আজঃ মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

বাংলাদেশে বন্যার কারণ নিয়ে কী বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা?

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ জুন 20২২ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

যে প্রবল বৃষ্টিপাত বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে তার সম্ভাব্য কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমী বৃষ্টিপাত যদিও প্রাকৃতিক বায়ুমণ্ডলীয় প্যাটার্ন অনুসরণ করে, তবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এটি আরও অনিশ্চিত ও প্রবল হয়ে উঠছে। বুধবার (২২ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে গত সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টিপাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা কতটুকু ছিল, তা নির্ণয়ে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, উষ্ণ বাতাসে মেঘ আরও বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আরও বেশি বৃষ্টিপাত ঘটায়।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজির জলবায়ু বিজ্ঞানী রক্সি ম্যাথিউ কোল বলেন, বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী মৌসুমী বায়ু অনেক বেশি আর্দ্রতা বহন করতে পারে। আমরা এখন যে বিপুল বৃষ্টিপাত দেখছি, তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষা মৌসুম সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এতে এল নিনো-লা নিনা আবহাওয়া চক্র, ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোলসহ মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলের একাধিক ওভারল্যাপিং প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়। এই সিস্টেমগুলো বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে শক্তিশালী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বায়ু প্রবাহিত করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলোতে মৌসুমী বায়ুর ধরন বদলে গেছে। কারণ ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা কমপক্ষে ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে।

কোল বলেন, বর্ষা মৌসুমে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে আমরা অনিয়মিত বিরতিতে সংক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ শুকনো মৌসুম দেখতে পাচ্ছি। যখন বৃষ্টি হচ্ছে, এটি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে সমস্ত আর্দ্রতা ঢেলে দিচ্ছে।

রয়টাসের্র তথ্যমতে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বন্যায় অন্তত ৯৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবারও দেশের সামরিক বাহিনী ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি দুর্গতদের মধ্যে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিয়েছে। এই দুর্যোগে অন্তত ৬৯ জন মারা গেছেন বলে দাবি করেছে বার্তা সংস্থাটি, যদিও বাংলাদেশের সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩৬ জন। গত সপ্তাহের ভারী বর্ষণে বাংলাদেশের নদীগুলোতে পানি উপচে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর কিছু দিন আগে প্রতিবেশী ভারতের আসাম রাজ্যেও একই ধরনের বৃষ্টি-সৃষ্ট বন্যা দেখা দেয়, যাতে কমপক্ষে ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে একটি বলে বিবেচনা করা হয় বাংলাদেশকে। বিশ্বব্যাংক ইনস্টিটিউটের ২০১৫ সালের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রতি বছর এ দেশের প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। এই দুর্যোগ দেশের কৃষি, অবকাঠামো ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।

পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ এবং কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞানী অ্যান্ডারস লেভারম্যান বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত না হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বেশি বৃষ্টিপাত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের প্রয়োজন অবিরাম বৃষ্টিপাত, যেমনটি অতীতে হতো। কিন্তু এখন তারা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের হুমকির সম্মুখীন।


আরও খবর



কোটা আন্দোলনকারী জবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

Image

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তবে কারো নাম না উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর কোতয়ালী থানায় এ মামলা করেন থানার এসআই সঞ্জয় কুমার দাস। এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শান্ত ইসলাম মল্লিক মামলার এহজার গ্রহণ করে প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিরের জন্য আগামী ১৪ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সিএমএম কোর্টের মেইন গেইটের সামনে পাকা রাস্তা উপর অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা ঘটনাস্থলে বে-আইনীভাবে দলবদ্ধ হয়ে দেশী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাংঙ্গা করে পথচারীসহ কতিপয় ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে রক্তাক্ত জখমসহ গুলি করে। এসময় পলাতক অজ্ঞাতনামা দৃষ্কৃতিকারীরা পার্কিং করা কতিপয় গাড়ি ভাংচুর ও ক্ষতিসাধন করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি আইনের  ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪২৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এবিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ১৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, যুগ এখন উল্টো হয়ে গেছে। সত্য মিথ্যা হয়েছে গেছে, আর মিথ্যা সত্য হয়ে গেছে। যৌক্তিক আন্দোলনে আমার ভাই বোনেরা গুলি খেল। আবার এ ঘটনায় উল্টো আমরা শিক্ষার্থীরাই মামলা খেলাম। এ ঘটনা জাতি দেখেছে। কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা।

এদিকে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জবি থেকে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী লাঠিসোঁটা নিয়ে রায়সাহেব বাজার অতিক্রম করার সময় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের একজন শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ হন।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ হওয়া ৪ জন হলেন- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ ব্যচের মার্কেটিং বিভাগের এর শিক্ষার্থী অনিক, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফেরদৌস জামান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৬ ব্যাচের এইচ এম নাসিম, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৮ ব্যাচের মেহেদী হাসান প্রোভা ও কবি নজরুল কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী হাসিব।


আরও খবর
আরও ৩ দিনের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




পাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর: ছাত্রলীগ নেতাকে হল ছাড়ার নির্দেশ

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মামুন হোসেন, পাবনা

Image

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত সেই ছাত্রলীগ নেতাকে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে হল প্রশাসন। সোমবার (১৫ জুলাই) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম রাসেল হোসেন রিয়াদ, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে অবস্থানরত ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাসেল হাসান রিয়াদ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৪০৭নং রুমে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করে আসছেন। সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার সময় সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম কিবরিয়ার ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় মো. রাসেল হোসেন রিয়াদ জড়িত থাকায় তাকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে হলত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।

প্রসঙ্গত, রোববার (১৪ জুলাই) রাত ৩টায় হলের রিডিং রুম থেকে পড়াশোনা করে সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী গোলাম কিবরিয়া তার রুমে যান। এরপর রুমের বাইরে গিয়ে পাঁচ মিনিট পরে রুমে এলে দেখেন রুমের দরজা বন্ধ। এরপর দরজা খোলার জন্য দরজায় আঘাত করতে থাকলে এক পর্যায়ে রুমের দরজা খুলে রাসেল হোসেন রিয়াদ তার দিকে তেড়ে আসেন। তখন রুমের সামনে থাকা জুতা তুলে নিয়ে কিবরিয়াকে হাত এবং জুতা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে কিবরিয়ার নাক ফেটে রক্ত বের হলে তিনি দৌড়ে ৩০৪ নম্বর রুমে চলে আসেন। এ সময় রাসেল তার ফোনও ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে অসুস্থ কিবরিয়াকে তার সহপাঠীরা চিকিৎসার জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।


আরও খবর



রোগীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিক আটক

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মামুন হোসেন, পাবনা

Image

পাবনায় নারী রোগীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ জুলাই) বিকেলে সদরের নিউমেডিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তাদের আটক করা হয়। আজ রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

আটককৃতরা হলেন- নিউমেডিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পাবনা শহরের শালগাড়িয়া ইংলিশ রোডের প্রয়াত ফরমান আলীর ছেলে জীবন আলী এবং অভিযুক্ত চিকিৎসক শহরের শালগাড়িয়ার প্রয়াত সুবোদ কুমার সরকারের ছেলে ডা. সোভন সরকার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গে নিউমেডিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য যান। ওই নারীকে নির্ধারিত কক্ষে নিয়ে নারী সহকারীকে দিয়ে তলপেটে জেল মেখে প্রস্তুত করা হয়। এ সময় কৌশলে ওই নারী সহকারীকে বাহিরে পাঠিয়ে রোগীর যৌনাঙ্গে হাত দিয়ে যৌন উত্তেজনামূলক কথাবার্তা বলেন। সঙ্গে সঙ্গে রোগী বাহিরে এসে বিষয়টি তার স্বামীকে জানালে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পরে রোগী ও তার স্বামীকে বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীরা পুলিশের আশ্রয় নেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আজ রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।


আরও খবর



রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন সুমাত্রা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ভাই নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- শাফিন (২১) ও রাফি (১৬)।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শাফিন ও রাফি মোটরসাইকেলে করে ইসিবি চত্বর থেকে কালসী যাচ্ছিল। এর মধ্যে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন সুমাত্রা ফিলিং স্টেশন পৌঁছালে একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এত করে দুই ভাই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে শাফিন মারা যায় এবং শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাফি মারা যায়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ট্রাক এবং চালককে আটক করা যায়নি। ঘটনার পরপর চালক ট্রাক নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর নিহতদের পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া তাদের মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিহতদের চাচা মনির হোসেন জানান, নিহতদের বাসা মিরপুর বাউনিয়াবাঁধ এলাকায়। রাতে শাফিন ও তার ছোট ভাই রাফি মোটরসাইকেল চালিয়ে কালশী যাচ্ছিলেন মোটরসাইকেলে তেল আনতে। ইসিবি চত্বর দিয়ে কালশী যাওয়ার পথে একটি মাটির ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাদের বাবার নাম জহিরুল ইসলাম পনির। তাদের মা জর্ডান প্রবাসী। তাদের শুধু দুটি ছেলে ছিল। শাফিন ডেলিভারিম্যানের চাকরি করতেন আর রাফি গাড়ি চালক ছিল। দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল শাফিন।


আরও খবর



কোটা আন্দোলনে নিহত বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

কোটাবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বোরোবি) অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদের (২৪) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) সকাল ৯টায় রংপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে জাফরপাড়া মাদরাসা মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আবু সাঈদ। জানাজায় ইমামতি করেন আবু সাঈদের আত্মীয় মো. সিয়াম মিয়া।

এ সময় মানুষের ঢল নামে। এর আগে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে আবু সাঈদের মরদেহ তার গ্রামে এসে পৌঁছে। মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শোক আর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। সেখানে অপেক্ষমাণ ছিলেন শত শত মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবু সাঈদের বাবা মকবুল হো‌সেন পেশায় একজন দিনমজুর। অর্থাভাবে কোনো ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করাতে পারেননি তিনি। আবু সাঈদ ছোট থেকেই ছিল অত্যন্ত মেধাবী। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল সাঈদ। তাকে ঘিরে আকাশসম স্বপ্ন ছিল দরিদ্র মা-বাবার।

আবু সাঈদকে হারিয়ে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে পরিবারটির। কারণ সাঈদ তার নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া করে এতদূর পর্যন্ত এসেছিলেন। মেধা ও আচরণে গ্রামে সবার প্রিয় ছিল সাঈদ। সেই ছেলেকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা মনোয়ারা বেগম।

জানা গেছে, ছোট থেকেই আবু সাঈদ ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। তার ব্যবহারে তার প্রতি সবাই মুগ্ধ ছিল। তিনি স্থানীয় জুনুদের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। পরে এলাকার খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জি‌পিএ-৫ পে‌য়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর রংপুর সরকা‌রি কলে‌জ থেকেও এইচএসসিতে জি‌পিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে বেগম রো‌কেয়া‌ বিশ্ববিদ্যাল‌য়ে ইং‌রে‌জি বিভাগে ভ‌র্তি হন আবু সাঈদ। বেঁচে থাকলে আবু সাঈদ জীবনে অনেক বড় হতেন এবং পরিবারসহ এলাকার জন্য যথেষ্ট অবদান রাখতেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের লালবাগ এলাকায় থেকে ক্যাম্পাসের দিকে যান। এরপর ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট, টিয়ার শেলসহ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘর্ষে মিছিলের সম্মুখ থেকে বুক পেতে দেওয়া আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে বেরোবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন আবু সাঈদ। এই আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন তিনি। এ কারণে মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ইউনুস আলী বলেন, এক শিক্ষার্থীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এ ছাড়া আহত অবস্থায় আরও অনেকেই এসেছে। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে নিহত শিক্ষার্থী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন।


আরও খবর