আজঃ মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

প্রকাশিত:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২২ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নাজনীন শিকদার (দোহার-নবাবগঞ্জ)

Image

ঢাকার দোহার উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধার লিজকৃত জমি দখলের চেষ্টা ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার নারিশা মৌজার ২২নং খতিয়ানের ১৩৮ নং এস, এ দাগের এবং ১২৬, ২৫৪ ও ২৫৫ আর, এস এর দাগের ৫১ শতাংশ জমি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলীল সবুজের নামে লিজ থাকার পরেও স্থানীয় লুৎফর রহমান ও তার ছেলে রাহাত বেপারী, আব্দুস সালাম ওরফে সেলিম ও তার ছেলে নাদিমুল ইসলাম ও তাদের আত্মীয় আব্দুর রউফের চার ছেলে মো. আমিন, হাসান আল মাহমুদ লিটন, আবু সাঈদ, আবু বকর (আবুল কালাম) এর ছেলে সামিউ সম্মিলিতভাবে সরকারি সাইনবোর্ড ভেঙে বাঁশের খুটি দিয়ে ঘর তুলার চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন সময়ে জাল দলিল ও জাল নামজারি তৈরি করে উক্ত জমি দখলের চেষ্টা করে।

বুধবার (২২ মে) বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলীল সবুজ বলেন, আমিন গং এরা দীর্ঘ সময় ধরে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। বিভিন্নভাবে আমাকে ও আমার পরিবারের উপর জুলুম, লাঞ্ছনা ও অত্যাচার করে আসছে। গত ২৯ এপ্রিল নারিশা বাজারে আমাকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজসহ মেরে ফেলার চেষ্টা করে, তখন স্থানীয়রা তা প্রতিহত করে। পরে আমি এবিষয়ে দোহার থানায় অভিযোগ করি। বিগত সময়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সুপারিসক্রমে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার আমাকে ৫১ (একান্ন) শতাংশ জমি লিজ দেয়, সেখানেও আমাকে যেতে দেয়নি এই সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুরা। তারপর গত ৮ মে আমার সেই জমিতে থাকা সরকারি সাইনবোর্ড ভেঙ্গে বাঁশ দিয়ে ঘর তুলে।

তিনি বলেন, এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমার লিখিত পেয়ে পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন খান ২২/৭৭ নথিভুক্ত ফাইলটি নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইতোপূর্বে দোহার সদর মেঘুলা ভূমি অফিসার মো. মিজানুর রহমান তদন্ত করেন।

হামলার বিষয়ে ফুলতলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জসীম জানান, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তার উপর হামলা চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায় যে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলীল সবুজ ১৯৭১ সালে বিএলএফ মুজিব বাহিনী ভারতের আসাম রাজ্যের হাফলং এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় চর বাঁউশিয়ায় শহীদ কমান্ডার একেএম নজরুল ইসলাম কিরনের সাথে সম্মিলিতভাবে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিকায় তিনি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ছাত্র ছিলেন। স্বাধীনতার পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও স্বাধীনতার চেতনা উজ্জিবিত রাখার লক্ষ্যে কাগজে কলমের লেখক ও গবেষক।


আরও খবর



ঘূর্ণিঝড় রেমাল: ঝালকাঠিতে মৎস্য কৃষি বিভাগে ক্ষতির পরিমান ৮১ কোটি টাকা

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

Image

ঝালকাঠি জেলায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে শহরে ৬৪ ঘন্টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়নি। জেলায় বেড়িবাঁধ, কৃষি ও মৎস্য বিভাগের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে জেলার ঝালকাঠি কাঠিালিয়া রাজাপুর উপজেলার মোট ৭০ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও এ পর্যন্ত জেলার কৃষি বিভাগে ৭১ কোটি টাকা এবং মৎস্য বিভাগে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। ক্ষয় ক্ষতির পরিমান ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইলের সকল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের সূত্র জানায়, ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ১১ কিলোমিটার, রাজাপুর উপজেলায় ১৫০ মিটার এবং কাঠালিয়া উপজেলায় ৪ কিলো মিটার বেড়ি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এই ক্ষয় ক্ষতির হিসেবে টাকার পরিমান কত তা জানাতে পারেনি পানি উন্নয়ন বিভাগ। সূত্র মতে জেলার বাঁধ সংস্কারে গত অর্থ বছরে কোন বরাদ্দ পাওয়া জায়নি। চলতি অর্থ বছরেও এখন পর্যন্ত বেড়ি বাঁধ সংস্কার বা নির্মানে কোন বরাদ্দ না এলেও নদী তীর সংরক্ষণে ৩ কোট টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। যদি চাহিদা ছিল ১৬৫ কোটি টাকা।  তবে নজিরবিহীন জলোচ্ছাসের কারণে জেলার নদী ভাঙ্গনও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম নিলয় পাশা জানান, জেলার বেড়ি বাঁধের সমিক্ষা চলমান। তবে রেমালে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে চলমান সমিক্ষায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে। রাজাপুর কাঠালিয়া নদী ভাঙ্গন এলাকার সমিক্ষা জুন মাসে শেষ হবে। এরপর প্রকল্প প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হবে।

ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সূত্র অনুযায়ি এ ঘূর্ণিঝড়ে পানিয়ে তলিয়ে মোট ক্ষয় ক্ষতির পরিমান ৭১ কোটি টাকা। এরমধ্যে সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে রোপা আমনসহ বীজতলা ৭ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমির। এছাড়াও আখ, চিনাবাদাম, তিল, মরিচ, হলুদ, পেপে, কলা, পান, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফসলের অধিকাংশ বিনষ্ট হয়েছে।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ি অতিবৃষ্টি বণ্যা ও প্রবল জোয়ারের কারণে ৩ হাজার ৩৬১ টি পুকুর, ১৫৯ টি ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। এতে মাছ ও পোনাসহ চাষিদের ক্ষতির পরিমান ৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, আমরা প্রাথমিক ভাবে এই ক্ষতির পরিমার নিরুপন করে দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই ক্ষতি পোষাতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়াতা দিবে।

এদিক ঝালকাঠিতে রেমালের আঘাতের আগে থেকেই বিদ্যুৎ সরবরা বন্ধ হয়ে যায়। ঘূণিঝড়ে বিদ্যুত বিভাগের ক্ষয় ক্ষতির কারণে গাছপালা ও খুটি পরে যাওয়ায় জাতীয় গ্রীড থেকে ঝালকাঠি জেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।


আরও খবর



সোনা-হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে বছরে ৯১ হাজার কোটি টাকা পাচার

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

সোনা ও হীরা চোরাচালানের মাধ্যমে প্রতি বছর দেশ থেকে ৯১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বেশি পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস)। এই টাকা হুন্ডির মাধ্যমে চোরাকারবারিরা বিদেশে পাচার করে বলে জানায় সংগঠনটি। সোমবার (৩ জুন) সকালে বাজুসের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাজুসের উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেল, বাজুস কার্যনির্বাহী কামিটির সহ-সভাপতি ও বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন অ্যান-স্মাগলিং অ্যান্ড ল এনফোর্সমেন্টের চেয়ারম্যান মো. রিপনুল হাসান, সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান, কার্যানির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন অ্যান-স্মাগলিং অ্যান্ড ল এনফোর্সমেন্টের চেয়ারম্যান মো. রিপনুল হাসান বলেন, প্রতিদিন দেশের জল, স্থল ও আকাশপথে কমপক্ষে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার অবৈধ সোনার অলংকার, সোনার বার, ব্যবহৃত পুরোনো জুয়েলারি (যা ভাঙারি হিসেবে বিবেচিত হয়) ও হীরার অলংকার (ডায়মন্ড জুয়েলারি) চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে। বছর শেষে যার পরিমাণ প্রায় ৯১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তথ্য অনুযায়ী, যদি বৈধ পথে এসব সোনা আমদানি করা হতো, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকে ২২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ জমা পড়তো। এ থেকে সরকার রাজস্ব পেতো প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

এসময় বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারসহ বৈদেশিক মুদ্রার দাম বৃদ্ধি এবং বেপরোয়া চোরাচালানের কারণে বহুমুখী সংকটে পড়েছে দেশের জুয়েলারি শিল্প। এ পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের পাশাপাশি ৭ দফা সুপারিশ করে বাজুস।

ঢাকা কাস্টমসের তথ্যমতে, শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমেই ২০২০ সালে ২ দশমিক ৭৭৫ টন, ২০২১ সালে ২৫ দশমিক ৬৮৯ টন, ২০২২ সালে ৩৫ দশমিক ৭৩৩ টন এবং ২০২৩ সালে ৩১ দশমিক ৪৬৮ টন সোনার বার ব্যাগেজ রুলের আওতায় আমদানি হয়েছে।

এছাড়া, ২০২০ থেকে ২০২২ সালে শিল্পে ব্যবহারের জন্য ৪টি চালানে ২ কেজি ১৬০ গ্রাম হীরা আমদানি করা হয়েছে। তবে কোনো হীরার অলঙ্কার আমদানি হয়নি। গত ১৯ বছরে যত হীরা আমদানি হয়েছে, তার ৮৭ শতাংশই আনা হয়েছে ভারত থেকে। ভারতের গুজরাটের সুরাটে বিশ্বের ৬৫ শতাংশের বেশি হীরা কাটিং ও পলিশিং করা হয়। খুব সহজে বহন করা যায় বলে দেশটি থেকে অবৈধভাবে হীরা আসছে বলে ধারণা অনেকেরই।


আরও খবর



হামাসকে পরাজিত করা সম্ভব নয়: ইসরাইলি বাহিনী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে নির্মূল করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল হাগারি। বুধবার (১৯ জুন) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটি বলেন। খবর ডেইলি সাবাহর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আট মাসের বেশি সময় ধরে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। তবে এখনো তারা গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করতে পারেনি। বরং হামাস উৎখাত করতে গিয়ে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ মেরেছে ইসরাইল।

এ প্রসঙ্গে ইসরাইল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র হাগারি বলেন, হামাস একটি মতাদর্শ। একটি মতাদর্শ নির্মূল করা সম্ভব নয়। আমরা হামাসকে শেষ করে দিতে যাচ্ছিএটা বলা মানে হলো মানুষের চোখে ধুলা দেওয়া। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে শেষ পর্যন্ত হামাস থাকবে।

এদিকে হাগারির এই বক্তব্য প্রত্যাখান করেছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা হামাসের সামরিক ও সরকারি সক্ষমতা ধ্বংস করাকে যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীও (আইডিএফ) এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর বাইরে যেকোনো দাবি অপ্রাসঙ্গিক।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। এছাড়াও আহত হয়েছেন ৮৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।


আরও খবর



আনার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে অনেকেই গ্রেপ্তার হতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হলে অনেকেই গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার (১০ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনার হত্যাকাণ্ডে দুটি মামলা হয়েছে। একটি ভারতে, আরেকটি তার মেয়ে ঢাকায় করেছেন। মূল আসামি শাহিনের নিরুদ্দেশ হওয়ার পরেই মামলাটি হয়েছে। কাজেই এ ঘটনায় দুদেশই সম্পৃক্ত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে, বাংলাদেশের সঙ্গে নেই। সেক্ষেত্রে শাহিনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনার বিষয়ে ভারত সুবিধা পেতে পারে। বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে আমাদের সব কাজেই ভারত সহযোগিতা করছেন এবং ভবিষ্যতে করবেন।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, আনারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সত্যের খুব কাছাকাছি এসে গেছি। মরদেহের বিষয়টি নিশ্চিত হলেই অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারব। যে হাড়মাংস উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো ডিএনএ পরীক্ষা করলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে, সোমবার (১০ জুন) সকালে কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জীভা আবাসনের সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া মাংসের টুকরোগুলো মানুষের বলে জানিয়েছে কলকাতার ফরেনসিক বিভাগ। তবে ডিএনএ পরীক্ষার পর জানা যাবে মাংসগুলো এমপি আনারের কি না।

এর আগে, গত ২৮ মে সেপটিক ট্যাংক থেকে কিছু মাংস উদ্ধার করেছে পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি। তবে সেটি এমপি আনারের মরদেহের খণ্ডিত দেহাংশের মাংস কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকেম আনার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিয়াম হোসেনকে নিয়ে রোববার (৯ জুন) সকালে কৃষ্ণমাটির বাগজোলা খালে তল্লাশি চালায় সিআইডি। তল্লাশির পর একটি ঝোপের পাশ থেকে বেশ কিছু হাড়গোড় উদ্ধার হয়। তবে সেগুলো আনারের কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। নিশ্চিত করতে পাঠানো হয়েছে ফরেনসিকে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান এমপি আনার। ওঠেন পশ্চিমবঙ্গে বরাহনগর থানার মণ্ডলপাড়া লেনে গোপাল বিশ্বাস নামে এক বন্ধুর বাড়িতে। পরদিন ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আনোয়ারুল আজীম।

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৩ মে সঞ্জীভা গার্ডেনে এমপি আনারকে খুন করা হয়।


আরও খবর



আসছে বাজেটে বাড়তে পারে সিগারেটের দাম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

Image

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি দেশের ১৮তম অর্থমন্ত্রী। আবুল হাসান মাহমুদ আলী অর্থমন্ত্রী হিসেবে এবারই প্রথম বাজেট পেশ করবেন। এটি দেশের ৫৩তম বাজেট। সেই সঙ্গে এটি হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।

প্রতি বছরই তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমানো এবং এ খাত থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়। করে বেড়ে যায় সিগারেট, জর্দা ও গুলের দাম। এবারও সিগারেটের দাম বাড়ছে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বাজেটে তামাকজাত পণ্য, পানির ফিল্টার, এলইডি বাল্ব, কম্পিউটারের দাম বাড়তে পারে। কমতে পারে গুঁড়া দুধ, ল্যাপটপের দাম।

জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটের উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও মূল্যস্তর বাড়ানো হতে পারে। তিন স্তরের সিগারেটে সম্পূরক শুল্ক ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হতে পারে। এতে বাড়তে পারে সব ধরনের সিগারেটের দাম।

আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে এবার বাজেটে খরচের লাগাম টানা হচ্ছে। প্রতি বছর গড়ে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ আকার বাড়ানো হলেও এবার মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ বাড়িয়ে বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা।

গত জুনে চলতি অর্থবছরের জন্য যে বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছিল তার থেকে এই বাজেট মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আগামী বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকছে ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। বাকি ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণের অঙ্ক বাড়ানো হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, আয়-ব্যয়ের যে হিসাব বাজেটে দেওয়া হয় তার কোনোটাই লক্ষ্য পূরণ হয় না। প্রতি অর্থবছর শুরুতে যে বাজেট দেওয়া হয়, ৯ মাস শেষে একবার সংশোধন করা হয়। কিন্তু অর্থবছর শেষে দেখা যায়, বাস্তবায়নের হার আরও কম। গত তিন বছর ধরে ঘোষিত বাজেটের চেয়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা কম ব্যয় হচ্ছে। অর্থ বিভাগের গত এক দশকের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, প্রতি বারই বাজেট বাস্তবায়ন হচ্ছে গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ।


আরও খবর