আজঃ বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১
শিরোনাম

বিএনপি বিকল্প পথে ক্ষমতায় যেতে চায় : ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৯ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ এপ্রিল ২০২১ | ৮৯জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আলেম-ওলামা কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ধরা হচ্ছে না। যারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত, ভিডিও ফুটেজ দেখে শুধু তাদের ধরা হচ্ছে। বিএনপি মূলত বিকল্প পথে ক্ষমতায় যেতে চায়। ক্ষমতায় যেতে হলে তাদের আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সড়ক জোনের বিআরটিসি ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় একথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপির নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাদের ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে বিএনপির অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো আলেম-ওলামা তো নন, বিএনপির কোনো নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করছে।

বিএনপির বিরুদ্ধে অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা, হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, বিএনপি এখন তাদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। বিএনপি মূলত পেছনের দরজা দিয়ে বিকল্প উপায়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। ক্ষমতায় যেতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই ক্ষমতায় যেতে হলে বিএনপিকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

করোনাভাইরাসের টিকার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রথম ডোজের মতো দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিনও বাংলাদেশ সময়মতো সংগ্রহ করবে ইনশাআল্লাহ। ভ্যাকসিন সংগ্রহে সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।

নিউজ ট্যাগ: ওবায়দুল কাদের

আরও খবর



যশোরে দুজনের শরীরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ মে ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৮ মে ২০২১ | ১৩৩জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা ভারতফেরত যাত্রীদের মধ্যে দুজনের শরীরে ভারতীয় ভেরিয়েন্টের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জোনাম সেন্টারের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন।

এ অবস্থায় ওই দুই রোগীকে আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া ও ভারত থেকে ফেরার পথে তাদের সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে নিয়ে নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

করোনার কারণে ভারতের সাথে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গত ২৬ এপ্রিল থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছেন। গত ৪ মে পর্যন্ত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এক হাজার ৫৭৭ জন দেশে ফিরেছেন। যাদের বেনাপোলসহ যশোর জেলা ও পার্শ্ববর্তী চার জেলার হোটেলসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জন করোনা পজিটিভ যাত্রীর নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জোনাম সেন্টারের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে তিনজনের নমুনা পজিটিভ এসেছে। এ তিনজনের মধ্যে দুজনের শরীরে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্টের অস্তিত্ব মিলেছে বলে নিশ্চিত করেছেন জোনাম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ।

তিনি বলেন, ভারতীয় ভেরিয়েন্টের নাম্বার হলো বি ১.৬ ১৭.২। তবে এটি ডাবল মিউট্যান্ট নয়। ভারতের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ এ ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত।তারপরও এ ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ রোধে সতর্ক হতে হবে। আমরা আশা করছি যারা ভারত থেকে ফিরতে তাদের পরীক্ষার পাশাপাশি পৃথক পরিবহন ব্যবস্থায় কোয়ারেন্টিনে নিতে হবে এবং নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে।

এদিকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালে থাকা ওই দুই রোগীকে আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ভারত থেকে ফেরার পথে তার সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে নিয়ে নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমরা যে দুজনের নমুনায় ভারতীয় ভেরিয়েন্ট মিলেছে তাদের নমুনার হোল জিনোম সিকোয়েন্স করার উদ্যোগ নিয়েছি।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলিপ কুমার রায়  বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারে ও আইইডিসিআরএ নমুনা পঠানো হয়েছিল। আমরা এখনো কোনো তথ্য পাইনি। পেলে আমাদের বিশেষজ্ঞ টিম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


আরও খবর



অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সবজির দাম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১ | ১৩৮জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
দাম বাড়লেও বাজারে কোনো সবজির কমতি নেই। আলু, পটল, করলা, টমেটো, শিম, লাউ, কাঁচা-পাকা মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বেগুন, মুলা, লাল শাক, পালং শাক, লাউ শাক সব কিছুই বাজারে ভরপুর

রমজান উপলক্ষে প্রতি বছরই বাড়ে সবজির দাম। তবে এবার তার সঙ্গে দেশব্যাপী লকডাউন হওয়ায় বাজারে এখন বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।

করোনার কারণে সরকার ঘোষিত লকডাউনের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে কিছুটা কমেছে মুরগির দাম। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজার, আজিমপুর বাজার ঘুরে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে।

কাওরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, লকডাউনের কারণে অনেক সবজি পৌঁছাতে পারছে না। ফলে দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহের সমস্যা না থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

আবার দাম বাড়লেও বাজারে কোনো সবজির কমতি নেই। আলু, পটল, করলা, টমেটো, শিম, লাউ, কাঁচা-পাকা মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বেগুন, মুলা, লাল শাক, পালং শাক, লাউ শাক সব কিছুই বাজারে ভরপুর। এদিকে দাম বেড়ে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বেগুন (লম্বা) ১০০ টাকা, কালো গোল বেগুন ৯০ টাকা, সাদা/সবুজ বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া প্রতিকেজি শসা ৮০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বুধবারও এসব সবজির অধিকাংশের দাম কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কম ছিল। এছাড়া গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ঢেঁড়স, বেগুন, পটল, বরবটি বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। তুলনামূলকভাবে বেড়েছে টমেটো, শসা এবং বেগুনের দাম।

হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতা আনিসুর রহামন বলেন, অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে কয়েকটি সবজির দাম। সরবরাহ কম থাকায় এ অবস্থা। কারওয়ান বাজারেও প্রতিটি সবজির দাম বেশি। পাইকারিতে কাওরান বাজারে প্রতি পাল্লায় (৫ কেজি) সবজির দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে আমাদেরও বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে, বাজারে মুরগির দাম তূলনামূলকভাবে কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকায়, লেয়ার ২৪০ টাকায় এবং সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকায়।


আরও খবর



ঈদের দিন ঢাকাসহ সারাদেশে হালকা বৃ্ষ্টি থাকবে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ মে ২০২১ | ৩৩জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ঈদের দিন ঢাকাসহ সারাদেশে হালকা বৃ্ষ্টি থাকবে। তবে বৃষ্টি টানা হবে না, তাই ঈদের আনন্দ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শুক্রবার (১৪ মে) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তাপমাত্রা আরও কমে ঈদের দিন তা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

বৃহস্পতিবার (১৩ মে) আবহাওয়াবিদ ড. মো. আবদুল মান্নান বলেন, বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি অন্যান্য জায়গায়ও বৃষ্টির প্রবণতা আছে। ছোট ছোট মেঘ থেকে এসব এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। তবে তা তুলনামূলকভাবে কম। মানুষের কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটানোর মতো বৃষ্টিপাত হওয়ার মতো পরিস্থিতি আপাতত নেই।

ঈদের দিন সকালের দিকে ঢাকায় হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এরপর দিনের কোনো কোনো সময় বৃষ্টি আসতে পারে, তবে তা টানা হবে না। এক পশলা বৃষ্টি হয়তো হলো, এরপর দেখা যাবে, আবার ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ভালো।

তিনি বলেন, শুক্রবার তাপমাত্রাটাও মানুষের সম্পূ্র্ণ সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। কোনো তাপপ্রবাহ থাকবে না। তবে এখন মে মাস, কেউ পরিশ্রম করলে তো ঘাম হবেই। তাপমাত্রাটা অস্বস্তি তৈরি করবে না।

শুক্রবারের তাপমাত্রা বৃহস্পতিবারের চেয়ে কিছুটা কমতে পারে জানিয়ে আব্দুল মান্নান বলেন, পয়েন্ট ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমলে বা বাড়লে আমরা সেটাকে অপরিবর্তিত বলি। তবে বড় ধরনের কালবৈশাখী বা ঝড় হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত নেই।


আরও খবর
তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের আভাস

মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১




লকডাউন: নিম্ন আয়ের মানুষ বড় দুর্দিনে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ এপ্রিল ২০21 | ১০০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
মজান মাসে মানুষ বেশি দান করায় আয়ও হতো বেশি। কিন্তু এবার প্রথম রমজান থেকেই লকডাউন। মানুষজন নেই রাস্তায়। তাই ভিক্ষাও পাচ্ছেন না। ইফতারের আগে কেউ কেউ খাবার-দাবার দেয়, তা দিয়েই দিন

রাজধানীতে ১৮ বছর ধরে রিকশা চালান দ্বীপজেলা ভোলার শামসুল আলম। কিন্তু এত বেকায়দায় আগে কখনও পড়েননি। সংসারের খাওয়া-পরা, দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপড়ার খরচ- সবই জোটে তার রিকশা চালিয়ে। তবে লকডাউন ঘোষণার পর তার আয় পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে তার দিন চালাতে। রাজধানীর সব নিম্ন আয়ের মানুষের এখন এমন অবস্থা। বড় দুর্দিন এখন তাদের।

শামসুল আলম বলেন, ছয় দিন ধরে ২০০ টাকার বেশি আয় করতে পারছেন না। অথচ আর সব রমজানে আধাবেলা রিকশা চালালেই ৭০০ টাকা আয় করা যেত। কারণ রমজান মাসে মানুষজন হাঁটাহাঁটি কম করে। তাই রিকশার যাত্রী বেড়ে যায়। এবার যাত্রীই পাওয়া দুস্কর। সংসারের খরচই তুলতে পারছেন না তিনি।

একই অবস্থা পান-সিগারেট বিক্রেতা আল আমিনের। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ঘুরে ঘুরে বেচাকেনা করেন তিনি। আগে বেচাকেনার পর গড়ে দৈনিক আয় হতো ৫০০ টাকা। গত কয়েক দিনের লকডাউনে বেচাকেনাই হচ্ছে ৫০০ টাকা, আয় হচ্ছে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। এ দিয়ে দিনের থাকা-খাওয়ার খরচই হচ্ছে না। গতকাল আল আমিন বলেন, মানুষজন বাইরে বের হন কম। যারা বের হন, তাদের অনেকেই রোজাদার। তাই বেচাকেনা একদম কমে গেছে। চায়ের দোকানদার বাবুলও জানালেন, বেচাকেনা নেই।

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মার পাশে বসে ভিক্ষা করেন ফরিদপুরের কাউলিকান্দার প্রতিবন্ধী এসকেন সরদার। তিনি জানালেন, রমজান মাসে মানুষ বেশি দান করায় আয়ও হতো বেশি। কিন্তু এবার প্রথম রমজান থেকেই লকডাউন। মানুষজন নেই রাস্তায়। তাই ভিক্ষাও পাচ্ছেন না। ইফতারের আগে কেউ কেউ খাবার-দাবার দেয়, তা দিয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাকে।

শামসুল আলম, আল আমিন, বাবুল, এসকেনের মতোই দুরবস্থা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য মানুষেরও। লকডাউনে অনানুষ্ঠানিক খাতের দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের আয় কমেছে। কারও কারও আয় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেককে প্রয়োজনীয় খাবারের জন্য ঋণ করতে হচ্ছে অথবা আত্মীয়-পরিজনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। অনেকে সামাজিক সহায়তার জন্যও হাত বাড়াচ্ছেন। তবে সবাই ঋণ বা সহায়তা পাচ্ছেন না। গতবছর সাধারণ ছুটির সময় বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলেও এবার তেমন দেখা যাচ্ছে না।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের প্রভাব কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ঢেউ। গত বছরের ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনও বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ওই সময় দেশে দারিদ্র্যের হার দ্বিগুণ হয়েছিল। নিম্ন আয়ের মানুষ যখন সেই ধাক্কা সামলে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনই শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব সামাল দিতে গত ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এর পরও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যাকে বলা হচ্ছে সর্বাত্মক লকডাউন। এতে জরুরি পণ্য ও সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত কার্যক্রমের বাইরে সবকিছু বন্ধ রাখা হয়েছে। এই লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হবে বলে আভাস দিচ্ছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এতে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্ভাবনায় পড়েছেন নতুন করে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন দিনমজুর, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত জনগণ। বিশেষ করে যারা শহর ও শহরের উপকণ্ঠে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের লোকজন রিকশাচালক, পরিবহনকর্মী, হকার, দিনমজুর, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কামার, কুমোর, জেলে, দর্জি, বিভিন্ন ধরনের মিস্ত্রি, নির্মাণ শ্রমিকসহ দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। কাজ থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে ভ্যানচালক, ঠেলাগাড়িচালক, রংমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, তালা-চাবির মিস্ত্রি, সাইকেল-ভ্যান, রিকশা ও মোটর গ্যারেজের কর্মীদেরও। মোবাইল রিচার্জের ব্যবসায়ী, ফুল বিক্রেতা, দোকানের কর্মচারী, ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মিষ্টির দোকান ও বেকারি বন্ধ থাকায় গ্রামে দুধ ব্যবসায়ীরা দুধ কিনছেন না। এতে যারা গাভি পালন করেন, তারা ও ব্যবসায়ী উভয়েই সমস্যায় পড়েছেন। মুদ্রণ ও প্রকাশনা খাতের কর্মীরা বেকার বসে আছেন আগে থেকেই। শহরের বস্তিবাসী- যারা বাসাবাড়ি, নির্মাণ খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে দিনমজুরের কাজ করেন, হকারি করেন এবং রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান করেন- তারাও বেকার এখন। সামগ্রিকভাবে কৃষি, শিল্প ও সেবা সব খাতেই নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আয় হারিয়ে কর্মহীন বসে থাকার ফলে এ ধরনের মানুষের খাদ্য সংকট ছাড়াও স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতিরও আশঙ্কা রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা লকডাউনের সময় দরিদ্রদের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, শহরের দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিত্তবানদের সহায়তা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। লকডাউন-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের লোকেরা যাতে সহজেই আয় করতে পারে, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করার কথা বলছেন তারা।

এরই মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার লকডাউনে দরিদ্র মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তবে কবে কখন কীভাবে এসব সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি সরকারের পক্ষ থেকে। মন্ত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোয়া কোটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, এক কেজি করে ডাল, তেল, লবণ ও চার কেজি আলু দেওয়া হবে। ৩৬ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে দেবে সরকার। এক লাখ কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাড়ানো হয়েছে খোলা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি। চালু করা হচ্ছে বিশেষ ওএমএস। দেশব্যাপী ৭৫ হাজার টন চাল ১০ টাকা দরে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। টিসিবির মাধ্যমেও বিক্রি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের কর্মসূচি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে সরকারের এ কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। কারণ, সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছে কিছু মানুষ, যারা আগে থেকেই বিভিন্নভাবে সরকারের কাছে দরিদ্র ও দুস্থ হিসেবে নিবন্ধিত। কিন্তু যাদের সংকটাপন্ন পরিস্থিতির তথ্য সরকারের কাছে নেই, তাদের সহায়তা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। গত বছরের সাধারণ ছুটির সময় দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেড়েছে। তাদের কারও কারও অবস্থার উন্নতি ঘটলেও নতুন করে লকডাউনের ফলে অনেকেই ফের দরিদ্রের তালিকায় ফিরে গেছেন। এ ধরনের মানুষের জন্য সরকারের সহায়তা আরও বাড়ানো দরকার, বিশেষ করে তাদের নগদ টাকা দেওয়া দরকার।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) এক জরিপ অনুযায়ী, গত বছরের লকডাউনে দরিদ্রের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ শতাংশে। বিআইডিএসের গত বছরের এক জরিপেও দেখা গেছে, এ সময় দেশে এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে। সিপিডির জরিপমতে, ওই সময় দারিদ্র্য বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে। পিপিআরসি ও বিআইজিডি বলেছে, দারিদ্র্যের হার ৪৩ শতাংশে উন্নীত হয়। ব্র্যাকের এক জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের সাধারণ ছুটির সময়ে নিম্ন আয়ের অনেকেরই আয় বন্ধ ছিল। আর সাধারণ ছুটির পর তাদের আয় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, কিছু শিল্পকারখানা ছাড়া এখন সবই বন্ধ। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়েছে, অনানুষ্ঠানিক খাতের লোকদের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা শহরেই বেশি। নতুন করে অনেক মানুষ দরিদ্র হয়েছে। সরকারকে এসব বিষয় মাথায় নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। এলাকাভিত্তিক অ্যাসেসমেন্ট করে সহায়তা করা যেতে পারে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, লকডাউনে নিঃসন্দেহে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল লোকেরা সমস্যায় পড়বে। দারিদ্র্য বাড়বে। এ সময় অবশ্যই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। লকডাউনের পর তাদের আয় সহায়তা দিতে হবে। এজন্য শ্রমঘন সরকারি কার্যক্রম বাড়াতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগ যাতে উৎসাহিত হয় এমন উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, অবশ্যই লকডাউনে দরিদ্রদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা মানুষ খাদ্যের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে আসবে। লকডাউনের ফল পাওয়া যাবে না। এজন্য সঠিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থদের তালিকা করে নগদ টাকা দিতে হবে। একইসঙ্গে লকডাউন-পরবর্তী সময়ে তাদের অনুদান হিসেবে পুঁজি দিতে হবে।

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে করোনার প্রভাবে দরিদ্র মানুষ খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। অনেকে সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছেন, ঋণ নিয়েছেন এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেছেন। আবার অনেকে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পথই খুঁজে পাননি। ফলে অনেকেরই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসার শংকা তৈরি হয়েছে।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক সাম্প্রতিক জরিপে বলা হয়েছে, গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারই আর্থিক সংকটে পড়ে। এক বছর পর এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এখনও এ সংকট থেকে বের হতে পারেনি। আয়ের সঙ্গে ব্যয় সমন্বয় করতে খাদ্য গ্রহণে আপস করে চলছে এসব মানুষের জীবন। প্রতিদিনকার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে অনেকে ঋণ করে চলছেন। অনেকের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। দশ ধরনের পেশার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত এক জরিপে এমন ফলাফল পেয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

এক হাজার ৬০০ পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের মার্চের তুলনায় গেল ফেব্রুয়ারিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় কমেছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময় তাদের ব্যয় কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। সমীক্ষার আওতায় থাকা প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারকে ঋণ নিতে হয়েছিল। এ ঋণ পরিশোধে তাদের আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, প্রতিবন্ধী, বস্তিবাসী ও চরের মানুষজনের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

নিউজ ট্যাগ: লকডাউন

আরও খবর



রোজা কবুল হওয়ার জন্য ৬ করণীয়

প্রকাশিত:শনিবার ২৪ এপ্রিল ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ২৪ এপ্রিল ২০২১ | ১০৯জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image
রোজাদার ব্যক্তি ইফতার ও সাহরিতে কম খাবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) কম খেতে উৎসাহিত করেছেন। রোজাদার ব্যক্তি যথাসম্ভব দিনের বেলা কম ঘুমাবে। এতে ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও দুর্বলতা বেশি অনুভূত হয়

সাধারণত পানাহার ও কিছু জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকাকে রোজা মনে করা হয়। কিন্তু এটাই রোজার শেষ কথা নয়, বরং রোজার কয়েকটি স্তর রয়েছে। প্রতিটি স্তরের মর্যাদায় রয়েছে তারতম্য। ইমাম গাজালি (রহ.) ইহয়াউ উলুমিদ্দিন গ্রন্থে রোজার তিনটি স্তর বর্ণনা করেছেন। ক. সাধারণের রোজা, খ. বিশেষ শ্রেণির রোজা, গ. অতি বিশেষ শ্রেণির রোজা।

ক. সাধারণের রোজা হলো পানাহার ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত থাকা।

খ. বিশেষ শ্রেণির রোজা হলো পেট ও লজ্জাস্থানের চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ, কান, জিহ্বা, হাত, পা অর্থাৎ তার সব অঙ্গ পাপমুক্ত রাখা।

গ. অতি বিশেষ শ্রেণির রোজা হলো নিজের অন্তরকে দুনিয়া ও তার মোহ মুক্ত করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে বিমুখ হওয়া।

ইমাম গাজালি (রহ.) রোজার তিন শ্রেণি উল্লেখ করে বলেন, প্রথম প্রকারের রোজা কোনো মুমিনের প্রত্যাশা হতে পারে না। আর তৃতীয় শ্রেণির রোজা দীর্ঘ সাধনার ব্যাপার। মুমিনের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্বিতীয় শ্রেণির রোজা পালন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় শ্রেণি তথা আল্লাহভীরু ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের রোজার ছয়টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেন। তা হলো

১. দৃষ্টি অবনত রাখা : আল্লাহ যার প্রতি তাকাতে নিষেধ করেছেন বা তিনি তাকানো অপছন্দ করেন, এমন সব কিছু থেকে দৃষ্টি অবনত রাখা। এবং সেসব বিষয় থেকেও দৃষ্টিকে সংরক্ষণ করা, যা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দৃষ্টি শয়তানের বিষাক্ত তীর। যে আল্লাহর ভয়ে দৃষ্টি সংরক্ষণ করবে, সে ঈমান ও তার মিষ্টতা লাভ করবে। (মুসনাদে হাকিম)

২. জিহ্বা সংযত করা : মিথ্যা, পরনিন্দা, অপবাদ, অশ্লীলতা, গালি ও অনর্থক কথা থেকে নিজের জবান সংরক্ষণ করা। মুজাহিদ (রহ.) বলেন, দুটি স্বভাব রোজার মাহাত্ম্য নষ্ট করে দেয়। মিথ্যা ও পরনিন্দা। (সিয়ারু আলামুন-নুবালা)

৩. কান সংরক্ষণ করা : আল্লাহর অপছন্দনীয় সব বিষয় থেকে নিজের কান সংরক্ষণ করা। গান-বাদ্য, মিথ্যা-পরনিন্দা, অর্থহীন গালগল্প থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মিথ্যা শ্রবণকারীর নিন্দা করে বলেছেন, তারা মিথ্যা শ্রবণকারী ও অবৈধ সম্পদ ভক্ষণকারী। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৪৬)

৪. অন্য অঙ্গগুলোকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখা : হাত-পাসহ বাকি অঙ্গগুলোকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে রাখা রোজাদারের জন্য আবশ্যক। যেমনঅন্যায়ভাবে কাউকে আঘাত করবে না, অন্যায় কাজে যাবে না এবং হারাম খাবার খাবে না। রোজার উদ্দেশ্য গুনাহ পরিহার করা। পাপ পরিহার না করলে রোজার কল্যাণ লাভ করা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কিছু রোজাদার এমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছাড়া তাদের আর কোনো প্রাপ্তি থাকে না। (মুসনাদে আহমদ)

৫. ইফতার ও সাহরিতে কম খাওয়া : রোজাদার ব্যক্তি ইফতার ও সাহরিতে কম খাবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) কম খেতে উৎসাহিত করেছেন। রোজাদার ব্যক্তি যথাসম্ভব দিনের বেলা কম ঘুমাবে। এতে ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও দুর্বলতা বেশি অনুভূত হয়। প্রতি রাতে সামান্য পরিমাণ হলেও তাহাজ্জুদ আদায় করবে, যেন তার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

৬. আশা ও ভয় নিয়ে ইফতার করা : ইফতারের সময় বান্দা রোজা কবুল হওয়ার এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় নিয়ে ইফতার করবে। কেননা আল্লাহ তাআলা রমজানে বান্দার প্রতি অনুগ্রহশীল হওয়ার ঘোষণা যেমন দিয়েছেন, ঠিক তেমনি পাপ মার্জনা করাতে না পারলে শাস্তিরও ঘোষণা দিয়েছেন। কেননা ঈমান আশা ও ভয়ের মধ্যবর্তী অবস্থানের নাম।

ছয়টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করার পর ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, এই ছয়টি হলো সেই আমানত, যা রক্ষা করতে হাদিসে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই রোজা আমানত। তোমরা তোমাদের আমানত রক্ষা করো। (বিস্তারিত দেখুন : ইহয়াউ উলুমিদ্দিন : ১/৪৫৪-৪৫৯)

নিউজ ট্যাগ: রোজা

আরও খবর
আগামীকাল সৌদিতে ঈদ

বুধবার ১২ মে ২০২১