আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

চেয়ারম্যান প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন, ৭ পাতিল খিচুড়ি জব্দ

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মামুন হোসেন, পাবনা

Image

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে খিচুড়ি রান্না করায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসময় ৭ পাতিল খিচুড়ি জব্দ করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন খান এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এমদাদুল হক রানা সরদারের সমর্থনে শুক্রবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় পাকশী ইউনিয়নের দিয়ার বাঘইল গ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম ভাদুর বাড়িতে নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশে উপস্থিত ভোটারের জন্য খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন করা হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উপজেলা আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান ওই বাড়ির পাশের খোলায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ৭ পাতিল খিচুড়ি জব্দের পাশাপাশি তরিকুল ইসলাম ভাদুকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা আচরণবিধি ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসেন খান খিচুড়ি জব্দ ও জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সমাবেশের জন্য ভাদুর বাড়ি পাশের খোলায় খিচুড়ি রান্না হয়েছিল। পরে জব্দকৃত খিচুড়ি পাকশী ফুরফুরা শরীফ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত: গত ১৩ মে আনারস প্রতীকের সমর্থনে শোডাউন ও মিছিল করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ১৪ মে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন শোকজ করেন। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে প্রার্থী এমদাদুল হক রানা সরদার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। রিটার্নিং অফিসার প্রথমবারের মতো ক্ষমা করেন।


আরও খবর



বিশ্বকাপে পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে উগান্ডার ইতিহাস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

Image

প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে উগান্ডা। আর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই ইতিহাস রচনা করল আফ্রিকার দেশটি। পাপুয়া নিউগিনিকে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেল তারা।

গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে আজ সি গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় পাপুয়া নিউগিনি ও উগান্ডা। বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় শুরু হয় ম্যাচটি। যেখানে প্রথমে ব্যাট করতে নামা পাপুয়া নিউগিনিকে ৭৭ রানে গুটিয়ে দিয়ে অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করে উগান্ডা। জবাবে ৭ উইকেট হারিয়ে ও ইনিংসের ১০ বল বাকি থাকতে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় তারা।

৭৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উগান্ডাও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায়। তবে ব্যতিক্রম ছিলেন রিয়াজাত আলী শাহ। দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে মাটি কামড়ে ব্যাটিং করে যান। শেষ দিকে আউট হলেও দলকে জয়ের ভীত গড়ে দেন। তিনি ৫৬ বলে ১টি চারে ৩৩ রান করেন। এছাড়া জুমা মিয়াগি ১৩ রান করেন।

পাপুয়া নিউগিনির বোলারদের মধ্যে আলেই নাও ও নোরমান ভানুয়া ২টি করে উইকেট দখল করেন।

টস হেরে এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে উগান্ডার বোলারদের তোপে আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত থাকে উগান্ডার বোলাররা। সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন হিরি হিরি। এছাড়া লেগা সিয়াকা ও কিপলিন দোরিগা ১২ রান করে করেন।

উগান্ডার বোলারদের মধ্যে আলপেশা রামজানি, কোসমাস কেউতা, মিয়াগি ও ফ্রাঙ্ক সুবুগা ২টি করে উইকেট পান।


আরও খবর



গুচ্ছে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

গুচ্ছ ভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। গত ২০ মে শুরু হওয়া ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ পছন্দক্রম সহ ভর্তি আবেদনের শেষদিন ছিল আজ মঙ্গলবার। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে এই আবেদন প্রক্রিয়া একদিন বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২৮ মে) গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড.আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজই আবেদনের শেষ সময় ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে অনেক জায়গায় ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা আবেদনের সময়সীমা একদিন একদিন বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে এ ইউনিট ( বিজ্ঞান) অনুষদের পরীক্ষা ২৭ এপ্রিল, বি ইউনিট ( মানবিক) অনুষদের পরীক্ষা ৩ মে ও সি ইউনিট ( বাণিজ্য) অনুষদের পরীক্ষা ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটি জানান এবার নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হবে পহেলা আগস্ট থেকে।

গুচ্ছভুক্ত ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও খবর



লিচুতে রঙিন ঈশ্বরদী, তবুও কৃষকের মুখে নেই হাসি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

Image

লিচুর রাজধানী খ্যাত পাবনার ঈশ্বরদীর লিচু বাজারগুলো লাল টস টসে লিচুতে রঙিন হতে শুরু করেছে। তবুও কৃষকের মুখে নেই হাসি।

মঙ্গলবার (২১ মে) ঈশ্বরদীর সবচেয়ে বড় লিচু বেচাকেনার হাট জয়নগর শিমুলতলাসহ আওতাপাড়া, দাশুড়িয়া, সিলিমপুর লিচু বাজার ঘুরে দেখা যায় ভোর থেকেই বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা, আড়তদার ও ফড়িয়া লিচু ব্যবসায়ীদের আনাগোনা। তাছাড়া লোকাল ক্রেতা তো আছেই। পাইকারী ব্যবসায়ীরা ঈশ্বরদীর লিচু পৌঁছে দিচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। দেশি জাতের পাশাপাশি বোম্বাই জাতের লিচুও উঠতে শুরু করেছে বাজারে।

চরমিরকামারী গ্রামের লিচু চাষী ইমদাদুল সরদার এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার নিজস্ব কয়েকটি লিচু বাগান রয়েছে। তাছাড়া আরো ৩টি লিচু বাগান মুকুলসহ কিনেছি। লিচুর গুটি আসার পর থেকেই টানা একমাস ঈশ্বরদীতে তীব্র তাপপ্রবাহ ছিল। তাপমাত্রা অধিক হওয়ায় লিচু পাকার এক সপ্তাহ আগে হলুদ ও লালচে রং ধারণের সময় লিচুর ওপরের আবরণ কালচে হয়ে ফেটে যেতে শুরু করে। এবার আকারও ছোট হয়েছে।

নওদাপাড়া গ্রামের লিচু চাষী ও ব্যবসায়ী সজিব হোসেন বলেন, অনাবৃষ্টি এবং নিম্নমানের সার কীটনাশক প্রয়োগের কারণে লিচুর মান ঠিক পর্যায়ে আসেনি। এবার লিচু চাষীদের লোকসান গুনতে হবে।

আওতাপাড়া এলাকার কয়েকজন লিচু চাষীর সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা বা উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তাদের কোন প্রকার পরামর্শ বা সহযোগীতা আমরা পাইনি। সারের ডিলাররা যে পরামর্শ দেয় সেই ভাবেই আমরা চাষ করি। নিম্নমানের সার ও কীটনাশক বাজারে থাকায় আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লিচু চাষী আব্দুল জলিল কিতাব বলেন, এবার অনাবৃষ্টির কারণে লিচুর ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। রং বিবর্ণ হয়ে গেছে। বেশ কিছু লিচু নষ্ট হয়ে ফেটে যাচ্ছে। ৫০ হাজার লিচু বাগান থেকে সংগ্রহ করেছি। এর মধ্যে ১০ হাজার লিচু ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবছর ঈশ্বরদীতে তিন হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। লিচুর জাতের মধ্যে রয়েছে মোজাফ্ফর (দেশি), বোম্বাই ও চায়না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার জানান, প্রচন্ড তাপপ্রবাহ থেকে লিচুকে রক্ষা করতে চাষীদের সেচ ও কীটনাশক ব্যবহার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন আমাদের উপ-সহকারী কর্মকর্তাগণ। যারা নিয়মিত সেচ দিয়েছেন তাদের লিচুর ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে। অসাধু কীটনাশক ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি।

নিউজ ট্যাগ: ঈশ্বরদী লিচু

আরও খবর



ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকে নতুন অভিযোগ

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

নোবলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এবার তার বিরুদ্ধে নিজ ও পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্যাকেজেস কর্পোরেশন লিমিটেডকে বেআইনিভাবে সাড়ে ৯ কোটি টাকা ঋণ প্রদান, ঋণ মওকুফ ও কার্যাদেশ প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (২৬ মে) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর কাছে গ্রামীণ ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) প্রদীপ কুমার কুমার সাহা এ অভিযোগ দেন। এ সময় ব্যাংকটির আইন উপদেষ্টা মাসুদ আখতারসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ দায়ের প্রসঙ্গে প্রদীপ কুমার কুমার সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রায়ই বলে থাকেন তিনি গ্রামীণ ব্যাংক থেকে কখনো ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুবিধা গ্রহণ করেননি। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে নিজ পারিবারিক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামে অবস্থিত প্যাকেজেস কর্পোরেশন লিমিটেডকে দাতা সংস্থার শর্ত লঙ্ঘনপূর্বক গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় আনা এবং ওই প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করার বিষয়ে আপত্তি উত্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক তার বাবা দুলা মিয়া, তিনি নিজে এবং তার অপর দুই ভাই আব্দুস সালাম ও মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

এছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রিভিউ কমিটির প্রতিবেদন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত স্বনামধন্য নিরীক্ষা ফার্ম কর্তৃক ১৯৮৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৪০ বছরের কমপ্রিহেনসিভ নিরীক্ষা রিপোর্টে প্যাকেজেস কর্পোরেশনকে বেআইনিভাবে ঋণ প্রদান, ঋণ মওকুফ ও কোটি কোটি টাকার কার্যাদেশ প্রদান সম্পর্কিত ব্যাপক দুর্নীতির দালিলিক তথ্য পাওয়া গেছে। যেখানে অরিজিনাল ভাউচার, অ্যাডভাইস, ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক ঋণ ও বিলের অনুমোদন পত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বলেন ডিএমডি প্রদীপ।

তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকাকালীন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে আইন ভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্বের চূড়ান্ত অবমাননা করে ১৯৯০ সাল থেকে পারিবারিক ছাপাখানা প্রতিষ্ঠান প্যাকেজেস কর্পোরেশনকে সাড়ে ৯ কোটি টাকা অবৈধ সুবিধা প্রদান করেছেন।

গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-১৯৮৩ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ সুবিধা শুধু ভূমিহীন দরিদ্র ঋণগ্রহীতাদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও তিনি আইন ভঙ্গ করে তার পরিবারিক রুগ্ন ও লোকসানি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজেস কর্পোরেশনকে বিপুল অংকের ঋণ প্রদান করেছেন। পরে প্রতিষ্ঠানটি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সুদ, এমনকি আসলেরও কিছু অংশ সুকৌশলে মওকুফ করিয়ে নিয়েছেন।

প্রদীপ কুমার বলেন, পরিচালানা পর্ষদের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রামীণ ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ দেন এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের অফিস বিনাভাড়ায় ব্যবহার করেন। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই দর নির্ধারণী কমিটি গঠন করেন। তিনি নিজের প্রণীত ও স্বাক্ষরিত গ্রামীণ ব্যাংক ক্রয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের মালিকানাধীন পারিবারিক প্রতিষ্ঠানকে কোনো প্রকার প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান ছাড়াই উচ্চদরে গ্রামীণ ব্যাংকের কোটি কোটি টাকার প্রিন্টিং সামগ্রী ছাপানোর কার্যাদেশ প্রদান করেছেন। এভাবে নিজে ও পরিবারিকভাবে বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। আজ এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করে ন্যায়বিচার দাবি করছি।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম, এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম।

এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ মে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ছয় হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।


আরও খবর



নীতিশ-নাইডুর সঙ্গে যোগাযোগ করছে কংগ্রেস

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৪ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

সদ্যই শেষ হওয়া লোকসভার নির্বাচনে এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। দেশটির নির্বাচন কমিশনে প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মোদির বিজেপি এবার এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। ফলে সরকার গঠনে তাকে জোট গড়তে হবে।

আর বিজেপির এই জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তার কারণে ভারতের রাজনীতিতে হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন মোদির জোটের বিহারভিত্তিক জনতা দল-ইউনাইটেডের (জেডি-ইউ) প্রধান নেতা নীতীশ কুমার। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন মোদির জোটের আরেক দল তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু।

সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিহারে ১৫টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে নীতিশের দল। সরকার গঠনের জন্য এখন নীতিশকে প্রয়োজন হবে মোদির। আর এ বিষয়টি মাথায় রেখে নীতিশ এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মোদির সবচেয়ে বড় বিরোধী দল কংগ্রেস।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, কংগ্রেসের প্রধান নিজে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মূলত তাদের সঙ্গে যোগ দিতে এই দুজনকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তবে একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে তাদের আপাতত অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে মোদির সরকার গঠন নিয়ে এ মুহূর্তে কোনো শঙ্কা নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৩৪টি আসনের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ঘোষিত ৩৩৪টি আসনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি পেয়েছে ১৬৩টি আসন। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল রাহুল গান্ধীর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস পেয়েছে ৬৬টি আসন। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৪টি আসন পেয়েছে সমাজবাদী দল। আর বাকি আসনগুলো পেয়েছে অন্যান্য দলগুলো।

ভারতে কোনো দল যদি এককভাবে সরকার গঠন করতে চায় তাহলে তাদের ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনে জয় পেতে হবে। তবে মোদির বিজেপি এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফলে তাদের এখন সরকার গঠন করতে হবে এনডিএ জোটে থাকা অন্যান্য দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে। গত নির্বাচনেও বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট সরকার গঠন করেছিল। কিন্তু সেবার বিজেপি একাই ৩০২টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। ফলে তারা চাইলে জোট ছাড়াই সরকার গঠন করতে পারত। কিন্তু এবার তাদের আর সেই সুযোগ নেই।


আরও খবর