আজঃ মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

বাগেরহাটে অগ্নিকান্ডে ৪টি দোকান ভস্মিভূত, অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ মে ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ মে ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

Image

বাগেরহাটে অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান পুড়ে ভস্মিভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ মে) ভোর রাতে সদর উপজেলার চুলকাটি বাজারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আতঙ্কে অন্তত ১০টি দোকানের মালামাল রাস্তায় বের করে আনা হয়। এ ঘটনা প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান, জনতা ডোর এন্ড ফার্নিচারের কাঠের গুদামঘর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। দ্রুত আগুন পাশের দোকান আল-বারাকাহ স্টীল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বিসমিল্লাহ হার্ডওয়ার এন্ড ইলেকটনিক্স, সাইদ টি স্টল. এম মুদি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে ২ যুবক খুন

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী আল-বারাকাহ স্টীল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর মালিক মোঃ বজলুর রহমান বলেন, তার দোকানে থাকা প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার এসএস ফাইভ, গ্লাস ছিল। সবকিছু হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

চা ও মুদি দোকানি আবু বক্কর বলেন, তার দোকান সম্পূর্ন পুড়ে যাওয়ায় প্রায় ৪ লক্ষাধীক টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

ফায়ার সার্ভিসের ফকিরহাট স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সামছুর রহমান বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় । ইলেকট্রিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বরগুনায় যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার তিন

তিনি বলেন, চুলকাটি বাজারের শতশত দোকান রয়েছে। যে পাশে আগুন লেগেছে সে এলাকায় প্রায় শতাধীক দোকান এবং একটি একটি ব্যাংক ভবন, কয়েকটি আবাসিক ভবন ছিল। এত ব্যপক প্রাণহানির সম্ভাবনা ছিল।


আরও খবর



আজ থেকে নতুন সূচিতে চলছে মেট্রোরেল

প্রকাশিত:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৯ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে আজ বুধবার থেকে আবার খুলছে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এদিন থেকে নতুন সময়সূচিতে অর্থাৎ ৮ ঘণ্টা অফিস করবেন সব প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা। পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, অফিসের সময় আবার সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত হবে। এর সঙ্গে মিল রেখে মেট্রেরেলের সূচিতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। পরিবর্তন হয়েছে মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময়।

সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, ৬ জুন সরকার থেকে অফিসের সময়সূচি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত করা হয়েছে। এই সময়সূচি ঈদের পর ১৯ জুন থেকে কার্যকর হবে। সেজন্য মেট্রোরেলের পিক ও অফ পিক আওয়ারের সময়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন সূচি অনুযায়ী, উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আগের মতো স্পেশাল অফ পিক থাকবে। এই সময় হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট। আর সকাল ৭টা ৩১ মিনিট থেকে সকাল ১১টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এই সময় হেডওয়ে হবে ৮ মিনিট।

সকাল ১১টা ৩৭ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত অফ পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে হবে ১২ মিনিট। আবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে হবে ৮ মিনিট। রাত ৮টা ৩৩ মিনিট থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এ সময় মেট্রোরেলের হেডওয়ে হবে ১০ মিনিট।

তিনি আরও জানান, মতিঝিল থেকে উত্তরা উত্তর পর্যন্ত সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এ সময় হেডওয়ে ১০ মিনিট। সকাল ৮ টা ১ মিনিট থেকে বেলা ১২টা ৮ পর্যন্ত পিক আওয়ার। এ সময় হেডওয়ে হবে ৮ মিনিট। বেলা ১২টা ৯ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৪ মিনিট পর্যন্ত স্পেশাল অফ পিক। এ সময় হেডওয়ে হবে ১২ মিনিট।


আরও খবর



কোটা আন্দোলন: ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ ও কোটা সংস্কারের দাবিসহ কয়েকটি দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনো বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীবৃন্দ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়- এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা চারটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কার করতে হবে, তবে কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধাকোটায় শূন্যপদ পূরণ করতে হবে; ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় সব ধরনের সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় একবার কোটা ব্যবহার করতে পারবে, এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে; প্রতি জনশুমারির সঙ্গে অর্থনৈতিক সমীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যমান কোটার পুনর্মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা সারা বাংলা খবর দে, কোটাপদ্ধতির কবর দে, দেশটা নয় পাকিস্তান, কোটার হোক অবসান, মেধাবীদের কান্না, আর না আর না, কোটা-বৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক, মেধাবীদের যাচাই করো, কোটাপদ্ধতি বাতিল করো, মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় কোটাপদ্ধতির ঠাঁই নাই, ১৮-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, বৈষম্যর বিরুদ্ধে লড়াই করো একসাথে, ঝড়বৃষ্টি আঁধার রাতে, আমরা আছি রাজপথে ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ ছাড়া বিক্ষোভ চলাকালে বিখ্যাত কবিদের বিভিন্ন প্রতিবাদী কবিতা ও সংগ্রামী গান পরিবেশন করা হয়।

বিক্ষোভ কর্মসূচির মুখপাত্র ও রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সচিব আমানুল্লাহ আমান বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। আমরা হাইকোর্টের বিচারকদের মতো জ্ঞান রাখি না। তবে আমরা এটা জানি, এক শতাংশের কম জনসংখ্যার জন্য ৩০ শতাংশ কোটা অন্যায্য। এটা বুঝতে পৃথিবীর কোনো আইন জানা লাগে না। আমাদের দাবিগুলো স্পষ্ট, আমাদের আইন বুঝার দরকার নেই। দাবি কীভাবে আদায় করতে হয় তা বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলন চলমান থাকবে।

আন্দোলনে আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম বলেন, সরকারি চাকরিতে কোনো প্রকার কোটা রাখা যাবে না। আমরা কোটা দিয়ে কামলা না, মেধা দিয়ে আমলা চাই। আমাদের এ সোনার বাংলায় কোটা ব্যবস্থার ঠাঁই নেই। দাবি আদায় না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে।

গত ৫ জুন সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্য কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ রায় দেন।


আরও খবর



অভিযানের আগেই সরানো হয় সাদিক অ্যাগ্রোর গরু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ছাগলকাণ্ডের জন্য আলোচিত মোহাম্মদপুর এলাকার সাদিক অ্যাগ্রো ফার্ম’–এ উচ্ছেদ অভিযান চালাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি বলছে, সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেড অবৈধভাবে খাল ও সড়কের জায়গা দখল করে আছে।

এদিকে অভিযানের খবরে সাদিক অ্যাগ্রো থেকে আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে গরু। গত রাত থেকেই গরু সরিয়ে নেওয়া শুরু করেন খামারের মালিক। 

আজ সকাল ১০টার দিক থেকে সাদিক অ্যাগ্রোর সামনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তায় এবং খালের জায়গায় থাকা বেশ কিছু স্থাপনা ইতিমধ্যেই সরিয়ে নিয়েছে তারা। এসব জায়গায় রাখা বেশ কিছু গরু-ছাগল সেখানে নেই। গত রাতেই এসব পশুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা রকিবুল ইসলাম জানান, অভিযান হবে এই খবর শোনার পর থেকেই সাদিক অ্যাগ্রোর বেশ কিছু গরু-ছাগল গত রাতে সরিয়ে নিতে দেখেছি।

এ ছাড়া রাস্তার ওপরে তাদের প্যান্ডেল করা ছিল, অস্থায়ী স্থাপনা ছিল, সেগুলো তারা সরিয়ে নিয়েছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, এখানে যে একটা খাল ছিল; অবৈধ দখলের কারণে এটি আর দেখা যায় না। এটি অনেকটা ভরাট হয়ে গেছে। অভিযান চলবে এমন খবরে সাদিক অ্যাগ্রোসহ আশপাশের অস্থায়ী অন্যান্য স্থাপনাও নিজেরা কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে।

গত কোরবানির ঈদের আগ থেকে সাদিক অ্যাগ্রো কর্তৃপক্ষ রাস্তাসহ আশপাশে গরু বিক্রির প্যান্ডেলসহ অস্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলেছিল। সেগুলো তারা সরিয়ে নিচ্ছে।

গরু, স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া বা দখলকৃত জায়গায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি সাদিক অ্যাগ্রোর কেউ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সাদিক অ্যাগ্রো খালের জায়গা দখল করে খামার গড়ে তুলেছে। এর আগে তাদের কয়েকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



বিপদ আঁচ করতে পেরে পালাতে চেয়েছিলেন এমপি আনার

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জীব গার্ডেনের ওই ফ্ল্যাটে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে বিপদ আঁচ করতে পেরেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় অভিযুক্ত ফয়সাল আলী সাহাজি পেছন থেকে তাকে টেনে নিয়ে ক্লোরোফর্ম ভেজানো রুমাল তাঁর মুখে চেপে ধরে। তারপরই আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়াসহ অন্যরা তাকে হত্যা করে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এমপি আনারের মেয়ের দায়ের করা অপহরণ মামলার তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাফুজুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফয়সাল এমপি আনারকে তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের কলকাতার বাসা থেকে প্রলোভন দেখিয়ে বের করে এনেছিলেন। এরপর দুজনে একটা গাড়িতে উঠে অন্য জায়গায় চলে যায়। সেখানে আমানুল্লাহ তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং তারা অন্য একটি গাড়িতে উঠে। এরপর তারা তিনজন নিউ টাউনের ফ্ল্যাটে যান, যেখানে আরেক আসামি শিলাস্তি রহমান আগে থেকেই ছিলেন।

তদন্তকারীরা জানান, শিলাস্তি ট্রিপলেক্স ওই অ্যাপার্টমেন্টের উপরের তলায় গেলে শিমুল ও অন্য অভিযুক্তরা আনারকে একটি কক্ষে নিয়ে যায়।

ক্লোরোফর্মের প্রভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার আগে অভিযুক্তের সঙ্গে এমপি আনারের ধস্তাধস্তিও হয়। এরপর অভিযুক্তরা আনারকে হত্যা করে, তারপর বিবস্ত্র করে মরদেহ চেয়ারে বাঁধে। পরে লাশ টুকরো টুকরো করা হয়।

তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যার জন্য ফয়সাল ও মোস্তাফিজুরকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মূল পরিকল্পনাকারী আমানুল্লাহ ও আক্তারুজ্জামান।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যান ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। সেখানেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি। ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গের বরানগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন তার বন্ধু বরানগরের বাসিন্দা গোপাল বিশ্বাস। ২০ মে কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে আনারকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করার তথ্য জানায় ভারতীয় পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ঘাতকদের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, ১৩ মে দুপুরেই আনারকে হত্যা করা হয়েছে।


আরও খবর



স্বরূপকাঠিতে চাচাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন ভাতিজা

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
হযরত আলী হিরু, স্বরূপকাঠি

Image

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে জমিজমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ চাচাকে ইয়াবা দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নিজেরাই ফেঁসে গেলেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের জরুরবাড়ী বাজারে।

এ ঘটনার মুলহোতা পাশ্ববর্তী বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের মো. হাসান (৩৭) নামের একজনকে গ্রেফতার করে রবিবার সকালে পিরোজপুর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মামলা সুত্রে ও ভুক্তভোগী সিদ্দিকের কাছ থেকে জানা যায়, বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার গ্রামের দোকানী সিদ্দিক তালুকদারের (৫৯) সাথে তার ভাতিজা মো. হাসান ও তাদের আত্নীয়দের জমিজমা বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় সিদ্দিকের পক্ষে রায় আসবে এটা অনুমান করেতে পেরে হাসান তার আত্নীয় স্বজনদের নিয়ে সিদ্দিককে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্রের ছক তৈরি করেন। ছক অনুযায়ী শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে সিদ্দিক দোকান বন্ধ করে রাস্তা হেটে বাড়ি যাওয়ার সময় তাকে হাসান সহ হাসানের আত্নীয় আল আমিন (৪০), রহিম তালুকদার (৪৫), সফিকুল ইসলাম (২৮), আবুল হোসেন (২৫) ও মো. শাহিন (২৫) মিলে সিদ্দিককে একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিকসায় তুলে নেয়। অটোতে তুলে তারা সিদ্দিকে বেদম মারপিট করে। একসময় তারা সিদ্দিককে নিয়ে বানারীপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী স্বরূপকাঠি উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের জরুরবাড়ী বাজারের বিজের কাছে নিয়ে আসে। সেখানে এসে তাকে অটো থেকে নামিয়ে তার কোমরে লুঙ্গিতে একটি কৌটা গুজে দিয়ে মাদক বিক্রেতা বলে ডাকচিৎকার দিয়ে লোকজনকে জড়ো করে। একপর্যায়ে হাসান তার মোবাইল দিয়ে স্বরূপকাঠি থানায় ফোন দিয়ে মাদক বিক্রেতাকে আটকের খবর জানায়।

খবর পেয়ে নেছারাবাদ থানার এস আই গোলাম হাফিজ ও এএসআই মো. ইয়াছিন ঘটনাস্থলে গিয়ে সিদ্দিককে আটক করে। এসময় তার কোমরে গুজে থাকা কৌটা তল্লাসী করে ৯০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে সিদ্দিকের দেয়া তথ্যনুযায়ী পুলিশের কিছুটা সন্দেহ হলে পুলিশ সিদ্দিকের সাথে হাসানকেও থানায় নিয়ে আসে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্দিক জানায় মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জেলে তাকে হাসান পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

পরদিন শনিবার পুলিশ আটককৃতদের এলাকায় এবং বানারীপাড়া থানায় যোগাযোগ করে সিদ্দিকের সাথে হাসানদের বিরোধের সত্যতা খুঁজে পায়। এক পর্যায়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাসান তার ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করে। পরে শনিবার রাতে এস আই মো. গোলাম হাফেজ বাদী হয়ে নেছারাবাদ থানায় ৬ জনকে নামীয় ও আরো ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। সত্য ঘটনা উদঘাটনের সংবাদ পেয়েই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামীরা আত্মগোপন করে।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি মো. গোলাম ছরোয়ার জানান, সিদ্দিক তালুকদার ও হাসানকে আটকের পর সিদ্দিক জানায় তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। পরে আটককৃতদের এলাকায় তদন্ত করে জানতে পারি মামলা নিয়ে বিরোধের জেরে সিদ্দিক তালুকদারকে মাদক মালায় ফাঁসাতে হাসান এ নাটক তৈরি করেছিলো। এ ঘটনায় মামলা দায়ের শেষে হাসানকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবার নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। জব্দকৃত ইয়াবার মূল্য আনুমানিক ২৭ হাজার টাকা বলে তিনি জানান।


আরও খবর