আজঃ বৃহস্পতিবার ২৪ জুন ২০২১
শিরোনাম

চট্টগ্রামে আরও ১১৪ জন করোনায় আক্রান্ত

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ০৯ জুন ২০২১ | ৮১জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৪ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চট্টগ্রামে পরীক্ষার তুলনায় করোনা শনাক্তের হার ১০ শতাংশ। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৫৪ হাজার ৩৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন মোট ৬৩২ জন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৬১ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে নগরের ৬৬ জন। নগরের বাইরের বিভিন্ন উপজেলার ৪৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তি নগরের বাসিন্দা।

চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫০ জন নগরে। বিভিন্ন উপজেলায় মারা গেছেন ১৮২ জন।


আরও খবর



শিক্ষাবর্ষের সময় কমানো ও ছুটি বাতিলের পরামর্শ ইউজিসির

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২২ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২২ জুন ২০২১ | ৬৬জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চলমান শিক্ষাপদ্ধতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। মহামারিতে উচ্চশিক্ষার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   

ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষাবর্ষের সময় কমানো, বিভিন্ন ধরনের ছুটি বাতিলসহ ছয়টি প্রস্তাব দিয়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারদের রিকভারি গাইডলাইন পাঠানো হয়েছে।

তবে এই পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে।

গত ৩১ মে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও উপাচার্যদের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও বাস্তবতা অনুযায়ী রিকভারি গাইডলাইন করার সিদ্ধান্ত আসে।

তিন সপ্তাহ পর প্রকাশিত ওই গাইডলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সময় উল্লেখযোগ্য ও গ্রহণযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যবহারিকসহ সব বিষয়ের ক্লাস, ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, কুইজ, চূড়ান্ত পরীক্ষা প্রচলিত সময়ের চেয়ে কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন ছুটি কমানো বা বাতিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সময় কমানোর স্বার্থে ক্লাস টেস্ট, কুইজ, মিডটার্ম পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, টার্ম পেপারের মতো মূল্যায়ন পদ্ধতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুনভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে পারবে।

তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক ক্লাসের সময় আগের মতোই থাকবে। লেকচারের সংখ্যা কমানোর প্রয়োজন হলেও পুরো সিলেবাসের পাঠ শেষ করতে হবে।

চূড়ান্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক ছুটি, দুই পরীক্ষার মাঝের ছুটি এবং দুটি বর্ষ বা সেমিস্টারের মাঝের ছুটি কমাতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন করে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার জানিয়ে ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করতে বলেছে ইউজিসি।

প্রসঙ্গত করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার অনুমোদন থাকলেও অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই সে পথে যায়নি।


আরও খবর



ঝড়ে সুন্দরবনের ১৯ জেটি বিধ্বস্ত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৭ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৭ মে ২০২১ | ১২০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

পূর্ণিমা ও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে পূর্ব বনবিভাগের ১৯টি জেটি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯টি পুকুর, ১০ অফিস, ২৪টি পাটাতনের রাস্তা ও ছয়টি জলযান। উড়ে গেছে বন বিভাগের স্টেশনের টিনের চালা। ভেঙে গেছে দুটি টাওয়ার।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সকাল ৯টায় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বনের দুর্গম এলাকায় সবার সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে এ তথ্যগুলো পাওয়া গেছে। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণে বন বিভাগ চারটি পৃথক কমিটি গঠন করেছে।

এই বন কর্মকর্তা আরও বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার অন্তর্গত বন বিভাগের চারটি রেঞ্জ এলাকা। যার দুটি বাগেরহাটে অবস্থিত। এরইমধ্যে সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের অন্তর্গত শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ শুরু করেছে কমিটির কর্মকর্তারা। সুন্দরবনের খুলনা জেলার নলিয়ান ও সাতক্ষীরা জেলার বুড়িগোয়ালিনী রেঞ্জেও একই ভাবে সেখানখার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে বনের অনেক এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে দুপুরে জোয়ারের সময়ে আবারও পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ণিমার জোয়ার ও বাতাসের গতিবেগ থাকায় বনসংলগ্ন নদীখাল পরিপূর্ণ রয়েছে। তবে সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণি কেন্দ্রের কুমির, হরিণ ও কচ্ছপ নিরাপদে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ৩ নম্বর সংকেত জারি করা হয়। ঝড়ো হওয়া ও জলোচ্ছ্বাস স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৬ ফুট উচ্চতায় পানি সুন্দরবন প্লাবিত করে। ফলে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।


আরও খবর



ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বিষয়ে সর্তক করলেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশিত:বুধবার ২৬ মে ২০২১ | হালনাগাদ:বুধবার ২৬ মে ২০২১ | ১৯০জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছোঁয়াচে নয়। এটি নিয়ে শঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকাটা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞেরা। তাঁরা বলছেন, এ ছত্রাকবাহিত রোগ বাংলাদেশে আগেও হয়েছে। এ ছত্রাক প্রকৃতির সর্বত্র আছে। রোগ প্রতিরোধ কমে গেছে, এমন ব্যক্তিদের এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে আক্রান্ত হলে এতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

তিন দিন আগে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে একজন রোগীর মৃত্যু হয়। আজ মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই রোগী অন্যান্য রোগের পাশাপাশি মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমিত একজন রোগী এখনো বারডেম হাসপাতালে ভর্তি আছেন। শনাক্ত হওয়া আরেকজন রোগী অন্য হাসপাতালে চলে গেছেন।

প্রতিবেশী ভারতে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮০০ জন এই ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে দেশের দুজন অণুজীববিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা হলেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহা।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কী

সমীর কুমার সাহা বলেন, মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সর্বত্র বিরাজমান। আমাদের চারপাশেই এটি আছে। বেশি সময় ধরে ঘরে রাখা আমাদের জুতাতেও এ ছত্রাক থাকতে পারে, দীর্ঘক্ষণ রাখা রুটিতেও এটি সৃষ্টি হতে পারে। মাটি, গাছপালা, সার বা পচনশীল ফল ও সবজির মধ্যে এটি থাকতে পারে। এটি কোনো বিরল কিছু না।

এখন কেন বেশি ছড়াচ্ছে

করোনা মহামারির এ সময়ে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ানোর কথা বেশি শোনা যাচ্ছে। যেকোনো রোগে আক্রান্ত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। এ অবস্থায় রোগীর জটিল অবস্থা সৃষ্টি হলে স্টেরয়েড দেওয়া হয়। এটা প্রমাণিত যে এটি রোগীকে সহায়তাও করে। করোনায় আক্রান্ত রোগীকেও স্টেরয়েড দেওয়া হয় বা হচ্ছে। ফুসফুসে যখন ভাইরাসটি যায়, তখন আমাদের শরীরে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এমন মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়াকে আমরা স্টর্মও বলে থাকি। এতে রোগীর অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়। এই স্টর্ম বা ঝড়ের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা অন্য যেকোনো সুযোগসন্ধানী জীবাণু, যেগুলো কিনা সাধারণ পরিস্থিতিতে আক্রমণ করে না, তারা এ সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্টেরয়েড প্রয়োগ করে রোগীর এই বাড়াবাড়ি অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। কিন্তু যদি এই স্টেরয়েডের পরিমাণ বেশি দিয়ে দেওয়া হয় অথবা রোগীর কোমর্বিডিটি থাকে, তখন রোগীর প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। এসব মানুষের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে অন্য যেকোনো জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। স্টেরয়েডের সঠিক ব্যবহারে এর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

আবার যখন স্টেরয়েডটা দেওয়া হচ্ছে, তখন পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিচ্ছন্নতার অভাব এই ফাঙ্গাস ছড়ানোর একটি কারণ হতে পারে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি ছোঁয়াচে

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছোঁয়াচে নয় মোটেও। তাই এ নিয়ে ভীতির কারণ নেই বলেই মনে করেন অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক সমীর সাহা। খুব কদাচিৎ এর সংক্রমণ দেখা যায়।

অণুজীববিজ্ঞানী বে-নজির আহমদের মন্তব্য, আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যজনের হবে না। অর্থাৎ এটি মানুষে থেকে মানুষে ছড়ায় না বটে, তবে এটি ভিন্নভাবে ছড়াতে পারে। যেমন রোগীর চিকিৎসা-বর্জ্য হিসেবে এটি প্রকৃতিতে গেলে সেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যদি নিরাপদ না থাকেন বা তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কীভাবে মানুষের শরীরে যেতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত জটিল সমস্যায় থাকা ব্যক্তি বা চিকিৎসায় ওষুধ ব্যবহারের ফলে প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের এতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রকৃতিতে থাকা এ ছত্রাক নাক দিয়ে শ্বাসগ্রহণের মাধ্যমে সাইনাসে এবং ফুসফুসে ঢুকতে পারে। প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তির শরীরের কাটাছেঁড়া জায়গা, পোড়া জায়গা বা চর্মের কোনো ক্ষত থাকলে সেখানেও আক্রান্ত হতে পারে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কত মারাত্মক?

ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, সেখানে মৃত্যুর হার ছিল শতকরা ৫০ শতাংশের বেশি।

ভারতে কেন এত বেশি

দুটি মূল কারণের কথা বলেন রোগতত্ত্ববিদ বে-নজির আহমেদ। তাঁর কথা, ভারতে করোনায় মৃত্যু ব্যাপক হারে বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে মৃতদেহের সৎকারের প্রথাগত স্থানে সংকুলান হচ্ছিল না। একপর্যায়ে তাই পোড়ো জায়গাগুলো সৎকারের জন্য বেছে নেওয়া হয়। যখন এমনটা করা হলো তাতে ঝুঁকি বেড়ে গেল। এসব অপরিচ্ছন্ন স্থান থেকে জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কাকে বাদ দেওয়া যায় না।

ভারতে যারা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের একটা বড় অংশেরই অক্সিজেন বেশি নেওয়ার কথা জানা গেছে। এবার ভারতে শিল্পের অক্সিজেন ব্যবহার করা হয়েছে। এখানকার অক্সিজেন সিলিন্ডার যত্রতত্র পড়ে থাকে। ধরা যাক, কোনো সিলিন্ডারের গায়ে এটি লেগে আছে। হাসপাতালে এটি নিয়ে আসার পর যাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণ করছেন, তাঁদের হাতে এটি লেগে যাচ্ছে। সেটি রোগীর মধ্যে চলে যেতে পারে। আবার সিলিন্ডারের যেখান থেকে অক্সিজেন বেরোচ্ছে, সেখানে যদি ছত্রাক লেগে থাকে তবে ক্যাথেটার লাগিয়ে যদি রোগীকে তা দেওয়া হয়, তবে তা সরাসরি ফুসফুসে চলে যাবে। এটি ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি করবে।

বে-নজির আহমেদ বলেন, আমাদের জন্য এটি একটি শিক্ষা। আমাদের এখানে অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলোকে জীবাণুমুক্ত করার বিষয়টি এখন বেশি করে ভাবতে হবে। হাসপাতালে আসার আগে ও পরে সিলিন্ডার জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে নির্দেশ দিতে হবে।

কাদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হওয়ার আশঙ্কা থাকে?

যে মানুষগুলোর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক কম, তারা এতে আক্রান্ত হতে পারে। ক্যানসার, এইডসে আক্রান্ত রোগীদের এতে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। ডায়াবেটিস, ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পর রেডিও থেরাপি বা কেমোথেরাপি নিচ্ছে, তারা খুব ঝুঁকিতে আছে। বংশ বা জন্মগতভাবে কেউ কেউ কম প্রতিরোধক্ষমতার অধিকারী। ঝুঁকি তাদেরও আছে। তাদের জন্য বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে করে প্রকৃতি থেকে না আসে। যেসব রোগী স্টেরয়েড পেয়েছে, তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম থাকে। তাদেরও সাবধানে থাকতে হবে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ায় কীভাবে

যেহেতু এটি প্রকৃতিতে বসবাস করে, তাই যেকোনো সময় এটি ছড়াতে পারে। এটি যেকোনো সময়েই আমাদের সংস্পর্শে আসতে পারে। আমাদের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতার বলেই এটি আক্রমণ করলেও কিছু হয় না। বে-নজির আহমেদ বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস চোখ ও নাক দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। চোখ থেকে আবার মস্তিষ্কে চলে যেতে পারে। এটা প্রাণঘাতী। আর সাইনাসের জায়গাটি ফাঁপা। সেখানে সংক্রমণ ব্যাপক আকারে হতে পারে এবং সেখান থেকে বেড়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কি এই প্রথম

বে-নজির আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এই সংক্রমণ আগেও হয়েছে। তবে সংখ্যায় কম। তাই এটি আমাদের দেশে হয় নাএমন কথা ঠিক নয়; আবার খুব বেশি হয়, সেটাও ঠিক নয়। এই সংক্রমণ মাঝেমধ্যেই আমাদের দেশে হয়।

করোনা রোগীদের জন্য ঝুঁকি কতটুকু

করোনা রোগীদের কারও কারও যেহেতু অক্সিজেনের প্রয়োজন হতে পারে তাই এই অক্সিজেন যাওয়াটা সব দিক থেকে জীবাণুমুক্ত হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করেন বে-নজির আহমেদ। তিনি বলেন, সব দিক থেকে জীবাণুমুক্ত হওয়া বলতে বোঝাচ্ছি সিলিন্ডারের গায়ে, নজল বা যে ক্যাথেটার দিয়ে অক্সিজেনটা দেওয়া হবে, সেখানে যেন না লেগে থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সব হাসপাতালে এ জন্য নজর দেওয়া উচিত।

সতর্কতা কী ধরনের

ব্যক্তিপর্যায়ে বেশি সতর্ক হওয়া উচিত তাদের, যারা করোনাকালে যেসব ব্যক্তি স্টেরয়েড পেয়েছে। করোনাকালে যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার পরও তাদের এসব পালন করতে হবে। যেমন মাস্ক পরা, বারবার হাত ধোয়ার বিধি মানতে হবে। বিশেষ করে বাইরে থেকে এসে হাত অবশ্যই ধুতে হবে। তাদের কত দিন এটা পালন করতে হবে?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজির আহমেদের কথা, এসব ব্যক্তি যত দিন পারেন মাস্কটা পরবেন। এটা একটা অযাচিত সংক্রমণ। এটা যাতে না আসে, সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়, সিডিসির পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্যমতে, মিউকরমাইকোসিস আসে পরিবেশ থেকে। তাই একে রোধ করা কঠিন। এর কোনো টিকা নেই। যেসব মানুষের প্রতিরোধশক্তি কম, তাদের জন্য কিছু পরামর্শ আছে ঝুঁকি কমানোর। তবে এর মাধ্যমে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা যাবে, তা নয়।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্মাণকাজ বা খননকাজ চলছে এমন স্থানে যাওয়া যাবে না। যদি যেতেই হয় তবে এন নাইনটিফাইভ মাস্ক পরে যাওয়া উচিত। বন্যা বা পানিতে ডুবে ছিল এমন ভবনে না যাওয়া উচিত। ধুলাবালু এড়িয়ে চলতে হবে, এড়িয়ে চলতে হবে স্যাঁতসেঁতে এলাকাও। বাগানে, উঠানে বা বনের মধ্যে ঘুরতে গেলে জুতা, ফুল প্যান্ট এবং ফুল স্লিভ শার্ট পরতে হবে। মাটি ধরতে হয়এমন কাজের জন্য অবশ্যই গ্লাভস পরে থাকতে হবে।

চামড়ার মাধ্যমে যেন সংক্রমণ না হয়, সে জন্য আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে এসব স্থানে যদি ধুলাবালু লাগে, তবে অবশ্যই তা সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।


নিউজ ট্যাগ: ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

আরও খবর
করোনায় আরও ৭৬ জনের মৃত্যু

মঙ্গলবার ২২ জুন ২০২১




সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ৪৪তম বিসিএসের সার্কুলার

প্রকাশিত:সোমবার ২১ জুন 20২১ | হালনাগাদ:সোমবার ২১ জুন 20২১ | ৬১জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

করোনার কারণে সব সরকারি চাকরির সার্কুলার প্রায় ১৫ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে এরই মধ্যে বিশেষ দুটি বিসিএস ও ৪৩তম সাধারণ বিসিএসের সার্কুলার প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে হতে পারে ৪৪তম সাধারণ বিসিএসের সার্কুলার। সোমবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পিএসসি সূত্র জানায়, বর্তমানে ৪০, ৪১ ও ৪২তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শেষ। এগুলোর ভাইভা পরীক্ষা চলছে। আর ৪৩তম বিসিএসের আবেদন জমা নেওয়ার কাজ চলছে। করোনার কারণে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার নিয়োগের জন্য ৩৯ ও ৪২তম বিশেষ বিসিএস দেয় পিএসসি।

এ ব্যাপারে পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, প্রতি বছর একটি করে বিসিএস দেওয়ার টার্গেটে নিয়ে আমরা কাজ করছি। এবারও সেই টার্গেট আছে। এ নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তাদের শূন্য পদে চাহিদা পেলে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে ৪৪তম বিসিএসের সার্কুলার দেওয়া সম্ভব হবে।

জানা গেছে, করোনার কারণে চাকরিপ্রার্থীদের অনেকের চাকরিতে আবেদনের বয়স চলে যাচ্ছে। এটি বিবেচনা করে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে। এই বিসিএসে বয়সেও শিথিলতা আনা হতে পারে।


আরও খবর



সিলেটে আবার ভূমিকম্প

প্রকাশিত:সোমবার ০৭ জুন ২০২১ | হালনাগাদ:সোমবার ০৭ জুন ২০২১ | ৯৭জন দেখেছেন
দর্পণ নিউজ ডেস্ক

Image

এক মিনিটের ব্যবধানে দুই দফায় ভূমিকম্পে আবার কেঁপে উঠেছে সিলেট। সোমবার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৬টা ২৮ ও ২৯ মিনিটে দুই দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট আবহাওয়া অধিদফতরের প্রধান আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী। তিনি জানান, সর্বশেষ ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিটে। সিলেট অঞ্চলেই এর উৎপত্তিস্থল। তবে রিখটার স্কেলে তা কত মাত্রা ছিল এখনও জানা যায়নি।

এর আগে সিলেটে গত ৩০ মে সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার, ১০টা ৫০ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে ৪ দশমিক ১ মাত্রার, ১১টা ৩০ মিনিটে ২ দশমিক ৮ মাত্রার এবং ১টা ৫৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। ওই দিন একটি ভবন হেলেও পড়েছিল। কয়েক দফায় ঝাঁকুনিতে সিলেট শহরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে উঁচু ভবন থেকে রাস্তায় নেমে আসেন। সেদিন কোনও ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।


আরও খবর