আজঃ মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম

বেনাপোলে এক লাফে বেড়েছে দ্বিগুন পেঁয়াজের দাম

প্রকাশিত:শনিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর)

Image

আবারও ভারত বাংলাদেশে ৩মাসের জন্য পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর ফলে যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে একলাফে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুন। ইচ্ছামত দাম নিচ্ছেন ব্যাবসায়িরা। রাতারাতি গুদামগুলো থেকে পেঁয়াজ গায়েব করে দিয়েছে অসাধু ব্যাবসায়িরা।

ফলে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে নাভিশ্বাস। ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি পেঁয়াজ। দাম আরো বাড়াবে বলে জানান বিক্রেতারা।

ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বন্যাসহ বিভিন্ন কারণে পেঁয়াজের দাম যায় বেড়ে। ফলে মসল্লার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাতে বৃহস্পতিবার থেকে আগামী মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সরকার রপ্তানির সুযোগ দিতে পারবে বলেও দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেডের (ডিজিএফটি) আদেশে জানান হয়েছে। পূর্বের এলসির পেঁয়াজ ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রফতানিতে থাকছে শিথিলতা।

গত অগাস্টে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শূল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ শুরু করে ভারত। এরপর ২৮ অক্টোবর পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য প্রতি টন ৮০০ ডলারে বেঁধে দিয়ে আদেশ জারি করে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। যা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার জানানো হয়, ন্যূনতম রপ্তানিমূল্যের ওই সীমা আরও তিন মাস, অর্থাৎ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর রপ্তানিই বন্ধ করার ঘোষণায় বাংলাদেশে দাম যায় বেড়ে।

পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে পেঁয়াজ না কিনে খালি হাতে ফিরছে বাড়ীতে। বাজার মনিটরিংয়ের দাবী জানান তারা। ক্রেতা মফিজুর ও গোলাপ বেগম বলেন নিত্য প্রয়োজনীয় মসল্লা পেঁয়াজ। হঠাৎ রফতানি বন্ধসহ দাম বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

বিক্রেতা মশিশার রহমান ও মোমিন উদ্দিন বলেন, বেশীদামে মোকাম থেকে কিনতে হচ্ছে পেঁয়াজ। বড় বড়ৎ ব্যাবসায়িরা রাখি করে বাজারে ছাড়ছে না পেঁয়াজ। এজন্য বাড়ছে দাম। দেশি পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ বাড়লে ১৫দিনের মধ্যে দাম কমার আশা ব্যাবসায়িদের।

বেনাপোল স্বলবন্দর পরিচালক রেজাউল করিম জানান, ১ মাসের মধ্যে বন্দরে আসেনি কোন পেঁয়াজ। তবে ভোমরা দর্শনাপোর্ট দিয়ে পেঁয়াজ বেশী আমদানি হয়ে থাকে। দেশীয় পেঁয়াজ আমদানি বাড়লে দাম কমার আশা করেন তিনি।

এদিকে রাতারাতি আসাধু ব্যাবসায়িরা পেঁয়াজের দাম বাড়ালেও প্রশাসনের কোন নজরদারী না থাকায় ক্ষুদ্ধ ক্রেতারা।


আরও খবর



শিশুর বয়স নির্ধারণের এখতিয়ার তদন্ত কর্মকর্তার নেই : হাইকোর্ট

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

আইনের সংস্পর্শে আসা বা আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িতকে শিশু হিসেবে নির্ধারণ করার এখতিয়ার কোনো তদন্ত কর্মকর্তার নেই বলে পর্যবেক্ষণসহ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, কাউকে শিশু হিসেবে মনে হলে তদন্ত কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান তার বয়স নির্ধারণে শিশু আদালতে হাজির করবে এবং সেক্ষেত্রে শিশু আদালত ২০১৩ সালের শিশু আইনের ২১ ধারার বিধান অনুসরণ করে বয়স নির্ধারণ করবে।

বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, শিশু আইনের ২১ ধারার বিধান অনুযায়ী, কেউ অভিযুক্ত হোক বা না-হোক, কেবল কাউকে শিশু হিসেবে অভিহিত করার অধিকার শিশু আদালতকে দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত কোনো শিশুর বয়স নির্ধারণে কোনো শিশুর শিক্ষাগত সনদে উল্লেখিত জন্মতারিখ এবং জন্মমৃত্যু নিবন্ধন আইনের বিধান মতে নিবন্ধিত জন্মসনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে জন্মসনদ প্রাধান্য পাবে। আর জন্মনিবন্ধনের জন্মতারিখ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদের জন্মতারিখ ও আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর বাহ্যিক অবয়ব-শারীরিক গঠন আপাতদৃষ্টে সাংঘর্ষিক বলে মনে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি রেজিস্ট্রার ও ছাত্রছাত্রীর হাজিরা খাতা তলব করে মিলিয়ে দেখতে হবে। তা সম্ভব না হলে সরকারি মেডিকেল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে বয়স নির্ধারণ করতে হবে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে যে, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত কোনো শিশু বা ব্যক্তিকে যদি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার বিধানমতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধের জন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করা হয়; আর সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বয়স নির্ধারণের কোনো অকাট্য বিশ্বাসযোগ্য দলিল উপস্থাপন না করা হয়, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার বিধানমতে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আগে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর বয়স নির্ধারণে শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী উপরিউক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

একই ভাবে শিশু আদালত কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত কোনো শিশুর বয়স নির্ধারণে উপরিউক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করবেন।


আরও খবর
সেই মিল্টন সমাদ্দারের জামিন

সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪




মধ্যরাতে যেভাবে আন্দোলন ছড়াল সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তপ্ত হয় ওঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ঢাবি) দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ফলে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলগুলো থেকে মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে এসে তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন।

এ সময় তারা, তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, সরকার-সরকার, রাজাকার আসছে, রাজপথ কাঁপছে, চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার-সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

রোববার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে একে একে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাস ও রাজপথে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার সূত্রপাত রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে গণভবনে চীন সফর উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে। গত কয়েক দিন ধরে কোটাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথ উত্তাল করে রেখেছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? তাদের নাতিপুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? এটা আমার দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন। তাদের অপরাধটা কী? নিজের জীবন বাজি রেখে, নিজের পরিবার সব ফেলে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, দিন-রাত খেয়ে না খেয়ে, কাদামাটি পেরিয়ে, ঝড়বৃষ্টি সব মোকাবিলা করে যুদ্ধ করে বিজয় এনে দিয়েছে। বিজয় এনে দিয়েছে বলেই তো আজ সবাই উচ্চপদে আসীন। আজ গলা বাড়িয়ে কথা বলতে পারছে। তা না হলে পাকিস্তানিদের বুটের লাথি খেয়ে থাকতে হতো।

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য অবমাননাকর দাবি করে মধ্যরাতে একযোগে প্রতিবাদে নামেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বলেন, এত দিন তারা কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য তাদের ব্যথিত করেছে। সমাধানের কোনো পথ বাতলে না দিয়ে উল্টো তিনি তাদের রাজাকারের বাচ্চা বলে সম্বোধন করেছেন। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, এই বাংলার মাটি, রাজাকারের ঘাঁটি ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

এক সময় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ঢাবির মাস্টারদা সূর্যসেন, বিজয় একাত্তর ও মুহসিন হলের শিক্ষার্থীদের গেটে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা বিজয় একাত্তর হলের সামনে জড়ো হন। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বেগম রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা গেটের তালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

পরে সম্মিলিত মিছিল নিয়ে হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল, সূর্যসেন হল, বিজয় একাত্তর হল, জিয়াউর রহমান হল, বঙ্গবন্ধু হল, জসিম উদ্দীন হল, শহীদুল্লাহ হল, জগন্নাথ হল, এফএইচ হল, একুশে হল এবং রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন টিএসসিতে।

এ সময় তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্র কারও বাপের না, চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার, আমার স্বাধীন বাংলায়, একের কথা চলে না, তুমি কে আমি কে, বাঙালি-বাঙালি, লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারও বাপের না ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলার জেরে রোববার রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, আজ সংবাদ সম্মেলনে কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য আমাদের রক্তে আগুন ধরিয়েছে। যখন কারও রক্তে দাগ লাগানো হয়, তখন কেউ ঘরে বসে থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, তাহলে আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

রাত দেড়টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি শেষে তারা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

একই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরা হল থেকে বেরিয়ে তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। 

এ সময় শিক্ষার্থীরা তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, সরকার-সরকার স্লোগান দিতে থাকেন।

ইডেন কলেজ

ঢাকা, জবি, রাবির পাশাপাশি কোটা সংস্কারের দাবিতে মধ্যরাতে ইডেন মহিলা কলেজে কোটা বিরোধীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১২টার দিকে ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন। প্রায় একই সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসহ প্রত্যেকটি হলের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।

অপরদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা তাতীবাজার মোড় অবরোধ করেছেন। রোববার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে এসে তারা ওই সড়কে অবস্থান নেন।

এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে ছাত্রীরা হল থেকে এবং আশেপাশে মেসে থাকা ছেরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হন।

উল্লেখ্য, দুপুরে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া স্মারকলিপিতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। এ সময়ের মধ্যে সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্তে না যায় তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

রোববার (১৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এসে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

এ সময় রাজধানীর শাহবাগ থানায় কোটাবিরোধীদের নামে করা মামলা প্রত্যাহারে পূর্বে দেওয়া আল্টিমেটামের ২৪ ঘণ্টার সঙ্গে আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে দেন তিনি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

গতকাল রাত ১১টার দিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নেমে আসেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন হল শেখ লুৎফর রহমান হল থেকে মিছিল নিয়ে বের হন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, এই বাংলার মাটি-রাজাকারের ঘাঁটি, শেরেবাংলার মাটি, রাজাকারের ঘাঁটি-ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে হামলা করেছে ছাত্রলীগ। রোববার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

এর আগে রাত নয়টার দিকে বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা, তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, চাইতে গেলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার ইত্যাদি স্লোগান দিইয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে তারা বিভিন্ন হল থেকে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ক্যাম্পাসের বটতলায় জড়ো হতে থাকেন।

এসময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে দুজন আন্দোলনকারীকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই খবর জানাজানি হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁদের মুক্ত করার জন্য বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা হলের সামনে অবস্থান নেন।

এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার। তখনো শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হলের সামনে ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছিলেন। পরে রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি রাত সোয়া দুইটার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে এলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন এবং মুখোমুখি অবস্থান নেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবিরসহ কয়েকজন শিক্ষক দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের জামায়াত-শিবির আখ্যা দেন ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গালাগাল করেন।

এক পর্যায়ে রাত পৌনে তিনটার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ৪৬ ব্যাচের ছাত্র প্রাচুর্যসহ বেশ কয়েকজন হামলা করছেন। হামলায় আহসান লাবিব নামের একজন আন্দোলনকারী ও একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উসকে দিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের অর্থসম্পাদক ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তৌহিদুল আলম বলেন, আন্দোলনকারীরা আমাদের হলের সামনে এসে কোটা আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও ছাত্রলীগকে অবমাননা করে স্লোগান দিচ্ছিল। তখন আমরা একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে তারা বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। তাদের কোনো হামলা করিনি, যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছি। আমরা হলে ফিরে যাওয়ার সময় তারা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সোমবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টায় সহউপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন, এমন আশ্বাস পেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভোর সাড়ে চারটার দিকে নিজ নিজ হলে ফিরে যেতে থাকেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রধানমন্ত্রীর একই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাত ১১টার পর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে স্লোগান দিতে শুরু করেন ছাত্ররা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং নারী ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত শেখ হাসিনা হল থেকে ভেসে আসে স্লোগানের শব্দ।

তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার, কীসের তোমার অধিকার, তুমি একটা রাজাকার ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল ক্যাম্পাসের হলগুলো। রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের মূল গেটে মিছিল করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাইফুল গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত মোটেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। একটি বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে রাজাকারের নাতি-নাতনি বলে সম্বোধন করেছেন। একটা ঘৃণিত শব্দ এখন অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অনতিবিলম্বে কোটার যৌক্তিক সংস্কার দাবি করছি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এদিন রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা আন্দোলনকারীরাও। বিভিন্ন হল ও কটেজ থেকে মিছিল করতে করতে বেরিয়ে হাজারো শিক্ষার্থী জড়ো হন বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে। এ সময় চাইলাম অধিকার, হইলাম রাজাকার, তুমি কে, আমি কে-রাজাকার, রাজাকার-এমন বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মিছিল বের করেন আন্দোলনরত কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা। রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা চত্বরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

রোববার (১৫ জুলাই) রাতে জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ মিলিত হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে পুনরায় জিয়া মোড়ে এসে বিক্ষোভের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

রাত সাড়ে ১১টা থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে স্লোগান দিতে শুরু করেন ছাত্ররা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ মুখতার ইলাহি হল থেকে ভেসে আসে স্লোগানের শব্দ। এ সময় মিছিল বের করে মিছিলটি রংপুরের মর্ডান মোড়, দর্শনা, লালবাগ হয়ে আবারও পার্ক মোড় হয়ে আবারও মর্ডান মোড়ে গিয়ে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এর মধ্যে তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার, কীসের তোমার অধিকার, তুমি একটা রাজাকার ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল। 

শাবিপ্রবিতে মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থীদের তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার স্লোগানে মাঝরাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। বিপরীতে তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি পাল্টা স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

রোববার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও অ্যাকাডেমিক ভবন ডিএর সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই পক্ষ। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ভুয়া, ভুয়া স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের।

প্রসঙ্গত, চীন সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিরা চাকরি পাবে না কি রাজাকের নাতি-নাতনিরা চাকরি পাবে? তারই প্রতিবাদে রাতেই রাজপথে নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাবিসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে মধ্যরাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। রোববার (১৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। এ সময় তারা কোটা বিরোধী স্লোগান দেন।

প্রথমে বঙ্গবন্ধু হল ও শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা স্লোগান শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা মিছিল নিয়ে হল থেকে বের হয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে চলে আসেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে স্লোগান দিতে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ডে এসে মিছিলটি শেষ করেন।

এদিকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীরা হলের ভেতরে মিছিল বের করেন। মিছিলটি হলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়।

শেরে বাংলা হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছি। আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিলে আমরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাব।


আরও খবর



ভারতে বিষাক্ত মদ্যপানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতে বিষাক্ত মদ্যপানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকদিনে বিষাক্ত মদপান করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮ জন।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) তামিলনাড়ু রাজ্যের কাল্লাকুরিচি জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাই থেকে কাল্লাকুরিচি জেলা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে। মৃত ও অসুস্থদের বেশিরভাগই জেলার করুণাপুরম এলাকার বাসিন্দা।

জানা গেছে, বিষাক্ত চোলাই মদ আরাক বিক্রির অভিযোগে কে গোবিন্দরাজ ওরফে কান্নুকুট্টি নামে এক ব্যক্তিসহ সন্দেহভাজন চারজন অবৈধ মদ বিক্রেতা এবং আরো ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কান্নুকুট্টির কাছ থেকে ২০০ লিটার অবৈধ প্যাকেট আরাক নামের ওই বিষাক্ত মদ জব্দ করা হয়েছে। মাদ্রাজ হাইকোর্ট দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনের শুনানি করতে চলেছে।

বিষাক্ত মদ খাওয়ার কারণে এই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করে একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, তারা ঠিক কী খেয়েছিল, তা আমরা তদন্ত করছি।

জানা গেছে, রাজ্য সরকার এ ঘটনার পর জেলা পুলিশ প্রধানকে বরখাস্ত করে তার জায়গায় নতুন আরেকজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে। জেলা কালেক্টরকেও বদলি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রহিবিশন এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের ডেপুটি সুপার, তিনজন পরিদর্শক ও একাধিক সহ-পরিদর্শককে বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রতিবছর ভারতে বেআইনি ডিস্টিলারির তৈরি বিষাক্ত মদ পানে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটে। অবৈধ ব্যবসায়ীরা মদের শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রায়ই মিথানল মেশায়। যা মূলত একটি অ্যান্টিফ্রিজ হিসেবে ব্যবহৃত হয় ও খুব বিষাক্ত। মিথানল অল্প পরিমাণেও গ্রহণ করলে অন্ধত্ব, যকৃতের ক্ষতি এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে।


আরও খবর



বাঁশখালীর বৈলছড়ীতে সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে মানুষ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৈলছড়ী কে.বি বাজার তথা কাঁচা বাজার হয়ে পূর্বদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিনের বাড়ী হয়ে যাওয়া শহীদ ফরহাদ সড়ক (ধলা সড়ক) সংস্কার কাজ দীর্ঘ ৪-৫ মাস যাবৎ বন্ধ করে রাখার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বৈলছড়ী ইউপির ২,৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের অন্তত ১০/১২ হাজার পরিবারের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, সড়কটি নতুন ভাবে সংস্কার করার জন্যে পুরানো ইট গুলো খোলে নেওয়ার পর প্রায় ৪/৫ মাস পার হলেও আজ পর্যন্ত কোনো ধরনের সংস্কার কাজ শুরু না করায় পুরো সড়কটি এখন যেনো জলাশয়।

এতে গাড়ী চলাচল করাতো দূরের কথা, এমনকি মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও কষ্টসাধ্য হচ্ছে।এছাড়াও ওই এলাকার খাঁনবাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গ্রাসরুটস স্কুল, নুইন্না পুকুর পাড় মোহাম্মদীয়া রউফিয়া এবতেদায়ী মাদ্রাসা, পূর্ব বৈলছড়ী দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া সহস্রাধিক শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকার অন্তত ১০/১২ হাজার পরিবারের লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি সংস্কারের নামে সড়কটির পুরানো ইট গুলো ৪/৫ মাস আগেই খোলে ফেলা হয়েছে, কিন্তু অদ্যবদি পর্যন্ত কোনো ধরনের সংস্কার কাজ শুরুও করা হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক জলাশয়ে পরিণত হয়েছে, যার ফলে আমাদের ছেলে -মেয়েরা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পর্যন্ত যেতে পারছেনা। একমাত্র এই ব্যস্ততম সড়কটি ছাড়া যাতায়াতের বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় বাজারেও যেতে পারছেনা মানুষ।এই ব্যস্ততম জনপদের ভোগান্তি দর করতে সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্যে জনপ্রতিনিধি ও উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মোঃ মনসুর আলম বলেন, শহীদ ফরহাদ সড়কটি ছাড়া এই এলাকার মানুষের যাতায়াতের বিকল্প কোন সড়ক নেই, সরকারি বরাদ্দ আসার পর সড়কটির সংস্কারের জন্যে পুরানো ইট গুলো  খোলার প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত সড়কটিতে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়নি। ইঞ্জিনিয়ারসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে সংস্কার কাজ বন্ধ রয়েছে, সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়কটি এখন জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকার হাজার হাজার মানুষ। সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে মানুষকে ভোগান্তিমুক্ত করতে কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান মনসুর আলম।

এ বিষয়ে সাব-ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমানের এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই সড়কে আমি দায়িত্বে নেই, তবে আমি যতোটুকু জানি সড়কটির জায়গা নিয়ে জটিলতা আছে, তাই উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ও টিকাদারসহ বৈলছড়ী ইউপি চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিনের সাথে বসছিলাম,জায়গা সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধান করার কথা হয়েছিল, কিন্তু এরপর কি হয়েছে না হয়েছে সেটা আমি জানিনা।

উপজেলা সহকারী ইঞ্জিনিয়ার (এলজিইডি) কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ এর সাথে যোগাযোগের একাধিক বার চেষ্টা করলেও মোবাইল সংযোগ পাওয়া যায়নি। অপরদিকে বৈলছড়ী ইউপি চেয়ারম্যান কপিল উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগের একাধিক বার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজ ট্যাগ: চট্টগ্রাম

আরও খবর



ঢামেক থেকে আটক হওয়া ভুয়া নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ঢামেক প্রতিবেদক

Image

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগ থেকে আটক হওয়া রিপা আক্তার (২০) নামে সেই ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় প্রতারণার মামলা করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার মো. আবুল হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহ আলম।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাতে ঢাকা মেডিকেল থেকে ভুয়া এক নারী চিকিৎসককে আটক করে থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হোসেন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাজিরুর রহমান জানান, ওই নারী হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের গাইনি বিভাগে সন্দেহজনকভাবে অ্যাপ্রোন পরা অবস্থায় ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নারী আনসার সদস্যরা তাকে সন্দেহ করে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার মো. খালেকুজ্জামান রুমে নিয়ে যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন তিনি ডাক্তার নন। পরবর্তীতে আনসার সদস্যদের সহায়তায় থানা পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়।


আরও খবর