আজঃ বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
শিরোনাম

ছিনতাইকারীদের গুলিতে এজেন্ট ব্যাংকের মালিক নিহত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৬ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৬ আগস্ট ২০২১ | ৬১৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

গাংনীর গাঁড়াডোব-আমঝুপি সড়কের খোকসা ও গাঁড়াডোব মাঠের মধ্যে ছিনতাইকারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন কোমরপুর সিটি ব্যাংকের এজেন্ট ও তন্নি হার্ডওয়্যারের স্বত্বাধিকারী খাদেমুল ইসলাম (৩২)।

বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

খাদেমুল ইসলাম মেহেরপুর সদর উপজেলার যতারপুর গ্রামের মিনারুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় ৪৬ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে গাংনী থানা পুলিশ।

খাদেমুল ইসলাম মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর বাজারে স্থাপিত সিটি ব্যাংকের এজেন্ট মালিক ও তন্নি হার্ডওয়ারের স্বত্বাধিকারী।

খাদেমুল ইসলামের ছোট ভাই রানা জানান, ৪৬ লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে আমঝুপি-গাঁড়াডোব সড়ক ধরে গাংনী যাচ্ছিলেন খাদেমুল। তিনি আমঝুপি-গাঁড়াডোব সড়কের খোকসা ও গাঁড়াডোব গ্রামের মাঠের মধ্যে পৌঁছানো মাত্র পেছন থেকে মোরসাইকেলে আসা দুইজন দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। তখন খাদেমুল ইসলামের সঙ্গে দুইজন দুর্বৃত্তের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা খাদেমুলকে পিছনে গুলি করে। এসময় খাদেমুল রস্তায় পড়ে চিৎকার শুরু করেন। এসময় একটি পাখি ভ্যান আসতে দেখে দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, খাদেমুল টাকাগুলো সিটি ব্যাংকের গাংনী এজেন্টে জমা দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রহমান জানান, স্থানীয়রা খাদেমুলকে মুমূর্ষু অবস্থায় টাকার ব্যাগসহ উদ্ধার গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তার কাঁধে থাকা ব্যাগ থেকে ৪৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে।

এদিকে খবর পেয়ে মুজিবনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মহাজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, গাংনী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা গাংনী থানায় খোঁজ নেন।


আরও খবর



মুম্বইয়ে কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন দিতিপ্রিয়া?

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৩৭০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

একই মাসে দুবার মুম্বই যাওয়া, তিন-চার দিন ধরে টিনসেল নগরীতে সময় কাটানো, কিন্তু কেন যাওয়া, তার কারণ বলা বারণ। বৃহস্পতিবার দিতিপ্রিয়া রায়ের পোস্ট করা ছবির ফলে খানিকটা ধোঁয়াশা কেটে গেল। বলি অভিনেতা এবং কাস্টিং ডিরেক্টর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। তার মানে স্ত্রী ছবির অভিনেতার সঙ্গে অভিনয় করছেন দিতিপ্রিয়া?

দিন কয়েক ধরেই দিতিপ্রিয়া তাঁর ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিয়ো পোস্ট করছেন। যা থেকে স্পষ্ট, তিনি মুম্বইয়ে কোনও শ্যুটিং করছেন। ছবি না ওয়েবসিরিজ, নাকি অন্য কিছু, সে বিষয়ে ধোয়াঁশা কাটেনি। ছবির সঙ্গে দিতিপ্রিয়া লিখেছেন, ভাইবোনের সঙ্গে কী ভাবে ঝগড়া করতে হয়, তা শিখছি। কথায় বোঝা গেল, দাদা-বোনের চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিষেক এবং দিতিপ্রিয়া।

দিতিপ্রিয়া বললেন, আমি এখনই কিছু বলতে পারব না। তবে হ্যাঁ, অভিষেকের সঙ্গে প্রথম দিন দেখা হতেই মনে হল যেন বহু দিনের পরিচিত। ভীষণ সাদামাঠা মানুষ অভিষেক। এত বড় মাপের অভিনেতা, কিন্তু মাটির মানুষ। কাজ করে খুব ভাল লাগছে।

 


আরও খবর
হাইকোর্টে জামিন পেলেন মডেল মৌ

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

আমার পছন্দের পুরুষকে একটু রাফ হতে হবে

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১




তালেবান নেতাকে চ্যালেঞ্জ আদনান সামির

প্রকাশিত:সোমবার ৩০ আগস্ট ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ৩০ আগস্ট ২০২১ | ৪৮৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

কাবুলের বুকে এখন তালেবানদের উত্তপ্ত নিঃশ্বাস। অনেক নাগরিকই তাদের জীবন ও ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত। তালেবানের ভয়ে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির নাগরিকেরা মনে করছেন তালেবানের কট্টর শাসনের মুখে চ্যালেঞ্জে পড়ে যাবে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রাশিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের লোকেরাও আছেন আতঙ্কে।

এদিকে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইসলামে সংগীত নিষিদ্ধ। তাই আশা করছি, আমরা লোকজনকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার বিষয়টি বোঝাতে পারব, তবে চাপ প্রয়োগ করে না।

জাবিউল্লাহ মুজাহিদের এমন বক্তব্যে তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় সংগীত তারকা আদনান সামি।

গেলো রবিবার (২৯ আগস্ট) যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের একটি খবর নিজের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, প্রিয় জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ, আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি এটা দেখান যে পবিত্র কোরানের কোথায় উল্লেখ আছে সংগীত হারাম বা ইসলাম পরিপন্থি! এটাও আমাকে দেখান যে কোনো একটা হাদীস, যেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) এমন কিছু উল্লেখ করেছেন। কোথাও নেই।

আদনান সামির এই পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে। নজর কেড়েছে নেটাগরিকদের। সেখানে অনেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকে আদনান সামির পক্ষে মত প্রকাশ করলেও কেউ কেউ তার ইসলামিক জ্ঞান ও জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন আদনান সামি। বড় হওয়া এবং পড়াশোনা ইংল্যান্ডেই। তার বাবা আরশাদ সামি খান ছিলেন পাশতুন প্রজাতির। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর পাইলট আরশাদ পরে কূটনীতিক হন। ১৪টি দেশে তিনি পাকিস্তানের দূত হয়ে কাজ করেছেন। আদনান সামির মা নৌরিন ছিলেন জম্মু কাশ্মীরের মেয়ে। ২০০১ সালে থেকে পর্যটক ভিসায় ভারতে থেকেছেন আদনান সামি। ২০১৫ সালে তিনি ভারত সরকারের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করেন। ২০১৬ সালে তার আবেদন মঞ্জুর হয়। তাকে বলা হয় সঙ্গীতের সুলতান।

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে তালেবান শাসনকালে দেশটিতে সংগীত, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র কড়াভাবে নিষিদ্ধ ছিল। আর কেউ এই নিয়ম অমান্য করলে তাকে গুরুতর শাস্তি পেতে হতো।


আরও খবর
হাইকোর্টে জামিন পেলেন মডেল মৌ

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

আমার পছন্দের পুরুষকে একটু রাফ হতে হবে

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১




ময়মনসিংহে একদিনে আরও ৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:শনিবার ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪৯৫জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তে কোনো রোগী মারা না গেলেও উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে ময়মনসিংহে ছয়জন এবং জামালপুরের একজন রয়েছেন। গত আগস্ট মাসে এ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনা ও উপসর্গে ৪১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে করোনা ও উপসর্গে ৪৮২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

করোনা উপসর্গে মৃত ব্যক্তিরা হলেন- ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আনোয়ারা (৪০), সাহেব আলী (৮০), মো. জিসান (১৬), ভালুকা উপজেলার হাসমত আলী (৭৫), ফুলবাড়িয়া উপজেলার আবুল হোসেন (৭০), নান্দাইল উপজেলার শাহনাজ (৪০) এবং জামালপুর সদরের নাসিমা (২২)।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডেও ফোকাল পারসন মহিউদ্দিন খান জানান, করোনা ডেডিকেটেড ইউনিটে নতুন ১৪ জনসহ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ১৩৭ রোগী ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে আইসিউতে আটজন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়াও সুস্থ হয়ে ১৭ জন হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন।

এদিকে সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৩৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত ২১ হাজার ২৯৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১৯ হাজার ৩২৭ জন।



আরও খবর
পায়রা সেতুর নাম পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

বিস্কুটের কার্টন থেকে নবজাতক উদ্ধার

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১




নুসরাতের সাজানো মামলা আইনের গুরুতর লঙ্ঘন

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১০৩০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

এক ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের। প্রথম মামলা খারিজের পর দ্বিতীয় মামলাকে পাশ কাটিয়ে তদন্তে গেছে তৃতীয় মামলা। রাজধানীর গুলশানে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এভাবেই আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হচ্ছে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। একটি ঘটনাকে ঘিরে একই বাদির একেকরকম অভিযোগ তথা আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় হেরে গিয়ে হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলেও মনে করছেন তাঁরা।

উচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের বক্তব্য, একই ঘটনায় একাধিক মামলা হতেই পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণত প্রথম মামলার কার্যকারিতা সম্পন্ন হলে দ্বিতীয় মামলা চালু হওয়ার কথা। আবার প্রথম মামলাটি প্রমাণ হলে দ্বিতীয় মামলা সক্রিয় করার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় যেহেতু প্রথম মামলায় বাদির অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি, সেহেতু দ্বিতীয় মামলায় অবশ্যই যেতে হবে। দ্বিতীয় মামলা তদন্ত না করে তৃতীয় মামলায় যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া একই ইস্যুতে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করারও কোন সুযোগ নেই।

জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করেন নুসরাত। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং অন্যান্য আলামত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ও তদন্ত করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, আত্মহত্যার কোন প্ররোচনার ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘ চার মাস তদন্তের পর গত ১৯ জুলাই আদালতে এ মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। শুনানি শেষে ১৮ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন আদালত। একই সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এ মামলা থেকে সায়েম সোবহান আনভীরকে অব্যাহতি দেন আদালত। পুলিশের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নুসরাতের দেওয়া নারাজি আবেদনও নথিপত্র বিশ্লেষণপূর্বক খারিজ করে দেন।

অন্যদিকে, মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে ২ মে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার ভাই আশিকুর রহমান সবুজ। তিনি মামলায় অভিযুক্ত করেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে। কিন্তু প্রথম মামলা চলমান থাকায় এ মামলাটির কার্যকারিতা স্থগিতের আদেশ দেন আদালত। প্রথম মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে সবুজের মামলাটি চালু হওয়ার কথা। কিন্তু এর মধ্যে গত ৬ সেপ্টেম্বর একই ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে কথিত ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন প্রথম মামলার বাদি নুসরাত। আদালত সেটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন।

অভিযোগ উঠেছে, মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজের করা হত্যা মামলা থেকে আসামি শারুন চৌধুরীকে রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। আইন বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এর মাধ্যমে আইনের গুরুতর লংঘন হয়েছে বলে মনে করেন সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নুসরাতের করা প্রথম মামলা কার্যকারিতা হারালে ভাই সবুজের করা দ্বিতীয় মামলাটি তদন্তে আসবে। কিন্তু এটি না করে নুসরাতের করা তৃতীয় আরেকটি মামলা গ্রহণ ও তদন্তের নির্দেশ বিধিমত হয়নি। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, মুনিয়ার ভাইয়ের মামলা কেন ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে? ওই মামলা থাকা অবস্থায় আইন লঙ্ঘন করে কিভাবে আরেকটি মামলা হয়?

নুসরাতের হত্যা মামলাকে নজিরবিহীন বলছেন আইনজীবীরা: ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো.আবদুল্লাহ আবু এ বিষয়ে বলেন, মুনিয়ার ভাইয়ের করা দ্বিতীয় মামলা স্টে ছিল নুসরাতের করা প্রথম মামলা পরিচালনার স্বার্থে। এখন যেহেতু প্রথম মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে তাই দ্বিতীয় মামলা চলবে। দ্বিতীয় মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগে আর কোনো মামলা হতে পারে না। পূর্ববর্তী মামলায় বাদী যদি কোন গাফিলতি হয়েছে বলে মনে করে তাহলে সে নারাজি দিতে পারে। কিন্তু একই বিষয়ের ওপর আবারো মামলা করতে পারে না। এভাবে মামলা হয় না, আইনে নেই।

এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আরও বলেন, দ্বিতীয় যে মামলা করা হয়েছে সেটা নিষ্পত্তির আগে একই বিষয়ের ওপর তৃতীয় মামলা হতে পারে না। যদি কেউ এ ধরনের মামলা করেও তাহলে তা খারিজ হয়ে যাবে। জুডিশিয়াল নোটিশে যখন সেই মামলা আসবে তখন তা খারিজ হয়ে যাবে। একই বিষয়ে একাধিক মামলা চলতে পারে না। যেহেতু একই ঘটনায় হত্যা মামলা আগেই করা আছে এ মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতনে মামলা করার সুযোগ নেই। সে (নুসরাত) নারী বলে চাইলেই মামলা করবে? এটা হতে পারে না। নুসরাতের এই মামলা টিকবে না। কোর্ট বিষয়টি জানতে পারলে খারিজ করে দেবেন।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী আরফান উদ্দিন খান বলেন, আত্মহত্যা প্ররোচনার পরে একই বাদীর হত্যা মামলা দায়ের নজীববিহীন। আমার জীবনে এমন মামলা দেখিনি। তিনি বলেন, বড়ভাই (আশিকুর রহমান সবুজ) যে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন সেই মামলাটি স্থগিত থাকতে পারে না। কোর্টের উচিত ছিল এটি একই তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা। যেহেতু আত্মহত্যা রেজাল্ট এসেছে কোর্ট পিবিআইকে এই হত্যা মামলা দিতেই পারে না বলে আমি মনে করি। আত্মহত্যা যেখানে মেডিকেলি প্রমাণিত সেখানে হত্যা মামলা হয় কী করে! এই মামলা টিকবে না, পিবিআই বা যাকেই দিক ফাইনাল রিপোর্ট দেবে। এটি ১৫৪ ধারা কভার করে না।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, একই বাদী দুই ধরণের মামলা করায় সুবিধা পাবে বিবাদী। কারণ এক বাদী কিভাবে একেক সময় একেক ধরনের মামলা করেন তা তদন্ত কর্মকর্তার সামনে আসবে। আমার মনে হয় নুসরাত তার ভাইয়ের দায়ের করা মামলা গোপন করেছে, না হলে আদালত দুই মামলারই তদন্ত করার নির্দেশ দিত। কারণ একই ঘটনার একই সঙ্গে পৃথক দুটি তদন্ত হতে পারে না। বাদী নিজে বলেছে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা, ময়না তদন্তে প্রমাণ হয়েছে আত্মহত্যা। সেসময় মুনিয়ার ভাই একটা হত্যা মামলা করে। সেই হত্যা মামলার রিপোর্ট এখন স্থগিত। এই অবস্থায় মুনিয়ার বোন আবার আরেকটা হত্যা মামলা করে। এটা পুলিশকে হয়রানি ছাড়া আর কিছু না। ভাইয়ের মামলা কেনো নুসরাত গোপন করলেন। নাহলে তো দুই মামলাই একসঙ্গে তদন্ত হওয়ার কথা।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলাই যখন ফাইনাল রিপোর্টে আসামির বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলেনি সেখানে হত্যা মামলা আসবে কোথা থেকে। নতুন করে মামলা তদন্ত করে তো কোন লাভ হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট একই, আলামত ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা একই। সেখানে নতুন করে তদন্ত করে কি পাবে।

আইন বিষেজ্ঞরা আরও বলছেন, বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(২) অনুসারে কোন অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিকবার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দন্ডিত করা যাবে না। অর্থাৎ এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে কোন ফৌজদারি মামলায় একাধিকবার শাস্তি প্রদান করা যাবে না। এই বিষয়টি ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ধারা ৪০৩ এ উল্লেখ করা হয়েছে। ধারা ৪০৩ অনুযায়ী কোন উপযুক্ত আদালত কোন মামলায় একজন ব্যক্তির বিচার করে তাকে শাস্তি বা খালাশ প্রদান করলে ওই আদেশ বলবৎ থাকা অবস্থায় একই অপরাধের দায়ে পুনরায় তার বিচার করা যাবে না। আদালতের কাছে সত্য গোপন করে এ ধরনের মামলা যদি কেউ করেন তাহলে আদালত তা খারিজ করে দেবেন।

শারুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় যা বলেছিলেন মুনিয়ার ভাই: এদিকে, গত ২ মে মুনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যা মামলার আবেদন করেন মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ। সবুজ বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে শারুনের ব্যবসায়িক দদ্ব ছিল। এ কারণে শারুন মুনিয়ার মাধ্যমে আনভীরের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত তথ্য জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে অসম্মতি জানালে মুনিয়ার ওপর ক্ষিপ্ত হন শারুন। এর প্রতিশোধ নিতে শারুনই সহযোগীদের নিয়ে মুনিয়াকে হত্যা করে। সবুজের দাবি, তার বোন মুনিয়াকে শারুন চৌধুরী ও তার সহযোগীরা ঘটনার দিন ফ্ল্যাটের ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে ঢুকে হত্যা করে। পরে তার বোনের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে কৌশলে বাসা থেকে বের হন শারুন।

মামলার আবেদনে আরো বলা হয়, আমরা তিন ভাইবোনের মধ্যে মোসারাত জাহান মুনিয়া তৃতীয়। তার বয়স ২১ বছর। সে মাধ্যমিক শেষ করে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনার জন্য যথাসাধ্য সহযোগিতা করে আসছিলাম। ইতিমধ্যে আসামি নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের সঙ্গে আমার বোনের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে মাঝে মধ্যে আসামি শারুনের সঙ্গে কথাবার্তা ও দেখা-সাক্ষাৎ হতো মুনিয়ার। আমার বোনকে হত্যার আগে তার কাছ থেকেই আমি এসব কথা জেনেছি ও শুনেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় গত দুই বছর আগে আমার বোন নুসরাত জাহান (তানিয়া) ও তার স্বামী মিজানুর রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গুলশানে ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট ভাড়া করে। সেখানে আমার ছোট বোন নুসরাত আমার অপর ছোট বোন মুনিয়াকে ওই বাসায় অবস্থানের নির্দেশ দেয়। সেই মোতাবেক মুনিয়া সেখানে অবস্থান শুরু করে।

মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি নাজমুল করিম শারুন আমার কোমলমতি বোনকে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার ও ভোগ করেছে। আমার অধুনা মৃতা বোন মুনিয়া যখনই এই ঘৃণ্য চক্রান্ত থেকে বের হয়ে ফেরত আসতে চেয়েছে, তখনই শারুন আমার বোন মুনিয়ার ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষী, আমার বোন তানিয়ার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে দৃঢ় বিশ্বাস, নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন সুকৌশলে আমার বোনের ফ্ল্যাটে ঢুকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহযোগিতায় নির্মমভাবে হত্যা করে মুনিয়ার মৃতদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।


আরও খবর
স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

আদালতে হাজির করা হচ্ছে ইভ্যালির রাসেলকে

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১




টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের থিম সং প্রকাশ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ভারতে অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে কোভিড জটিলতায় ভেন্যু বদলে আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৭ম আসর।

আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ১৬ দলের বিশ্বকাপ আসর। এরজন্য থিম সং প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি। আইসিসির ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বৃহস্পতিবার একযোগে প্রকাশ করা হয় লাইভ দ্য গেম নামের টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপের থিম সংটি।

লাইভ দ্য গেম গানটি কম্পোজ করেছেন ভারতের অমিত ত্রিবেদী। ১ মিনিট ৩০ সেলেন্ডের গানটির পুরোটাই এনিমেশনে তৈরি। মাঝে মাঝে কয়েক সেকেন্ড মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

এমিনেশন এই গানটিতে রয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড, আফগানিস্তানের স্পিনার রশিদ খান ও অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার গ্লেম ম্যাক্সওয়েলের এনিমেটেড চিত্র।


আরও খবর
মেসিকে পেছনে ফেললেন সিআর সেভেন

বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

মুস্তাফিজ-কার্তিক তেওয়াগির বাজিমাত

বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১