আজঃ শনিবার ১৫ জুন ২০২৪
শিরোনাম

চমেক হাসপাতাল থেকে একযোগে ১১৪ চিকিৎসককে বদলি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ জুলাই ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৬ জুলাই ২০২১ | অনলাইন সংস্করণ
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে একসঙ্গে অন্তত ১১৪ জন চিকিৎসককে বদলির নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপনে চমেকসহ সারা দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের বদলির নির্দেশনা জারি করা হয়।

বদলির নির্দেশনাসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলা এবং জনসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিম্নে বর্ণিত স্বাস্থ্য বিসিএস স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সংযুক্তিতে পদায়ন করা হলো। উপসচিব জাকিয়া পারভিন এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন। বুধবারের মধ্যে তাঁদের পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

কোভিডের পাশাপাশি চমেক হাসপাতালের ননকোভিড বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকেরা বদলির আদেশ পেয়েছেন। জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, আমার ১১৪ জন চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে। আমি এটা জেনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মুঠোফোনে এসএমএস দিয়েছি। জানিয়েছি এতে আমার চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কারণ, কোভিডের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগ জড়িত। এ ছাড়া আমার হাসপাতালে ননকোভিড দুই হাজারের বেশি রোগী থাকছে। কোভিড ও ননকোভিড দুটিই ব্যাহত হবে।

সন্ধ্যার আদেশটি নিয়ে রাতেই চিকিৎসকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। চমেক হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডির পাশাপাশি খাগড়াছড়ি, ফেনী এবং আশপাশের জেলার জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে বদলি আদেশ দেওয়া হয়েছে। বদলির উদ্দেশ্যে এবং লকডাউনের মধ্যে তাঁরা বুধবারের মধ্যে পদায়নকৃত কর্মস্থলে কীভাবে যোগদান করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বদলি বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, যেসব মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের এখন ক্লাস নেই, তাঁদের বদলি করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় গঠিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বিভাগীয় সমন্বয়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড ও নন কোভিড সারা বিভাগের রোগী আছে। এখানে কোভিড রোগী এখন প্রায় ২৫০। ননকোভিড রোগী দুই হাজার। ওখান থেকে চিকিৎসক বদলি করা বিদ্যমান চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার শামিল। চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতাল ও বিআইটিআইডি বিদ্যমান ডাক্তার দিয়েই ভালোভাবে চলছে। চমেক থেকে ডাক্তার নিয়ে গেলে হাসপাতালটির কোভিড ও ননকোভিড চিকিৎসা ব্যাহত হবে।


আরও খবর



মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা দলের ওপর বিদ্রোহীদের হামলা

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Image

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মনিপুরের সহিংসতা-বিধ্বস্ত জিরিবাম জেলায় মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের পরিদর্শনে যাওয়ার আগে সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে একটি নিরাপত্তা দল। সোমবার রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনীর ওই দল মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে জিরিবাম জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়ে বিদ্রোহীদের অতর্কিত হামলার মুখে পড়েছে।

দেশটির পুলিশ বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়া হয়েছে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালিয়েছেন। জিরিবাম জেলার জাতীয় মহাসড়ক-৫৩ এর পার্শ্ববর্তী কোটলেন গ্রামের কাছে বিদ্রোহীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

হামলায় রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্য গত কয়েক বছর ধরে জাতিগত সহিংসতায় উত্তপ্ত রয়েছে। তবে সেখানে সাম্প্রতিক সহিংসতার শুরু হয় গত ৬ জুন। ওই দিন স্থানীয় জাতিগত মেইতে সম্প্রদায়ের ৫৯ বছর বয়সী এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধারের পর উত্তেজনা তৈরি হয়। মরদেহ উদ্ধারের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

সিংয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীকে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে; যা ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবেশী আসাম রাজ্যেও। মনিপুরের সহিংতা থেকে পালিয়ে বাঁচতে প্রায় ৬০০ মানুষ আসামের কাচার জেলার লখিপুর এলাকায় আশ্রয় নেন।

সোমবার নিরাপত্তা বাহিনী যে জিবিরাম জেলায় আক্রান্ত হয়েছে, সেই এলাকাটির অবস্থান মনিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে ২২০ কিলোমিটার দূরে আসামের সাথে কৌশলগত সীমান্ত এলাকার জাতীয় মহাসড়ক ৩৭-এর পাশে।

নিউজ ট্যাগ: মনিপুর

আরও খবর



এবার বেনজীরের কোম্পানি-ফ্ল্যাট ক্রোকের নির্দেশ

প্রকাশিত:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২৬ মে ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিস্তা বিনতে বেনজীর এবং ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও কোম্পানির আংশিক শেয়ার জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বেনজীর ও তার পরিবারের সম্পত্তির দলিল ১১৪, ঢাকায় ফ্ল্যাট চারটি, চারটি শতভাগ মালিকানা কোম্পানি, ১৫ টি  আংশিক মালিকানা কোম্পানি ও চারটি বিও একাউন্ট দুদকের পক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করেন। আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

এর আগে, ২৩ মে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিস্তা বিনতে বেনজীর এবং ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের ৩৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ৮৩ দলিলের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত।


আরও খবর



এমপি আনার হত্যায় অভিযুক্তদের ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে ডিবি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৪ মে 20২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আদালত প্রতিবেদক

Image

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজনকে আজ আদালতে তোলা হবে। আদালতে তুলে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তাররা হলেন আমানুল্লাহ ওরফের শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি।

শুক্রবার (২৪ মে) ডিবির ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহিদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এমপি আনার হত্যায় জড়িত গ্রেপ্তার তিনজনকে আজ আদালতে তোলা হবে। তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। যে পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়া যাবে, সে পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতের পশ্চিবঙ্গে যান এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে কলকাতায় তার পারিবারিক বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করতে যান। পরের দিন, ১৩ মে চিকিৎসক দেখাতে হবে জানিয়ে দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে গোপালের বাড়ি থেকে বের হন আনার। সন্ধ্যায় ফিরবেন বলেও জানান তিনি। পরে বিধান পার্কের কাছে কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে ট্যাক্সিতে উঠেছিলেন তিনি।

চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যায় আজিম তার বন্ধু গোপালকে জানান, তিনি দিল্লি যাচ্ছেন এবং সেখানে পৌঁছে তাকে ফোন করবেন। পরে তার সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন জানিয়ে বন্ধু গোপালকে ফোন না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছিলেন।

গত ১৫ মে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় এমপি আনার বন্ধু গোপালকে জানান, তিনি দিল্লি পৌঁছেছেন এবং ভিআইপিদের সঙ্গে আছেন। তাকে ফোন করার দরকার নেই। একই বার্তা পাঠান বাংলাদেশে তার ব্যক্তিগত সহকারী রউফের কাছেও।

১৭ মে আনারের পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে গোপালকে ফোন করেন। ওই সময় তারা গোপালকে জানান, তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই দিনই ঢাকায় থানায় অভিযোগ করা হয়। এরপর থেকে এমপি আনারের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

২০ মে এমপি আনারের খোঁজ করতে গিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে। তারা জানতে পারে, কলকাতায় বন্ধুর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তার মোবাইলের লোকেশন একবার পাওয়া গিয়েছিল সেখানকার নিউমার্কেট এলাকায়। এরপর ১৭ মে তার ফোন কিছুক্ষণের জন্য সচল ছিল বিহারে।

পরে বুধবার (২২ মে) ভারতের এনডিটিভির খবরে বলা হয়, কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জিভা গার্ডেন্সের একটি ফ্লাটে এমপি আনারকে খুন করা হয়েছে। এনডিটিভি বলে, ১২ মে কলকাতায় আসার পর নিখোঁজ হওয়া এমপি আনারের খোঁজে তল্লাশি শুরুর পর বুধবার সকালে তার খুনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

এরপর বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, এমপি আনারকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তাকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনজন বাংলাদেশ পুলিশের কাছে আছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার জন্য আনোয়ারুল আজীম দেশের বাইরে গিয়েছিলেন। সেখানে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ভারতের পুলিশ আমাদের নিশ্চিত করেছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় খুন করার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন এমপি আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। এমপি আনার সংসদ ভবন এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকে তিনি ভারতে গেছেন। তাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধান হারুন-অর-রশিদের পরামর্শে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন তার মেয়ে।


আরও খবর



প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় সুন্দরবন প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

Image

মাছ, বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও প্রজনন কার্যক্রম সুরক্ষায় তিন মাসের জন্য বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ঢোকার অনুমতি বন্ধ করা হয়েছে। এ সময় সুন্দরবনে পর্যটকবাহী বোটসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ বন্ধ থাকবে। এ সময় মাছ ও কাঁকড়া আহরণও বন্ধ থাকবে।

শনিবার (১ জুন) পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের সব নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ সময় পর্যটকবাহী বোটসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ বন্ধ থাকবে। এবং নতুন করে কাউকে প্রবেশ পাস দেয়া হবে না।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের তথ্য মতে, এরআগে সুন্দরবনে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দুই মাস সুন্দরবনের সব নদী ও খালে মাছ আহরণ বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল। তবে ২০২২ সালে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এ নিষেধাজ্ঞা আরও এক মাস বৃদ্ধি করে ১ জুন থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে সুন্দরবনে ঢোকার সব ধরনের পাস। সেই থেকে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনের সব নদী-খালে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা এবিএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, জুন থেকে পরবর্তী তিন মাস সুন্দরবনে ২৫১ প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুম। সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির তাগিদে মন্ত্রী পরিষদ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার থেকে তিন মাস সুন্দরবন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।’

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বলেন, মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ থেকে সুন্দরবন তিন মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য নতুন করে কাউকে পাস (অনুমতি পত্র) দেয়া হবে না। একই সঙ্গে বন বিভাগের নিয়মিত স্মার্ট পেট্রোলিং টিম তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে। এবং সুন্দরবনের ভিতরের অফিসগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা প্রতিদিন তাদের নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখবে।’

উল্লেখ্য, সুন্দরবনে ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ৩৫ প্রকারের সরীসৃপ, ৪২ প্রকারের স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। এখন তাদের প্রজনন মৌসুম চলছে।


আরও খবর



কোরবানির ঈদকে ঘিরে শেরপুরে মসলার বাজার অস্থির

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ
মো. নাজমুল হোসাইন, শেরপুর

Image

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাজারে উৎসবের আমেজ আসতেই অস্থির হয়ে উঠেছে শেরপুরের মসলার বাজার।ঈদকে কেন্দ্র করে মসলা ব্যবসায়ীরা জিরা, এলাচ ও লবঙ্গের মতো মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। অথচ এসব মসলা আমদানি হয়েছে ৩-৪ মাস আগেই। ঈদের আগ মসলার দাম বড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। মসলার আকাশচুম্বী দামে পুড়ছে তাদের পকেট। হঠাৎ করেই মসলার দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই পছন্দের খাবার তৈরি করতে অসুবিধায় পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

শেরপুরের নয়ানী বাজারে মসলা কিনতে আসা জাকির হোসেন বলেন, সব মসলার দাম বেশী, এভাবে সবকিছুর দাম বাড়লে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ কোথায় গিয়ে দাড়াবে?

এনজিও কর্মী ইমন জানান প্রতি কেজি মসলা ১০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চাল-ডাল-আটাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা। অথচ ধানের মূল্য কম।

মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে এলাচ, জিরা, লবঙ্গ, পিয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, হলুদ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন প্রকারের মসলা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরাতে ছোট এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা, গতসপ্তাহে এলাচ কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। ভালো মানের বড় এলাজ প্রতি কেজি ৪ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। লবঙ্গ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকায়, লবঙ্গের দাম বেড়েছে প্রায় ১ হাজার টাকা। প্রতি কেজি জিরা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮০০/৯০০ টাকায়। গোলমরিচ প্রতি কেজি ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, গত সপ্তাহে কেজি ৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়াও দারচিনি ৭০০ টাকা, হলুদ ৩৫০ টাকা,কালিজিরা ৪০০ টাকা, কিসমিস ৮০০ টাকা, তেজপাতা ১২০ টাকা, সাদা সরিষা ৩০০ টাকা, এ সবের কেজি প্রতি ৮০- ১০০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলার সংকট ও ডলারের দাম বাড়ায় মসলার দাম বেড়েছে। তাদের দাবি মসলার দাম বাড়ছে ২কারণে। প্রথমত. দেশে চলছে ডলার সংকট, ডলারের অভাবে এলসি করা যাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত. আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম বেড়েছে। প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। অথচ কোরবানির মসলা ২-৩ মাস আগে থেকেই মজুত করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা বলছেন ভোক্তাগণ।

ঝিনাইগাতি মসলার বাজারের ক্রেতা আলহাজ শাহজাহান আকন্দ ও আলহাজ সরোয়ার্দী দুদু মন্ডল বলেন, প্রতিবছরই কোরবানির আগে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা আয়ের জন্য মসলার দাম বাড়িয়ে দেয়। তারা জানেই কোরবানীর ঈদে মসলা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। কোরবানির গোশত খাওয়ার জন্য সবাইকে মসলা কিনতেই হবে। তারা সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে ব্যবসা করছে। সিজনাল সময়গুলোয় চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম রাখা উচিত। অথচ তারা করছে উল্টো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মসলা ব্যবসায়ী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু মসলার দাম বেড়েছে। মসলাকে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ পণ্য আমদানিতে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয় মহাজনদের। পাশাপাশি ডলারের দাম বাড়ায় মসলার বাজার চড়া। এ কারণে এলাচসহ সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। আমরা অল্প করে মসলা কিনে আনি। অল্প লাভেই বিক্রি করি। দাম বাড়ে পাইকারি কিনতে গিয়ে। মসলা বিক্রেতারা বলেন, এই মসলা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মৌলভীবাজার থেকে নিয়ে আসা হয়। সেখানকার ব্যবসায়ীরা ডলারসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন। তাই বেশি দামে কিনে-বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। কোরবনীর ঈদে পর্যাপ্ত মসলার প্রয়োজন হয় ও আমদানি করা হয়। ভারত থেকে জিরা ও এলাচ এবং ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও গুয়েতেমালা থেকে লবঙ্গ ও দারচিনি আমদানি করা হয়।

এব্যাপারে অনেক ক্রেতা বলেন, ঈদের চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

পূর্বে এসব দেশে উৎপাদন কম হওয়ার অজুহাত দেয়া হলেও বর্তমানে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এ সমস্যায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কজন ক্রেতা বলেন, বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

নিউজ ট্যাগ: মসলা

আরও খবর