আজঃ শুক্রবার ০৫ মার্চ ২০২১
শিরোনাম

বগুড়ায় মদ পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১৪৫জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

বগুড়ায় বিষাক্ত মদ পানে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতরা বগুড়া সদর উপজেলায় তিনমাথা, কালিতলা, ফুলবাড়ি ও কাটনারপাড়া এলাকা এবং কাহালু, শাজাহানপুর ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বাসিন্দা।

মৃতরা হলেন- রমজান আলী (৪০), সুমন রবিদাস (৩০), তার বাবা প্রেমনাথ (৭০) ও চাচা রামনাথ, পলাশ মিয়া (৩৫), সাজু (৫৫), মোজাহার আলী (৭৫), আব্দুল জলিল (৬৫), জুলফিকার রহমান (৫৫), আবুল কালাম (৫০), আব্দুর রহিম (৪২), আলমগীর (৪০), আব্দুর রাজ্জাক (৪২), মেহেদী হাসান (২৫), আব্দুল আহাদ (৩৮) ও লাজু মিয়া (৩২)।

এদিকে অসুস্থ ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শহরের খান হোমিও হল, পারুল হোমিও হল, পুনম হোমিও হল সাতমাথায় একটি দেশি মদের দোকানসহ কয়েকটি দোকান থেকে অ্যালকোহল কিনে পান করে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মদ বিক্রির বিষয়ে বগুড়া সদর থানায় সোমবার রাতে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিরা হলেন, খান হোমিও হলের মালিক শাহিনুর রহমান শাহীন, পারুল ও পুনম হোমিও হলের মালিক নুর আলম ও নুর নবী।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, তিনটি হোমিও হলের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

নিউজ ট্যাগ: বিষাক্ত মদ পান
Share

আরও খবর
বগুড়ায় বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১




দুই যুগ পর চালু হলো আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট

প্রকাশিত:শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৯৪জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

দুই যুগ পর চালু হলো আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট। এতে আনন্দিত যমুনা পারের মানুষ ও এ নৌরুটের যাত্রীরা। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী রুটটি উদ্বোধন করেন।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ নৌরুট চালু হওয়ার ফলে যাত্রী ও যানবাহনের শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। প্রয়োজনে এ রুটে ফেরি আরও বাড়ানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চোধুরী ছাড়াও স্থানীয় এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়সহ বিআইডব্লিউটির চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। পরে আগে থেকেই প্রস্তত করে রাখা বেগম রোকেয়া নামের ফেরি নিয়ে যমুনা নদী পাড়ি দেন তারা।

উদ্বোধনের পরই যাত্রী পারাপার শুরু করে ফেরিগুলো। তাই ঘটে ভিড় করতে শুরু করেছে যানবাহন। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে উল্লাস ও আনন্দের কথা জানিয়েছেন যাত্রী ও ঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা। আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট পার হওয়ার জন্য আরিচা ৩নং ঘাটে ট্রাক নিয়ে অপেক্ষা করছেন সাগর। তিনি বলেন, পাবনা-কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী থেকে যমুনা সেতু হয়ে ঘুরে ঢাকায় আসতে তিন থেকে চার ঘণ্টা বেশি সময় লাগে। আজ তার অবসান হলো। তাছাড়া তেল খরচও কমে আসবে। এটি আমাদের একটি বড় সুখের সংবাদ।

আরিচা-কাজিরহাট নৌরুট চালুর জন্য গত তিন মাস আগে থেকে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিংসহ মার্কিং পয়েন্ট ও বিকন বাতি স্থাপন করাসহ সকল কাজ সম্পূন্ন করে বিআইডব্লিউটিএ। শনিবার ফেরি বেগম রোকেয়া, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও কেতকী দিয়ে যাত্রা শুরু হলো।

Share

আরও খবর



পুলিশ তো কারও প্রতিপক্ষ নয় : আইজিপি

প্রকাশিত:সোমবার ০১ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ মার্চ ২০২১ | ৭৯জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, পুলিশকে কেন প্রতিপক্ষ বানানো হয়? এই প্রশ্ন বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রতি। যারা দেশের ও পুলিশের সমালোচনা করে তাদের মুখে ছাই পড়ুক।

রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২১উপলক্ষে আজ সোমবার (১ মার্চ) এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। কর্মস্থলে নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ১ মার্চ পুলিশ মেমোরিয়াল ডের আয়োজন করা হয়।

আইজিপি বলেন, দেশের মধ্যে যে একটা ছোট অংশ আছে সেটা দেখলেই বোঝা যায়। কারণ দেশের কোনো ভালো কিছুর প্রতি তাদের আগ্রহ নেই। ভিন্ন সংস্কৃতির, ভিন্ন চেতনার মানুষগুলো আমাদের দেশের মানুষ হিসেবে দাবি করে। এই মানুষগুলোকে আমাদের দেশের বৃহত্তর জাতিসত্তা থেকে আলাদা করার সময় এসেছে। এরা আমাদের জাতির অংশ নয়।

জাতীয় প্রেসক্লাবে পুলিশ ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশ তো কারও প্রতিপক্ষ নয়। ওই ছোট একটা গ্রুপ যারা দেশের কোনো ভালো কিছু দেখেন না এবং সমালোচনা করেন। এমনকি তারা পুলিশের সমালোচনা করেন তাদের মুখে ছাই পড়ুক। এ দেশের প্রকৃতিতে যারা বড় হয়ে ছুরি মারতে চায় তাদের মুখে আমরা দেশবাসী সবাই মিলে ছাই ছুড়ে দিতে চাই।

নিউজ ট্যাগ: আইজিপি
Share

আরও খবর



অস্ত্র ও মাদক মামলা থেকে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি

প্রকাশিত:সোমবার ০১ মার্চ ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০১ মার্চ ২০২১ | ৭৪জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

মাদক আইনে করা মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড (বরখাস্ত) কাউন্সিলর ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১ মার্চ) ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি দেন।

৫ জানুয়ারি ইরফানকে অব্যাহতির সুপারিশ করে মাদক ও অস্ত্র মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পরিদর্শক মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে ওই মামলা থেকে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দেন আদালত।

গত বছরের ২৫ অক্টোবর নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের গাড়ি তাকে ধাক্কা মারে। এরপর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে নেমে ইরফান সেলিম ও তার সঙ্গে থাকা অন্যরা তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং হত্যার হুমকি দেন। তার স্ত্রীকেও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন অভিযুক্তরা।

পরদিন (২৬ অক্টোবর) সকালে ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী মো. জাহিদুল মোল্লা, এ বি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত দু-তিনজনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ওয়াসিফ আহমদ খান। ওই দিনই পুরান ঢাকার বড় কাটরায় ইরফানের বাবা হাজী সেলিমের বাড়িতে দিনভর অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে ইরফান সেলিমকে এক বছর কারাদণ্ড দেন। ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে দেন ছয় মাসের সাজা।

 

নিউজ ট্যাগ: ইরফান সেলিম
Share

আরও খবর
অবশেষে জামিন পেলেন কার্টুনিস্ট কিশোর

বৃহস্পতিবার ০৪ মার্চ ২০২১




উত্তরা-আগারগাঁও রুটে মেট্রোরেল চালু ১৬ ডিসেম্বর

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৭৯জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চলতি বছরে মহান বিজয় দিবসে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে উত্তরা রুটে চলবে মেট্রোরেল বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নগরীর উত্তরা মেট্রোরেল ডিপো পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।

পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান বলেন, রাজধানীর আগারগাঁও থেকে উত্তরা পর্যন্ত অংশের মোট দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এ পথে স্টেশন রয়েছে নয়টি। ১১ দশমিক চার কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান। এ রুটে চলতি বছরে মহান বিজয় দিবসে মেট্রোরেল চলবে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি মহান বিজয় দিবসে আগারগাঁও থেকে উত্তরা রুটে মেট্রোরেল চালু করতে পারবো। আমাদের দেশীয় ও বিদেশি এক্সপার্টরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। করোনার মধ্যেও সবাই কাজ করে যাচ্ছেন। মেট্রোরেল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

ডিএমটিসিএলর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব এম এ এন সিদ্দিক বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উদযাপন বর্ষের ২০২১ সালে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে প্রথম মেট্রোরেল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে প্রকল্পের কাজ। করোনা সংকট না থাকলে কাজের অগ্রগতি আরো বাড়তো।

Share

আরও খবর



বরই খাবেন কেন ?

প্রকাশিত:শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৮৭জন দেখেছেন
Share
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কিছু খাবারের কথা শুনলে জিবে যেমন জল আসে, তেমনি মানুষ স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে। বরই বা কুল যে নামেই ডাকি না কেন, এই ফলও সে রকমই একটি খাবার। আমের কথা শুনলে যেমন মনে পড়ে বৈশাখি ঝড় অথবা কাঠফাটা রোদে ছুটে বেড়ানো দুরন্ত কিশোরের কথা, বরই বা কুলের কথা শুনলে তেমনি শালুকপাতা চুরির কথা মনে পড়বে কারও কারও। সেই সঙ্গে মনে পড়বে বাঁশের চোঙ, ঘুঁটনি আর পকেটে খবরের কাগজ দিয়ে মোড়া লবণ নিয়ে ঘুরে বেড়ানো একটুকরা কিশোরকাল। সে অনুভূতি কাউকে বুঝিয়ে বলা যাবে না।

শীত শুরুর সময় প্রকৃতিতে যখন শীতনিদ্রার প্রস্তুতি চলতে থাকে, বরইগাছের তখন অভিসারকাল, সেটা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস। সবুজ জমিনে সাদা ফুলের বাহারে তখন উর্বশী কুলগাছ। এরপর গুটি, গুটি থেকে খাইবার যোগ্য হয়ে উঠতে তার সময় লাগে বেশ খানিকটা। মাঘ মাসের দিকে কিছু বরই পাওয়া যায় বটে, কিন্তু এর পরিপক্ব হয়ে উঠতে উঠতে ফাগুন এসে যায়। সে জন্যই হিন্দুধর্মের লোকেরা বরই খেয়ে থাকে সরস্বতীপূজার দিন থেকে। এ সময়ে বরই একেবারে পরিপক্ব হয়। ধর্মের সঙ্গে এর তেমন কোনো সম্পর্ক নেই, যতটা আছে প্রকৃতির সঙ্গে, পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে।

 

 

বরই মানে শালুকপাতা, বরই মানে বাঁশের চোঙ, বরই মানে পকেটে লুকানো লবণ, বরই মানে কাঁটার আঘাত সয়ে সফল হওয়ার নাম। বরই মানে এক অদ্ভুত মায়াময় কোমল শৈশব। শৈশব-কৈশোরে যাদের চোখ খুলে গিয়েছিল, তাঁরাই জানেন, সব জাতের বরই বরই হলেও সব বরই কুল নয়। নারকেলি বরই বলে যেটিকে আমরা চিনি, দেশি বরই থেকে আকারে কিছুটা বড় আর নারকেলের মতো দেখতে, সেটিই আদতে বরইশ্রেষ্ঠ কুলঅভিজাত আর সুস্বাদু। এই কুল বরই বা কুলি বরই কিশোর কালের অদ্ভুত আকর্ষণের নাম। কারণ, একটি এলাকায় এক শতে একআধটা কুলি বরইয়ের গাছ পাওয়া যায়। যাদের বাড়িতে কুল বরইয়ের গাছ থাকত, তারা আবার গাছের গোড়ায় বসাত নিরাপত্তাচৌকি। ফলে সে থাকত নাগালের বাইরে।

 

 

অন্যদিকে কিশোর আর নারী মহলে রাজত্ব করত দেশি বরই। টক টক এ বরই খাওয়ার জন্যই চোখের নিমেষে চুরি হতো শালুকপাতা বা শলুফা, ধনেপাতার সৎভাই। বাঁশের চোঙে বরই ঢুকিয়ে তাতে পরিমাণমতো লবণ, হালকা হলুদ, হাত দিয়ে যত দূর সম্ভব কুচি করে ছেঁড়া শালুকপাতা দিয়ে দে ঘুঁটা। আচ্ছামতো ঘুঁটে উদার আর সিংহ হৃদয়ের ঘুঁটনেদার বাড়িয়ে দেওয়া হাতগুলো ভরিয়ে দিয়ে অবশিষ্টাংশ রাখত নিজের জন্য। এই উদারতার পেছনের রাজনীতি কঠিন, ভূরাজনীতির হিসাবের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। কারণ, সব মসলা আর উত্তম ঘোঁটানো বরইয়ের অংশটাই থাকত একেবারে শেষের পাতে।

 

 

আর একধরনের বরই পাওয়া যায়, তার নাম বালুশাই। দেশি বরইয়ের চেয়ে আকারে কিঞ্চিৎ বড়, দেখতে প্রায় একই রকম, কিন্তু স্বাদে কিছুটা ভিন্ন। টক নয় এর স্বাদ। আবার কুল বরইয়ের মতো মিষ্টিও নয়, মাঝামাঝি। কিন্তু একটু বালু বালু ভেতরটা। সে জন্যই এর নাম বালুশাই। এরও কদর ছিল ভীষণ। কোনো কোনো দেশি বরইয়ের গাছেই একআধটা বালুশাই বরই পাওয়া যায়। সেগুলোকে না ঘুঁটে এমনি এমনি খাওয়া হয়।

এখন এসবের বালাই নেই। সবকিছু এখন সহজ। বাজারে গিয়ে খোঁজ করবেন নারকেলি বরই, বাউকুল, দেশি টকমিষ্টি বরই, মিষ্টি বরই আর আপেল কুলের। পেয়ে যাবেন যতটুকু পরিমাণ চান, ততটুকু। স্বাদ? সব কটিই মিষ্টি শুধু দেশি বরই ছাড়া। আর কী আশ্চর্য বিষয়, এখন শুধু টিয়ে রঙের বরই নয়, পাবেন টিয়ের লাল টুকটুকে ঠোঁটের রঙের বরইও। এরপর হয়তো ইচ্ছামতো রঙের বরই পাওয়া যাবে, আমরা যেমন চাইব তেমন।

 

 

দেশি বরই না কিনলেও কুল বরই আগাগোড়াই কিনে খাওয়া হতো। এখন বাজারে যেসব বরই পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো দরদাম করলে ৮০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন প্রতি কেজি। বরই শুধু কাঁচা খাওয়ার জিনিস নয়। দেশি বরই কড়া রোদে শুকিয়ে টোপা বরই বানিয়ে রাখা যায়। চৈত্রের খর দিনে পাঁচফোড়নে রান্না করা এই শুকনা বা টোপা বরই দিয়ে রান্না করা অম্বল মুখে রুচি ফেরায়। বৈশাখে নতুন বছরের খাবারে শুকনা বরইয়ের অম্বল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হিসেবেই চিহ্নিত। এটি দিয়ে বানানো যায় আচার। অনেক খাবারে অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ করা যায় শুকনা বরই।

কেন খাবেন বরই? এ প্রশ্নের অনেক উত্তর দেওয়া যায়। এর স্বাস্থ্যগুণের কথা বলে থিসিসও করে ফেলা যায়। কিন্তু আমি বলব, এমনি এমনি বরই খান। শীতে যেমন বাড়ির বাইরে পা রাখলেই কমলার দেখা পাওয়া যায়, বসন্তে তেমন রাস্তাঘাটে থরে থরে সাজানো বরই পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে, ফুটপাথে, বাড়ির পাশের অস্থায়ী বাজারে, ভ্যানেসবখানে এখন হরেক রকমের বরই রাজত্ব করছে। মৌসুমের ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। তাই ইচ্ছামতো বরই খান। বরইয়ের অনেক গুণ। সেই সঙ্গে একঝলক দেখে নিন, এই নাগরিক যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাওয়া নিজের কিশোরকাল। বসে পড়ুন না একটু বরই আর লবণ, শর্ষের তেল, শালুক না হোক ধনেপাতা নিয়ে। বাঁশের চোঙ পাবেন না। সমস্যা নেই। কাচের গ্লাসে ফল কাটার ছুরির বাট দিয়ে একটু ঘুঁটে নিন। দেখবেন মন কেমন ফুরফুরে লাগছে।

নিউজ ট্যাগ: বরই শালুকপাতা
Share

আরও খবর
৪ মার্চ: আজকের দিনটি কেমন যাবে?

বৃহস্পতিবার ০৪ মার্চ ২০২১

ওজন কমাতে টমেটো তুলনাহীন

বুধবার ০৩ মার্চ ২০২১