আজঃ শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪
শিরোনাম

চিতাবাঘটির হত্যাকাণ্ড তদন্তে মতপার্থ্যক্য

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

Image

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের দ্বারখোর সীমান্ত এলাকার নাগর নদ থেকে উদ্ধার মৃত চিতাবাঘটিকে হত্যা করা হয়েছে প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের ধরন নিয়ে মতপার্থ্যক রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে মৃত্যুর আসল কারণ যাবে বলছেন তারা।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাঘটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের পর বন বিভাগ থেকে জানানো হয়, তাদের ধারণা বাঘটি ভারত থেকে এসেছে। বাঘের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে নামে দুটি টিম। একটির তদন্ত করছেন বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের তিন সদস্য। অপরটি স্থানীয়ভাবে জেলা বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে তদন্ত করছে।

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের তদন্ত কমিটির প্রধান বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, আমরা স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে তথ্য নিয়েছি। প্রাথমিক তদন্তে আমরা পেয়েছি বাঘটিকে হত্যায় স্থানীয়রা জড়িত ছিল। হত্যা করা হয় শ্বাসরোধে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয়ভাবে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান আটোয়ারী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হত্যার কারণ হিসেবে পিটিয়ে, বিষ প্রয়োগসহ তিন ধরনের তথ্য এসেছে। ময়নাতদন্তে এ ধরনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভিসেরা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এজন্য ঢাকায় ল্যাবে নমুনা পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন কত দিনের মধ্যে আসবে তা বলা যাচ্ছে না।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় দ্বারখোর সীমান্ত এলাকার মানুষ বাঘটিকে লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করছেন। তখন বাঘটি ভয়ে নদের পানিতেই ছোটাছুটি করছে। মানুষজন নদীতে নেমে মাছ ধরার জাল দিয়ে বাঘটিকে তাড়া করতে থাকেন। তখন নদের তীরে একটি জঙ্গলে আশ্রয় নেয় বাঘটি। সেখানেও ধাওয়া দিলে আবার নদীতে নামে বাঘটি। একপর্যায়ে বাঘটি ক্লান্ত হয়ে স্থানীয়দের জালে ধরাশায়ী হয়। পরে বাঘটিকে ধরে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হত্যার পর বাঘটিকে একটি বাঁশে বেঁধে নেওয়া হয় বোধঁগাঁও বিজিবি ক্যাম্পে। সেখান থেকে বাঘটিকে নেওয়া হয় বারঘাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। সেখান থেকে বাঘটিকে ময়নাতদন্তের জন্য আটোয়ারী উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে নেওয়া হয়।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, চেঁচামেচি শুনে আমি কাছে যাই। দেখি বাঘটি বসে আছে। কাছে গেলেও বাঘটি নড়াচড়া করতে পারছিল না। আমরা তখন একটি জাল দিয়ে বাঘটিকে ঢেকে দেই। তখন বাঘটি নড়াচরা শুরু করলে একটি লাঠি দিয়ে ভালো করে জালে পেঁচিয়ে ধরি। তখন বাঘটি মনে হয় মারা গিয়ে নদীতে ডুবে যাচ্ছিল। পরে নদী থেকে ডাঙায় নিয়ে একটি বাশঁ দিয়ে বাঘের চার পা বেঁধে সামনে নিয়ে আসি।

স্থানীয়দের দাবি নয় দিন আগে এক কৃষকের গরু খেয়ে ফেলেছিল বাঘটি। পরে গরুটিতে বিষ ছিটিয়ে রাখা হয়। সেই গরুটি আবারো খেয়ে নদীতে পানি খেতে নামে বাঘটি। সেখানেই মরে পড়ে থাকতে দেখেন নাগর নদে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকজন। পরে বাঘটিতে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় গৃহবধূ ময়না বেগম বলেন, গত রবিবার আমার একটি গরু মারা যায়। গরুটিকে বাঘ নাকি শিয়াল আক্রমন করেছিল জানি না। তবে আমার ছোট ছেলে বলেছিল আমাদের এতবড় ক্ষতি করল, আমি তাকেও মেরে ফেলব। এরপর সে গরুর মধ্যে অল্প করে দানাদার বিষ দিয়েছে বলে শুনেছি। এখন বাঘটি বিষ খেয়ে মারা গেছে, নাকি ঠান্ডায় অসুস্থ বা অন্য কোনো কারণে মারা গেছে আমি জানি না।

তোড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমার বাড়ি সাড়ে তিন কিলোমটিার দূরে। স্থানীয়দের কাছে শুনতে পাই একটি বাঘ গরু খেয়েছে। পরে গরুতে বিষ দেওয়া হলে বাঘটি গরুটি খেয়ে মারা যায়। বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি আমি জানতাম না। ঢাকা থেকে একটা টিম এসেছে শুনেছি, আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।

বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, আমরা বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাঘের শরীর এবং উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত জাল থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছি। বিষ টোপের কারণে না কি আঘাতে বাঘের মৃত্যু হয়েছে, সেটা পরে নিশ্চিত করে বলা যাবে। আমাদের তদন্তে উঠে আসা বিষয়গুলো নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করব।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি চিতা বাঘ হত্যা করলে তিনি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে শর্ত থাকে চিতা বাঘ কোনো ব্যক্তিকে আক্রান্ত করলে এবং এতে তার জীবনশঙ্কার সৃষ্টি হলে জীবন রক্ষার্থে আক্রমণকারী চিতা বাঘ হত্যার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না। তবে আরও শর্ত থাকে এ সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো মামলা দায়েরের প্রশ্ন দেখা দিলে, সংশ্লিষ্ট স্টেশন কর্মকর্তা ওয়ার্ডেনের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলা দায়ের করতে পারবেন। বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি।

জানতে চাইলে পঞ্চগড় বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মধুসুধন বর্মন বলেন, হত্যা হলেও সেটা পিটিয়ে না কি শ্বাসরোধে তা নিশ্চিত হয়। ঢাকা থেকে বন বিভাগের লোকজন এসে তদন্ত করছে। স্থানীয়ভাবেও তিন সদস্যর একটি তদন্ত দল তদন্ত করছে। মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যারা দোষী শনাক্ত হবেন আইন অনুযায়ী অবশ্যই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

নিউজ ট্যাগ: পঞ্চগড়

আরও খবর



৫৭ দাখিল পরীক্ষার্থী ভুয়া, কেন্দ্রসচিবসহ সবাই আটক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০24 | অনলাইন সংস্করণ
জেলা প্রতিনিধি

Image

নওগাঁর সাপাহারে সরবতুল্লাহ মাদরাসা কেন্দ্রে ৫৭ জন দাখিল পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রক্সি দেয়ার ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রসচিবসহ ৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে পরীক্ষা চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন) মাসুদ হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক গোলাম মাওলা। এর আগে অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় একইভাবে অংশগ্রহণ করেছিল ওই শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় চলতি বছরের (২০২৪ শিক্ষাবর্ষ) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন।  

নিউজ ট্যাগ: নওগাঁ

আরও খবর



মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে শিশুর মৃত্যু, আটক ৪

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

Image

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন খেয়ে জিম নামের ৩ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন নিহত শিশুর মাসহ আরও চারজন। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বৈলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত জিম খাতুন বেলকুচি উপজেলার বৈলগাছি গ্রামের কাইয়ুম উদ্দিনের মেয়ে। অসুস্থরা হলেন, মা পারভীন খাতুন (৩৮) বোন রিয়া (০৮) নুরি (০৭) ও কাইয়ুম উদ্দিনের ভাতিজি মিথিলা।

জানা যায়, শবে বরাতের পরদিন সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সারাদিন রোজা রেখেছিলেন পারভীন খাতুন। সন্ধ্যায় ইফতারের সময় ওরস্যালাইন দিয়ে বানানো শরবত পান করেন তিনি। এ সময় তার তিন সন্তান জিম, রিয়া, নুরি ও ভাতিজি মিথিলাও শরবত পান করে। শরবত খাওয়ার পর পরই সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের বেলকুচির স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক সিরাজগঞ্জে রেফার্ড করেন।

সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফয়সাল হোসেন জানান, সোমবার সারাদিন রোজা রেখে ইফতারিতে ওরস্যালাইন ও ইস্পি পাউডার গুলে ইফতার করেন পারভিন খাতুন। এ সময় তার তিন সন্তান জিম, রিয়া, নুরি ও কাইয়ুম উদ্দিনের ভাতিজি মিথিলা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে আসার পর জিম নামের তিন বছরের শিশুটিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বেলকুচি থানার ওসি আনিছুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দোকানদার আমিনুল ইসলাম, স্যালাইনের সেলসম্যান আনিছুর রহমান, হাফিজ শেখ ও সাগর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য থানায় আনা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


আরও খবর



কাল প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা এবং আনন্দমুখর পরিবেশে প্রতিবারের ন্যায় এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৪ শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ মাঠে সুশৃঙ্খল ও নয়নাভিরাম বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট এবং পতাকাবাহীদলের মনোমুগ্ধকর প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করবেন। এর পর পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) এর স্টল পরিদর্শন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কল্যাণ প্যারেডে অংশগ্রহণ করবেন।

ছয় দিনব্যাপী এ পুলিশ সপ্তাহ চলবে ৩ মার্চ ২০২৪ পর্যন্ত। এবারের পুলিশ সপ্তাহ ২০২৪ এর মূল প্রতিপাদ্য- স্মার্ট পুলিশ, স্মার্ট দেশ; শান্তি প্রগতির বাংলাদেশ

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বিগত ২০২৩ সালে অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা প্রদর্শন, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য ৪০০ জন বিপিএম ও পিপিএম পদক পাচ্ছেন।

পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৩৫ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) , ৬০ জনকে ‌রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা প্রদর্শন, কর্তব্য নিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ৯৫ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) এবং ২১০ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) পদক প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদেরকে পদক প্রদান করবেন।

এদিকে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল, বাংলাদেশ পুলিশ পৃথক বাণী দেবেন।

বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী, দক্ষ ও জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফলে পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রমে এসেছে গতিশীলতা এবং কর্মচাঞ্চল্য। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির সংযোজন, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষায়িত নতুন নতুন ইউনিট গঠনসহ বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতার চ্যানেলগুলোতে এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

এ ছাড়া পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্মেলন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মেলন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীবর্গের সম্মেলন, আইজি’ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র/মাদক উদ্ধার প্রভৃতি পুরস্কার বিতরণ, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে কর্মরত পুলিশ অফিসারদের পুনর্মিলনী, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সমাবেশ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে আইজিপির সম্মেলন এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভা ইত্যাদি।

আগামী ৩ মার্চ ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সম্মেলনের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহের নানা আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।


আরও খবর
শপথ নিলেন নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী

শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪




মিয়ানমারের ১৪ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে বাংলাদেশে

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
বান্দরবান প্রতিনিধি

Image

মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় শনিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে আবারও তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও বিভিন্ন সূত্র বলেছে, মিয়ানমারের সরকারি সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে সরকারবিরোধী সশস্ত্র গ্রুপ আরাকান আর্মির (এএ) এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে।

এদিকে সূত্র জানায়, সশস্ত্র হামলার মুখে টিকতে না পেরে সেখান থেকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির ১৪ জন সদস্য বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঢুকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি বর্ডার অবজারভেশন পোস্টে আশ্রয় নেন।

তবে এ বিষয়ে বিজিবি বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওপার (মিয়ানমার) থেকে নিক্ষিপ্ত গুলিতে এপারের একজন নারী ও একজন পুরুষ আহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সীমান্তের ওপারের উত্তেজনা সম্পর্কে তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

মোজাহিদ উদ্দিন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে তাদের স্বজনদের বাড়িতে নিয়ে আসতে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদকে বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজন হলে সীমান্ত লাগোয়া স্কুলগুলোকে সাময়িক বন্ধ রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



ইজতেমায় ফের তিন মুসল্লির মৃত্যু, মোট মৃতের সংখ্যা দশ

প্রকাশিত:শনিবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় ফের আরও তিন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে শনিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দিন সকাল পর্যন্ত একজন পুলিশ সদস্যসহ ১০ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে ইজতেমা ময়দানে সাতজন, ময়দানে আসার পথে একজন পুলিশ সদস্যসহ তিনজন রয়েছেন। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত তিনজন মারা যান।

নিহত তিন মুসল্লি হলেন- শেরপুর জেলা সদরের জুগনিবাগ গ্রামের মৃত সমশের আলীর ছেলে নওশের আলী (৬৫), ভোলা সদর উপজেলার পরানগঞ্জের  সামানদার গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে আ. কাদের (৫৫) ও নেত্রকোনা সদরের কালিয়াঝুড়ি এলাকার হোসেন আহম্মদের ছেলে স্বাধীন (৪৫)।

এর আগে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে মারা যাওয়া চার মুসল্লি হলেন- নেত্রকোনা থানার কুমারী বাজার গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আবদুস সাত্তার (৭০), একই জেলার বুড়িঝুড়ি গ্রামের স্বল্পদুগিয়া গ্রামের আব্দুস ছোবাহানের ছেলে এখলাস মিয়া (৬৮), ভোলা জেলার ভোল্লা গ্রামের নজির আহমেদের ছেলে শাহ আলম (৬০), জামালপুর জেলার তুলশীপুর এলাকার পাকুল্লা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মতিউর রহমান (৬০)।

ময়দানে আসার সময় মারা যাওয়া তিনজন হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানার ধামাউরা গ্রামের ইউনুছ মিয়া (৬০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার চৌহদ্দীটোলা গ্রামের জামান মিয়া (৪০) ও ইজতেমায় আসার পথে বাসচাপায় নিহত পুলিশ সদস্য হাসান উজ্জামান (৩০)।

তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার মিডিয়া সেলের প্রধান মো. হাবিবুল্লাহ রায়হান এই মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।


আরও খবর
শপথ নিলেন নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী

শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪