পরিমাণ তুলনামূলক কম। ঋণ দেওয়ায় ষষ্ঠ স্থানে থাকা এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক (এআইআইবি) গত জুন পর্যন্ত ছাড় করেছে ১.৭৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ছাড়কৃত ঋণের ২.২৩ শতাংশ।

প্রতিবেশী ভারত ঋণ দেওয়ায় সপ্তম স্থানে রয়েছে। গত জুন পর্যন্ত দেশটি ছাড় করেছে ১.৬৬৪ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ছাড়কৃত ঋণের ২.৮ শতাংশ। আর অষ্টম স্থানে থাকা ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) গত জুন পর্যন্ত ছাড় করে ১.২০৮ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ছাড়কৃত ঋণের ১.৫১ শতাংশ। বাকি দেশগুলোর ঋণ এক বিলিয়ন ডলারের কম।

এদিকে বৈদেশিক ঋণ স্থিতির ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে বিশ্বব্যাংক। গত জুন পর্যন্ত এ সংস্থাটির ঋণ স্থিতির পরিমাণ ছিল ১৯.২৫৭ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ৩০.৮৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এডিবির গত জুন পর্যন্ত ঋণ স্থিতি দাঁড়ায় ১৪.৪২০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ২৩.১১ শতাংশ। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০.৪৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ১৬.৭২ শতাংশ।

শীর্ষ তিন উৎসর বেশির ভাগ ঋণই সহজ শর্তের। এর মধ্যে জাপান সরকার বাংলাদেশকে সবচেয়ে কম সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ দেয়। পরের অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রায় সব ঋণই সহজ শর্তে। তবে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার জাপান সুদের হার সামান্য বৃদ্ধি করেছে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির ঋণের সুদহারও আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশকে কিছু কঠিন শর্তের ঋণপ্রস্তাব করেছে সংস্থাটি দুটি। স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের সুদহার আরো কিছুটা বাড়বে বলেই প্রক্ষেপণ করেছে ইআরডি।

গত জুন পর্যন্ত চতুর্থ অবস্থানে থাকা চীনের ঋণ স্থিতি ছিল ৫.৫৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ঋণের ৮.৯৪ শতাংশ। পরের অবস্থানে থাকা রাশিয়ার গত জুন পর্যন্ত ঋণ স্থিতি দাঁড়ায় ৫.৯৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের ঋণের ৯.৬০ শতাংশ। এ দুই দেশের ঋণের শর্ত কঠিন এবং সুদহার অনেক বেশি। কঠিন শর্তের এসব ঋণ পরিশোধ নিয়ে চাপে রয়েছে বাংলাদেশ।

অপরদিকে নতুন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হিসেবে এআইআইবি বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়া বাড়াচ্ছে। গত জুন শেষে সংস্থাটির ঋণ স্থিতি দাঁড়ায় ১.৭৬১ বিলিয়ন ডলার, যা মোট বিদেশি ঋণের ২.৮২ শতাংশ। সপ্তম স্থানে থাকা ভারতের ঋণ স্থিতি ছিল গত জুন পর্যন্ত ১.৩০৭ বিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ঋণের ২.০৯ শতাংশ। আর অষ্টম স্থানে থাকা আইডিবির ঋণ স্থিতি গত জুন পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ৬৯০ মিলিয়ন ডলার, যা সরকারের মোট ঋণের ১.১১ শতাংশ। এ তিনটির মধ্যে এআইআইবি ও ভারত সহজ শর্তে ঋণ দিলেও আইডিবির ঋণের সুদহার বেশি হয় এবং পরিশোধ সময়ও কম পাওয়া যায়।

ঋণের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বাংলাদেশের পাশে উন্নয়ন সহযোগীদের বরাবরই বিশ্বব্যাংক এগিয়ে ছিল। তারা স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের সহযোগিতা করে আসছে। তবে এখন বিশ্বব্যাংক থেকে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে ঋণ পাওয়া কষ্টকর হবে। সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে। আবার সার্বিক বিবেচনায় আমাদের ঋণ পরিশোধেরও চাপ বাড়ছে, এসব বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যে প্রকল্পের আওতায় ঋণ আসছে সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।’


আরও খবর
২৪ দিনে প্রবাসী আয় ১৮ হাজার কোটি টাকা

রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪