আজঃ বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
শিরোনাম

চীনের বিকল্প হয়ে ওঠার পথে ভারতের অগ্রযাত্রা

প্রকাশিত:বুধবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:বুধবার ২৫ জানুয়ারী ২০২৩ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি এ মুহূর্তে সর্বোচ্চে রয়েছে। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটির অর্থনীতি। এমন একটি সময়ে ভারত সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে যখন বিশ্বের উৎপাদকরা চীনের বিকল্প কিছু খুঁজতে শুরু করেছেন। আর এ সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করতে চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এ লক্ষ্যে ভারত সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটের ২০ শতাংশ ব্যয় করছে মূলধনি বিনিয়োগে। এ বিনিয়োগের পরিমাণ দেশটির এক দশকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ হিসেবে চীনকে অতিক্রম করেছে ভারত।

এখন মোদি সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক দিক দিয়েও চীনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া। আর এ কাজে যদি তিনি সফল হন তাহলে পূর্বসূরিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন তিনি। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে নিজের দেশের কিছু ত্রুটির সঙ্গে লড়াই করতে হবে নরেন্দ্র মোদিকে। এর মধ্যে অন্যতম হলো লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইনফোসিস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নীলকানি বলেন, ভারত এখন বিপুল পরিবর্তন প্রক্রিয়ার চূড়ায় রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পুরনো অনেক কিছুই দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। এখন মানুষ বিনিয়োগের সবচেয়ে ভালো স্থানটি খুঁজে বের করতে চায়। অথচ গত ১৫ বছরেও ভারতের এ বিষয়ে আগ্রহ দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১৪ সালেই তিনি মেক ইন ইন্ডিয়া শীর্ষক প্রচার শুরু করেন।

যা অনেকটা ছিল চীন, সিঙ্গাপুর বা দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের অনুকরণ। এ দেশগুলো উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশের কাতারে উঠেছিল। দেশগুলো বিশ্ব চাহিদার কথা মাথায় রেখে পণ্য উৎপাদন করত। এ লক্ষ্য পূরণে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোরও দিয়েছিল ভারত। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তির ভাষণে নরেন্দ্র মোদি বলেন যে ভারত বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ২৫ বছরের মধ্যে ভারত উন্নত দেশে পরিণত হতে চায়।

সরবরাহ চেইনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বরং ভারতের জন্য অনুকূল হয়েছে। কারণ জিরো কভিড নীতির কারণে চীননির্ভরশীলতা কমাতে শুরু করেছে অনেক কোম্পানি। বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির নেয়া চায়না প্লাস ওয়ান কৌশলের বড় সুবিধাভোগী হতে পারে ভারত ও ভিয়েতনাম। এরই মধ্যে অ্যাপলের মূল তিন তাইওয়ানিজ সরবরাহকারী মোদি সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা পেয়েছে। এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানো হবে। এরই মধ্যে গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরে আইফোনের দ্বিগুণ চালান গেছে।

চীন ও জার্মানির মতো উৎপাদন সক্ষমতার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই নতুন উৎপাদন ক্ষেত্র খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলির পূর্বাভাস বলছে, চলতি দশকে ভারতের বার্ষিক উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি এমন জায়গায় পৌঁছবে যে ৪০ হাজার কোটি ডলারের বেশি আয় করতে সক্ষম এমন তিনটি দেশের একটি হবে দেশটি।

তবে এ লক্ষ্য পূরণে ভারতে যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা কিছু ব্যবস্থার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদিকে লড়াই করতে হবে। যার অন্যতম হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। ক্ষমতা গ্রহণের সময় অবশ্য এসব প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। কথা ছিল, ভারত হবে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ। এসব লক্ষ্য শতভাগ পূরণ না হলেও অবকাঠামো খাতে এগিয়েছে ভারত। বিস্তৃত হয়েছে সড়কপথে যোগাযোগ, আকাশে অভ্যন্তরীণ পথে যাত্রী সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের লাখো মানুষকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আওতায় আনা গেছে। তবে একই সময়ে সম্পদে বৈষম্য বেড়েছে বলেও একটি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব স্যানাল বলেন, ভারত সরকার এখন নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দিচ্ছে। যেন সব ভারতীয় সমান সুযোগ পায় এবং দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে। চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে ভারত সরকার আগামী কয়েক বছরে অনেকগুলো শিল্প খাতে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি প্রণোদনা দিতে যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু অর্থ ব্যয় হবে উইস্ট্রন করপোরেশনের মোবাইল ফোন সেট উৎপাদনে, হন হাই প্রেসিশন ইন্ডাস্ট্রির চিপ উৎপাদনে এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সৌরবিদ্যুতের প্যানেল তৈরিতে। এর পরের ধাপ হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ উৎপাদকে পরিণত হতে উৎপাদন সক্ষমতা বা ব্যাপ্তি বাড়ানো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবেই ধাপে ধাপে চীনের বিকল্প হয়ে ওঠার পথে এগোচ্ছে ভারত।

নিউজ ট্যাগ: ভারত

আরও খবর
সৌদি আরবে এক দিনে সাতজনের শিরশ্ছেদ

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সময় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

প্রকাশিত:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

Image

ভুয়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, সরকার এরই মধ্যে এসবের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। আশা করি, আপনারা এ ব্যাপারে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে চতুর্থ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন-২০২৪ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারভেনশনাল একাডেমি এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

রাষ্ট্রপতি চিকিৎসকদের সংবেদনশীলতা ও উদারতার সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসা করতে এবং রোগীর মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষায় সর্বোচ্চ যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।

সাহাবুদ্দিন বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, যত নতুন নতুন রোগের আবির্ভাব হচ্ছে, চিকিৎসা বিজ্ঞান সেগুলোকে প্রতিরোধ করতে এগিয়ে যাচ্ছে।

চিকিৎসাবিষয়ক শিক্ষা, চিকিৎসা, সেবা ও গবেষণা কার্যক্রমে গতিশীলতা এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রকৃতি মাথায় রেখে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

হৃদরোগ, ক্যানসার, এইডসসহ অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জনগণের দোরগোড়ায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রত্যেক নাগরিকের জন্য দূষণমুক্ত, পরিবেশবান্ধব স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করার মাধ্যমে কল্যাণমূলক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা।

দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি, বেসরকারি খাত ও চিকিৎসকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তারা (গরীবরা) যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয় বা অর্থের অভাবে অবহেলিত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, ইন্টারভেনশনাল একাডেমির কোর্স চেয়ারম্যান ডা. রাজেশ এম দেব, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এবং বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস মোস্তফা জামান প্রমুখ।


আরও খবর



চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

রমজানের আগে সরকারি চিনির দাম কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। এর কয়েক ঘণ্টা পরই চিনির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল শিল্প মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, রমজান মাস ও জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে সরকার। ফলে পূর্বের নির্ধারিত কেজি প্রতি সর্বোচ্চ খুচড়া মূল্য ১৪০ টাকা বহাল রইলো।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা আজ রাতে এ তথ্য জানান।

এর আগে আজ সকালে খুচড়া পর্যায়ে প্যাকেটজাত চিনি কেজি প্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৬০ টাকা কেজি নির্ধারণ করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন নোটিশ জারি করে।

বিএসএফআইসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চিনির বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএসএফআইসি উৎপাদিত চিনির বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে করপোরেশনের ৫০ কেজি বস্তাজাত চিনির মিলগেট বিক্রয়মূল্য ১৫০ টাকা (এক কেজি) ও ডিলার পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ১৫৭ টাকা (এক কেজি) নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া করপোরেশনের এক কেজি প্যাকেটজাত চিনির মিলগেট বা করপোরেট সুপারশপ বিক্রয়মূল্য ১৫৫ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন সুপারশপ, চিনি শিল্প ভবনের বেজমেন্টে ও বাজারে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৬০ টাকা।

প্রসঙ্গত, সবশেষ প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনির দাম ১৪০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিএসএফআইসি।


আরও খবর
কোম্পানির রিটার্ন জমার সময় বাড়ল দুই মাস

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




সংরক্ষিত নারী আসনে সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জোটভুক্ত আওয়ামী লীগের ৪৮টি এবং জাতীয় পার্টির ২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, বাছাইয়ে কারো নাম বাদ না পড়লেও বৈধ মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে কেউ চাইলে আপিল করতে পারবেন। আর ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী আপিল নিষ্পত্তির জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি সচিব আরও জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যারের শেষ দিন রাখা হয়েছে। এরপর কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে বৈধ প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।


আরও খবর



অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা চসিক

প্রকাশিত:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
রাহুল সরকার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Image

অবৈধ দখলে থাকা ফুটপাত উদ্ধারে অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

মঙ্গলবার নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউটে চসিকের নির্বাচিত ষষ্ঠ পরিষদের ৩৬তম সাধারণ সভায় নগরীর ফুটপাথ দখল নিয়ে ক্ষোভমিশ্রিত আলোচনা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে চসিক মেয়র বলেন, নগরীর ফুটপাত দখল জনগণের জন্য অসহনীয় হয়ে গেছে। মানুষ স্বস্তিতে হাটতে পারবেনা, মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারবেনা তা হতে পারেনা। আমরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সাথে সভা করেছি। দখল হওয়া ফুটপাত উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি পে-পার্কিং চালুসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের কারণে আমাদের অভিযান পরিচালনা কার্যক্রম কিছুটা কম ছিল। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে অভিযান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। 

এসময় অভিযান পরিচালনা সম্পর্কে মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাবাজারে অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও সড়ক উদ্ধার করেছিলাম। প্রায় দুমাস উদ্ধার হওয়া স্থান উন্মুক্ত ছিল। তবে এরপর আবারো সে জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। এজন্য আমরা জায়গা উদ্ধার করলে সংশ্লিষ্ট থানাগুলো যদি নিয়মিত মনিটরিং করে তাহলে নগরীর ফুটপাত ও সড়ক উন্মুক্ত রাখা সম্ভব। মেয়র মহোদয়ের নির্দেশ বাস্তবায়নে আগামী সপ্তাহে স্টেশন থেকে ফলমন্ডির রাস্তাটা আমরা উচ্ছেদ করব। প্রয়োজনে পুলিশ-আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে যে কোন মূল্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করব।

সভায় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, চসিকের কাজ রাস্তা, ফুটপাত, নালা বানানো। এগুলো যাতে বেদখল না হয় সেজন্য পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। নগরীর যানজট কমাতে আমরা আগ্রাবাদে পরীক্ষামূলকভাবে পে-পার্কিং চালু করছি। নগরীতে ৭৫ হাজার রিকশার লাইসেন্স আছে, আরো ২০ হাজার লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন আছে। কিন্তু রিকশা চলছে ৩ লক্ষাধিক। নগরীর মূল সড়কে রিকশা বন্ধেও উদ্যোগ নেয়া হবে।

সিডিএর জলাবদ্ধতা প্রকল্প প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসণ প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে হচ্ছে। আমি প্রকল্পের এলাকাগুলোতে পরিদর্শন করে দেখেছি  চাক্তাই খাল, বিরজা খালসহ বিভিন্ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাটি জমে আছে। এ মাটি উত্তোলন করা না হলে এ বছরও নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এজন্য বর্ষাকাল আসার আগেই নালা-খালের মাটি উত্তোলন করতে হবে।

সভায় ট্রাফিক বিভাগের এডিসি মো. কাজী হুমায়ুন রশীদ বলেন, হকার উচ্ছেদে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমানে কিছু এলাকায় ফুটপাত পুরোপরি দখল হয়ে গেছে। একারণে অনেক মানুষকে ফুটপাতে জায়গা না পাওয়ায় রাস্তাায় হাটতে হচ্ছে যা দুর্ঘটনা ও জ্যাম বাড়াচ্ছে। পর্যাপ্ত জ্যাব্রাক্রসিং না থাকার কারণে পথচারীরা সমস্যায় ভুগছেন। পর্যাপ্ত জ্যাব্রাক্রসিং নির্মিত হলে যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে। নগরীতে দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে মোড়গুলোতে। আমরা যদি পরিকল্পনামাফিক মোড়গুলোকে গড়তে পারি তবে দীর্ঘমেয়াদে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে। বর্তমানে যে সমস্ত গাড়িকে আইনভঙ্গের জন্য আটক করা হয় সেগুলোকে রাখার জন্য পুলিশের ডাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন। চসিক এধরনের গাড়ির জন্য ডাম্পিং স্টেশন করলে নগরীতে যানজট হ্রাস পাবে এবং আটককৃত গাড়ির ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে।

সভায় একাধিক কাউন্সিলর চসিকের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কাউন্সিলরদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দাবি জানালে চসিকের প্রকৌশল বিভাগের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুমে ২ মাস কাজ করা যায়না। এজন্য শুষ্ক মৌসুমেই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

রাস্তা ঢালাই ও কাজের সময় কাউন্সিলর, সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, সুপারভাইজারগণ উপস্থিত থাকেনা এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। কাজের মান নিশ্চিত করতে ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সাথে আলাপ করে প্রাধিকারের ভিত্তিতে টেন্ডার দিতে হবে এবং কাজ চলাকালে এলাকায় সাইনবোর্ডে কাজের বিবরণ থাকতে হবে। যাতে কাজের স্বচ্ছতার বিষয়ে জনগণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।

কোন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে জরিমানা করা হবে, প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করা হবে। কাজ নিম্নমানের হলে, কাজ শেষ না করে ফেলে রাখলে ঠিকাদারকে বাদ করে দিব। পিসি রোডের ঠিকাদার কাজ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার পর যেভাবে কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শেষ করেছি সেভাবে সময়মতো প্রকল্প শেষ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করব বলে মেয়র জানান।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতায় বিমানবন্দর সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ১৭ শতাংশ বলে জানান উপ-প্রকল্প পরিচালক জসিম উদ্দিন।

সভায় বিগত সাধারণ সভার কার্যবিবরণী, দরপত্র কমিটির কার্যবিবরণী এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরণী অনুমোদিত হয়। স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতিগণ তাদের নিজ নিজ স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যবিবরণী পেশ করেন। সভায় চসিকের সচিব খালেদ মাহমুদ, প্যানেল মেয়রবৃন্দ, কাউন্সিলরবৃন্দসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ এবং নগরীর বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর
সিলেট নগরী থেকে গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামীকাল (শুক্রবার) শুরু হতে যাচ্ছে। এদিন বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, এ বছর কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে ২ হাজার ৯৩৪টি আসনের বিপরীতে মোট আবেদন করেছেন এক লাখ ১২ হাজার ২৭৪ শিক্ষার্থী। সে হিসেবে একটি আসনের বিপরীতে লড়বেন ৩৮ জন। তবে গতবারের চেয়ে এবার এই ইউনিটে আবেদন কম পড়েছে সাড়ে ১০ হাজার ৬০৮টি। এতে করে এক আসনের বিপরীতে আবেদন কম পড়েছে ৪টি।

পরীক্ষায় সময় থাকবে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এর মধ্যে ৬০ নম্বরের এমসিকিউ অংশের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪৫ মিনিট। ৪০ মার্কের লিখিত অংশের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪৫ মিনিট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ঢাবির চারটি ইউনিটে ৫ হাজার ৯৬৫টি আসনের বিপরীতে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার জন্য এবার মোট আবেদন পড়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬টি। সে হিসেবে আসনপ্রতি ভর্তি হতে চান ৪৭ জন। আইবিএ অনুষদসহ মোট ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিট তথা বিজ্ঞান ইউনিটে আসন রয়েছে এক হাজার ৮৫১টি। এ জন্য আবেদন করেছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮২ জন। আসনপ্রতি ৬৬টি আবেদন পড়েছে। ইউনিট তথা ব্যবসায় শিক্ষায় ১ হাজার ৪০টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৩৭ হাজার ৬৮১টি।

'চ ইউনিট তথা চারুকলা ইউনিটে আসন রয়েছে ১৩০টি। মোট আবেদন পড়েছে ৭ হাজার ৩৮টি। আসনপ্রতি আবেদন করেছেন ৫৪ জন।


আরও খবর